হিন্দুরা দেশকে ‘মা’ বলে ডাকে, এর অর্থ কি? একদা হিন্দুরা ভারতবর্ষকে ‘মা’ ডেকে তার সম্ভ্রমহানি করার সমূহ ব্যবস্থা করেছিল


একাত্তরের চরমপত্র অনুষ্ঠানের পাঠক ও প্রখ্যাত সাংবাদিক এমআর আখতার মুকুল তার রচিত ‘কোলকাতা কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবী’ গ্রন্থে তার ছাত্রজীবনের হিন্দু সহপাঠীদের নিয়ে কিছু স্মৃতি তুলে ধরেছেন। হিন্দুদের বঙ্গভঙ্গ বদকারী সন্ত্রাসী আন্দোলনের পক্ষ ছিল না মুসলমান, বরং ছিল বঙ্গভঙ্গের পক্ষে। ফলশ্রুতিতে এই হিন্দুরা তাদের মুসলমান সহপাঠীদের ‘ব্রিটিশদের দালাল’ বলে কটুক্তি করতো। বাংলার কমিউনিস্ট আন্দোলনের জনক কমরেড মুজফ্ফর রচিত ‘আমার জীবন ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি’ গ্রন্থেও মুসলিম অধুষিত পূর্ববঙ্গ প্রদেশ সৃষ্টির বিরোধিতাকারী এই উগ্র সন্ত্রাসবাদী হিন্দুদের এহেন সন্ত্রাসী কর্মকা- নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। কারণ এসব হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গের কয়েকবছর আগেও ব্রিটিশদের কাট্টা গোলাম ছিল। বিপরীতে ১৮২০ ঈসায়ী সন থেকে ১৮৭০ সন পর্যন্ত মুসলমান উনাদের ব্রিটিশবিরোধী জিহাদের যে আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, তার রক্তের দাগ তখনো শুকায়নি।
এমআর আখতার মুকুল তার ছাত্রজীবনে দেখা হিন্দুদের ধৃষ্টতার জবাব দিতেই ব্রিটিশআমলে হিন্দুদের দালালির ইতিহাস নিয়ে লিখেছিলেন ‘কোলকাতা কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবী’ নামক বইটি। হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতায় ভারতবর্ষকে ‘মা’ বলে ডাকত, বলত ‘বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদ করা যাবে না’। এর সূত্রপাত হয়েছে বঙ্কিমের বন্দেমাতরম গান হতে। সেই গানের একটি ছত্রে রয়েছে ‘ত্বংহি দুর্গা দশপ্রহরণধারিণী’। অর্থাৎ দেশকে দুর্গা বলে সম্বোধন করা হয়েছিল উক্ত গানটিতে। বঙ্কিমের ‘আনন্দমঠ’ অপন্যাস ও সংশ্লিষ্ট ‘বন্দেমাতরম’ গানের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে উগ্র হিন্দুত্ববাদী চেতনা।
অথচ এই বঙ্কিমই ছিল ব্রিটিশদের সবচেয়ে বড় দালাল। তার গোলামি যে কোন গভীরতায় পৌঁছেছিল, তা বুঝতে হলে তার একটি উক্তিই যথেষ্ট। তৎকালীন সময়ে ভারতীয় আসামির বিচার ব্রিটিশ জজেরা করতে পারতো, কিন্তু বিপরীতে কোনো ব্রিটিশ আসামির বিচার ভারতীয় বিচারকরা করার অধিকার রাখতো না। এ প্রসঙ্গে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছিল, “ভারতীয়রা ব্রিটিশদের বিচার করতে পারে না। শূদ্ররা কি ব্রাহ্মণদের বিচার করতে পারতো?” সৌরেন্দ্রমোহন গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘বাঙালীর রাষ্ট্রচিন্তা’ শীর্ষক বইয়ের ১৩৬তম পৃষ্ঠায় এর উল্লেখ রয়েছে।
আজীবন ব্রিটিশদের দালালি করা বঙ্কিমচন্দ্রের আদর্শকে পুঁজি করেই তারা মুসলমান উনাদের বিরোধিতা করতো, তাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলতো, এখনো তোলে। ভারতে মুসলমানরা বন্দেমাতরম গানটি গায়না দেখে আজও তাদের দেশপ্রেম তুলে কটাক্ষ করে হিন্দুরা। এবং তারা এদেশেও তা করে, যেহেতু মুসলমানদের দ্বীনী অনুভূতি ও জাতিসত্ত্বার উপর ‘বুদ্ধিবৃত্তিক গু-ামি’র জন্য কিছু ভাড়াটে বামপন্থী ও আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবী এদেশে নিয়োগ করা রয়েছে ভারতরাষ্ট্র কর্তৃক। যারা রাজাকারদের দাড়ি-টুপির অজুহাতে হিন্দুদেরকে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি বলে প্রচার করে যাবে, হাজার বছর ধরে বাংলার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে হিন্দুদের বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস থাকার পরও। বিপরীতে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ও তরীক্বায়ে মুহম্মদিয়া উনার স্মৃতি মানুষের মন থেকে হারিয়ে যাবে প্রচারের অভাবে। বাঙালি মুসলমান বংশপরম্পরায় হাজার বছর স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করার পরও তাদের স্বাধীনতাবিরোধীর তকমা বহন করতে হবে- এসব কথিত বুদ্ধিজীবীদের কারণে।
বঙ্কিমের আনন্দমঠে ভারতবর্ষকে যেই মায়ের সাথে তুলনা দেয়া হয়েছে, সেই মা হলো হিন্দুদের দুর্গা কিংবা কালী দেবী। ভারতীয় মুসলমানদের দ্বারা গানটি বর্জন করার এটিই মূল কারণ। হিন্দুদের উক্ত মায়েদের মূর্তি তৈরি হয় কি দিয়ে? পাঠকরা কি তা জানেন?
তান্ত্রিক শাস্ত্রানুসারে হিন্দুদের উক্ত কথিত মায়ের মূর্তি তৈরি হয় বেশ্যালয়ের দরজার মাটি দিয়ে। সুতরাং যখন তারা দেশকে ‘মা’ ডাকে, হাক্বীকতে তখন তারা দেশকে বেশ্যার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার তথা বিদেশী শক্তির ভোগ্যপণ্যরূপে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করে চলে। হিন্দুদের জন্য এটি কোনো বিষয় নয়, যেহেতু তাদের রক্তগোশতের মা-বোনদেরকেই তারা যুগ যুগ ধরে শাসকগোষ্ঠীর বিছানায় পাঠিয়ে ফায়দা লুটেছে, হোক সে মুঘল কি ইংরেজ! তারা যেভাবে ‘মা’ ডেকে গোটা ভারতবর্ষকে একদা ব্রিটিশদের লুটপাটের ক্ষেত্রে পরিণত করেছিল, ঠিক সেভাবেই তারা আজ ‘মা’ ডেকে বাংলাদেশেকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করার পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে