১ম শ্রেণীর বাংলা বইয়ে অক্ষরজ্ঞান শিক্ষার নামে বিধর্মী-বিজাতীয় চর্চা


 

২০১৭ সালের নতুন পাঠ্যক্রমে ‘ও’ অক্ষরে ‘ওড়না’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে একটি কুচক্রী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। অথচ এই একটি শব্দের বিপরীতে অন্যান্য বর্ণ বা অক্ষরগুলোতে যে অনৈসলামিক ও বিধর্মীয় সংস্কৃতির চর্চা করানো হচ্ছে তা নিয়ে তারা কিছু বলছে না। নতুন পাঠ্যসূচির মধ্যে ১ম শ্রেণীর বাংলা বইয়ের প্রায় প্রতিটি পৃষ্ঠাতেই রয়েছে অসংখ্য ইসলামবিরোধী ও মুসলিম সংস্কৃতির বিপরীত বিষয়। তন্মধ্যে শুধুমাত্র বর্ণ পরিচয় বা অক্ষর জ্ঞান অংশেই যে সকল ইসলামবিরোধী ও বিধর্মীয় বিষয় শেখানো হচ্ছে তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা এখানে তুলে ধরা হলো- ১) ঋ-তে শেখানো হচ্ছে ‘ঋষি’। উল্লেখ্য, ‘ঋষি’ হিন্দুদের ধর্মগুরু। ২) এ-তে ‘একতারা’ শেখানো হচ্ছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে এক বিধর্মী ‘বাউল’ একতারা বাজাচ্ছে। ৩) ঐ-তে ‘ঐরাবত’ শেখানো হয়েছে। অথচ ‘ঐরাবত’ (হাতি) হলো হিন্দুদের দেবতা গণেশ। আর সেখানেও রয়েছে ‘একতারা হাতে বিধর্মী বাউলের ছবি’। ৪) ঢ-তে ‘ঢাক’ শেখানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, পূজা সংস্কৃতির সাথে ‘ঢাক সংস্কৃতি’ ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। ৫) ণ-তে ‘চরণ’ লেখা হলেও সেখানে রয়েছে ‘ঢাক’ বাজানোর ছবি । ৬) ত-তে শেখানো হচ্ছে ‘তবলা’। যা হারাম গান-বাদ্য সংস্কৃতির সাথে জড়িত। ৭) দ-তে ‘দই’ শেখানো হলেও সেখানে ছবিতে রয়েছে তবলার ছবি । ৮) ন-তে ‘নদী’ শেখানো হয়েছে, কিন্তু সেখানেও রয়েছে তবলার ছবি। ৯) র-তে লেখা হয়েছে ‘রথ টানি’। যা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠান। ১০) ‘ঃ’-তে ‘দুঃখ’ বলা হয়েছে, কিন্তু সেখানে রয়েছে ‘বাঁশি’ বাজানোর ছবি। ১১) ‘ ঁ’-তে ‘চাঁদের আলো’ লেখা থাকলেও সেখানে রয়েছে বাঁশির ছবি। ১২) ‘ৎ’-তে ‘উৎসব’ লেখা হয়েছে, সেখানেও রয়েছে বাঁশির ছবি। ১৩) ‘া’ শেখাতে ‘গান গায়’ শেখানো হয়েছে। ১৪) ঈ-কার শেখাতে ‘বীণা’, ‘গীত’ শেখানো হয়েছে। ১৫) ঋ-কার দিয়ে বৃষ (ষাঁড়) বলা হয়েছে। ‘বৃষ’ শব্দটি বিধর্মীদের দেবতা শিব-এর বাহনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। ১৬) এ-কার শেখাতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘নেচে’ শব্দটি। ১৭) ও-কার শেখাতে ‘লোপা বসে আছে’ বাক্য ব্যবহার করা হলেও ছবিতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে রয়েছে একটি ‘তবলা’। ১৮) ও-কারে শেখানো হয়েছে ‘ঢোল’। বাংলাভাষার স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ মিলে মোট ৪৯টি বর্ণের উদাহারণ দিতে ৩৪%-এরও বেশি অনৈসলামিক বিধর্মী-বিজাতীয় সংস্কৃতি শেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুনের খেলাফ ও মুসলিম সমাজ-সভ্যতার বিপরীত এ ধরনের শিক্ষা ও পাঠ্যবই মুসলিম শিশুদের মনে বিরূপ প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। অনৈসলামিক বিধর্মী-বিজাতীয় সংস্কৃতি শেখানোর কারণে সরকারি সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুসলমান অধ্যুষিত দেশে এটা কাম্য নয়।
Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে