১৩ ই রজব শরীফ, হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বিলাদত শরীফ দিবস


একদিন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জোহরের নামায আদায় করলেন। অতঃপর হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে কোন এক কাজের জন্য বাইরে পাঠালেন। উনি ফিরে আসার আগে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র আসরের নামাযও পড়ে নিলেন।
হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যখন ফিরে আসলেন, তখন উনার কোল মুবারকে পবিত্র মস্তক মুবারক রেখে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘুমিয়ে গেলেন, হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তখনও আসরের নামায আদায় করেন নি।
এদিকে সূর্য ডুবন্ত অবস্থায় ছিল। হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু চিন্তা করতে লাগলেন , এদিকে আল্লাহর রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি আরাম করছেন ওদিকে নামাযের ওয়াক্ত চলে যাচ্ছে। রাসূলে খোদার আরামকে যদি প্রাধান্য দেই, তাহলে নামযের সময় চলে যায় আর নামায পড়তে চাইলে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আরামের ব্যাঘাত হয়, কি করা যায়?
শেষ পর্যন্ত হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এ সিদ্ধান্ত নিলেন যে নামায কাযা হোক; কিন্তু হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ঘুমের ব্যাঘাত না হওয়া চাই। এ অবস্থায় সূর্য ডুবে গেল, আসরের ওয়াক্তও শেষ হয়ে আসলো।
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জাগ্রত হয়ে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে চিন্তাযুক্ত দেখে কারণ জানতে চাইলেন।
হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আরয করলেন, ইয়া রাসূলল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার আরামের ব্যাঘাত না করার খাতিরে এখনও পবিত্র আসরের নামায আদায় করিনি, অথচ সূর্য ডুবে গেল।
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, চিন্তা কিসের সূর্য এক্ষুনি ফিরে আসতেছে এবং সেই জায়াগায় এসে থামতেছে, যখন
পবিত্র আসরের সময় হয়।
অতঃপর হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুয়া মুবারক করার সাথে সাথে ডুবন্ত সূর্য উঠে আসলো এবং পশ্চাৎ গমন করে ঐ জায়গায় এসে স্থির হলো, যখন আসরের সময় হয়। হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উঠে পবিত্র আসরের নামায পড়ে নিলেন। এরপর সূর্য ডুবে গেল।

(সুবহানাল্লাহ)

[হুজ্জাতিল্লাহি আলাল আলামীন ৩১৮ পৃঃ]

ইসলামে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার অবদান অপরিসীম।হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় একমাত্র তাবুক জিহাদ ব্যতিত সব যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন এবং প্রতিটি জিহাদে অত্যন্ত সাহসিকতা ও বীরত্বের পরিচয় দেন। এ কারণে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে ‘হায়দার’ লক্বব মুবারক সহ ‘জুলফিকার’ নামক তরবারি উপহার দেন। বদর জিহাদে উনার সাদা পশমী রুমালের জন্য তিনি ছিলেন চিন্হিত। বদর সহ প্রতিটি জিহাদে তিনি ছিলেন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আালাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পতাকাবাহী।

 

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে