হেফাজত-জামাত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। হেফাজত গোমরাহ দেওবন্দী আর জামাত বাতিল মওদুদীর দল।


উভয়েই শুধু নিকৃষ্ট ধর্মব্যবসায়ী ও যুদ্ধাপরাধী সমর্থক নয়,বরং গোটা ইতিহাসের কলঙ্ক- পনের হাজার পবিত্র কুরআন শরীফ পোড়ানোকারী ধর্মদ্রোহী দল।

বাঙালি মুসলমান কখনও পবিত্র কুরআন শরীফ বিনা ওযুতে স্পর্শ করে না। পবিত্র কুরআন শরীফ ধরে আগে চুমু খায়। পড়ার পর আবারো চুমু খেয়ে গিলাফ পরিয়ে রেহালে রেখে দেয়। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রতি এই হচ্ছে আবহমান বাংলার মানুষের চিরন্তন অনুভূতি। নিখাঁদ নিগূঢ় ধর্মীয় অনুভূতি।

মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম পবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রতি শুধু বাংলার মুসলমানেরই এই সর্বোচ্চ ধর্মীয় অনুভূতি নয় বরং গোটা বিশ্বের সব মুসলমানদেরও একই অনুভূতি। (সুবহানাল্লাহ) যে কারণে কিছুদিন পূর্বে আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পবিত্র কুরআন শরীফ পোড়ানোর ঘটনায় পুরো দেশ বিক্ষোভে উত্তাল হয়। ১২ জন আফগান শহীদ হন। ২ জন মার্কিন সেনাকে হত্যা করা হয়। নেদারল্যান্ডের রাজধানী হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিসি) বারাক ওবামার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। খোদ ওবামা ২৩শে ফেব্রুয়ারি ২০১২ তে আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের কাছে লেখা এক চিঠিতে ক্ষমা চায়। সারা বিশ্বের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রেক্ষিতে ক্ষমা চেতে বাধ্য হয়। অথচ এই স্পর্শকাতর ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত দিয়েছে কথিত হেফাজতে ইসলাম নামধারী হেক্বারতে ইসলাম (ইসলাম অবমাননাকারী দল)। তারা গত ৫ই মে বায়তুল মোকাররমে পনের হাজার পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ!

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করার পরিণাম :
“যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন আপনি কাফিরদের চোখে মুখে অসন্তোষের লক্ষণ দেখতে পাবেন। যারা তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তারা (কাফিররা) উনাদের প্রতি মারমুখো হয়ে উঠে। বলুন, আমি কি তোমাদেরকে তদপেক্ষা মন্দ কিছুর সংবাদ দেব? তা জাহান্নাম; মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফিরদেরকে এর ওয়াদা দিয়েছেন। এটা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল।” (পবিত্র সূরা হাজ্জ্ব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৭২)
লক্ষণীয় : পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আয়াত শরীফ শুনে অভক্তি প্রকাশ করলেই তাদের কাফির বলা হয়েছে। তাহলে যে হেফাজতীরা পনের হাজার কুরআন শরীফ পুড়িয়েছে তারা যে কত জঘন্য মুরতাদ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
“আর যারা আমার আয়াতসমূহকে ব্যর্থ করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়, তাদেরকে আযাবের মধ্যে উপস্থিত করা হবে।” (পবিত্র সূরা সাবা শরীফ : আয়াত শরীফ ৩৮)
লক্ষণীয় : যারা আয়াত শরীফকে ব্যঙ্গ করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত হয়, তারাই যদি জাহান্নামের আযাবে গ্রেফতার হয়, জাহান্নামে যায়, তাহলে যে হেফাজতীরা পনের হাজার কুরআন শরীফ পুড়িয়েছে তারা কত বড় জাহান্নামে যাবে?
“যে মহান আল্লাহ পাক উনার আয়াতসমূহ শ্রবণ করে যখন তার সম্মুখে পঠিত হয় তবুও সে অহঙ্কারবশত এমনভাবে হঠকারিতা করে থাকে যেন সে আয়াত শরীফই শুনেনি। অতএব, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ শুনিয়ে দিন। যখন সে আমার কোন আয়াত শরীফ অবগত হয় তখন উহা ঠাট্টারূপে গ্রহণ করে। এদের জন্যই রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। এই কুরআন শরীফ আদ্যোপান্ত সৎপথ প্রদর্শক, আর যারা নিজ পালনকর্তা উনার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (পবিত্র সূরা জাসিয়া শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৮, ৯, ১১)
লক্ষণীয় : পবিত্র আয়াত শরীফ শুনে তা না মানলেই যদি জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করতে হয়, তবে যে হেফাজতীরা পনের হাজার কুরআন শরীফ পুড়িয়েছে তাদের শাস্তি কী হবে? নাঊযুবিল্লাহ!
প্রতিভাত হচ্ছে, যারা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রতি শুধুমাত্র সন্দেহ করে তারাই কাফির ও জাহান্নামী। তাহলে যে হেফাজতীরা পনের হাজার কুরআন শরীফ পুড়িয়েছে তারা কত বড় জাহান্নামী? নাঊযুবিল্লাহ!

পবিত্র কুরআন শরীফ প্রচারে বাধা সৃষ্টির পরিণাম :
“আর কাফিররা বলে, তোমরা এ কুরআন শরীফ শ্রবণ কর না এবং উহা পাঠে হট্টগোল সৃষ্টি কর, যাতে তোমরা জয়ী হও। আমি অবশ্যই কাফিরদেরকে কঠিন আযাব আস্বাদন করাব এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে তাদের মন্দ ও হীন কাজের প্রতিফল দেব।” (পবিত্র সূরা হামীম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৭, ২৮)
লক্ষণীয় : পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতেই যদি হট্টগোল, বিশৃঙ্খলা করলে জাহান্নামে যেতে হয় তাহলে যে হেফাজতীরা পনের হাজার কুরআন শরীফ পুড়িয়েছে তাদেরকে কোন জাহান্নামে যেতে হবে? নাঊযুবিল্লাহ!

পবিত্র কুরআন শরীফ অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা হারাম :
“অতএব, আমি তারকারাজির অস্তাচলের শপথ করছি, নিশ্চয় এটা এক মহা শপথ-যদি তোমরা জানতে।
নিশ্চয় ইহা সম্মানিত কুরআন শরীফ, যা এক সুরক্ষিত কিতাবে লিখিত আছে। যারা পাক-পবিত্র তারা ব্যতীত অন্য কেউ উহাকে স্পর্শ করবে না। ইহা বিশ্ব-পালনকর্তা উনার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।” (পবিত্র সূরা ওয়াক্বিয়া শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৫-৮০)
লক্ষণীয় : যেখানে কুরআন শরীফ অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা হারাম সেখানে যে হেফাজতীরা অপবিত্র অবস্থায় পনের হাজার কুরআন শরীফ উনার উপর আঘাত হেনেছে, পনের হাজার কুরআন শরীফ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে তারা কত জঘন্য মুরতাদ ও নিকৃষ্ট জাহান্নামী? নাঊযুবিল্লাহ!

পবিত্র কুরআন শরীফ অমান্যকারীর পরিণাম :
“নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে এবং এগুলো থেকে অহঙ্কার করেছে, তাদের জন্যে আকাশের দ্বার উন্মুক্ত করা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। যে পর্যন্ত না সূচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে। আমি এমনিভাবে পাপীদেরকে শাস্তি প্রদান করি।” (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪০) “তাদের জন্যে নরকাগ্নির শয্যা রয়েছে এবং উপর থেকে চাদর। আমি এমনিভাবে জালেমদেরকে শাস্তি প্রদান করি।” (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ : আয়াত শরীফ শরীফ ৪১)
লক্ষণীয় : পবিত্র আয়াত শরীফকে মিথ্যা বললেই যদি জাহান্নাম ওয়াজিব হয়, তাহলে যে হেফাজতীরা আয়াত শরীফ পোড়ায়, পনের হাজার পবিত্র কুরআন শরীফ পুড়িয়েছে তারা কোন জাহান্নামে যাবে?

মানুষকে হত্যা করা কুফরী। কিন্তু হেফাজতীরা শুধু নিরীহ মানুষ, পথচারী, পুলিশ, র্যা ব, বিজিবি ইত্যাদি হত্যা করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি বরং এটাকে তারা জায়িয বলে ও জিহাদ স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে প্রকাশ্য মুরতাদে পরিণত হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ!
হেফাজতে ইসলামের তথা রহক্বরতে ইসলামের তা-বে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকারও ঊর্ধ্বে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি-২০০ কোটি টাকা। হেফাজতের সহিংসতা থেকে বাদ যায়নি প্রকৃতিও। পল্টন, গুলিস্তান, বিজয়নগরসহ আশপাশের এলাকায় অন্তত শতাধিক গাছ কাটাসহ পুড়িয়ে দিয়েছে তারা। গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে সড়ক বিভাজকগুলো।
হেফাজতীরা মূলত এদেশের স্বাধীনতা বিপন্ন করার জন্য কাজ করেছে। অবর্ণনীয় সহিংসতা ও ব্যাপক তা-ব চালিয়েছে।
হেফাজতীরা মূলত হেফাজতে জামাত। জামাতে মওদুদী, হুজি, হিযবুত তাহরীর, তালেবান, জেএমবি ইত্যাদি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোরই সমাবেশ। তারা একে অন্যের দোসর ও সহযোগী শক্তি তথা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি।
পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে ওরা হেফাজতে ইসলাম নয় বরং হেক্বারতে ইসলাম বা ইসলাম অবমাননাকারী দল। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে ওরা প্রকাশ্য মুরতাদ। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে ওদের শাস্তি মৃত্যুদ-বাস্তবায়ন করা এবং হেফাজতকে নিষিদ্ধ করা।
সাধারণ মুসলমানদের স্মরণ রাখতে হবে- কথিত হেফাজতী ইমামের পেছনে নামায পড়লে নামায আদায় হবেনা। তাই এদেরকে ইমামতি থেকে বহিষ্কার করতে হবে এবং ওদের মাদরাসায় যাকাত, ফিতরা দিলে আদায় হবে না এবং কুরবানীর চামড়া দিলে কুরবানীও আদায় হবেনা।
অতএব, কথিত হেফাজতীদের মুরতাদ বলে গণ্য করে সর্বত্র প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং শরীয়া আইনের দৃষ্টিতে ওদের শাস্তি মৃত্যুদ- বাস্তবায়নের জন্য দেশের শতকরা ৯৭ ভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠী থেকে জোর দাবি উত্থাপন করতে হবে। এটা ঈমানের দাবি। এই দাবিতে সোচ্চার হওয়া দেশবাসী মুসলমানের জন্য ফরয-ওয়াজিব।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে