“হ্যাঁ,কালকে আমি পালিয়েই বাঁচছি,ওই ব্যাটাকে ধরায় দেয়ার মতো কিছু করতে পারি নাই”-একজন বখাটে পিটানো মেয়ের আত্মোপলব্ধি


Untitled

Untitled2

একটি মেয়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা পড়লাম। রাত ৯টায় ধানমন্ডি এলাকায় তিনি কিভাবে কিডন্যাপার চক্রের হাতে পড়েছিলেন এবং কিভাবে বুদ্ধি খাটিয়ে তাদের কবল থেকে রক্ষা পেলেন সেই কাহিনী (পুরো ঘটনার স্ক্রিনশট দেয়া আছে। চাইলে পড়ে নিবেন)।

 

ঘটনাটি যে অংশ সবচাইতে বেশী গুরুত্বপুর্ন তা হল মেয়েটির নিজের উপলব্ধি; তিনি লিখেছেন “অনেক ভয়াবহ একটা এক্সপেরিয়েন্স আমি জাস্ট অল্প কয়টা কথায় লিখলাম, এভাবে পড়ে কেউ হয়তো অনুমানও করতে পারবেন না আমার উপর দিয়ে ওই সময়টুকুতে কি যাচ্ছিলো!! হয়তো বলবেন, আমার উচিত ছিলো নেমে তাকে ধরার ব্যবস্থা করা, লোক জড়ো করা ব্লা ব্লা!! কিন্তু সত্যি বলতে এই আমি, যে কিনা ইভটিজার পিটানোতে ফ্রেন্ডদের মাঝে বলতে গেলে সেই লেভেলের জনপ্রিয়- সেই আমিইই ওই মোমেন্টে ওই ব্যাটাকে কিভাবে শায়েস্তা করবো এটা একটাবারের জন্যও ভাবতে পারতেসিলাম না, আমার ওয়ান & অনলী চিন্তা ছিলো, আমি বাসায় যাবো, আমাকে আমার বাবা-মা’র কাছে ফিরতেই হবে, আমি আরেকজন তনু হতে পারিনা, পারবোনা,আমাকে বাঁচতেই হবে!! হ্যা, কালকে আমি পালিয়েই বাঁচছি, ওই ব্যাটাকে ধরায় দেয়ার মতো কিছু করতে পারিনাই, আমার কাছে তখন নিজের ইজ্জত আর জান বাঁচানোটাই ফরয হয়ে গেসিলো!! নাহয় হয়তো আজকে আমিও জাতীয় দৈনিকের হেডলাইন থাকতাম, সারাদেশ আমাকে নিয়েও আন্দোলন করতো এবং হায় হায় শব্দে আকাশ বাতাস ভারী করতো- আর দুইদিন পর সবাই এই তারিনকে ভুলে যেত, শুধুমাত্র যে পরিবারটা ধ্বংস হয়ে যেতো সেটা হতো আমার পরিবার!! আমার মা,বাবা,ভাই,হাসবেন্ড,কাছের আত্নীয়রা- শুধুই আমার সবাই!! পারিনি লোকটাকে কিছু করতে, কিন্তু পেরেছি কিডন্যাপড/রেপড/মার্ডারড না হয়ে আল্লাহ্‌র দেয়া এই জীবনটা নিয়ে বেঁচে ফেরত আসতে!! আল্লাহ্‌র শোকর আদায় করে শেষ করা সম্ভব না!! দোয়া চাই সবার, যেন এই দ্বিতীয় জীবন ভালোভাবে শুরু করতে পারি!!”

 

তাহলে বিষয়টা কি দাঁড়াল? দিনশেষে একজন মেয়ে, “একজন মেয়েই”। ইভটিজারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, পাল্টা আক্রমণ করা, আত্মরক্ষার জন্য মার্শাল আর্ট বা উইপনের ব্যবহার শেখা ইত্যাদি যেসব গালভরা বুলি কথিত নারীবাদীরা আওড়ায় তার সবই অন্তসারশূন্য। দিনের বেলা, হাজার লোকের ভিড়ে কোন কোন মেয়ে হয়তো এসব ট্যাকটিস প্রয়োগ করে সাময়িক বাহাদুরী প্রদর্শন করতে পারে (কেননা তখন তার ভরসা থাকে যে, তাকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য আরো অনেক পুরুষ আছে!)। কিন্তু রাতে ফাঁকা রাস্তাঘাটে আর এগুলো কাজে আসে না। তখন নিজের জীবন-মানসম্ভ্রম নিয়ে পালিয়েই বাঁচতে হয়।

 

সুতরাং কোন মানবরচিত মতবাদ নয়, একমাত্র দ্বীন ইসলাম উনার সঠিক অনুসরণই একজন মেয়েকে নিরাপত্তা দিতে পারে। যতদ্রুত নারীরা এই সত্য উপলব্ধি করতে পারবেন ততই ভালো।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে