২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ উদযাপন ব্যতিত ফাল্ইয়াফ্রাহূ তথা খুশি মুবারক প্রকাশ করা সম্ভব নয়


সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন সমস্ত মাখলুকাতের জন্য, সমস্ত কায়িনাতের জন্য রহমত মুবারক। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِيْنَ
অর্থ: আমার সম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে সমস্ত কায়িনাতের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ মুবারক করেছি। (পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৭)
আর যেহেতু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই রহমত। তাই রহমত মুবারক পেতে হলে, বরকত পেতে হলে বান্দা-বান্দি, উম্মতের জন্য ফরয হলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইতায়াত মুবারক তথা অনুসরণ-অনুকরণ মুবারক করা, উনার সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক হাছিল করা। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاللهُ وَرَسُوْلُهُ أَحَقُّ أَنْ يُّرْضُوْهُ إِنْ كَانُوْا مُؤْمِنِيْنَ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই হচ্ছেন সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক পাওয়ার অধিক হক্বদার, যদি তারা মু’মিন হয়ে থাকে। (পবিত্র সূরা তাওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬২)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা কী চান, কী পছন্দ মুবারক করেন, কোনটা করলে উনারা সন্তুষ্ট হন তা সবসময়ের জন্য ফিকির করা ও তা হাছিলে কোশেশ করা বান্দা-বান্দি, উম্মতের জন্য অবশ্য কর্তব্য।
শুধু তাই নয়, যিনি খলিক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি মুবারকও উনার ইচ্ছা মুবারককে সবকিছুর উপরে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। যেমন ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ
অর্থ: আমি (মহান আল্লাহ পাক) আপনার মহাসম্মানিত নূরুর রহমত মুবারক (মহাসম্মানিত চেহারা মুবারক) উনাকে আসমানের দিকে (বারবার) উত্তোলন মুবারক করতে দেখেছি। অতঃপর আমি অবশ্যই আপনাকে সেই মহান ক্বিবলা উনার দিকে ফিরায়ে দিবো যার দিকে ফিরার ইচ্ছে মুবারক আপনি করছেন। অতঃপর আপনি আপনার মহাসম্মানিত নূরুর রহমত মুবারক (মহাসম্মানিত চেহারা মুবারক) উনাকে (পবিত্র মসজিদে আক্বসা শরীফ হতে) মহাপবিত্র মসজিদুল হারাম শরীফ উনার দিকে ফিরান। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪৪)
অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইচ্ছা মুবারক ছিলেন যে, তিনি পবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ তথা পবিত্র কা’বা শরীফ উনার দিকে ফিরে সম্মানিত নামায মুবারক আদায় করবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সেই মুবারক ইচ্ছাকে প্রাধান্য মুবারক দিয়ে পবিত্র কা’বা শরীফ উনাকে পবিত্র নামায উনার ক্বিবলা বানিয়ে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে উম্মতের জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইচ্ছা মুবারক উনাকে কী রকম গুরুত্ব দিতে হবে! উনি যাতে খুশি হন তাতে কী পরিমাণ খুশি মুবারক প্রকাশ করতে হবে! তা চিন্তা-ফিকিরের বাইরে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ খুশি মুবারক প্রকাশ করতে হবে।
আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে সমস্ত বিষয়ে সবচেয়ে বেশি খুশি মুবারক প্রকাশ করেছেন তার অন্যতম একটি হলো উনার প্রথম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ উনার সময়ে। সুবহানাল্লাহ! যা ত্বহিরা, ত্বয়্যিবাহ, উম্মুল মু’মিনীন, আল-ঊলা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সাথে সংঘটিত হয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত এই নিসবতে আযীম শরীফ সংঘটিত হওয়ার তারিখ মুবারক ছিলো সম্মানিত ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সে কারণে সম্মানিত ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ উনার মর্যাদা, সম্মান বেমেছাল। যা উদযাপন করা, খুশি প্রকাশ করা সম্মানিত ফালইয়াফরাহূ শরীফ উনার অন্তর্ভুক্ত। তাই মহাসম্মানিত ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ উদযাপন ব্যতিত, পালন করা ব্যতিত হাক্বীক্বী ফালইয়াফরাহু তথা খুশি মুবারক প্রকাশ করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُوْنَ
অর্থ: তারা যেন ফালইয়াফরাহূ তথা খুশি মুবারক প্রকাশ করে। যা তাদের সঞ্চিত সমস্ত ইবাদত-বন্দেগী থেকে উত্তম। (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৮)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে