হেদায়াত এমন একটি পবিত্র নিয়ামত যা, না চাইলে কাউকে দেয়া হয় না


 

হেদায়াত এমন একটি পবিত্র নিয়ামত যা, না চাইলে কাউকে দেয়া হয় না।যারা সৎ পথের সন্ধানের চেষ্টা করবে, তাদেরকে সৎ পথের সন্ধান দেয়াই আল্লাহপাকের নীতি। হেদায়েত চায় নি বা ছিল না বলেই হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুজিযা শরীফ স্বচোখে দেখার পরও আবু জেহেল, আবু জেহেলেই রয়ে গেছে অথচ একই ঘটনা ভারতের চেরামন পেরুমল দেখে ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
মশহূর একটি ঘটনা,
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি যখন প্রকাশ্যে দাওয়াত দেওয়া শুরু করলেন। তখন উপর ওপর নির্যাতনও শুরু হলো । সেসময় আবু জাহলের নেতৃত্বে একদল মূর্তিপূজারী ও ইহুদি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তাচ্ছিল্য করার জন্যই মূলত: বলেছিল মুহাম্মদ! তুমি যদি আকাশের ঐ পূর্ণিমার চন্দ্রটিকে দিখন্ডিত করতে পারো তাহলে আমরা তোমাকে সত্য নবী হিসাবে মেনে নিব। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুই রাকাত নামায আদায় করে আল্লাহপাকের নিকট দোয়া করেন এবং শাহাদত আঙ্গুল মুবারক দ্বারা ইশারা করা মাত্রই চাঁদ দিখন্ডিত হয়ে যায়। উপস্থিত ইহুদীরা এই মুজিজা শরীফ দেখে সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম গ্রহন করলো। ।কিন্তু কাফেরেরা বিশ্বাস করলো না। তারা বললো মুহাম্মদ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তুমি যে সত্যিই যাদুকর আজ তার বাস্তব প্রমাণ আমরা পেলাম (নাউযুবিল্লাহ)।

[কুরআন শরীফে এ ঘটনা সম্বলিত চাদেঁর নামে একটি সূরা শরীফও রয়েছে যার নাম সূরা আল-ক্বামার ।]

কিন্তু আবু জাহেল বলে ওঠলো, “তিনি নজরবন্দি করেছেন। যেসব লোক বিদেশে গেছে তারা ফিরে এসে সমর্থন জানালে তখন বুঝব।” বিদেশ থেকে আসা লোকেরা দেশে ফিরে এসে এ ঘটনার সত্যতাকে সমর্থন করলেও আবু জাহল বললো, “ তিনি গোটা পৃথিবীর সব লোককে নজরবন্দী করেছেন।”
(নাউযুবিল্লাহ)

[আসর হতে মাগরিব পর্যন্ত যে সময়, সে পরিমাণ সময় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত অবস্থায় ছিলো। ]

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত কেরালা প্রদেশের মালাবার অঞ্চলে কোডুঙ্গোলর এলাকার তৎকালীন ২৬ বছরের সম্রাট ‘ চক্রবর্তী ফারমাস’ (চেরামান পিরুমেল) আকাশে চাঁদ দ্বিখন্ডিত হবার মুজিযা শরীফটি স্বচক্ষে দেখেছিলেন। মালাবারে আগত আরব বনিকদের থেকে তিনি নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খবর পান এবং মক্কা শরীফের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানেই তিনি স্বয়ং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে ইসলাম গ্রহন করেন। হযরত আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সহ আরও কয়েকজন সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের উপস্থিতিতে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম রাখেন ‘তাজউদ্দিন’।

উল্লেখ্য যে, তিনি সেখানে প্রায় সাড়ে চার থেকে পাচঁ বৎসর অবস্থান করে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশে ভারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।কিন্তু পথিমধ্যে দক্ষিনপূর্ব আরবের এক বন্দরে (বর্তমান ওমানের সালালা শহর) অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। আজও উনার কবর রয়েছে সেখানে।

চেরামানের নামে ভারতের কেরালা রাজ্যে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।দাবি করা হয় ,চেরামন মসজিদ-ই ভারতের প্রথম মসজিদ।
১৯৬৯ সালে রাশিয়ার তিনজন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম চাঁদের মটিতে পা রাখেন। এদের মধ্যে প্রথমজন (নীল আমস্ট্রং) চাঁদে দ্বিখন্ডনের চিহ্ন দেখে বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়েন এবং পৃথিবীতে ফিরে এসে কুরআন শরীফ উনার সত্যতা স্বীকার করে মুসলমান হয়ে যান। এ ঘটনাটি সবার কাছে পরিচিত, অস্বীকারের কোন রাস্তা নেই।

কিন্তু এরপরও একটি সম্প্রদায় অস্বীকার করে , হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুজিযা শরীফকে কল্প-কাহিনী বলে। আল্লাহপাক ব্যতিত অন্য কেউ মুজিযা শরীফ দেখানোর ক্ষমতা নেই , এই বিশ্বাসে অটল এরা। অথচ এদ্বারা আল্লাহপাক উনার ক্ষমতাকেই অস্বীকার করা হচ্ছে, উনার বড়ত্ব ,মহত্বকে ছোট করা হচ্ছে , সে খেয়াল কোথায় !!!
আল্লাহপাক সবাইকে হেদায়েত নসীব করুন, হক্ব মানার, বুঝায় তৌফিক দান করুন, সবার আক্বীদাগুলো বিশুদ্ধ করে দিনG

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে