১৩ বছরের শিশু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেলে ১৮ বছরের কমবয়সের কিশোর কেন বিবাহের স্বীক্বীতি পাবে না?


মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ও বয়স নির্ধারণ করে গত ৮ নভেম্বর (২০১৬ঈসায়ী ) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নতুনভাবে অন্তর্ভূক্তির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার বয়স ২৬-০৩-১৯৭১ তারিখে ন্যূনতম ১৩ বছর হতে হবে। ১৯৭১ সালে ১৩ বছর বয়সী শিশুরা যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলো তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় সরকারকে আমার তরফ থেকে মুবারকবাদ জানাচ্ছি। তবে এখানে আমার বলার বিষয় হচ্ছে, জাতিসংঘের শিশু সনদের যেসব আইনের অযুহাতে বাংলাদেশে ১৮ বছরের কম বয়সীদের শিশু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং ১৮ বছরের কম বয়সীদের বিবাহ তথা বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ আইন করা হয়েছে, সেই জাতিসংঘের শিশু সনদেরই অনুচ্ছেদ ৩৮ অনুযায়ী ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সেনাবাহিনীতে নিয়োগ বা যুদ্ধবিগ্রহে সরাসরি অংশগ্রহণ স্পষ্ট ভাষায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ২০০০ ঈসায়ী সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের জড়িত করার বিষয়ে এ সনদের একটি সশস্ত্র প্রটোকল গৃহিত হয়, যাতে সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ এবং যুদ্ধবিগ্রহে অংশগ্রহণের বয়সসীমা ১৮তে উন্নীত করা হয়। সরকারকে আবারো মুবারকবাদ জানাই এইজন্য যে, জাতিসংঘের এই আইন ভঙ্গ করে হলেও মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ১৩ বছর বয়সী শিশু বীর যোদ্ধাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে অমুসলিমদের মনগড়া আইনের দৃষ্টিতে ১৩ বছরের শিশুদের যুদ্ধ বিগ্রহে জড়ানো মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জাতিসংঘের আইন বিরুদ্ধ। এখানে আমার ও বাংলাদেশের ৯৮ ভাগ মুসলমানের প্রাণের দাবি হচ্ছে- আন্তর্জাতিক আইনের অযুহাতে বাংলাদেশেও শিশুদের বয়স ১৮ বছর নির্ধারণ আইন প্রত্যাহার করতে হবে। সম্মানিত শরীয়া আইন উনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিবাহ বন্ধনের জন্য বয়স সীমা নির্ধারণ তুলে নিতে হবে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন বাতিল করতে হবে। কাফির-মুশরিকদের মনগড়া কথিত আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং সম্মানিত শরীয়া আইন উনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে উনার অনুকরণে বাংলাদেশে আইন নির্ধারণ করতে হবে। ১৩ বছরের শিশু মুক্তিযোদ্ধা শহীদদের মহান আল্লাহ পাক জান্নাত নসীব করুন। আমীন।
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে