হুযূরী ক্বলব ব্যতীত নামায হয় না। তাই নামায আদায় বা কবুল হওয়ার জন্য অবশ্যই হুযূরী ক্বলব নিয়ে নামায আদায় করতে হবে। এটা ফরযে আইনের অন্তর্ভূক্ত।


হুযূরী ক্বলব ব্যতীত নামায হয় না। তাই নামায আদায় বা কবুল হওয়ার জন্য অবশ্যই হুযূরী ক্বলব নিয়ে নামায আদায় করতে হবে। এটা ফরযে আইনের অন্তর্ভূক্ত।
হুযূরী ক্বলববিহীন নামায পড়ার কারণেই আজকে নামাযীর স্বভাব-চরিত্রে পরিবর্তন দেখা যায় না। তারা নামাযও পড়ছে আবার হারাম-নাজায়িয, অশ্লীল-অশালীন কাজও করছে। নাউযুবিল্লাহ! অথচ মহান আল্লাহ পাক উনার ইরশাদ মুবারক হচ্ছেন-
إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ
অর্থ: নিশ্চয়ই নামায ফাহেশা বা অশ্লীল ও নিষিদ্ধ বা হারাম-নাজায়িয কাজ হতে বিরত রাখে। (পবিত্র সূরা আনকাবূত শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৫)
হুযূরী হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দর্শন, স্মরণ ও সন্তুষ্টি মুবারক। সদাসর্বদা হুযূরীর সাথে অবস্থান করার জন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ ‏
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করো এমনভাবে তুমি যেনো উনাকে দেখছো। আর যদি উনাকে দেখতে না পাও (তবে ধারণা করো) নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন।
অর্থাৎ মু’মিন-মুসলমানদের প্রতিটি কাজই ইবাদত হিসেবে গণ্য। ইবাদতের বাইরে উনাদের কোন অবস্থা নেই। ফলে উনাদেরকে প্রতিটি মুহূর্ত বা প্রতিটি সময় এমনভাবে অতিবাহিত করতে হবে যেনো মহান আল্লাহ পাক উনাকে ও উনার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে দেখতে পান। এটাই হচ্ছে হুযূরীর প্রথম স্তর বা অবস্থা। আর উক্ত প্রথম অবস্থার মিছদাক হতে না পারলে দ্বিতীয় অবস্থা তথা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মহাসম্মানিত হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের স্মরণ ও সন্তুষ্টি মুবারক ধারণ করে প্রতিটি মুহূর্ত অতিবাহিত করা।
উক্ত দু অবস্থার কোন এক অবস্থার হুযূরী ব্যতীত বান্দার কোন ইবাদত-বন্দেগী কবুলযোগ্য হবে না। তা নামায, যাকাত, উশর, ফিতরা, দান-ছদকা, হজ্জ, জিহাদ ইত্যাদি যে ইবাদতই হোক না কেন।
তাই হুযূরী ক্বলব অর্জন করতে হলে অন্তরের বদ খাছলতসমূহ যথা- অহংকার, হিংসা, গীবত, মিথ্যা, কৃপণতা, রিয়া বা লোক দেখানো ইত্যাদি দূরীভূত করতঃ নেক খাছলত বা নেক স্বভাব যেমন- তওবা, শোকর, তাওয়াক্কুল, দানশীলতা, লজ্জাশীলতা, আদব, ইলিম, ইখলাছ ইত্যাদি অর্জন করা।
স্মরণীয় যে, অন্তরের বদ খাছলতসমূহ দূর করে নেক খাছলতসমূহ অর্জন করতে হলে ক্বলবী ইলিম অর্থাৎ ইলমে তাছাওউফ অর্জন করতে হবে। আর ইলমে তাছাওউফ অর্জন করতে হলে ইলমে তাছাওউফের যিনি উস্তাদ কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হয়ে উনার ছোহবত ইখতিয়ার করতঃ ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ অর্জন করে ও উনার দেয়া সবক অনুযায়ী যিকির আযকার করতে হবে।
বলার অপেক্ষা রাখেনা, বর্তমানে সর্বশ্রেষ্ঠ কামিল শায়েখ বা কামিল মুর্শিদ ক্বিবলা হচ্ছেন মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলে বাইতে রসূল সাইয়্যিদুনা রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে