১৯শে শাওয়াল শরীফ: একটি জান্নাতী বাগানের সূচনালগ্নের দিবস


১৯শে শাওয়াল শরীফ ১৪০৮ হিজরী। আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হয়ে গেলো এক জান্নাতী বাগানের। সেই বাগান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করলেন পঞ্চদশ হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ, যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, গাউছুল আ’যম, হাকিমুল হাদীছ, জাব্বারিউল আউয়াল, ক্ববিউল আউয়াল, ছহিবু সুলত্বানিন নাছীর, মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা ইমাম ঢাকা রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাঈশী আলাইহিস সালাম। তিনি ১৯শে শাওয়াল শরীফ সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ফক্বিহাতুন নিসা, মজিদাতুন নিসা, হামিদাতুন নিসা, নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাকে শাদী মুবারকের মাধ্যমে এক জান্নাতী বাগানের সূচনা করলেন। জগতবাসীদের জন্য জান্নাতী মেহমান হাদিয়ার আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণ করলেন।
সেই বাগানের প্রথম জান্নাতী মেহমান, উম্মু আবীহা, রহীমাহ, ফক্বীয়াহ, মাশুকাহ, মাহবুবাহ, মাদারজাদ ওলী সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা আলাইহাস সালাম। তিনিই এতোই পূত ও পবিত্রা যে, উনার ছায়া পর্যন্তও কোনো পুরুষ মানুষ দেখেননি। কিতাবে পড়েছি, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাতার জীবনী মুবারক। তিনি এতোই পূত ও পবিত্রা ছিলেন যে, উনাকে বোবা, খোঁড়া, বধির, অন্ধ ইত্যাদি বলা হতো। কারণ উনার ওই সকল অঙ্গ-প্রতঙ্গ দিয়ে তিনি কোনো দিন অসন্তুষ্টিমূলক কাজ করেননি। সুবহানাল্লাহ!
অনেক দিন উনার মেছাল জগতে পাওয়া যায়নি। কিন্তু আমাদের প্রাণপ্রিয় শায়েখ মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাতার উত্তম মেছালস্বরূপ মাদারজাদ ওলী, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে হাদিয়া করেছেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা আলাইহিস সালাম তিনি এমনি কষ্টিপাথর তুল্য যে, উনার ছোহবতে খাছ ওলীআল্লাহ উনার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ মাহিউল বিদয়াত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম হযরত শাহদামাদ হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত শাহদামাদ হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে সাইয়্যিদাতুনা শাহযাদী ঊলা আলাইহাস সালাম উনার উসীলায় মক্ববুল ওলী হিসেবে খাছভাবে মনোনীত করেছেন।
ওই জান্নাতী বাগানেরই দ্বিতীয় জান্নাতী মেহমান মাদারজাদ ওলী, ফক্বীয়াহ, নূরীয়্যাহ, হাবীবাতুল্লাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী আলাইহাস সালাম। তিনি এতোই খোদার মাহবুবা যে, আন্তর্জাতিক ভয়েস রুম নূরুন আল নূর-এ উনার শানে কাছিদা শরীফ শুনে এক বিধর্মী নাইজেরিয়ান নারী পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! উনার অসংখ্য-অগণিত কারামত, রহমত, বরকত, ছাক্বীনায়ে জগতবাসী ধন্য।
জান্নাতী বাগানের তৃতীয় জান্নাতী মেহমান মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল উমাম, মাদারজাদ ওলী, কুতুবুল আলম, খলীফাতুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। তিনি সারা বিশ্বে খলীফাতুল উমাম নামে মশহুর। অর্থাৎ তিনি উম্মতদের খলীফা। খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি উনাকে অসংখ্য অগণিত নিয়ামত হাদিয়া করেছেন। তিনি মাদারজাদ হাফিযে কুরআন, হাকিমুল হাদিস। জ্ঞান-বিজ্ঞানে রয়েছে উনার বিস্ময়কর পান্ডিত্য। জ্ঞান-বিজ্ঞানের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম-পুঙ্খানুপুঙ্খ বিষয়ে রয়েছে উনার অসীম জ্ঞান। তিনিই উম্মতের যথাযোগ্য কান্ডারী।
সেই বাগানে রয়েছেন আরো দু’জন জান্নাতী মেহমান। আর উনারা হলেন মাদারজাদ ওলী মাশুকাহ, মাহবুবা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহনাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিন্নাস সালাম।
বাগানের জান্নাতী মেহমানগণ জগতবাসীদের জন্য নাজাতী তরী। উনারা হচ্ছেন হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিস্তিতুল্য। উনাদের যারা অনুসরণ করবে, মুহব্বত করবে, তারা সকলেই নাজাত পেয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ!
খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি যেনো আমাদের সকলকে আখাছ্ছুল খাছ আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং উনার আহলে বাইত শরীফগণ উনাদের হাক্বীক্বীভাবে মুহব্বত করার এবং অনুসরণ-অনুকরণ ও খিদমত করার তাওফীক দান করেন। আমীন।
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+