হে ভারত! হে হিন্দুরাজ্য! একটু ফিরে তাকাবে কি?


অনেক আগের কথা। ভারতেবর্ষের শাসক তখন বাদশাহ আলমগীর আওরঙ্গজেব রাহমাতুল্লাহি আলাইহি । তিনি লালকেল্লার পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন।

প্রতি শুক্রবারে সেখানে তিনি নামজ পড়তেন নামাজের পর রাস্তার দু পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো মানুষদের লিখিত আবদার ও অভিযোগ পড়তেন।

এবং অভিযোগ দূর করতেন,আগ্রহ পুরা করতেন। একদিন তিনি এভাবে চিঠি পড়ে যাচ্ছিলেন, হটাৎ দেখলেন এক যুবেককে একটি চিঠি হাতে তাঁর কাছে আসতেছে। তিনি তার সৈন্যদের বললেন, তাকে আটক করে দরবারে নেওয়া হোক সেখানেই তার আবদার শুনা হবে সেই যুবকটি আসলে ছিলো এক সুন্দরী যুবতী।

কোন এক অজ্ঞাত কারনে এই বেশভূষা ধরেছে কিন্তু বাদশাহ আলমগীর তাকে চিনে ফেললেন। তিনি তাকে তাঁর খাস কামরায় পাঠানোর জন্য সৈন্যদের আদেশ দিলেন। মেয়েটি আলমগীরকে ন্যায়বিচারক হিসাবেই জানত কিন্তু খাস কামরায় যাওয়ার নির্দেশে কিছুটা দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেল। মেয়েটি খাস কামরায় প্রবেশ করলে বাদশাহ আলমগীর উঠে দাঁড়ালেন। এবং একটা চাদর দিয়ে তাকে বললেন, তুমি এটা দিয়ে তোমার শরীর আবৃত কর। কারন তুমি একজন যুবতী মেয়ে। আমার সাথে তোমার পর্দা করা ওয়াজিব। তারপর মেয়েটিকে বললেন, এবার নির্ভয়ে বলো কি বলতে চাও। মেয়েটি বলতে লাগল,

“বাদশাহ! আমি একজন ব্রাহ্মনের মেয়ে।
আমাদের এলাকায় আপনার একজন গভর্নর আছেন যিনি এলাকার সুন্দরী নারীদের তার দরবারে নিয়ে অসৎ কাজ করেন। ক্রমান্বয়ে এবার তাঁর দৃষ্টি আমার উপর পড়েছে। তিনি আমার বাবাকে আমাকে তাঁর কাছে পাঠানোর জন্য বলেছেন।

সম্মানের ভয়ে বাবা আমাকে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। এবং আমাকে বলেছেন এই দৃশ্য দেখার পূর্বে তিনি গঙ্গায় তার প্রান বিসর্জন দিবেন। এখন বাবাকে বাঁচানোর জন্য আপনার কাছে এসেছি।

আপনি এর একটা সুরাহা করুন” বাদশাহ আলমগীর ময়েটির কথা শুনে বিমর্ষ মনে কিছুক্ষন কি একটা চিন্ত করলেন। তারপর মেয়েটির হাতে কিছু টাকা দিয়ে বললেন, একজন উচূঁ মাপের গভর্নর যখন তাঁর মনোবাসনা পুরা করতে চাইছেন তখন তুমি অমত করছো কেন? এটা তোমার জন্য সৌভাগ্যের ব্যপার।

তাই তুমি রাজী হয়ে যাও এবং এতেই তোমার কল্যাণ রয়েছে।

বাদশার কথা শুনে মেয়েটির মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। সে সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে দরবার ত্যাগ করল। ঘরে ফিরে মেয়েটি তার বাবাকে বলল, বাদশাহ আমাকে গভর্নরের চাহিদা পূরন করার জন্য বলেছেন তাই আপনি আমাকে নিয়ে যান বাবা বললেন, তোমাকে নিয়ে যাওয়ার পূর্বেই আমি আত্নহত্যা করতে যাচ্ছি মেয়েটি বলল, বাবা!যেহেতু বাদশাহ আমাকে মেয়ে বলে চিনেছেন এবং আমরা তাঁকে ন্যায়বিচারক হিসেবেই জানি। তাহলে একটু ধৈর্য ধর,দেখি কি হয় নিশ্চই একটা সুরাহা হবে। অনেক বুঝানোর পর বাব মেয়েকে নিয়ে যেতে রাজী হলেন এদিকে গভর্নর মেয়েটির রাজী হওয়ার খবর শুনে অনেক আনন্দিত হয়ে উৎসবের আয়োজন করল এবং গরীবদের মধ্যে হালুয়া বিতরণের দিন নির্ধারণ করল। এদিকে বাদশাহ আলমগীর ফকীরেত বেশে ঐ গভর্নরের দরবারে হাজির হলেন।

এবং ভিক্ষুকদের লাইনে দাঁড়িয়ে গেলেন গভর্নরের লোকেরা যখন টাকা বিতরণ করছিল তখন ভিক্ষুক নামদারী বাদশাহ আলমগীর
টাকা নিতে অস্বীকার করলেন যতক্ষন না গভর্নর নিজে এসে তাঁর নিজ হাতে তাকে টাকা দিবেন।

এই নাছোড় ভিক্ষুকের আবদার পূরণ করতে শেষ পর্যন্ত গভর্ণর তাকে নিজ হাতে টাকে দিতে আসলেন।

তৎক্ষনাৎ বাদশাহ আলমগীর ফকীরের বেশভূষা ত্যাগ করে আড়ালে থাকা সৈন্যদেরকে ঐ গভর্নরকে গ্রেফতার করতে বললেন। গ্রেফতারের পর ঐ গভর্নরকে বললেন, হে লম্পট গভর্নর! তুই আমার গভর্নর হয়েও মা বোনদের ইজ্জত লুন্ঠন করে ইসলাম ও মুসলমানদেরকে কলুষিত করেছস।

তাই তোর একমাত্র শাস্তি হল মৃত্যুদন্ড। এর পর তিনি সৈন্যদেরকে চারটি হাতি আনার নির্দেশ দিলেন।

এবং গভর্নের চার হাত পা চারটি হাতির সাথে বেঁধে হাতি চালাতে বললেন। মূহুর্তেই এই নরাধরমের দেহ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। এবং তিনি পৃথিবীর বুকে ন্যায়বিচার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। এরপর তিনি ঐ মেয়েকে বললেন, “মা এবার আমাকে একটু পানি দাও, আমি অনেক পিপাসিত। আমার ভিতরটা শুকিয়ে যাচ্ছে। কারন তোমার অভিযোগ শুনার পর আমি কসম খেয়েছিলাম যতক্ষন তোমার ঘটনার কোন সুরাহা না করব ততক্ষন পানি পান করব না।

আজ অনেকদিন হয় পানি পান করিনি”। ঐ কুলাঙ্গার হিন্দু সমাজ! উনি-ই ভারতবর্ষের মুসলিম শাসক আলমগীর আওরঙ্গজেব রাহমাতুল্লাহি আলাইহি যিনি একজন হিন্দু নারীর জন্য তাঁর গভর্নরের দেহ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন। যিনি হিন্দু নারীর দুঃখে পানি পান করা ছেড়ে দিয়েছিলেন।

সেই শাসকের ধর্ম কি কখন ও সাম্প্রদায়িক হবে?

মুসলিম নারী-পুরুষদের দেহ রক্তাক্ত করার পূর্বে একবার ও কি ভেবে দেখবে যে,এরাই হলো বাদশাহ আলমগীরের রেখে যাওয়া আমানত হে হিন্দু সমাজ! উনি-ই ভারতবর্ষের মুসলিম শাসক আলমগীর আওরঙ্গজেব রাহমাতুল্লাহি আলাইহি।

যিনি একজন হিন্দু নারীর জন্য তাঁর গভর্নরের দেহ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন। যিনি হিন্দু নারীর দুঃখে পানি পান করা ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেই শাসকের ধর্ম কি কখন ও সাম্প্রদায়িক
হবে?

মুসলিম নারী-পুরষদের দেহ রক্তাক্ত করার পূর্বে তোরা একবার ভেবে দ্যাখ যে,এরাই হলো বাদশাহ আলমগীরের রেখে যাওয়া আমানত! যদি মুসলিম শাসকরা ইচ্ছা করতেন তাহলে পৃথিবীর বুকে তোদের মত হিন্দুদের কোন অস্তিত্বই থাকত না।

Views All Time
4
Views Today
21
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. সুবহানআল্লাহ। এত সুন্দর গৌরবময় আমাদের ইতিহাস, অথচ জানি না।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে