২২ শে শাওয়াল শরীফ


wvwyvy-2মুবারক হো সুমহান ২২শে শাওওয়াল শরীফ-
হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন- লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম

যিনি খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
قُلْ لَّاۤ اَسْاَلُكُمْ عَلَيْهِ اَجْرًا اِلَّا الْمَوَدَّةَ فِى الْقُرْبـٰى وَمَنْ يَّقْتَرِفْ حَسَنَةً نَّزِدْ لَهٗ فِيْهَا حُسْنًا اِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ شَكُوْرٌ.
অর্থ: “(আমার মাহবূব হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সমস্ত বান্দা-বান্দীদেরকে, উম্মতদেরকে, তামাম কায়িনাতবাসীকে) বলে দিন যে, তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাওয়া হচ্ছে না, প্রতিদান চাওয়া হচ্ছে না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। বরং তোমাদের জন্য এটা চিন্তা করাটাও কাট্টা কুফরী হবে। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও, যিনি খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের হাক্বীক্বী রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করতে চাও, তাহলে তোমাদের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, ফরয হচ্ছে, আমার নিকটাত্মীয় তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া, উনাদের সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তি কোনো নেক কাজ করে আমি তার সেই নেকী উনাকে দ্বিগুণ-বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিয়ে থাকি। নিশ্চিয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমাশীল এবং সর্বোত্তম প্রতিদান দানকারী।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা শূরা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَحِبُّوا اللهَ لِمَا يَغْذُوْكُمْ مِّنْ نِّـعْمَةٍ وَّاَحِبُّوْنِـىْ لـِحُبِّ اللهِ وَاَحِبُّوْا اَهْلَ بَــيْـتِـىْ لِـحُبِّـىْ.
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো। কেননা, তিনি তোমাদেরকে খাদ্যসামগ্রীসহ সার্বিকভাবে অনুগ্রহ মুবারক করে থাকেন। আর তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মা’রিফাত মুবারক পেতে হলে, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক পেতে হলে, আমাকে মুহব্বত করো। আর তোমরা আমার সম্মানিত মুহব্বত-মা’রিফাত মুবারক পেতে হলে, সম্মানিত রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক পেতে হলে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, মুস্তাদরাকে হাকিম, ত্ববারনী শরীফ, শু‘য়াবুল ঈমান)
সাইয়্যিদাতুন নিসা, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মিছদাক্ব। কেননা তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখাছছুল খাছ আওলাদ তথা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাই কেউ যদি মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি-রেযামন্দি, মুহব্বত, মা’রিফাত হাছিল করতে চায়, তাহলে তার জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম করা।
অন্যদিকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কলিজার টুকরা, নয়নের মণি। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ بِضْعَةٌ مِّنِّىْ فَمَنْ اَغْضَبَهَا اَغْضَبَنِـىْ.
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, উম্মু আবীহা আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন, আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক অর্থাৎ পবিত্র নূরুল মুজাসসাম (জিস্ম) মুবারক উনার সম্মানিত নূর মুবারক অর্থাৎ পবিত্র গোশত মুবারক উনার একখানা সম্মানিত টুকরো মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তাই যে ব্যক্তি উনাকে অসন্তুষ্ট করলো, সে মূলত আমাকেই অসন্তুষ্ট করলো।” নাঊযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুছান্নাফে আবী শায়বাহ শরীফ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّ اَوْلَادِىْ كَسَفِيْنَةِ حَضْرَتْ نُوْحٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ مَنْ دَخَلَهَا نَـجٰى.
অর্থ: “নিশ্চয়ই আমার আওলাদ তথা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা হচ্ছেন, হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিশতী মুবারক উনার ন্যায়। যিনি তাতে প্রবেশ করবেন, তিনি নাজাতপ্রাপ্ত হবেন। অর্থাৎ যে ব্যক্তি হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে মুহব্বত করবেন, তিনি নাজাতপ্রাপ্ত হবেন।” সুবহানাল্লাহ! (সিররুশ শাহাদাতাঈন)
অন্যত্র ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
اِنَّ اَوْلَادِىْ كَحِطَّةِ بَنِىْ اِسْرَائِيْلَ مَنْ قَالَـهَا نَـجٰى.
“আমার আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা বণী ইসরাইলের হিত্তাতুনের ন্যায়। যে ব্যক্তি তা বলবে সে নাজাত পেয়ে যাবে।” সুবহানাল্লাহ!
অন্যত্র ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
إِنِّي تَرَكْتُ فِيكُمْ مَا إِنْ أَخَذْتُمْ بِهِ لَنْ تَضِلُّوا: كِتَابَ اللَّهِ وعترتي أهل بيتِي
“আমি তোমাদের মাঝে দুটি নিয়ামত মুবারক রেখে যাচ্ছি, যতোদিন যাবৎ তোমরা এই দুটি বিষয় আঁকড়িয়ে ধরে রাখবে ততোদিন যাবৎ তোমরা গুমরাহ হবে না। তা হচ্ছে: এক- মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব তথা পবিত্র কুরআন শরীফ, দুই- আমার আহলে বাইত তথা আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা।” সুবহানাল্লাহ!
অন্যত্র আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
اَلنُّجُوْمُ اَمَانٌ لِّاَهْلِ السَّمَاءِ وَاَهْلُ بَيْتِـىْ اَمَانٌ لِّاَهْلِ الْاَرْضِ فَاِذَا ذَهَبَ اَهْلُ بَيْـتِـىْ ذَهَبَ اَهْلُ الْاَرْضِ.
অর্থ: “তারকারাজী আসমানবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী। আর আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন যমীনবাসীর জন্য, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য নিরাপত্তাদানকারী। যখন আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বিদায় নিবেন, সাথে সাথে সমস্ত যমীনবাসী, তামাম কায়িনাতবাসী সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে।” সুবহানাল্লাহ!
আফদ্বালুন নিসা, সাইয়্যিদাতুন নিসা, হাবীবাতুল্লাহ, গুলে মদীনা, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব। তিনি হচ্ছেন- সমস্ত বিশ্ববাসীর জন্য নাজাতি মিনহাজ। নিরাপত্তা দানকারিণী। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে এই ধরণীতে পাঠিয়েছেন তামাম বিশ্ববাসীকে নাজাত দানের লক্ষ্যে। যারা উনাকে মুহব্বত করবে, তা’যীম-তাকরীম, ইত্বায়াত করবে তারা প্রত্যেকেই নাজাতপ্রাপ্ত হবে। মহান আল্লাহ পাক, উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাদের সন্তুষ্টি রেযামন্দি মা’রিফাত-মুহব্বত মুবারক হাছিল করবে। উনি হচ্ছেন নাজাতী পরশ পাথর।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার প্রতি ইলহাম করেছেন, ইলক্বা করেছেন, “আপনার মর্যাদাকে বুলন্দ করা হলো। আর আপনাকে যারা মুহব্বত করবে, উসীলা বানাবে তাদেরকেও ক্বিয়ামত অবধি ক্ষমা করে দেয়া হলো।” সুবহানাল্লাহ!
অর্থাৎ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারকের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি-রেযামন্দি নিহিত। সেজন্য প্রত্যেক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা জানপ্রাণ দিয়ে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সন্তুষ্টি-রেযামন্দি হাছিল করার কোশেশ করতেন এবং উনাকে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করতেন, মুহব্বত করতেন, উনার খিদমতের আঞ্জাম দিতেন।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কলিজা উনার টুকরা, নয়নের মণি।

উনার সন্তুষ্টি রেযামন্দি মুবারকের মধ্যে মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সন্তুষ্টি নিহিত। আর মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সন্তুষ্টির মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মহান আল্লাহ পাক উনাদের সন্তুষ্টি রেযামন্দি মুবারক নিহিত।
উল্লেখ্য যে, সুমহান ২২শে শাওওয়াল শরীফ তারিখে সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হয়।
তাই মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিকট আমরা তাওফীক ভিক্ষা করছি- তিনি যেন আমাদের প্রত্যেককে হযরত শাহযাদী ছানী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে মুহব্বত করার, তা’যীম-তাকরীম করার, উনার যথাযথ খিদমত করার তাওফীক দান করুন। (আমীন)

*******************************************************************************************************************
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ

বেশুমার ছলাত ও সালাম মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত মামদূহ আক্বা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার এবং হযরত আহলে পাক শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক স্মরণে। বেহদ সম্মানিত ও পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম শরীফ সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের মুবারক চরণে। দোয়া চাই, করুণা চাই মুজাদ্দিদে আ’যম, ছহিবু ইলমিল আউওওয়ালি ওয়াল আখিরি, জামি‘উন নি‘য়ামত মামদূহ আক্বা উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাহ্ মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বদম মুবারক)-এ। যেন লিখতে পারি উনাদের সুমহান পবিত্র শান-মান, বুযুর্গী-সম্মান এই অধমে। গড়তে চাই ভবে মামদূহ আহাল পাক উনাদের ছানার তাজমহল; ক্বিবলা কা’বা উনার করুণা পেলেই হবো যে সফল।
ধন্য পবিত্র শাওওয়াল শরীফ। ধন্য তার নব হিলাল। ধন্য আসমানের ওই অসংখ্য শিহাব-সিতারা। ধন্য গ্রহ-নক্ষত্র-পর্বত সারা। ধন্য আরশ-ফরশ পুরো কায়িনাত। ধন্য হুর-মালাইক, মু’মিন-মু’মিনাত। ধন্য পুণ্য ওই নূরে রওশন আউলিয়াবাগ। বলছে সবাই আল বালাগ, আল বালাগ। তাশরীফ- মুজাদ্দিদ যাদী, শাহযাদী ঊলা সাইয়্যিদাহ মুহ্তারামাহ। স্বাগতম হে হাবীবী আহাল পাক মিছাদাক্বে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম! আপনার মুবারক চরণ পরশে খোদ আরশ পাক ধনবান। মাখলূক্ব সবে জানাই আহলান সাহলান।
মারহাবা ইয়া উলা শায়েখযাদী সাইয়্যিদা নূরী আত্বহার! আপনার (আগমন) পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার তরে সৃষ্টি করেছে অধীর আগ্রহে ইনতিযার। পুরিলো তাদের আশা- করিলেন পবিত্র সুন্নাহ শরীফ আবাদ। মারহাবা- ইয়া মামদূহযাদী! জিন্দাবাদ! জিন্দাবাদ!
সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মুত্বহহার, মুত্বহহির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার প্রথমা আওলাদ। তিনি উনার মুবারক লখতে জিগার নয়নমণি। তিনি খোদ নূরে ইলাহী, খায়ের খনি। তিনি আহলু বাইতে রসূল, মালিকায়ে জাহান। উনার মুবারক চরণ তলে আউলিয়াকুলের শির শোভামান। হাবীবা হয়ে সৃষ্টি যিনি, কে লিখতে পারে শান-মান উনার।
মুহূর্ত, ঘণ্টা, দিন কতেক বৎসর পেরিয়ে আবারও হাজির সেই মুবারক শাওওয়াল মাস। যেই বরকতী মাসে গুলে মদীনা, নূরে হাবীবা, সাইয়্যিদাতুন নিসা, আফদ্বালুন নিসা, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের পক্ষ থেকে রহমতে খাছ নিয়ে দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ এনে কুল মাখলূককে ধন্য-পুণ্য করেছিলেন। আজ খুশিতে বাগ বাগ করছে এই (বরকতময়) ফযীলতপূর্ণ মাস উনার পবিত্র ২২তম নিশির জ্যোৎস্না। সিতারার দল আজ মিট মিট করে হাসছে। যেন তারা মুক্তার দানা বিলিয়ে দিচ্ছে সবার মাঝে। আর মনে মনে কার যেন শান-মান বয়ান করছে। চাঁদ-তারার এই অপরূপ ঝিলিমিলি হাসি আজ সকলের মন কেড়ে নিয়েছে। এক আনন্দঘন, বিশাল রহস্যময় মুহূর্ত। এমন শুভ রজনী আর কেউ কখনও দেখেনি হয়তো।
এদিকে নদ-নদীতে পূর্ণ জোয়ার এসেছে। সাগর বক্ষের ঊর্মি মালায় খুশির ঢল নেমেছে। সিন্ধুর সমস্ত প্রাণীকুল তার সাথে একাত্ম হয়েছে। সমুদ্রের শামুক-ঝিনুক তাদের মুক্তা মেলে তথায় সৌন্দর্য বর্ধন করছে। আকাশ আর সাগরের এই নিখুঁত সাজ দৃশ্য দেখে পৃথিবীও অপরূপ সাজে সুসজ্জিত হয়েছে আজ। পুষ্পে পুষ্পে ভরে গেছে পুরো বসুন্ধরা। গুলের সুবাসে আজ সকলে আত্মহারা। ডালে ডালে শুনা যাচ্ছে বুলবুলি পাখির সুমিষ্ট কলতান। সব তরু-লতা আজ পরেছে নতুন লেবাস। দোয়েল-কোয়েল, ময়না-শ্যামা আরো জানা অজানা হাজারো ধরনের হাজারো পাখি, কীট-পতঙ্গ, গর্তের পিপীলিকা গুন গুন করে তাদের ভাষায় ঈদের ধ্বনি তুলছে। এই তুলনাহীন অপরূপ দৃশ্য খোদ রব তা‘য়ালা উনার কুদরতী নজির। যা লাখ-কোটি ঋতুরাজ বসন্তকে হার মানিয়েছে। মরুর বালিকণা তার অগণিত যবান দ্বারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নাম মুবারক উনার তাসবীহ পড়ছে। যমীনের নিচে লুকিয়ে থাকা সমস্ত হীরা-মণি-মুক্তা অমূল্য রতœ ভা-ারও আজ উনার মুবারক খিদমতে নিজেদেরকে বিলিয়ে দিতে পাগলপারা হয়ে উঠেছে। ওই তাহতাচ্ছারা হতে আরশে ‘আলার মাঝে যত মাখলূক্বাত রয়েছে সকলেই নিজেদেরকে উনার মুবারক খিদমতে বিলিয়ে দিতে এরূপ বেকারার পেরেশান বনে গেছে। হে নির্বোধ মানুষ! তুমি হয়তো বুঝ না। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টি জগতের সমস্ত মাখলূক্বাত তা বুঝে।
দেখ! দেখ! ওই দেখ! আজ খুলে গেছে পবিত্র জান্নাত উনার সব বাব (দরজা)। হুর-গিলমান সব মালাইকার ললাটে ফুটেছে খুশির ভাব। তারা সবে নিয়ে উপস্থিত পবিত্র জান্নাতী লু-লু মারজান। রহমতী দ্বার খুলে গেছে আজ, শোন তার পবিত্র আযান। তামাম জিন-ইনসান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার আনন্দে হয়েছে আত্মভোলা। দেখ! দেখ! সমস্ত সৃষ্টির দস্তে দস্তে শোভিছে সদ্য ফুটন্ত পুষ্পমালা।
আজ খোদা তায়ালা উনার আরশ হাবীবী রওযা শরীফ সেজেছে নয়া সাজে। খুশির বন্যা বইছে খোদ ইলাহী-হাবীব মাঝে। আম্বিয়া-আউলিয়া শক্ত হস্তে ধরে আছেন সেই পথ। প্রকাশ হচ্ছে ওই শাহযাদী ঊলা উনার আলীশান আযমত।
ওই রসূলুম মিনাল মালাইকা জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি ঘোষিছেন এক মুবারক খোশ খবরী সারা কায়িনার পরে। বায়ু তা বহে নিয়ে গেছে ধরণীর প্রতি দ্বারে দ্বারে। তাই সকলের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে এক বরকতময় মুবারক শুভ ধ্বনি। আজ মুজাদ্দিদযাদী উনার মুবারক শাদী- সহসা নাও জানি।
মুত্বহহার, মুত্বহহির, হাবীবুল্লাহ, জামি‘উন নি‘য়ামত, ছহিবে ক্বাসিম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার পক্ষ থেকে এই পবিত্র আযীমুশ শান নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার অনুষ্ঠানের দাওয়াতনামা অনেক পূর্বেই হযরত নবী-রসূল, ওলী-আব্দাল, গাউছ, কুতুব, নক্বীব-নুক্বাবা, জিন-ইনসান, হুর-পরী, ফেরেশ্তা, পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ, জামাদাত-শাজারাত, হাজারাত তথা তামাম কায়িনাত মাঝে পৌঁছে গেছে। তাই শুরু হলো শাহী আয়োজন। মানব-দানব, জিন-ফেরেশতা সকলেই লেগে গেল প্রাণপণে অতি আনন্দের সাথে এই পবিত্র আযীমুশ্ শান নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার বরকতী কাজে।
প্রস্তুত (সৃষ্টি জগতের) মাখলূক্ব তামাম। পূর্ণ হলো সকল আঞ্জাম। রাজারবাগ দরবার শরীফ আজ পবিত্র জান্নাতী জ্বালওয়ায় জ্বল জ্বল করে জ্বলছে। অনবরত সেখানে বারিধারার ন্যায় মহান খোদা তা‘য়ালা উনার পবিত্র রহমতে খাছ বর্ষিত হচ্ছে। নূরে নূরে ভরে গেছে পাক দরবার শরীফ। হাজির তথায় হযরত নবী-রসূল, ওলী-গাউছ সব মাখলূক্ব খোদা উনার। বাদ মাগরীব সকলে অধীর আগ্রহে করছে ইনতিযার। কখন হবেন মুনাওওয়ার মজলিসে সাইয়্যিদী দুলহান ইযহার।
দেখ! ওই তো! আসছেন ফেরেশতা উনাদের বেষ্টনীতে পবিত্র গাড়ি মুবারকে সওয়ার হয়ে শাহ সাইয়্যিদ, নূরে মুকাররাম, হাবীবুল্লাহ, বাবুল ইলম নব দুলহান আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী। বর্ষিত হলো উনার উপর মুর্শিদী রহমত, হাবীবী-রববী নূর অবিরত ধারায়। এক অপূর্ব মুচকি হাসির শোভা দেখলাম অধম উনার মুবারক চেহারায়। আমার দিল সাগরে উথলে উঠলো আনন্দের মহা জোয়ার। আমি যে দেখতে পাচ্ছি খোদ মান্্যূরায়ে মদীনায়ে মুনাওওয়ার। গগণবিদারী তাকবীরে আজ আসমান, যমীন একাকার। বলছে সবে খোশ আমদেদ হে সাইয়্যিদী দুলহান নকশায়ে হায়দার। যেন দরবারে নববীতে হচ্ছে আজ এই রহমত, বরকত, সাকীনাপূর্ণ মুবারক আয়োজন। যেন মসজিদে নববী উনার পবিত্র মিম্বার শরীফ উনার মধ্যে বসে আছেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। পবিত্র হুজরা শরীফ উনার মধ্যে বসে আছেন নূরী বদ্রী জ্যোৎস্না বেহেশতী নারীকুল উনাদের সাইয়্যিদা, জান্নাতী নূরী মেহমান, সাইয়্যিদাতুন নিসা, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম। তিনি নিজেই নূরুন আলা নূর। তবুও উনাকে আজ রববী হাবীবী, মুর্শিদী খাছ নূর, রহমত-বরকত সাকীনা ঘিরে রেখেছে। এই দিকে পবিত্র মিম্বার শরীফ উনার সামনে দুই জানু মুবারক পেতে পূর্ণ আদব লয়ে পবিত্র নামায উনার ছূরতে বসা আসাদুল্লাহিল গালিব সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম।
পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ। ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ। পবিত্র ইশার নামায উনার ওয়াক্ত। আজকের এই রহমত, বরকত, সাকীনাপূর্ণ আনন্দঘন জৌলুসপূর্ণ মুহূর্তে যেন হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মুবারক লখতে জিগার, কলিজার টুকরা মুবারক, নয়নের মণি, খাতুনে জান্নাত, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, খতানু মুছত্বফা আসাদুল্লাহিল গালিব হযরত আলী ইবনে আবী ত্বলিব আলাইহিস সালাম উনার মুবারক জাওযিয়াতে তুলে দিলেন। ক্ববুলিয়াত শোনে মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক খোদায়ী যবানে উচ্চারিত হলো ‘আলহামদুলিল্লাহ’। পঠিত হলো মুবারক খুতবা। সম্পন্ন হলো মুনাজাত। আমীন! আমীন! বললো, কুল-কায়িনাত। সঁপে দিলেন উনাদেরকে রব-হাবীবের হাতে। শুরু হলো সাইয়্যিদাতুন নিসা, ছহিবাতুল খইর, ছহিবাতুল আয়াত, ছহিবাতুত তাক্বওয়া, হাবীবাতুল্লাহ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সাথে নূরে মুকাররাম, নূরে মুয়াযযাম, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নতুন জিন্দেগী মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
রাজারবাগ পবিত্র দরবার শরীফ উনার মধ্যে শাহী মেহমানদারী চললো। কায়িনাতের সমস্ত মেহমানগণ উনারা তৃপ্তিসহকারে আহার করলো। আয়োজিত হলো চারদিন ব্যাপী পবিত্র সামা শরীফ উনার মুবারক মাহফিল। পাঠ করলো পবিত্র ক্বাছীদা শরীফ হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার এবং হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের মুবারক শানে জিন-ইনসান, হুর-মালাইক, পশু-পাখি, কুল-মাখলুক্বাত, আবাবীল। মুবারক হোক! মুবারক হোক! উনাদের নয়া জিন্দেগী। এই বলে সবে হলো অসীম নিয়ামতের ভাগী।
সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহালু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাঝে মিশে গেলেন সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। উনার মুবারক জীবন হলো রহমত, বরকতে ভরপুর। সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম নকশায়ে হায়দার-যাহরা পুরা। উনাদের আপাদমস্তক রসূলী নূরে গড়া। উনাদের মুবারক পরশে ফুটুক ফের হযরত হাসানী হুসাইনী গুল। নববী বাগে শোভা পাক নূরী ফুল অতুল। উনাদের সুবাসে ধন্য-পুণ্য হোক তামাম কায়িনাতবাসী। অনন্তকাল ঝরতে থাকুক উনাদের হতে খোদায়ী নাজ-নিয়ামত রাশি রাশি। নাজাতী নিশান, খিলাফতী ঝা-া উড়–ক ফের দিকে দিকে। আবারো আসুক ফিরে শান্তি শিমাল-যুনুব, মাগরিব-মাশরিকে।
আমার দেহ-মন, আপাদমস্তক দ্বারা প্রকাশিত ও প্রচারিত হোক মামদূহ আহাল উনাদের ছানা। এটাই যে, এ অধমের উনাদের পাক চরণে আরাধনা। উনাদের ছানা দিয়ে গড়বো ভবে তাজমহল। মামদূহ আহাল উনাদের দয়া পেলেই হবো চির সফল। সহজ করে দিন ইয়া মামদূহ! আমার ইল্্মী পথ। আমি যে দেখবো আপনার কুদরতী আযমত। ছহীহ ইলম, হুসনে যন চাই আক্বা আপনার পাক ক্বদমে। লুকিয়ে থাকতে চাই আমি চিরকাল আপনার হেরেমে। জাহিরী-বাতিনী হাক্বীক্বী ইছলাহ শায়েখ দানুন আমারে। এই মুবারক সময়ে ভিক্ষা চাইছি ফকীর তব দুয়ারে। অশ্রুর নহর বহায়ে দিলাম আপনার মুবারক পদযুগলে। থাকতে চাই অনন্তকাল আপনাদের মাঝে মিলে। শিফায়ে জিসম- শিফায়ে কুলুব চাই হে মালিক সোবহান! আপনি যে মোর তরে একমাত্র দারুল আমান। সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের উসীলায় মোরে করুন কবুল। আপনি যে মিছদাক্বে রহমতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যিদী রসূল। আপনাদের ইশকেই হোক মোর মরণ। তবেই স্বার্থক হবে অধম গোলামের এই জীবন।

**************************************************************************************************************************************************************************************************************************************

হাদিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা
আলাইহিস সালাম জিন্দাবাদ!

মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত বান্দা ও ওলী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মনোনীত উম্মত, নায়িব ও ওয়ারিছ এবং যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার সুমহান মুজাদ্দিদ ও ইমাম, মুজাদ্দিদ আ’যম ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুন নিসা, হাবীবাতুল্লাহ, উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদের মনোনীত, পছন্দনীয়, কবুলকৃত, স্নেহধন্য শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আখাচ্ছুল খাছ মুরাদ শ্রেণীর ওলীআল্লাহ সুবহানাল্লাহ! মুরাদ শ্রেণীর ওলীআল্লাহ উনাদের মধ্যে তিনি আখাছছুল খাছ এইজন্য যে, তিনি হযরত মুজাদ্দিদ আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ‘শাহদামাদ’ হওয়ার সৌভাগ্য লাভে ধন্য হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
এ নিয়ামত এমন এক নিয়ামত যা বর্ণনার ভাষা কারো নেই। এ নিয়ামতের বর্ণনা কেবল জান্নাতের নিয়ামতরাজির বর্ণনার সাথে সাদৃশ্য হতে পারে; যা কোনো কান শ্রবণ করেনি, কোনো চোখ দেখেনি এবং কোনো অন্তর উপলব্ধি করেনি। সুবহানাল্লাহ!
আরো একটু ব্যাখ্যা করে বলা যায়, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বীয় আত্বায়ী গুণে এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ক্বাসিমী গুণে শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম এবং হাদিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাদেরকে দুনিয়াতেই জান্নাতের নাজ-নিয়ামত উনার অধিকারী করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
উনারা এমন মর্যাদা-মর্তবার অধিকারী উনাদের উদাহরণ মেলে শুধুমাত্র আসাদুল্লাহিল গালিব হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সাথে।
কাজেই উনাদের মুহব্বত, তা’যীম-তাকরীম, ইত্তিবা, খিদমত কায়িনাতবাসীর জন্য ফরয।

*******************************************************************************************************************

সমস্ত নিয়ামত উনাদের জামে আওলাদে রসূল হযরত শাহদামাদ ছানী আলাইহিস সালাম

মহান রব্বুল আলামীন জাল্লা শানহূ তিনি উনার পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ‘সূরা আর রহমান শরীফ’ উনার মধ্যে অসংখ্যবার ইরশাদ মুবারক করেছেন, “তোমরা আমার কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?”
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি এতোই নিয়ামত দান করেছেন যা সমস্ত মাখলুকাত তারা কখনো অস্বীকার করতে পারবে না। আর এই মুবারক নিয়ামত রাজি কখনো কারো পক্ষে বর্ণনা করাও সম্ভব নয়। মহান রব্বুল আলামীন উনার এই মুবারক নিয়ামত উনাদের যিনি জামে উনাকেই বর্তমান যামানায় আমাদের মাঝে পাঠিয়েছেন। যাঁর শুকরিয়া আদায় করা কুল-কায়িনাতের পক্ষে কস্মিনকালেও সম্ভব নয়।
মহান রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে মানষেরা! নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট এসেছেন সবচেয়ে বড় নিয়ামত মুবারক (তথা নিয়ামত উনাদের জামে) মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে তিনি এবং মু’মিনের অন্তরের শিফা মুবারক, মু’মিনদের জন্য হিদায়েত মুবারক এবং রহমত হিসেবেও তাশরীফ এনেছেন। হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সকলকে বলে দিন তারা যেন ওই ফযল-করম উনাদের জন্য খুশি প্রকাশ করে, শুকরিয়া আদায় করে। আর এটাই তার উপার্জনের মধ্যে, আমলের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হবে।” (পবিত্র সূরা ইউনূস শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭)
এখানে মহান রব্বুল আলামীন জাল্লা শানহূ নিয়ামত উনার শুকরিয়া আদায় করা এবং উনার মুবারক তাশরীফ উনার কারণে খুশি প্রকাশ করা সকল মাখলুকাতের জন্য ফরয করে দিয়েছেন। আর যে ব্যক্তি তা করবে না তার জন্য এমন কঠিন শাস্তি নির্ধারণ করা হবে তা শুধু মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই ভালো জানেন। যেখানে হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সেই খাদ্যসহ খাঞ্চা নাযিলের দিনটিতে খুশি প্রকাশ না করলে কায়িনাতের সবচেয়ে বড় শাস্তি দেয়া হবে। তাহলে যিনি সমস্ত নিয়ামতের জামে উনার তাশরীফ মুবারক উপলক্ষে খুশি প্রকাশ না করলে কিরূপ শাস্তি তা উপলব্ধির বাইরে। জানতে কী একটিবারও ইচ্ছা করে না, সেই মুবারক নিয়ামত উনাদের জামে তিনি কে? অবশ্যই ইচ্ছা করবে। কেননা যদি আমরা নাই জানি নিয়ামত উনাদের জামে তিনি কে- তাহলে কিভাবে শুকরিয়া আদায় করবো, খুশি করবো। কিভাবে খিদমত উনার আঞ্জাম দিবো। ইচ্ছা করছে সবাই মিলে উনার মুবারক ছানা-ছিফত করে এক সাথে খুশি প্রকাশ করে সুমহান ব্যক্তিত্ব উনার নাম মুবারক উচ্চারণ করতে। কিন্তু হায় অক্ষম আমরা। সমস্ত নিয়ামত উনাদের জামে তিনি হচ্ছেন ক্বায়িম-মাক্বামে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, হাদিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি।
হে হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! আমাদের অক্ষমতা দূর করে দিন এবং আবাদুল আবাদ আপনার ছানা-সিফতে ডুবে থাকার তাওফীক দান করুন। (আমীন)

*********************************************************************************************************************************************************************

হাদিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম

বর্তমান বিশ্বের সমস্ত মানুষ হারাম-নাজায়িয এবং পাপ কাজের মধ্যে লিপ্ত হয়ে গেছে। যা ইতঃপূর্বে কোনো সম্প্রদায়ই এতো পাপ কাজে লিপ্ত হয়নি। কারণ বর্তমান সময়ের মানুষরা আজ হারামকে হালাল এবং হালালকে হারাম ফতওয়া দিচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!
এজন্য মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই বর্তমান যামানা তথা শেষ যামানা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “আখিরী যামানায় পবিত্র ঈমান রক্ষা করা এতো কঠিন হবে যেমন জ্বলন্ত আগুনের কয়লা হাতে রাখা কঠিন।” অর্থাৎ বর্তমান যামানা তথা শেষ যামানার অবস্থা খুব ভয়াবহ হবে। আর বর্তমানে তাই দেখা যাচ্ছে অর্থাৎ বর্তমানে পবিত্র ঈমান-আমল হিফাযত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা দয়া-ইহসান করে আমাদের মাঝে পাঠিয়েছেন আহলে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে। এজন্য আমাদেরকে শুকরিয়া আদায় করতে হবে। আর এই শুকরিয়া আদায় করাটাও মহান আল্লাহ পাক উনারই নির্দেশ মুবারক। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “তোমাদেরকে যে নিয়ামত দেয়া হয়েছে তার শুকরিয়া আদায় করো।”
আর শুকরিয়া আদায় করা হবে কিভাবে? শুকরিয়া আদায় করা হবে উনাদের মুবারক বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে, উনাদের নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস উপলক্ষে খুশি প্রকশ করে। সুবহানাল্লাহ!
আর হাদিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আহলে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে অন্যতম। উনাকে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি আমাদের মাঝে হাদী হিসেবে পাঠিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যেন আমাদের সবাইকে হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র আযীমুশ শান নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করার তাওফীক্ব দান করেন। (আমীন)
*********************************************************************************************************************************************************

হযরত শাহদামাদ ছানী আলাইহিস সালাম উনাকে যেমন দেখেছি …

হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে খুব সন্নিকটে তথা কাছে থেকে দেখা। আজও মনে পড়ে তিনি যখন প্রথম বিদেশে তাশরীফ আনলেন গাউছুল আ’যম, হাবীবে আ’যম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার হুকুম মুবারক-এ, তখন হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার হুকুম মুবারক মুতাবিক আমাকে দায়িত্ব দেয়া হলো- উনার সব ব্যাপারে সাহায্য-সহযোগিতা তথা খিদমত করার। প্রথম সাক্ষাৎ হলো প্রবেশ দরজায়। সুন্নতী লিবাস মুবারক পরিম-িত, মাথা মুবারক উনার মধ্যে পাগড়ি মুবারক, রুমাল মুবারক, অনিন্দ্যসুন্দর এক যুবা! ডান কপাল মুবারক উনার মধ্যে তিল মুবারক, চোখ মুবারক উনার মধ্যে সুরমা মুবারক। সালাম-কালাম বিনিময়ে অতঃপর মুয়ানাকা হলো। আমার ক্বলবে তখনই নেদা হলো- ইনিই হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। অতঃপর তাশরীফ আনলেন গৃহে। উনার সঙ্গে বসে কথাবার্তা হলো। সে অনেক কথা। উনার জিন্দেগী মুবারক উনার বিভিন্ন পর্যায়ের ঘটনা মুবারক ও বৃত্তান্ত বয়ান করলেন, শুনালেন। কিভাবে হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সান্নিধ্যে আসলেন, যিকির-ফিকির উনার দিকে রুজু হলেন, মুবারক সুন্নতী বেশ-ভুষায় আপ্লুত হলেন- এ সমস্ত অনেক কথা। আমি শুধু দেখতে থাকলাম উনার আচার-আচরণ মুবারক, বিনয়ী ব্যবহার মুবারক, আদব-কায়দা মুবারক ইত্যাদি। এক কথায় অপূর্ব। সবসময় উনাকে দেখেছি এবং বারবার অনুযোগ করেছেন, ‘আপনি সিনিয়র, নামায পড়ান, মুনাজাত শরীফ করেন।’ কিন্তু নিজে কখনই উদ্যত হননি শুধু নয়, রাজিই হননি এসবে অগ্রজ ভূমিকা নিতে। এতো গভীর বিনয়, এতো গভীর নির্মলতা মনের তথা অন্তরের।
উনার প্রথম যে খাছ বৈশিষ্ট্য মুবারক দেখেছি সেটা হলো- খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহি সালাম উনার এবং হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি একনিষ্ঠ মুহব্বত, একাগ্রচিত্ত নিবেদন ও হুসনে যন। মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কোনো আদেশ-নির্দেশ শোনামাত্রই হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার চেহারা মুবারক পাল্টে যেত। তিনি ব্যতিব্যস্ত হয়ে যেতেন সেই হুকুম মুবারক উনার তামিলে।
হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার দ্বিতীয় যে বৈশিষ্ট্য মুবারক দেখেছি সেটা হলো- দুনিয়া বিমুখতা। এত স্বল্পে তৃপ্ত ও মিতব্যয়ী ব্যক্তিত্ব আমি পূর্বে কখনো দেখিনি। তিনি শুধু স্বল্প নয়, সমস্তই মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার খিদমত মুবারক-এ ব্যয় করে দিতেন। আর হুকুম মুবারক হলে তো কথাই নেই। নিজের ব্যবস্থা কি হবে সেই ফিকিরে উনাকে কখনো মগ্ন হতে দেখিনি। একটিমাত্র ব্যাগ মুবারক-এই উনার আমেরিকার পুরো সংসারের স্থান সংকুলান হয়ে যেত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তরে।
হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার তৃতীয়/আরেকটি খাছ বৈশিষ্ট্য মুবারক হলো- হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের হুকুম মুবারক পালনে, শরীয়ত উনার তাঁবেদারিতে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম মুবারক পালনে তিনি পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব কারোরই কোনো অবস্থাতেই একবিন্দু তোয়াক্কা করেননি। যে যাই বলুক, যাই শোনাক। এত গভীর উনার ইস্তিকামত ও ইখলাছ। খাবার-দাবার মুবারক-এ, আচার-আচরণ মুবারক-এ, চলন-বলন মুবারক-এ সর্বাবস্থায় পরিমিত ও সংযত দেখেছি উনাকে। কথা বলার সময় সর্বদায়ই তিনি বলতেন- ‘বেয়াদবি, গোস্তাখি মাফ করে দিবেন।’ এমনকি এই সেদিনও যখন দূরালাপনী হলো, সেই একই কথা। আমি বললাম, আমাদেরই বরং অসংখ্য বেয়াদবি ও গোস্তাখি হয়ে গেছে, আপনার প্রকৃত শান ও মর্যাদার অনুরূপ ব্যবহার না করার কারণে।
হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার আরেকটি খাছ বৈশিষ্ট্য মুবারক- যেটাকে মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার দয়া ও ইহসানে কারামতই বলা চলে।
যুক্তরাষ্ট্রেই হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার হাত মুবারক-এ অনেক মানুষ মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার বাইয়াত গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
আর একটি খাছ যে কথাটুকু বলতে চাই সেটা হলো- হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার একটি বিষয় ছিলো আমার অত্যন্ত প্রিয়। কখনো উনাকে বলিনি। আজ প্রথম প্রকাশ করছি। সেটি হলো- উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করা। এত আবেগ-আপ্লুত ও ইখলাছ মুবারক উনার সাথে পবিত্র মীলাদ শরীফ আমরা কেউ পাঠ করতে পারি না। দিল ও ক্বলব এবং জান-প্রাণ ভরে যেত উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ শুনে। আমি ইচ্ছাকৃতভাবেই চাইতাম উনি পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করুন আমাদের আমেরিকার আনজুমান মজলিসগুলোতে। শুধু এটিই হচ্ছে একটি বিষয়, যেখানে আমি লক্ষ্য করেছি উনার ছিল অনাবিল আগ্রহ ও আকুলতা যে, তিনি পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করবেন এবং আমার জন্যে সেটা ছিল সর্বদাই একটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। অবশেষে যে বিষয়টি পূর্বেই উল্লেখ করেছি, যা এখন প্রকাশ করা যাক, নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই প্রায় দু’বছর যাবৎ আমার মনে বদ্ধমূল ধারণা এটিই ছিলো যে, তিনি হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
চারবার এবং সর্বশেষ যখন তিনি বাংলাদেশের জন্য প্রস্থান করলেন, আমার মনে বিশেষ ভাবাবেগ সৃষ্টি হওয়াতে আমি দু’বছর পূর্বে প্রথম ও এবার শেষ ও চতুর্থবার বন্ধুবরেষু ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ শওকত হুসাইন ছাহেব উনাকে বলেছিলাম একথা। কিন্তু যেহেতু আমরা তিনি সাইয়্যিদ কিনা- এ বিষয়ে ধারণার অধিকারী ছিলাম না, এই কারণে অন্য কাউকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার সাহস হয়নি, যদি বেয়াদবি হয়ে যায় এই ভয়ে। আর প্রমাণিত হলো, এটিও মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার আরো একটি খাছ কারামত। সুবহানাল্লাহ!
সর্বশেষ আমি হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পাক ক্বদম মুবারকে এই বলে আর্জি পেশ করবো, যেন তিনি আমার ও আমাদের সকল বেয়াদবি, গোস্তাখি, ভুল, ভ্রান্তি এবং বদ আখলাকি ও বদ আচরণসহ সমস্ত কিছু উনার অনিন্দ্য অন্তঃকরণ মুবারক উনার বিশালতা দিয়ে ক্ষমা করে আমাকে ও আমাদেরকে কবুল করে নেন। আমীন!

***************************************
শানে হাদিউল উমাম আলাইহিস সালাম
ঐতিহাসিক পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ:
মুবারক সন্তুষ্টি প্রাপ্তির এক মহান উপলক্ষ

ঐতিহাসিক পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ অর্থাৎ আজ কুতুবুল আলম, হাদিউল উমাম, বাবুল ইলম, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহামহিমান্বিত নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস।
যিনি খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ্, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবুল্লাহ আওলাদে রসূল মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং উম্মুল উমাম, উম্মাহাতুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদের ছানী শাহদামাদ। সুবহানাল্লাহ!
যিনি খলীফাতুল উমাম, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের একান্ত আপনজন।
সর্বোপরি যিনি নিবরাসাতুল উমাম, উম্মু আবীহা, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম উনার আযীমি খিদমতে দায়িমীভাবে নিয়োজিত রয়েছেন।
মূলত, উনার শান-মান মর্যাদা-মর্তবা বুযুর্গী অতুলনীয়। অতুলনীয় উনার ফযীলত।
সীমাহীন উনার তায়াল্লুক ও নিসবত। তিনি মহান বারে ইলাহী মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অসাধারণ সন্তুষ্টি মুবারক ও নৈকট্যপ্রাপ্ত। যার কারণে এই সুমহান নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস উনার গুরুত্ব, তাৎপর্য, মাহাত্ম্য, মহত্ত্ব, শান-শওকত লেখা ও বলার অনেক ঊর্ধ্বে। কোনো জবান ও কলম দ্বারা আযীমি জাত ও ছিফত মুবারক উনার যথার্থ প্রশংসার যেমন শুরু ও শেষ কোনোটাই করা সম্ভব নয়, তেমনি পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস পালনের ব্যাপকতার, জৌলুসের, শান-শওকতের তথা সমন্বিত আয়োজনের কোনো পরিশেষ নেই। সমস্ত প্রকাশ সমস্ত আয়োজনই যেন অসম্পূর্ণ ও ব্যর্থ। তাই সার্বিক বিষয়ে কুতুবুল আলম, হাদিউল উমাম, বাবুল ইলম, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিকট দায়িমীভাবে নতজানু হয়ে ক্ষমা প্রার্থনাই গোলামদের একান্ত আমল।
মহান আল্লাহ পাক তিনিই সব কুল-কায়িনাতের খালিক্ব মালিক রব। তিনি উনার মুবারক তরতীব অনুযায়ী বিভিন্ন দায়িত্ব বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব উনাদেরকে দিয়ে রেখেছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে বিবৃত হয়েছে যে, প্রতি যুগে ৭ জন কুতুবুল আলম দুনিয়াতে থাকবেন। উনাদের উসীলায় পৃথিবী সুরক্ষিত থাকবে, বৃষ্টি বর্ষণ হবে, সৃষ্টিকুল রিযিক পাবে।’
তাই আবশ্যকীয় কারণেই বলতে হয়, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে উল্লেখিত মহান সাত জন কুতুবুল আলম উনাদের খুঁজে নেয়া, ছোহবত ইখতিয়ার করা, খিদমত করা উম্মাহ তথা আমাদের জন্য ফরয। উনাদের সুপারিশ ও দোয়া মুবারক-এই জিন ও ইনসান কামিয়াবী হাছিল করে থাকে।
এ উম্মাহর বিরাট সৌভাগ্য যে, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে বর্ণিত সাতজন কুতুবুল আলম উনারা একত্রে বসবাস করেন, এই বাংলাদেশে রাজারবাগ শরীফ উনার মাঝে।
আর উনাদের মাঝে বিশেষ একজন কুতুবুল আলম হলেন- হাদিউল উমাম, বাবুল ইলম, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম।
যিনি সত্যিকার অর্থেই অপূর্ব এক ব্যক্তিত্ব। উনার আচার-আচরণ মুবারক, বিনয়ী ব্যবহার মুবারক, আদব-কায়দা মুবারক অনন্য সুন্দর ও বিরল।
উনার অন্যতম খুছুছিয়ত এই যে, তিনি খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহি সালাম এবং মহাসম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি পরিপূর্ণ নিবেদিত প্রাণ। উনাদের প্রতিটি বিষয়ে তিনি এতো অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন; যা আর কারো ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যায় না।
কুতুবুল আলম, হাদিউল উমাম, বাবুল ইলম, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম স্বল্পভাষী, সর্বদায় উনার ঠোঁট মুবারক উনার মাঝে সুন্নতী মুচকি হাসি শোভা পায়। উনার ইলম কালাম মুবারক উনার প্রখরতা, দৃষ্টি মুবারক উনার সূক্ষ্মতা, কথা মুবারক বলার মিষ্টতা, যিকির-আযকার মুবারক উনার সচেতনতা, সুন্নতী আমল মুবারক উনার পালনের একনিষ্ঠতা সত্যিই তুলনাহীন।
তিনি পরিপূর্ণরূপেই দুনিয়া বিরাগী এক মহান ব্যক্তিত্ব।
তিনি মুবারক খান্দান তথা নসব মুবারক উনার দিক দিয়ে খাছ সাইয়্যিদ তথা আওলাদে রসূল।
কুতুবুল আলম, হাদিউল উমাম, বাবুল ইলম, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি মুবারক সিলসিলাভুক্ত সকল মুরীদান-মুহিব্বিন তথা আমরা যেন ইছলাহ লাভ করতে পারি এজন্য নিয়মিত যিকির-আযকার ছবক ও খিদমত সংক্রান্ত বিষয়ে মুবারক নছীহত করে থাকেন। আমরাসহ সারা বিশ্ববাসী কিভাবে অতি সহজে মু’মিন-মুত্তাক্বী আল্লাহওয়ালা হতে পারি সে বিষয়ে তিনি অতি সযতেœ দিক-নির্দেশনা মুবারক দিয়ে থাকেন। গোলাম হিসেবে উনার প্রতি শুকরিয়া ও মুহব্বত প্রকাশের ভাষা আমাদের জানা নেই।
তাই শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার আযীমুশ শান নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস উপলক্ষে শুধু রাজারবাগ শরীফ সিলসিলাভুক্ত আমরাই নই, সারা বিশ্বের সকল মুসলমান উনাদের দায়িত্ব-কর্তব্য ঈদ পালন করা। উনার খিদমতে বেশুমার দুরূদ ও সালাম পেশ করা, উনাকে ক্বদমবুছি করা এবং উনাকে হাদিয়া পেশ করা।
মহান মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং মহামান্য হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা কুতুবুল আলম, হাদিউল উমাম, বাবুল ইলম, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতাল উমাম আলাইহিমাস সালাম উনাদের সম্মানার্থে আমাদের সকলকে সেই তাওফীক নছীব করুন। আমীন।

**********************************************************************************************************************************************************************

হে হাদিউল উমাম আলাইহিস সালাম! আপনাকে জানাই অভিনন্দন

হাদিউল উমাম -জিন্দাবাদ
ছানী শাহদামাদ-জিন্দাবাদ
ঈদে মীলাদ -জিন্দাবাদ
হে নূরী শাহদামাদ! আরশের পরশে, রওযায় মিশে, অতি নিমিষে আপনার আগমন। শুকরিয়া জানাতে, মাহফিল রাঙাতে, নূরী প্রভাতে, উজ্জীবিত সকল হৃদয় মন। মন মননে, হৃদী কাননে, মুবারক শানে, লিখিবার নেই ভাষা। শুধু দয়া, শুধু মায়া, নজরি ছায়া পাওয়া মোর আশা। লিখনীর ছোঁয়া, হবে না ভুয়া, করেন যদি ইহসান। ছোট হলেও হবে তা অফুরান। আপনি হাবীবী নন্দন, চাই আপনার বন্দন, চাই নিসবতী করিডোর। একটু ছায়া, একটু মায়া, পেলেই শুভ হবে মোর ভোর। করুন ইহসান, চাই দয়া দান, চাই অফুরান, আপনার মুবারক ক্বদমে, নূরানী হৃদে রাখুন বেঁধে বলি কেঁদে কেঁদে তাড়াবেন না অধমে। আপনি আলীশান, আপনি মহীয়ান, আপনি দয়াবান, রাখি আমি বিশ্বাস। ফজল, করম, রহম, পরম পেলে ছাড়তে পারবো নিঃশ্বাস। এ আমার অভিষেক আরজি ক্বদমে ভেজি, থাকুন রাজি, মুবারক দিন আজি, শুধু এ দিনের তরে। হে আক্বাজী, হে দাতাজী করুন মর্জি, রাখুন মুবারক দ্বারে।
হে সাইয়্যিদী খান্দান!
ধরা সাজিয়ে, মাখলুক মজিয়ে, নূর চমকিয়ে, আঁধার থমকিয়ে, সুবাস ছড়িয়ে, সুন্নত জড়িয়ে, রূপালী অবয়বে, নিথর নীরব আজকের মহান দিনে আপনার মুবারক তাশরীফ সত্যিই আমাদেরকে করেছে বিমোহিত, আলোড়িত, আন্দোলিত ও আনন্দ মুখর। মুবারক নূরী পরশ মাখা শুভ দিবসে আপনাকে জানাই কায়িনাতের জানা অজানা সমস্ত পুষ্পমালার শুভেচ্ছা। অতি আদরে, দয়া ও সাদরে আপনি আমাদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন।
হে তারাক্কির মিনহাজ!
আপনি তাশরীফ নিয়ে আমাদের করেছেন মুগ্ধ, ধন্য ও বরকতময়। আমরা যা পূর্বে বুঝতাম না, জানতাম না, মানতাম না, ভ্রুক্ষেপ করতাম না, ইতমিনান মনে করতাম না তা সবই আপনি বুঝিয়ে দেন, নজরে এনে দেন, জানিয়ে দেন, ইতমিনান বানিয়ে দেন। তাই আপনি হচ্ছেন আমাদের তারাক্কির মিনহাজ। মুর্শিদী রেযা পেতে আপনি আমাদের পরম সহায়ক। সুবহানাল্লাহ!
হে ছহিবে নিজাম!
উল্টোপাল্টা, এলোমেলো, অগোছানো, দৃষ্টিকটু ইত্যাদি কার্যক্রমে, আমলে আমরা ছিলাম বিভোর। আপনার সুনির্দেশিকা, সুপরামর্শ, মুবারক আদেশ-নিষেধ, তর্জ-তরীক্বা, নিয়ম-নীতি আমাদেরকে করেছে সুশৃঙ্খল, সুবিন্যস্ত, সুনিপুণ। তাই আমরা দৃঢ়চিত্তে এক বাক্যে বলতে বাধ্য হবো আপনি হচ্ছেন ছহিবে নিজাম। সুবহানাল্লাহ!
হে রূপালী চাঁদ!
ব্যক্তির ভালো কথাও ভালো লাগে না, ভালো জিনিসও পছন্দ হয় না, যদি না ধরে অন্তরে। তাই তো প্রবাদে বলা হয়েছে- যাকে দেখতে নারী তার চলন বাঁকা। আর আপনার রূপালী চাঁদ সদৃশ অবয়বের মাঝ থেকে দু’খানা হেলালের মতো শাফাতাইন নিসৃত মধুমাখা ঐশী বাণীমালা সত্যি আমাদেরকে আবেগাপ্লুত করে দেয়। আজীব করে দেয়, মোহনীয় করে দেয়, যার কারণে দায়িমী শুনতে ইচ্ছে করে আপনার মুবারক নছিহত, ওয়াজ শরীফ, পরামর্শ শরীফ, সুনির্দেশনা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
ইয়া শাহদামাদে মুজাদ্দিদে আ’যম
আলাইহিস সালাম!
সুমহান মুজাদ্দিদ যেমন কোশেশ করে, রিয়াজত, মাশাক্কাত করে হওয়া যায় না। ঠিক তেমনি কোশেশ, রিয়াজত, মাশাক্কাত করে মুজাদ্দিদ উনার দামাদ হওয়াও যায় না। কেননা এই বিষয়গুলো হলো মুরাদ, মক্ববুল, মাহবুব, তথা মনোনীত হওয়া বিষয়ের গ-িতে।
والله يختص برحمته من يشاء
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে উনার রহমতে খাছ দ্বারা বেষ্টন করে নেন, উনারাই হতে পারেন মুজাদ্দিদ, হতে পারেন উনার শাহদামাদ। সুবহানাল্লাহ!
ইয়া হাদিয়াল উমাম আলাইহিস সালাম!
আপনার মুবারক লক্বব বুঝিয়ে দেন আপনি কত বড় মাক্বাম উনার ওলীআল্লাহ। আপনি কায়িনাতের সকল উম্মতের পথ-প্রদর্শক। আপনি বিদয়াত, বিশরা, কুফরী, শিরকী ইত্যাদি থেকে উম্মাহকে টেনে বের করে ফরয-ওয়াজিব-সুন্নাতের পাবন্দ করে দেন। কাফিরকে করেন মুসলমান। বিদয়াতীকে করেন ইছলাহ। বেহায়াকে করেন রুচিসম্মত স্বাভাবিক। সুবহানাল্লাহ!
**********&*&********************************************************************************************************************************************************

হাদীউল উমাম শাহদামাদে ছানী হযরত
মুহসিনুল উমাম আলাইহিস সালাম

কুতুবুল আলম, মুহইস সুন্নাহ, মাহিউল বিদ’য়াত, হাবীবুল্লাহ শাহদামাদে ছানী হযরত মুহসিনুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন, যিনি শাহদামাদে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার পরিপূর্ণ ক্বায়িম-মাক্বাম। সুবহানাল্লাহ!
আর স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি খাছ করে হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মুবারক শানে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, উছমান যুন নূরাঈন আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন, ‘রুহামাউ বাইনাহুম’ তথা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তা’য়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে সমস্ত কায়িনাতবাসীর প্রতি সর্বাধিক দয়ালু, ইহসানকারী, করুণাকারী। সুবহানাল্লাহ!
কুতুবুল আলম, মুহইস সুন্নাহ, মাহিউল বিদ’য়াত, হাবীবুল্লাহ শাহদামাদে ছানী হযরত মুহসিনুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি যেহেতু হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার পরিপূর্ণ ক্বায়িম-মাক্বাম, তাই তিনি হচ্ছেন ‘মুহসিনুল উমাম’ তথা সমস্ত উম্মতের প্রতি সর্বাধিক দয়ালু, ইহসানকারী, করুণাকরী। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, ‘মুহসিনুল উমাম’ লক্বব মুবারক উনার মধ্যে ‘মুহসিন’ শব্দ মুবারক উনার অর্থ হচ্ছে, ইহসানকারী, করুণাকারী, দয়ালু ইত্যাদি। আর ‘উমাম’ শব্দ মুবারকখানা হচ্ছে উম্মাতুন শব্দ মুবারক উনার বহুবচন। অর্থ হচ্ছে, সমস্ত উম্মত, সমস্ত কায়িনাতবাসী ইত্যাদি। সুতরাং ‘মুহসিনুল উমাম’ লক্বব মুবারক উনার অর্থ হচ্ছে, সমস্ত উম্মতের প্রতি, সমস্ত কায়িনাতবাসীর প্রতি সর্বাধিক দয়ালু, করুণাকারী, ইহসানকারী ইত্যাদি। সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং কুতুবুল আলম, মুহইস সুন্নাহ, মাহিউল বিদ’য়াত, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন, ‘শাফিউল উমাম’ তথা সমস্ত উম্মতের জন্য, সমস্ত কায়িনাতবাসীর জন্য শাফায়াতকারী, সুপারিশকারী, আর কুতুবুল আলম, মুহইস সুন্নাহ, মাহিউল বিদ’য়াত, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল হযরত শাহদামাদ ছানী আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন, ‘মুহসিনুল উমাম’ তথা সমস্ত উম্মতের প্রতি, সমস্ত কায়িনাতবাসীর প্রতি সর্বাধিক দয়ালু, করুণাকারী, ইহসানকারী ইত্যাদি। সুবহানাল্লাহ!
কুতুবুল আলম, মুহইস সুন্নাহ, মাহিউল বিদ’য়াত, সাক্বফুল ইলম, রফীকুল জান্নাহ, হাবীবুল্লাহ শাহদামাদে ছানী হযরত মুহসিনুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন, সাক্বফুল ইলম, রফীকুল জান্নাহ, শাহদামাদে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার পরিপূর্ণ ক্বায়িম মাক্বাম। তাই উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান যে কত বেশি সেটা সমস্ত মাখলূকাতের চিন্তা ও কল্পনার বাইরে। সুবহানাল্লাহ!

*********************************************************************************************************************************************

একজন ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, কুতুবুল আলম, হাদিউল উমাম, বাবুল ইলম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার অতুলনীয় শান-মান, ইয্যত-ঐতিহ্য, বুযূর্গী-সম্মান এবং উনার অনন্য মানস প্রকৃতি

মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা এবং উনার প্রিয়তম রসূল, মাশুকে মাওলা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা উনাদের উদিষ্ট ব্যবস্থায় জগৎ-সংসার পরিচালনা এবং বিশ্ব পরিসরে মনোনীত দ্বীন-ইসলাম উনার হাক্বীক্বী আবাদের জন্য কালে কালে, যুগে যুগে, সময়ে সময়ে লক্ষ্যস্থল হাদী, লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ উনাদেরকে যমীনে পাঠিয়ে থাকেন। জাগতিক কোলাহল, প্রবল বাধা-বিপত্তি, প্রতিকূল পরিবেশ-প্রতিবেশকে পিছনে ফেলে উনারা লক্ষ্যপানে কেবলই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। উনাদের অনুপম ব্যক্তিত্ব, স্নিগ্ধ আচরণ, প্রগাঢ় প্রজ্ঞা, দুর্বার স্বাধীনতা, অতলান্ত মুহব্বত-মা’রিফাত, অনুসন্ধিৎসু মন ও মনন, ক্লান্তিহীন পথচলা, অনুক্ষণ কর্মপ্রবাহে সম্পৃক্ত থাকার গুণ-বৈশিষ্ট্য উনাদের মুবারক স্বভাব-সঞ্জাত। বুযূর্গ পূর্বপুরুষ উনাদের থেকে উনাদের অধস্তন পুরুষ উনাদের মধ্যে এসব গুণ-বৈশিষ্ট্য সঞ্চারিত হয়। অতুলনীয় কামিয়াবীর পীযূষধারায় উনাদের নিয়ামত-সমৃদ্ধ যে মুবারক অবস্থান, উনাদের বুযূর্গ পূর্বপুরুষ উনাদের পুঞ্জীভূত নিয়ামত সম্ভারই সেসবের উৎসমূল। কামিয়াবীর ক্রমধারায় এ মুবারক প্রক্রিয়ার ব্যতিক্রম থাকলেও তার পরিমাণ নগণ্য।
মুবারক বুযূর্গ পূর্বপুরুষ উনাদের নিয়ামত-সমৃদ্ধ এমনি এক অসাধারণ বুযূর্গ ব্যক্তিত্ব তিনি দুনিয়ায় তাশরীফ আনেন। আর তিনি হলেন- ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিমাস সালাম, বাহরুল উলূম, কুতুবুল আলম, কুতুবুল ইরশাদ, বাবুল ইলম, মাহিউল বিদয়াত, ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, ছাহিবে কাশফ ওয়াল কারামত, ছাহিবে ইলম ওয়াল হিকাম, ছহিবুত তাক্বওয়া, ছহিবুশ শুকুর, ছাহিবে হিলম হযরত হাদিউল উমাম আলাইহিস সালাম। সম্মানিত ‘সাইয়্যিদ’ পরিবারে উনার মুবারক বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ। বুযূর্গ পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা উভয়েই সাইয়্যিদ, অর্থাৎ উনারা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!
বুযূর্গ পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের উভয়ের মাধ্যমে ওলীয়ে মারাদাজাদ, আওলাদুর রসূল, হাদিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক সম্পৃক্তি ঘটেছে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে। সুবহানাল্লাহ! বুযূর্গ পূর্বপুরুষ উনারা পবিত্র মদীনা শরীফ উনার অধিবাসী। উনাদের অন্যতম ব্যক্তিত্ব হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আকবর শাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার কয়েকজন ছফর সঙ্গীসহ প্রায় তিনশ বছর পূর্বে সম্মানিত ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে প্রথমে ইয়েমেন আসেন। অতঃপর উনারা ইরাক ও আফগানিস্তান আগমন করেন। নদীপথেও উনারা অনেক পথ অতিক্রম করেন। অবশেষে উনারা আসেন চট্টগ্রামে। আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদ মুহম্মদ আকবর শাহ আলাইহিস সালাম উনার বুযূর্গ পুত্রের নাম মুবারক আওলাদে রসূল হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ পানাউল্লাহ শাহ আলাইহিস সালাম।
আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ পানাউল্লাহ শাহ আলাইহিস সালাম উনার অধস্তন বুযূর্গ পুরুষ আওলাদে রসূল হাফিয সাইয়্যিদ মুহম্মদ আশরাফ আলী আলাইহিস সালাম। তিনি ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়ায় নিবাস স্থাপন করেন। সেখানে তিনি হিদায়েত ও নছীহতের কাজে ব্যাপৃত থাকেন। উনার বুযূর্গ সন্তান আওলাদে রসূল হাফিয মৌলভী সাইয়্যিদ মুহম্মদ হাবীবুল্লাহ আলাইহিস সালাম। উনার বুযূর্গ সন্তান আওলাদে রসূল হাফিয মৌলভী সাইয়্যিদ মুহম্মদ নূরুল ইসলাম আলাইহিস সালাম। উনারই বুযূর্গ সন্তান হলেন আওলাদে রসূল হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ খাইরুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি, যিনি ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম হযরতুল আল্লামা শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পিতা। সুবহানাল্লাহ!
ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, হযরতুল আল্লামা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার বুযূর্গ ঊর্ধ্বতন পুরুষ ও মহিলা উনারা সকলেই খালিছ আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী ছিলেন। উনার বুযূর্গ পিতা আওলাদে রসূল হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ খাইরুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং উনার বুযূর্গ মাতা আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাহ মুবাশ্বিরা খাতুন আলাইহাস সালাম উনারা মুবারক বংশ গৌরব, শরাফত, আচার-আচরণ, বদান্যতা, কৌলীন্য, শরয়ী পর্দাপালন ও আমলে সর্বজন শ্রদ্ধেয়। উনার বুযূর্গ পিতা তিনি ১৪১৯ হিজরী সনের ১৯ রমাদ্বান শরীফ, পবিত্র জুমুয়া শরীফ বাদ ফজর বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার মাযার শরীফ ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়ায় অবস্থিত। উনার বুযূর্গ আম্মাজান তিনি ১৩৬৯ হিজরী সনের ১৩ মুহররম শরীফ বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
ওলীয়ে মাদরাযাদ, আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরতুল আল্লামা শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার বুযূর্গ দাদাজান আওলাদে রসূল হাফিয সাইয়্যিদ মুহম্মদ নূরুল ইসলাম আলাইহিস সালাম তিনি ১৩৯২ হিজরী সনের ৩০ শা’বান শরীফ বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার সম্মানিতা মাতা ছিলেন যিন্দাপীর হিসেবে মশহুর আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরতুল আল্লামা মুহম্মদ ওলীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বুযূর্গ মেয়ে। সম্মানিতা দাদীজান আওলাদে রসূল হযরত আয়িশা খাতুন আলাইহাস সালাম। বুযূর্গ আব্বাজান আওলাদে রসূল হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ খাইরুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বয়স মুবারক যখন তিন বছর, তখন দাদীজান আলাইহাস সালাম তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
উনার বুযূর্গ নানাজান আওলাদে রসূল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ সিরাজুল ইসলাম আলাইহিস সালাম তিনি ১৪০৮ হিজরী সনের ৩০ যিলহজ্জ শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। বুযূর্গ দাদাজান ও বুযূর্গ নানাজান আলাইহিমাস সালাম উনারা ছিলেন সহোদর ভাই। বুযূর্গ নানীজান হযরত আবিদা খাতুন আলাইহাস সালাম তিনি বাংলাদেশের সুপ্রসিদ্ধ পীর ছাহিব হযরত আল্লামা ইছহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দ্বিতীয়া আহলিয়া উনার বুযূর্গ বড় মেয়ে। হযরত আল্লামা ইছহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন হযরত আব্দুল হক্ব মুহাজিরে মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত আল্লামা আব্দুর রব জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের প্রধান খলীফা।
আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ খাইরুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব। বুযূর্গী, তাক্বওয়া, ব্যক্তিত্ব, মন ও মননে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। তিনি ছিলেন একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা। চাকুরির সুবাদে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় গমন করেছেন, থেকেছেন। বদলিসূত্রে তিনি ঢাকা জেলার সাভারেও ছিলেন বেশ কিছুকাল। ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়ায় উনার মূল নিবাস থাকা সত্ত্বেও তিনি সাভারে একখ- জমি কিনে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেন। ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়ার বাড়িটি বুযূর্গ পূর্বপুরুষ উনাদের অনেকেরই আবাসস্থল। এখনো সেখানে কেউ কেউ বাস করেন।
এতোক্ষণের আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত হাদিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার বুযূর্গ পূর্বপুরুষ, উনার দাদা-দাদী, নানা-নানী আলাইহিমুস সালাম, বিশেষতঃ উনার বুযূর্গ পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা সকলেই আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উনারা সকলেই খালিছ আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী। এমন অতুলনীয় বুযূর্গ পিতা-মাতা উনাদের মুবারক ঘরে ৯ জুমাদাল ঊলা শরীফ ১৪০১ হিজরী, ১৭ আশির ১৩৪৮ শামসী, ২ চৈত্র ১৩৮৭ ফসলী সন, ১৬ মার্চ ১৯৮১ ঈসায়ী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আ’যীম বা সোমবার সূর্যোদয়ের অব্যবহিত পর ঢাকা জেলার সাভারে মুবারক পৈত্রিক নিবাসে উনার মুবারক বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ হয়। সুবহানাল্লাহ! উনারা পাঁচ ভাই, এক বোন। উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি কনিষ্ঠ।
বুযূর্গ পিতা-মাতা উনাদের সবিশেষ নেকদৃষ্টি, সযতœ লালন-পালন ও তত্ত্বাবধান, বিশুদ্ধ ঈমান-আক্বীদা, ইলম ও আমল উনাদের সুষ্ঠু প্রশিক্ষণলাভে তিনি সম্মানিত সাইয়্যিদ পরিবার উনাদের পূর্ণাঙ্গ ইসলামী আবহে বেড়ে উঠতে থাকেন। পবিত্র দ্বীন-ইসলাম উনার শিক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য যাবতীয় ইলম ও প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণতাদানের লক্ষ্যে বুযূর্গ পিতা তিনি উনাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে দেন। মুবারক বিলাদত শরীফ সূত্রেই তিনি তীক্ষè মেধা ও মননের অধিকারী ছিলেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণীবিন্যাসকৃত সমস্ত পরীক্ষায় তিনি যথাযথ সাফল্যের সাক্ষর রাখেন।
বুযূর্গ পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের মুবারক মন, মনন, আদর্শ, ঐতিহ্য, বুযূর্গী, মুহব্বত-মা’রিফাত সম্পৃক্ত সযতœ লালন-পালন প্রশিক্ষণ, তত্ত্বাবধান ও সুষ্ঠু পরিশীলনে দ্বীন-ইসলাম উনার পরিপুষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ আবহে ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল হযরত হাদিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক মানসভূমিতে তাসাউফ চর্চার মাধ্যমে খালিছ ওলীআল্লাহ হওয়ার মজবুত ভিত নির্মিত হয়। ক্রমান্বয়ে তিনি বাইয়াত হওয়ার গুরুত্ব ও অনিবার্যতা অনুভব করতে থাকেন। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মুবারক নির্দেশনায় মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বীক্বী রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্য বাইয়াত হওয়া ফরয। এ মুবারক লক্ষ্যে একজন লক্ষ্যস্থল শায়েখ উনার ক্বদম মুবারক-এ ঠাঁই পেতে তিনি উন্মুখ অন্তরে অপেক্ষা করতে থাকেন।
অবশেষে ১৪২৬ হিজরী সনে তিনি মুজাদ্দিদে মাদারজাদ, পঞ্চদশ হিজরী শতক উনার মুজাদ্দিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বায়িম-মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আওলাদে রসূল, হুজ্জাতুল ইসলাম, ছহিবে সুলত্বানিন নাছীর, জব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত হয়ে গন্তব্য মঞ্জিলে উপনীত হওয়ার পথ অবারিত করেন। সুবহানাল্লাহ! নিয়মিত মুবারক ছোহবত ইখতিয়ার করে এবং যিকির-ফিকির, মুরাক্বাবা-মুশাহাদা ও ইবাদত-বন্দেগীতে নিবিষ্ট হয়ে তিনি কামিয়াবীর চূড়ান্ত সোপানে উপনীত হন। স্বল্পকালের মধ্যে তিনি সমস্ত তরীক্বার ছবক সাফল্যের সঙ্গে সুসম্পন্ন করেন। সুবহানাল্লাহ!
মাহবুব ওলীআল্লাহ উনাদের শাদী মুবারক মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ তায়ালা এবং রহমতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহীম, মাশুকে মাওলা, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুবারক ইচ্ছা ও মনোনয়নে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সহজেই অনুমেয় যে, মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, জামিউল আলক্বাব, হুজ্জাতুল ইসলাম, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার লখতে জিগার, উনার নূরে চশম, নিবরাসাতুল উমাম, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনাকে পাত্রস্থ করার জন্য বেমেছাল মর্যাদা ও যোগ্যতাসম্পন্ন একজন ওলীআল্লাহ প্রয়োজন।
নিবরাসাতুল উমাম, ওলীয়ে মাদরাযাদ, আওলাদে রসূল, হাবীবাতুল্লাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান হলেন- সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, ইমামতুছ ছিদ্দীক্বা, বাহরুল উলূম, ছিদ্দীক্বায়ে কুবরা, নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, উম্মুল খইর, রাহনুমায়ে দ্বীন, ছাহিবাতুল ইলম ওয়াল হিকাম ওয়াল কাশফ ওয়াল কারামত, মিছদাক্বে কুরআন ওয়াল হাদীছ, মাহবূবায়ে ইলাহী, হাবীবাতুল্লাহ, হাবীবাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আফদ্বালুন নিসা, ইমামাতুন নিসা, উম্মুল উমাম, উম্মুল মুরিদীন, উম্মুল খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম, ছাহিবাতুল মুকররামা লি মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম, জাদ্দাতু হযরত শাহনাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি।
মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম এবং ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, উম্মুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনাদেরই বেমেছাল মর্যাদা ও মাক্বাম সম্পন্না নেক আওলাদ হলেন সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত উম্মে কুলসুম আলাইহাস সালাম, ত্বাহিরা, ত্বইয়্যিবা, মাহবূবা, ফক্বীহা, মাশুক্বাহ, সাইয়্যিদাহ, আফক্বাহু নিসায়িল উম্মাতী, আলামুন নিসায়ী, আহাব্বুন নাসি ইলা আহলে বাইতি, আফদ্বালু আলা সাইয়িরিম ছিদ্দীক্বাত, আওসাউ ইলমান, ছাহিবাতু কামালাতিত্ তাক্বওয়া, ছাহিবাতু আজরিন আ’যীম, লাছতুন্নাকা আহাদিম মিনান নিসায়ী, উলুল আলবাবি, ওয়ারিসাতুন নাবিইয়ী, আল আমিরু বিল মা’রূফ, আন নাহিউ আনিল মুনকার, আল খাইরু, আস সিতরুর রফীউ, হাবীবাতু মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম, লখতে জিগারে হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম, মাহবুবায়ে ইলাহী, উম্মু আবীহা, উম্মুল ওয়ারা, ছাহিবাতুল হুসনা, বাহরুল উলূম, মিছদাক্বে কুরআন ওয়াল হাদীছ, ছাহিবাতুল ইলম ওয়াল হিকাম ওয়াল কাশফ ওয়াল কারামত, হাবীবাতুল্লাহ, হাবীবাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নিবরাসাতুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি। শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পাদনের লক্ষ্যে উনার জন্য যে পাত্র দরকার, সে পাত্র উনার কতটুকু শান-মান, মর্যাদা, বুযূর্গী, মাক্বামাত প্রয়োজন, তা আমাদের আক্বল-সমঝ, উপলব্ধি ও অনুভূতির সীমাহীন ঊর্ধ্বে।
আর সে বুযূর্গ পাত্র তিনি হলেন- কুতুবুল আলম, কুতুবুল ইরশাদ, বাহরুল উলূম, বাবুল ইলম, মাহিউল বিদয়াত, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, ছাহিবুল ইলম ওয়াল হিকাম ওয়াল কাশফ ওয়াল কারামত, ছাহিবুত তাক্বওয়া, ছাহিবুশ শুকুর, ছাহিবুল হিলম, হাদিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ছানী আলাইহিস সালাম তিনি। উনার মান-শান, সম্মান-ইযযত, ঐতিহ্য, বুযূর্গী, খুছুছিয়ত, মাক্বামাত উপলব্ধি ও বর্ণনার যোগ্যতা আমাদের নেই। অবশেষে উনার শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার দিন ধার্য হয়। ১৪৩৩ হিজরী সনের ২২ শাওওয়াল শরীফ শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ তায়ালা উনার মুবারক নির্দেশে এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদয় উপস্থিতে এ মুবারক শাদী অনুষ্ঠিত হয় জান্নাতে। ওই মুবারক অনুষ্ঠানের একই আদলে ঢাকা রাজারবাগ পাক দরবার শরীফস্থ সুন্নতী জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত মাহফিলে মুবারক তাশরীফ আনেন সকল নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং সকল আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা। বিশেষতঃ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক উপস্থিতিতে নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার মাহফিল কামিয়াবী ও মাক্ববুলিয়াতের চূড়ান্ত সোপানে উপনীত হন। সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি খুতবা মুবারক পাঠ করেন এবং মক্ববুল দোয়া ও মুনাজাত করেন। সুবহানাল্লাহ!
নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠানের পর ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুজীবুর রহমান আলাইহিস সালাম তিনি “শাহদামাদ ছানী” লক্বব মুবারক-এ বিভূষিত হন। উনার যতো লক্বব মুবারক রয়েছে, সেসবের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদার লক্বব হচ্ছে, “হযরত শাহদামাদে ছানী লি মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইসি সালাম।” সুবহানাল্লাহ! উনার ইলম, প্রজ্ঞা, তাক্বওয়া, তায়াল্লুক-নিসবত, মুহব্বত-মা’রিফাত উনাদের পরিধি বেমেছাল। মান-শান, বুযূর্গী, ইযযত, ঐতিহ্য ও মাক্বামের উচ্চতায় তিনি অতুলনীয়। প্রত্যয়ী ব্যক্তিত্ব, শৌর্য, বংশ কৌলীন্য, সূক্ষ্ম মনন, তীক্ষè মেধা, স্থিরতা, স্বল্পবাক, ধৈর্য, স্থৈর্য, আদব, শরাফত, আন্তরিকতা, অমায়িকতা, সাহসিকতা এবং যিকির-ফিকির ও ইবাদ-বন্দেগীর নিবিষ্টতায় তিনি অনন্য। সর্বোপরি তিনি নিবরাসাতুল উমাম, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, উম্মু আবীহা, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার যাওজুল মুহতারাম। এটি উনার সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম মাক্বামাত এবং উনার সীমাহীন মর্যাদার পরিচায়ক। সুবহানাল্লাহ!
ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম হযরতুল আল্লামা শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার অতুলনীয় শান-মান, মর্যাদা ও মাক্বামাত প্রকাশের ভাষা আমাদের জানা নেই। আমাদের সে যোগ্যতাও নেই। মুবারক একখানা ঘটনা আলোচনা করলেই উনার শান-মান, বুযূর্গী ও মাক্বাম যে কতো উচ্চতায়, তা বুঝতে সহজ ও সম্ভব হবে। এ মুবারক ঘটনা উনার মুবারক নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠানের আনুমানিক ছয় মাস পূর্বের। মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, পঞ্চদশ হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার যবান মুবারক-এ আমরা শুনেছি। তিনি বলেন : “আমি স্বপ্নে দেখলাম- রহমতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অতি সুন্দর একটি আসন মুবারক-এ বসে রয়েছেন। উনার মুবারক পাশে ঘেরাও করা মনোরম জায়গায় কয়েকটি আসন মুবারক রয়েছে। তিনি আমাকে এবং আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে ডেকে নিয়ে ওই আসন মুবারকগুলোয় বসালেন এবং বললেন : ‘চিহ্নিত এ আসন মুবারকগুলো আপনাদের জন্যই নির্ধারিত। আপনারা আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত।’ আমাদের সঙ্গে শাফিউল উমাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনিও ছিলেন। আমাদের অদূরে বসে ছিলেন হাদিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ছানী আলাইহিস সালাম তিনি। মাশুকে মাওলা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন : ‘হাদিউল উমাম মুহম্মদ মুজিবুর রহমান আলাইহিস সালাম তিনি আমার আওলাদ। তিনি আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত।’ আমাকে লক্ষ্য করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো বললেন, হে আমার প্রিয়তম আওলাদ! হে আমার কায়িম-মাক্বাম! হে আমার আখাছছুল খাছ নায়িব! হে আমার মনোনীত ও লক্ষ্যস্থল মুজাদ্দিদে আ’যম! আপনি আমার প্রিয় আওলাদ সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুজীবুর রহমান আলাইহিস সালাম উনাকে আপনাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে নিন। আপনারা সকলেই আমার আওলাদ এবং আপনারা সকলেই আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত।” সুবহানাল্লাহ!
উপরোক্ত মুবারক ঘটনা অনুষ্ঠানের স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ভিন্ন এক মুবারক স্বপ্ন দেখেন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, উম্মুল উমাম, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি। তিনি স্বপ্নে দেখেন, উত্তম পোশাকে পরিশোভিত হয়ে এবং একখানা কম্বল মুবারক গায়ে জড়িয়ে হযরত হাদিউল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি রাজারবাগ পাক দরবার শরীফস্থ মুবারক হুজরা শরীফ উনার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ!
মুবারক দুটি স্বপ্ন বিবরণে বুঝতে কষ্ট হয় না যে, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার মক্ববুলিয়াতের সোপান কতো সীমাহীন উচ্চতায়! আরো বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয় যে, তিনিই সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাদের “দামাদ ছানী” হবেন। ওই দুটি স্বপ্ন মুবারকেই তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক চেহারায় মাদানী নূর। অনুপম ব্যক্তিত্বে, স্নিগ্ধ আচার-আচরণে, স্বল্পবাক ও গাম্ভীর্যপূর্ণ অমায়িকতায়, দায়িমভাবে সুন্নত পালনের অভ্যস্থতায় এবং অতুলনীয় চরিত্র মাধুর্যে তিনি সুমহান। মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার সম্মানিত আহাল ও ইয়াল শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই রহমতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! এ মুবারক আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সীমাহীন সম্মানের অধিকারী হয়েছেন ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা মুজাদ্দিদে আ’যম, মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার কর্তৃক বিশ্বময় খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় মজবুত ভিত রচনা এবং তৎসংশ্লিষ্ট উনার অপ্রতিরোধ্য তাজদীদ বাস্তবায়নের আঞ্জামদানে নিরন্তর নিয়োজিত রয়েছেন ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, শাফিউল উমাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি। একই সঙ্গে এ মহান কাজে অনুক্ষণ নিয়োজিত রয়েছেন, আমাদের আলোচ্য ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহি সালাম তিনি। এছাড়া দরবার শরীফ উনার যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরী কাজ সুন্নতী তর্জ-তরীক্বায় পরিচালনা ও সমাধানের কাজে উনাদের সর্বক্ষণের সম্পৃক্তি। বিশাল কর্মকা- দেখাশুনা ও নির্বাহে উনাদের অনুক্ষণের ব্যস্ততা। শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রার্থীর প্রার্থনা পূরণে, বিভিন্ন অভিযোগ শ্রবণ ও তার সমাধানে, বিপন্ন মানুষের দুঃখ মোচনে, প্রজ্ঞাময় উপদেশদানের আন্তরিকতায় এবং মুবারক ব্যবহারে কোমলান্তকরণময়তায় উনারা দু’জনেই ক্লান্তিহীন ও অনন্য। সুবহানাল্লাহ!
ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, কুতুবুল আলম, কুতুবুল ইরশাদ, বাবুল ইলম, বাহরুল উলূম, মাহিউল বিদয়াত, ছাহিবে কাশফ ওয়াল কারামাত, ছাহিবুল ইলম ওয়াল হিকাম, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, ছাহিবুত তাক্বওয়া, ছাহিবুশ শুকুর, ছাহিবুল হিলম, হাদিয়ে ইলাহী, হাদিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার সীমাহীন শান-মান, বুযূর্গী, সম্মান, মাক্বামাত সম্পর্কে আমরা অজ্ঞাত এবং একান্তই অনভিজ্ঞ। উনার মুবারক ছানা-ছিফত করার ক্ষেত্রে বলায়, লিখায়, অনুভবে আমরা অযোগ্য ও অক্ষম। সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম এবং উনার সম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের রেযামন্দি-সন্তুষ্টি হাছিলের লক্ষ্যেই আমাদের এ তুচ্ছ প্রয়াস। একান্ত দয়াবশতঃ কৃপা করে উনারা কবুল করলেই আমাদের সব চাওয়া পাওয়ায় পরিণত হবে।

***************************************************************************************************************************************************************************************************************

উম্মু আবীহা, উম্মুল খইর সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস

সুমহান পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ। উম্মু আবীহা, ফক্বীহাতুন নিসা, মাদারযাদ ওলী, ক্বায়িম-মাক্বামে সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সুমহান শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস। সুবহানাল্লাহ!
হযরত নাক্বীবাতুল উমাম! তিনি তো কুদরতময়। উনার শানে কিছু লিখার যোগ্যতা আদৌ কারো আছে কী? তবুও খানিকটা সান্তনা পাওয়ার অবকাশ বৈকি!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ যিনি খালিক্ব, মালিক, রব উনার এক অপরূপা সৃষ্টি সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম। উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার দিবসে জিন-ইনসান যাতে ইচ্ছা, অনিচ্ছায় খুশি প্রকাশ করতে পারে, আনন্দে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারে, এজন্যই বুঝি উনার আগমন ঘটেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার দিনে তথা পবিত্র পহেলা শাওওয়াল শরীফ-এ। সুবহানাল্লাহ!
উনার পবিত্র অসীম মুবারক শান-মান যে তিনি স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখাছ্ছুল খাছ আওলাদ, পঞ্চদশ হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামে আ’যম, গাউছুল আ’যম, কুতুবুল আলম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার প্রথমা বিনতু। সুবহানাল্লাহ!
পৃথিবীতে আগমন করেই সম্মানিত মাতা হিসেবে পেলেন এমন একজন আখাছছুল খাছ ওলীআল্লাহ উনাকে যে, কোনো মহীয়সী মহিলা যদি যামানার মুজাদ্দিদ হতেন, যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল হতেন, তাহলে তিনিই হতেন যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল, যামানার সুমহান মুজাদ্দিদ। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র কিতাবে পড়েছি সাইয়্যিদুল আউলিয়া, গাউছুল আ’যম, হযরত বড়পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিত আম্মাজান উনার পবিত্র জীবনী মুবারক। উনার সম্পর্কে বলা হতো যে- তিনি অন্ধ, খোঁড়া, বধির, ইত্যাদি। উনাকে খোড়া বলা হয়েছিল এ জন্য যে, উনার পা মুবারক দিয়ে তিনি কোনো দিন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ উনার অসন্তুষ্টিমূলক কাজের দিকে ধাবিত হননি এবং হওয়ার চিন্তাও করেননি। উনাকে অন্ধ বলা হতো এজন্য যে, তিনি কখনো দু’চোখ মুবারক দিয়ে কোনো বেগানা পুরুষকে দেখেননি এবং কোনো বেগানা পুরুষও উনাকে কোনো দিন দেখেনি। অর্থাৎ তিনি দু’চোখ দিয়েও কোনো দিন অসন্তুষ্টিমূলক কাজ করেননি অর্থাৎ করার চিন্তাও করেননি। ইত্যাদি ইত্যাদি ……। সুবহানাল্লাহ!
মাশুকাহ, মাহবুবাহ, রহীমাহ, নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি এমনি একজন, যে উনার মুবারক শানে উপরোক্ত শব্দগুলি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত; বরং শুধু যুক্তিযুক্তই নয়, তিনি তার থেকেও অনেক ঊর্ধ্বে, অনেক ঊর্ধ্বে যা কিনা আমাদের কল্পনারও ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! কারণ তিনি তো কুদরতময়। আর কুদরতময় বিষয় সম্পর্কে তো মানুষের ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা থাকতে পারে না।
হাবীবাতুল্লাহ, মাদারযাদ ওলী, উম্মুল খইর, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি এমনি এক পরশ পাথর যে, উনার মুবারক সংস্পর্শে খালিছ ওলীআল্লাহ উনাদের সৃষ্টি হয়ে থাকে। এর উত্তম মেছাল শাফিউল উমাম, মাহিউল বিদয়াত, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ তিনি শাফিউল উমাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে উম্মুল খইর সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার উসীলায় আখাছছুল খাছ ওলী হিসেবে কবুল করেছেন। মনোনীত ওলীআল্লাহগণ উনাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে মর্যাদা মুবারক দান করেছেন শাফিউল উমাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাকে।
মূলত, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ উনাদের সকল বিষয়গুলো মু’মিন-মু’মিনা উনাদের জন্য নাজাত উনার উসীলা। যারা যে কোনো বিষয়ে ওলীআল্লাহগণ উনাদের সাথে হাক্বীক্বীভাবে সংশ্লিষ্ট হতে পারবে তারা নাজাত পেয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ! এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।
বর্ণনায় পাওয়া যায়, পবিত্র হাশর উনার মাঠে অনেক আমলহীন ব্যক্তি জাহান্নামের দিকে ধাবিত হবে। তখন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ তিনি তাদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করবেন যে, তারা কোনো দিন ওলীআল্লাহগণ উনাদের সাথে চলাফেরা, উঠা-বসা, খাওয়া-দাওয়া কিংবা মুহব্বত বা খিদমত করেছিলো কিনা। তখন আমলহীন লোকগুলো বলবে, না। আবার খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি জিজ্ঞাসা করবেন তাহলে এমন কোন ব্যক্তির সাথে মেলামেশা বা মুহব্বত রেখেছিলে যাঁরা ওলীআল্লাহগণ উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট। তখন সেই আমলহীন লোকেরা বলবে, হ্যাঁ! আমরা তো অমুক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা করেছি, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ উনার ওলীগণের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তখন গাফুরুর রহীম খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ তিনি সেই ব্যক্তিদের বলবেন, “তোমাদেরকে সে উসীলায় ক্ষমা করে দেয়া হলো।” সুবহানাল্লাহ!
মূলত, যাঁরা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী উনাদের সকল বিষয়গুলো আমাদের মাগফিরাতের প্রতি উত্তম উসীলা হিসেবে পরকালে উপস্থিত হবে। এজন্য সকলেরই উচিত যাঁরা ওলীআল্লাহ রয়েছেন, উনাদের হাক্বীক্বীভাবে মুহব্বত করা, অনুসরণ-অনুকরণ এবং খিদমত করা। পৃথিবীর সকল মহিলাদের জন্য উদাত্ত আহ্বান, তারা যেন নাজাতী তরী হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে অনুসরণ-অনুকরণ করে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ সন্তুষ্টি, রেযামন্দি মুবারক হাছিলের কোশেশ করেন।
মূলত, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার দিবস উপলক্ষে আমরা যদি উনার ছানা-ছিফতে মশগুল হই, খুশি প্রকাশ করি, পবিত্র মীলাদ শরীফ মাহফিল উনার আয়োজন করি, তাহলে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ সন্তুষ্টি, রেযামন্দি মুবারক হাছিল করা আমাদের জন্য অত্যন্ত সহজ হয়ে যাবে।
কারণ, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন তিনি সেখানে খাছ রহমত নাযিল করেন, যেখানে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুহসিন বান্দা-বান্দীগণ উনাদের আলোচনা হয়ে থাকে। তাহলে মাদারযাদ ওলী, রাহনুমায়ে দ্বীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ছানা-ছিফত, মুবারক শানে পবিত্র কাছীদা শরীফ উনার আয়োজন করলে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কিরূপ রহমত, বরকত, সাকীনা নাযিল হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এজন্য আমাদের সকলেরই দায়িত্ব এবং কর্তব্য হবে- ওলীআল্লাহগণ উনাদের মুবারক আলোচনা করা, উনাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে শরীক থাকা এবং যতটুকু সম্ভব খিদমত করার কোশেশ করা। তাই আমরা সকলেই দোয়া করবো, আর্জি করবো যেনো খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন তিনি আমাদের সকলকে আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম এবং আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাদের কলিজা মুবারক উনার টুকরা মুবারক, নয়নের মণি, লখতে জিগার, মাদারযাদ ওলী, মাশুকাহ, মাহবুবা, হাবীবাতুল্লাহ, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে মুহব্বত, অনুসরণ-অনুকরণ এবং খাছভাবে খিদমত করার তাওফীক দান করেন। আমীন!

**********************************************************************************************************************************************************************************************************************

আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার

সুমহান পবিত্র আযীমুশ শান নিসবাতুল আযীম মুবারক

বেশুমার ছলাত ও সালাম মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত মামদূহ আক্বা আলাইহিস সালাম ও হযরত আহলে পাক শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক স্মরণে। বেহদ পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম শরীফ সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাদের মুবারক চরণে। দোয়া চাই, করুণা চাই মুজাদ্দিদে আ’যম, বাহরুল উলূম, মাখজানুল মা’রিফাহ মামদূহ আক্বা উনার মুবারক ক্বদমে। যেন লিখতে পারি উনাদের সুমহান পবিত্র শান-মান, বুযুর্গী-সম্মান এই অধমে। গড়তে চাই ভবে মামদূহ পবিত্র আহাল পাক উনার ছানার তাজমহল; ক্বিবলা কা’বা উনার করুণা পেলেই হবো যে সফল।
ধন্য পবিত্র শাওওয়াল শরীফ। ধন্য তার নব হিলাল। ধন্য আসমানের ওই অসংখ্য শিহাব-সিতারা। ধন্য গ্রহ-নক্ষত্র-পর্বত সারা। ধন্য আরশ-ফরশ পুরো কায়িনাত। ধন্য হুর-মালাইক, মু’মিন-মু’মিনাত। ধন্য পুণ্য ওই নূরে রওশন আউলিয়াবাগ। বলছে সবাই আল বালাগ, আল বালাগ। তাশরীফ- মুজাদ্দিদ যাদী, শাহযাদী ঊলা সাইয়্যিদাহ মুহ্তারামাহ। স্বাগতম হে হাবীবী আওলাদ মিছাদাক্বে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম! আপনার মুবারক চরণ পরশে খোদ আরশ পাক ধনবান। মাখলূক্ব সবে জানাই আহলান সাহলান।
মারহাবা ইয়া উলা শায়েখযাদী সাইয়্যিদা নূরী আত্বহার! আপনার (আগমন) পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার তরে সৃষ্টি করেছে অধীর আগ্রহে ইনতিযার। পুরিলো তাদের আশা- করিলেন পবিত্র সুন্নাহ শরীফ আবাদ। মারহাবা- ইয়া মামদূহযাদী! জিন্দাবাদ! জিন্দাবাদ!
সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মুজাদ্দিদে আ’যম, গাউছুল আ’যম, ইমামে আ’যম, আওলাদে রসূল, মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রথমা আওলাদ। তিনি উনার লখতে জিগার নয়নমণি। তিনি খোদ নূরে ইলাহী, খায়ের খনি। তিনি আউলিয়া সম্রাটযাদী, মালিকায়ে জাহান। উনার মুবারক চরণ তলে আউলিয়াকুলের শির শোভামান। হাবীবা হয়ে সৃষ্টি যিনি, কে লিখতে পারে শান-মান উনার।
মুহূর্ত, ঘণ্টা, দিন কতেক বৎসর পেরিয়ে আবারও হাজির সেই মুবারক শাওওয়াল মাস। যেই বরকতী মাসে গুলে মদীনা, নূরে হাবীবা, সাইয়্যিদাতুন নিসা, আফদ্বালুন নিসা, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পক্ষ থেকে রহমতে খাছ নিয়ে দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ এনে কুল মাখলূককে ধন্য-পুণ্য করেছিলেন। আজ খুশিতে বাগ বাগ করছে এই (বরকতময়) ফযীলতপূর্ণ মাস উনার পবিত্র ২২তম নিশির জ্যোৎস্না। সিতারার দল আজ মিট মিট করে হাসছে। যেন তারা মুক্তার দানা বিলিয়ে দিচ্ছে সবার মাঝে। আর মনে মনে কার যেন শান-মান বয়ান করছে। চাঁদ-তারার এই অপরূপ ঝিলিমিলি হাসি আজ সকলের মন কেড়ে নিয়েছে। এক আনন্দঘন, বিশাল রহস্যময় মুহূর্ত। এমন শুভ রজনী আর কেউ কখনও দেখেনি হয়তো।
এদিকে নদ-নদীতে পূর্ণ জোয়ার এসেছে। সাগর বক্ষের ঊর্মি মালায় খুশির ঢল নেমেছে। সিন্ধুর সমস্ত প্রাণীকুল তার সাথে একাত্ম হয়েছে। সমুদ্রের শামুক-ঝিনুক তাদের মুক্তা মেলে তথায় সৌন্দর্য বর্ধন করছে। আকাশ আর সাগরের এই নিখুঁত সাজ দৃশ্য দেখে পৃথিবী ও অপরূপ সাজে সুসজ্জিত হয়েছে আজ। পুষ্পে পুষ্পে ভরে গেছে পুরো বসুন্ধরা। গুলের সুবাসে আজ সকলে আত্মহারা। ডালে ডালে শুনা যাচ্ছে বুলবুলি পাখির সুমিষ্ট কলতান। সব তরু-লতা আজ পরেছে নতুন লেবাস। দোয়েল-কোয়েল, ময়না-শ্যামা আরো জানা অজানা হাজারো ধরনের হাজারো পাখি, কীট-পতঙ্গ, গর্তের পিপীলিকা গুন গুন করে তাদের ভাষায় ঈদের ধ্বনি তুলছে। এই তুলনাহীন অপরূপ দৃশ্য খোদ রব তায়ালা উনার কুদরতী নজির। যা লাখ-কোটি ঋতুরাজ বসন্তকে হার মানিয়েছে। মরুর বালিকণা তার অগণিত যবান দ্বারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম উনার নাম মুবারক উনার তাসবীহ পড়ছে। যমীনের নিচে লুকিয়ে থাকা সমস্ত হীরা-মণি-মুক্তা অমূল্য রতœ ভা-ার ও আজ উনার মুবারক খিদমতে নিজেদেরকে বিলিয়ে দিতে পাগলপারা হয়ে উঠেছে। ওই তাহতাচ্ছারা হতে আরশে আলার মাঝে যত মাখলূক্বাত রয়েছে সকলেই নিজেদেরকে উনার মুবারক খিদমতে বিলিয়ে দিতে এরূপ বেকারার পেরেশান বনে গেছে। হে নির্বোধ মানুষ! তুমি হয়তো বুঝ না। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টি জগতের সমস্ত মাখলূক্বাত তা বুঝে।
দেখ! দেখ! ওই দেখ! আজ খুলে গেছে পবিত্র জান্নাত উনার সব বাব (দরজা)। হুর-গিলমান সব মালাইকার ললাটে ফুটেছে খুশির ভাব। তারা সবে নিয়ে উপস্থিত পবিত্র জান্নাতী লু-লু মারজান। রহমতী দ্বার খুলে গেছে আজ, শোন তার পবিত্র আযান। তামাম জিন-ইনসান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার আনন্দে হয়েছে আত্মভোলা। দেখ! দেখ! সমস্ত সৃষ্টির দস্তে দস্তে শোভিছে সদ্য ফুটন্ত পুষ্পমালা।
আজ খোদা তায়ালা উনার আরশ হাবীবী রওযা শরীফ সেজেছে নয়া সাজে। খুশির বন্যা বইছে খোদ ইলাহী-হাবীব মাঝে। আম্বিয়া-আউলিয়া শক্ত হস্তে ধরে আছেন সেই পথ। প্রকাশ হচ্ছে ওই শাহযাদী ঊলা উনার আলীশান আযমত।
ওই রসূলুম মিনাল মালাইকা জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি ঘোষিছেন এক মুবারক খোশ খবরী সারা কায়িনার পরে। বায়ু তা বহে নিয়ে গেছে ধরণীর প্রতি দ্বারে দ্বারে। তাই সকলের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে এক বরকতময় মুবারক শুভ ধ্বনি। আজ মুজাদ্দিদযাদীর মুবারক শাদী- সহসা নাও জানি।
মুজাদ্দিদে আ’যম, গাউছুল আ’যম, হাবীবুল্লাহ গরীবে নেওয়াজ, ছহিবে ক্বাসিম আওলাদে রসূল মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পক্ষ থেকে এই পবিত্র আযীমুশ শান নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার অনুষ্ঠানের দাওয়াতনামা অনেক পূর্বেই হযরত নবী-রসূল, ওলী-আব্দাল, গাউছ, কুতুব, নক্বীব-নুক্বাবা, জিন-ইনসান, হুর-পরী, ফেরেশ্তা, পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ, জামাদাত-শাজারাত, হাজারাত তথা তামাম কায়িনাত মাঝে পৌঁছে গেছে। তাই শুরু হলো শাহী আয়োজন। মানব-দানব, জিন-ফেরেশতা সকলেই লেগে গেল প্রাণপণে অতি আনন্দের সাথে এই পবিত্র আযীমুশ্ শান নিসবাতুল আযীম মুবারকের বরকতী কাজে।
প্রস্তুত (সৃষ্টি জগতের) মাখলূক্ব তামাম। পূর্ণ হলো সকল আঞ্জাম। রাজারবাগ দরবার শরীফ আজ পবিত্র জান্নাতী জ্বালওয়ায় জ্বল জ্বল করে জ্বলছে। অনবরত সেখানে বারিধারার ন্যায় মহান খোদা তায়ালা উনার পবিত্র রহমতে খাছ বর্ষিত হচ্ছে। নূরে নূরে ভরে গেছে পাক দরবার শরীফ। হাজির তথায় হযরত নবী-রসূল, ওলী-গাউছ সব মাখলূক্ব মহান খোদা তায়ালা উনারা। বাদ মাগরীব সকলে অধীর আগ্রহে করছে ইনতিযার। কখন হবেন মুনাওওয়ার মজলিসে সাইয়্যিদী দুলহান ইযহার।
দেখ! ওই তো! আসছেন ফেরেশতা উনাদের বেষ্টনীতে পবিত্র গাড়ি মুবারকে সওয়ার হয়ে শাহ সাইয়্যিদ, নূরে মুকাররাম, হাবীবুল্লাহ, বাবুল ইলম নব দুলহান আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল হানাফী। বর্ষিত হলো উনার উপর মুর্শিদী রহমত, হাবীবী-রববী নূর অবিরত ধারায়। এক অপূর্ব মুচকি হাসির শোভা দেখলাম অধম উনার মুবারক চেহারায়। আমার দিল সাগরে উথলে উঠলো আনন্দের মহা জোয়ার। আমি যে দেখতে পাচ্ছি খোদ মান্্যূরায়ে মদীনায়ে মুনাওওয়ার। গগণবিদারী তাকবীরে আজ আসমান, যমীন একাকার। বলছে সবে খোশ আমদেদ হে সাইয়্যিদী দুলহান নকশায়ে হায়দার। যেন দরবারে নববীতে হচ্ছে আজ এই রহমত, বরকত, সাকীনাপূর্ণ মুবারক আয়োজন। যেন মসজিদে নববী উনার পবিত্র মিম্বার শরীফ উনার মধ্যে বসে আছেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। পবিত্র হুজরা শরীফ উনার মধ্যে বসে আছেন নূরী বদ্রী জ্যোৎস্না বেহেশতে নারীকুল উনাদের সাইয়্যিদা, জান্নাতী নূরী মেহমান, সাইয়্যিদাতুন নিসা, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম। তিনি নিজেই নূরুন আলা নূর। তবুও উনাকে আজ রববী হাবীবী, মুর্শিদী খাছ নূর, রহমত-বরকত সাকীনা ঘিরে রেখেছে। এই দিকে পবিত্র মিম্বার শরীফ উনার সামনে দুই জানু মুবারক পেতে পূর্ণ আদব লয়ে পবিত্র নামায উনার ছূরতে বসা আসাদুল্লাহিল গালিব সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম।
পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ। ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার)। পবিত্র ইশা নামায উনার ওয়াক্ত। আজকের এই রহমত, বরকত, সাকীনাপূর্ণ আনন্দঘন জৌলুসপূর্ণ মুহূর্তে যেন হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার লখতে জিগার, কলিজার টুকরা, নয়নের মণি, খাতুনে জান্নাত, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, খতানু মুছত্বফা আসাদুল্লাহিল গালিব হযরত আলী ইবনে আবী ত্বলিব আলাইহিস সালাম উনার মুবারক জাওযিয়াতে তুলে দিলেন। ক্ববুলিয়াত শোনে মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক খোদায়ী যবানে উচ্চারিত হলো ‘আলহামদুলিল্লাহ’। পঠিত হলো মুবারক খুতবা। সম্পন্ন হলো মুনাজাত। আমীন! আমীন! বললো, কুল-কায়িনাত। সঁপে দিলেন উনাদেরকে রব-হাবীবের হাতে। শুরু হলো সাইয়্যিদাতুন নিসা, ছহিবাতুল খইর, ছহিবাতুল আয়াত, ছহিবাতুত তাক্বওয়া, হাবীবাতুল্লাহ আওলাদে রসূল হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সাথে নূরে মুকাররাম, নূরে মুয়াযযাম, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নতুন জিন্দেগী মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
রাজারবাগ পবিত্র দরবার শরীফ উনার মধ্যে শাহী মেহমানদারী চললো। কায়িনাতের সমস্ত মেহমানগণ উনারাই তৃপ্তিসহকারে আহার করলো। আয়োজিত হলো চারদিন ব্যাপী পবিত্র সামা শরীফ উনার মুবারক মাহফিল। পাঠ করলো পবিত্র ক্বাছীদা শরীফ হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম ও হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক শানে জিন-ইনসান, হুর-মালাইক, পশু-পাখি, কুল-মাখলুক্বাত, আবাবীল। মুবারক হোক! মুবারক হোক! উনাদের নয়া জিন্দেগী। এই বলে সবে হলো অসীম নিয়ামতের ভাগী।
সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম ও সম্মানিত আহালে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাঝে মিশে গেলেন সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। উনার মুবারক জীবন হলো রহমত, বরকতে ভরপুর। সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম নকশায়ে হায়দার-যাহরা পুরা। উনাদের আপাদমস্তক রসূলী নূরে গড়া। উনাদের মুবারক পরশে ফুটুক ফের হযরত হাসানী হুসাইনী গুল। নববী বাগে শোভা পাক নূরী ফুল অতুল। উনাদের সুবাসে ধন্য-পুণ্য হোক তামাম কায়িনাতবাসী। অনন্তকাল ঝরতে থাকুক উনাদের হতে খোদায়ী নাজ-নিয়ামত রাশি রাশি। নাজাতী নিশান, খিলাফতী ঝা-া উড়–ক ফের দিকে দিকে। আবারো আসুক ফিরে শান্তি শিমাল যুনুব, মাগরিব-মাশরিকে।
আমার দেহ-মন, আপাদমস্তক দ্বারা প্রকাশিত ও প্রচারিত হোক মামদূহ আহাল উনাদের ছানা। এটাই যে, এ অধমের উনাদের পাক চরণে আরাধনা। উনাদের ছানা দিয়ে গড়বো ভবে তাজমহল। মামদূহ আহাল উনাদের দয়া পেলেই হবো চির সফল। সহজ করে দিন ইয়া মামদূহ! আমার ইল্্মী পথ। আমি যে দেখবো আপনার কুদরতী আযমত। ছহীহ ইলম, হুসনে যন চাই আক্বা আপনার পাক ক্বদমে। লুকিয়ে থাকতে চাই আমি চিরকাল আপনার হেরেমে। জাহিরী-বাতিনী হাক্বীক্বী ইছলাহ শায়েখ দানুন আমারে। এই মুবারক সময়ে ভিক্ষা চাইছি ফকীর তব দুয়ারে। অশ্রুর নহর বহায়ে দিলাম আপনার মুবারক পদযুগলে। থাকতে চাই অনন্তকাল আপনাদের মাঝে মিলে। শিফায়ে জিসম- শিফায়ে কুলুব চাই হে মালিক সোবহান! আপনি যে মোর তরে একমাত্র দারুল আমান। সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাদের উসীলায় মোরে করুন কবুল। আপনি যে মিছদাক্বে রহমতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যিদী রসূল। আপনাদের ইশকেই হোক মোর মরণ। তবেই স্বার্থক হবে অধম গোলামের এই জীবন।

****************************************************************************************************

সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সুমহান
পবিত্র আযীমুশ শান নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার বিষয়টি ছিল
ইলহামী ফায়ছালার অন্তর্ভুক্ত

কি শান, কি মর্যাদা-মর্তবার অধিকারী যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার মহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদ আ’যম, আওলাদে রসূল ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
একইভাবে বেমেছাল শান-শুয়ূনাত, মর্যাদা-মর্তবার অধিকারিণী উনার যিনি দেহ মুবারক উনার অংশ মুবারক, পরিপূর্ণ সাদৃশ্য, পরিপূর্ণ নকশা, পরিপূর্ণ মিছদাক্ব, লখতে জিগার পবিত্রা আওলাদ সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
কেনই বা হবেন না, এ মর্যাদা-মর্তবা তো অর্জন করার মতো কোনো বিষয় নয়। এতো পূর্ব নির্ধারিত বিষয়। শুধু কি তাই, উনার দায়িমী পবিত্র খিদমতে যিনি মিলিত হলেন উনার মর্যাদা-মর্তবার বিষয়টিও কিন্তু অর্জন করার মতো বিষয় নয়। তাই তো মতামতের শিরোনামে উল্লেখিত হয়েছে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদুর রিজাল হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাদের সুমহান পবিত্র আযীমুশ শান নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার বিষয়টি ছিল মূলত ইলহামী ফায়ছালার অন্তর্ভুক্ত।

********************************************************************************************************************************************************

বিশ্বের সকল মু’মিনা মহিলা উনাদের উচিত-
সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার
পবিত্র ছোহবত মুবারকে আসা

আদব শিক্ষার অর্থ নিজের মধ্যে সৎ চরিত্রের সমাবেশ করা এবং তা রক্ষা করা। যার মধ্যে উত্তম স্বভাব বিদ্যমান, সে চরিত্রবান ও ভদ্র।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেকে এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে আগুন থেকে রক্ষা করো।” (পবিত্র সূরা তাহরীম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)
অর্থাৎ তাদেরকে এমন আদব শিক্ষা দাও, যার ফলে তারা দোযখ হতে নিষ্কৃতি লাভ করতে পারে। আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ‘উত্তম আদব হলো পবিত্র ঈমান উনার অংশ।’ অর্থাৎ উত্তম আদবই পবিত্র ঈমান।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার মহান রব তিনি আমাকে আদব শিক্ষা দিয়েছেন এবং উত্তম আদব শিক্ষা দিয়েছেন।” (পবিত্র কানযুল উম্মাল, পবিত্র ইবনুস সামআন শরীফ)
আদব সম্পর্কে পবিত্র কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, “আদব স্বর্ণ ও রৌপ্যের চেয়েও উত্তম ও শ্রেষ্ঠ।”
মূলকথা হচ্ছে- উত্তম আদব হলো সৎচরিত্রবান, আল্লাহওয়ালী এবং পরহেযগার হওয়া। অতএব, উক্ত উত্তম আদব শিক্ষা করার লক্ষ্যে বিশ্বের সকল মু’মিনা মহিলা উনাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য হচ্ছে বর্তমান পনের হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদ আ’যম, আওলাদে রসূল মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নয়নের মণি, ত্বাহীরাহ, ত্বইয়িবাহ, ফক্বীহাহ, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক নেক ছোহবতে আসা।

বিশ্বের সকল মু’মিনা নারীদের হাক্বিক্বী পর্দা পালন শিখতে হলে
রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম
উনার মুবারক নেক ছোহবতে আসতে হবে

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে মহিলারা! তোমরা পর্দার সাথে তোমাদের ঘরের মধ্যে অবস্থান করবে। আইয়্যামে জাহিলিয়াতের মতো সৌন্দর্য প্রদর্শন করে ঘরের বাইরে বের হয়ো না। অর্থাৎ বেপর্দা হয়ো না।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মেয়েরা পর্দার অধীনে থাকবে। কেননা তারা যখন কোথাও বের হয়, তখন শয়তান উঁকিঝুঁকি দিতে থাকে কিভাবে তাদের দ্বারা পাপ কাজ সংঘটিত করা যায়।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ দ¦ারা প্রমাণিত হল যে প্রত্যেক মুসলমান মহিলা উনাদের জন্য হাক্বীক্বী পর্দা পালন করা ফরযে আইন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হাক্বীক্বী পর্দা একমাত্র ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহা সম্মানিত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাই পালন করে থাকেন আর উনাদেরই অন্যতম ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম। তাই একমাত্র হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম বিশেষ করে সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার কাছ থেকেই হাক্বীক্বী পর্দা পালন করা শিক্ষা করতে হবে।
অতএব, বিশ্বের সকল মু’মিনা মহিলা উনাদের উপর ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার আদরের দুলাল, নয়নের মণি, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, নিবরাসাতুল উমাম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক নেক ছোহবতে আসা। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে সে তাওফীক দান করুন। (আমীন)

ঐতিহাসিক বরকময় মহাপবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ মুবারক হো

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র সূরা ইউনূস শরীফ উনার ৫৮নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মতগণ উনাদেরকে বলে দিন তাদেরকে ফযল, করম, রহমত হিসেবে যা দেয়া হয়েছে সেটার জন্য তারা যেন খুশি প্রকাশ করে।”
আর এই রহমতের মধ্যে যে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ রহমত হাদিয়া করেছেন সেটা হচ্ছে আমাদের মাথার তাজ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি আমাদের মাঝে অনবরত, অবিরাম সবসময় পবিত্র রহমত বিলাচ্ছেন আর এই পবিত্র রহমত উনার হিসসা লাভ করছে সকলেই।
বিশেষ করে এই হিসসা লাভ করছে পবিত্র ১৯শে রবীউছ ছানী এবং ঐতিহাসিক ১৪৩৪ হিজরী সনের পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার) উনার। কারণ সেই দিন সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র শাদী মুবারক বা নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার দিন অর্থাৎ উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ!

সুমহান পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ-
এতোদিন ধরে প্রতীক্ষায় প্রতিটি মুহূর্ত গুনেছিলো সকল সালিক-সালিকা

প্রকৃতিতে এক সুন্দর আবহাওয়া বিরাজমান। ফুলের ঘ্রাণে সুরভিত চারিদিক। আজ মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত চারিদিক। পবিত্র রহমত উনার বারী বর্ষিত হয়েছে এবং হচ্ছে পবিত্র কায়িনাতে। পাখিদের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে সুমধুর ক্বাছীদা শরীফ। পবিত্র জান্নাত উনার সকল হুর-মালায়িকগণ নেমে এসেছেন যমীনে। সারা পবিত্র কায়িনাতবাসী পবিত্র ছলাত-সালাম শরীফ পাঠ করছেন অবিরত। এই মহান পবিত্র দিনটির জন্য এতোদিন ধরে প্রতীক্ষায় প্রতিটি মুহূর্ত গুনেছিলো সকল সালিক-সালিকা।
আজ সেই সুমহান ২২শে শাওওয়াল শরীফ। যামানার মুজাদ্দিদ মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদের লখতে জিগার, কলিজা মুবারক উনার টুকরা মুবারক হযরত নাক্বীবাতুল উমাম ও নিবরাসাতুল উমাম আলাইহিমাস সালাম উনাদের নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস।
আমাদের সকলের উচিত এই পবিত্র নিকাহ বা নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার দিনকে জান-মাল দিয়ে খিদমত করা। খিদমত করে নিজেদেরকে ধন্য করা।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উনার পবিত্র পবিত্র থেকে পবিত্রতম আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা আমাদের সকলের এই নেক মাকছূদ পূরণ করুন। (আমীন)

মুবারকবাদ জানাই পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ উনাকে

আজ সুমহান ২২শে শাওওয়াল শরীফ। যেই দিনটি অত্যন্ত রহমতপূর্ণ। কেউ যদি এই অশেষ অগণিত পবিত্র রহমত, রবকত হাছিল করতে চায় তাহলে তার জন্য করণীয় হলো- জান-মাল দিয়ে এই সুমহান দিনে অর্থাৎ সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মু আবীহা, ত্বাহীরাহ, ত্বয়িবাহ, কাবীরা, ফক্বীহা, ওলীয়ে মাদারযাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সুমহান নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার দিনে খিদমত মুবারক করা এবং বেশি বেশি সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা। কারণ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “নিশ্চয়ই ওলীআল্লাহগণ উনাদের আলোচনার মাধ্যমে পবিত্র রহমত নাযিল হয়।”
আর যিনি ওলীয়ে মাদারযাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার আলোচনা করলে কত রহমত, বরকত, সাকিনা নাযিল হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “নিশ্চয়ই ওলীআল্লাহগণ উনাদের আলোচনার মাধ্যমে পবিত্র রহমত নাযিল হয়।”
এজন্য সমস্ত কায়িনাত উনাদের জন্য উচিত- সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, তা’যীম-তাকরীম করা, সম্মান করা। (আমীন)

ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম এবং ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাদের পবিত্রতম নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠানের সুমহান দিন।

পঞ্চদশ হিজরী শতকের সুমহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, হুজ্জাতুল ইসলাম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, জামিউল আলক্বাব, আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম, ইমামুল উমাম, জব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয্যুল আউওয়াল, আস সাফ্ফাহ, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত ইমামুল উমাম ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, হাবীবাতুল্লাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি এবং উনাদের পূত-পবিত্র, মহা-সম্মানিত আহাল ও ইয়াল শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই আখাছ্ছুল খাছ আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!
এজন্য উনারা সকলেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। প্রেক্ষিত কারণে খাছ করে ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, নাক্বীবাতুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম এবং ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, নিবরাসাতুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনারা নববী উদ্যানের সুরভিত গোলাপ। উনারা হলেন আখাছ্ছুল খাছভাবে মহা-সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত ইমামুল উমাম ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম এবং উনার ছাহিবাতুল মুকাররামা, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনারা জিন-ইনসানের হাক্বীক্বী হিদায়েতের জন্য এবং হিদায়েতের নূরে সমগ্র কায়িনাত আলোকিত ও আলোড়িত করার জন্য নববী ধারায় যে মুবারক বাগান রচনা করেছেন, সে বাগান উনার প্রথমা সুবাসিত ফুল হলেন ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নাক্বীবাতুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি। মুবারক ওই বাগানেরই দ্বিতীয়া সুবাসিত ফুল হলেন ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নিবরাসাতুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি। উনারা হলেন সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত ইমামুল উমাম ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক বংশ বিস্তারের পবিত্রতম অগ্রযাত্রার অনুপম বিকাশ। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা উনার মুবারক নির্দেশে এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদয় উপস্থিতিতে ভিন্ন হিজরী সনের পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ-এ লখতে জিগারে সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নাক্বীবাতুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম, এবং লখতে জিগারে সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নিবরাসাতুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনাদের পবিত্রতম নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ! ঢাকা রাজারবাগ পাক দরবার শরীফস্থ সম্মানিত সুন্নতী জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত পবিত্রতম মাহফিলে উপস্থিত হন সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, হযরত ফেরেশতাকুল আলাইহিমুস সালাম এবং সকল হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা। আখাছ্ছুল খাছভাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদয় উপস্থিতিতে পবিত্রতম মাহফিল সম্মানিত জান্নাতী আবেহায়াতে পরিণত হয়ে কামিয়াবী ও মকবুলিয়াতের চূড়ান্ত সোপানে উপনীত হয়। সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত ইমামুল উমাম ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি উভয় পবিত্র শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠানে খুতবা মুবারক পাঠ করেন এবং মক্ববুল দুআ-মুনাজাত করেন। সুবহানাল্লাহ!
ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নাক্বীবাতুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার যাওজুল মুহতারাম, নকশায়ে হায়দার, বাহরুল উলূম, কুতুবুল আলম, বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, শাফিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম এবং ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নিবরাসাতুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার যাওজুল মুহতারাম, নকশায়ে যুন নূরাইন, বাহরুল উলূম, কুতুবুল আলম, বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম, ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনারা পবিত্রতম শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠান সূত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান। সুবহানাল্লাহ! উনাদের যতো লক্বব মুবারক রয়েছে, সে সবের মধ্যে ‘শাহদামাদ আউওয়াল’ ও ‘শাহদামাদ ছানী’-এ লক্বব মুবারক সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম মাক্বাম এবং সীমাহীন মর্যাদার পরিচায়ক। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার হিদায়েত, নছীহত এবং দুর্বার তাজদীদী কাজের প্রচার, প্রসার ও বাস্তবায়নের নানাবিধ অনুষঙ্গে উনারা দু’জন নিরন্তর ব্যাপৃত রয়েছেন। বিশাল কর্মকা- দেখা-শুনা ও নির্বাহে উনাদের অনুক্ষণের ব্যস্ততা। শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রার্থীর প্রার্থনা পূরণে, বিভিন্ন অভিযোগ শ্রবণ ও সে সবের সমাধানে, বিপন্ন মানুষের দুঃখ মোচনে, প্রজ্ঞাময় উপদেশদানের আন্তরিকতায় দু’জনেই ক্লান্তিহীন ও অনন্য। সুবহানাল্লাহ!
ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নাক্বীবাতুল উমাম, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম এবং ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নিবরাসাতুল উমাম, সাইয়্যদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনাদেরকে বুঝতে হলে, উনাদেরকে জানতে হলে আবশ্যিকভাবে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, লখতে জিগারে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে জানা, উনাকে উপলব্ধি করা ফরয। আর উনাকে জানতে হলে, উনাকে অনুসরণ করতে হলে নাক্বীবাতুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম এবং নিবরাসাতুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনাদেরকে জানা, উনাদেরকে উপলব্ধি করা, উনাদেরকে মুহব্বত করা, উনাদেরকে অনুসরণ করা ফরয। সুবহানাল্লাহ!
ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নাক্বীবাতুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম এবং ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নিবরাসাতুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনাদের পবিত্রতম বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বের, পবিত্রতম বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার মুবারক মুহূর্তের ও পরের, বর্তমানের এবং সব সময়ের যাবতীয় বিষয় ও ঘটনা সম্মানিত সুন্নত উনার সঙ্গে পরিপূর্ণভাবে সঙ্গতিপূর্ণ। উনাদের পবিত্র মাথা মুবারক থেকে পবিত্র ক্বদম মুবারক পর্যন্ত সম্মানিত সুন্নতে পরিশোভিত। আমরা আমাদের মা, বোন, আহলিয়া, নিকট আত্মীয়া উনাদের নিকট জেনেছি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাদের মুবারক আচার-আচরণের স্নিগ্ধতা, মধুর বাক্যালাপ, প্রত্যয়ী ব্যক্তিত্ব, গভীর সূক্ষ্মদর্শিতা, সুগভীর মনন, সীমাহীন তাক্বওয়া, সম্মানিত সুন্নত পালনের দায়িমী অভ্যস্ততা, ইস্তিক্বামত প্রত্যক্ষদর্শিদের অনুক্ষণ উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার কথা মনে করিয়ে দেয়। উনাদের মুবারক অবয়বে সর্বক্ষণ ফুটে থাকে উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নূরের সুস্পষ্ট আভা। সুবহানাল্লাহ!
উনাদের দুনিয়া বিরাগী, মানসিকতা ও স্বল্পে পরিতুষ্টির মাত্রা অন্য কোনো মহিলা তো দূরের কথা, কোনো পুরুষের পক্ষেও বরদাশতযোগ্য নয়। পবিত্র এ অভ্যস্ততা উনাদের মুবারক স্বভাব-সঞ্জাত এবং কেবল উনাদের জন্যই সহনীয় ও শোভনীয়। অন্য কারো জন্য নয়। সম্মানিত খিলাফত আলা মিন হাজিন নুবুওওয়াহ উনার মজবুত ভিত রচনা, বাস্তবায়ন ও পরিচালনায় উনারা উনাদের হযরত সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম পিতা আলাইহিস সালাম উনার যোগ্যতমা উত্তরসূরি। যে অতুলনীয় যোগ্যতা, উৎকর্ষতা ও মহিমাময় উনাদের পবিত্রতম আবির্ভাব, তাতে বাতিলের পরাজয় ও ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী। সুবহানাল্লাহ!
এটিইতো স্বাভাবিক ও সঙ্গত। কারণ কুফরীর জগদ্দল পাথর ভেঙে চুরমার করতে হবে। উপরে ফেলতে হবে বিদয়াত, বেশরা। দূর করতে হবে অন্যায় ও অবিচার। ধ্বংস করতে হবে বাতিল। নিপাত করতে হবে ইসলামবিরোধী সকল বিধর্মীদের। সমগ্র বিশ্ব পরিসরে পরিচালনা করতে হবে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ। জগৎময় ক্বায়িম করতে হবে ইনসাফ ও ইনসানিয়ত। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক সুবহানাল্লাহু ওয়া তায়ালা তিনি উনার পবিত্র কিতাব পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, (“হে আমার প্রিয়তম হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি দয়া করে সকল উম্মতকে বলে দিন: তোমাদের নিকট আমি কোনো বিনিময় চাই না (মূলত বিনিময় তোমরা কেউই দিতে পারবে না। বরং বিনিময় দেয়ার চিন্তা করাটাও কুফরী। তবে উম্মতের মুহব্বত-মা’রিফাত, তায়াল্লুক-নিসবত, রিযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা যেহেতু ফরয) সেজন্য তোমাদের অবধারিত কর্তব্য হলো: তোমরা আমার আপনজন, অর্থাৎ আমার সম্মানিত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম এবং আমার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত মুবারক করো, তা’যীম মুবারক করো, তাকরীম মুবারক করো এবং উনাদের খিদমত মুবারক করো, গোলামী মুবারক করো।” সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা তিনি উনার পবিত্র কিতাব পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক করেন: “মহান আল্লাহ পাক উনার অভিপ্রায় যে, তিনি উনার প্রিয়তম হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহা-সম্মানিত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
এ পবিত্র আয়াত শরীফ মুবারক উনার হাক্বীক্বী অর্থ হলো, উনাদেরকে পূত-পবিত্র করেই অর্থাৎ পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি করা হয়েছে এবং যমীনে পাঠানো হয়েছে। ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নাক্বীবাতুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম এবং ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নিবরাসাতুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার মহা-সম্মানিত হযরত আহাল ও ইয়াল শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই উল্লিখিত পবিত্র দু’খানি পবিত্র আয়াত শরীফ মুবারক উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব। বিশুদ্ধ আক্বীদায় উনাদেরকে হাক্বীক্বীভাবে মুহব্বত করা, দায়েমীভাবে উনাদের ছানা-ছিফত মুবারক করা, উনাদের তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা আমাদের জন্য ফরয এবং কবুল ইবাদত হিসেবে গণ্য। সুবহানাল্লাহ!
সীমাহীন নিয়ামত হাছিলের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ইউসূফ আলাইহিস সালাম উনার খিদমত করার জন্য অনেক মানুষের ভিড়ে অপেক্ষমান সমঝদার এক বৃদ্ধা মহিলার হাতে প্রতীকী মূল্য হিসেবে অন্তত দু’গাছি সুতো ছিলো। সুবহানাল্লাহ! আমাদের তো তাও নেই। আমাদের কোনো সম্বলই নেই। আমরা কোন্ যোগ্যতায় ছানা-ছিফত করবো? ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নাক্বীবাতুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম এবং ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নিবরাসাতুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম এবং মহা-সম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলের পবিত্র শান-মান মুবারক, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক, সম্মান-মাক্বাম মুবারক আমাদের আক্বল, সমঝ ও উপলব্ধির সীমাহীন ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
আজ পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ। ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নাক্বীবাতুল উমাম, উম্মুল ওয়ারা, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম এবং ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নিবরাসাতুল উমাম, উম্মুল ওয়ারা, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনাদের পবিত্রতম শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠানের সুমহান দিন। এদিনটি পবিত্র ঈদ উনার দিন। অপরিমেয় আনন্দের দিন। এ মুবারক দিন উপলক্ষে উনাদের সীমাহীন ছানা-ছিফত মুবারক প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাদের অতি তুচ্ছ প্রয়াস কেবলই রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের পরম লক্ষ্যে। সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার পূত-পবিত্র, মহা-সম্মানিত হযরত আহাল ও ইয়াল শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা একান্ত কৃপাবশতঃ সন্তুষ্ট হলেই আমাদের সকল চাওয়া পাওয়ায় পরিণত হবে।

সুমহান পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ ॥
শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল
ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত ও সম্মান মুবারক।

আরবী বাক্য ‘নূরুন আলা নূর’ উনার বাংলা মর্মার্থ ‘সোনায় সোহাগা’কে অতিক্রম করে ইংরেজি শব্দ এড়ড়ফ, ইবঃঃবৎ, ইবংঃ-কে পশ্চাতে রেখে, বহুল প্রচলিত আরবী শব্দ জায়্যিদ, ত্বইয়িব, খইর, মুমতাজ, আফদ্বল, আহসান ইত্যাদির শিরে আরোহণ করে, দুলোকী নব নকশাখচিত পালকিতে চড়ে আজি ধরার বুকে তাশরীফ নিয়েছেন শাফিউল উমাম, কুতুবুল আলম, যুর রহমাহ, ওয়াল কারাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। উনার গৌরবমাখা মুবারক তাশরীফ উনার সৌরভে আজ মুখরিত কুল-কায়িনাত। আরশে আলয় থেকে শুরু করে রওযা শরীফ, জান্নাত, সপ্ত আসমান সপ্ত যমীন, রবি-শশী, গ্রহ, তারার সকল স্থানের মাখলূক্ব আজি আনন্দে উদ্ভাসিত, উদ্বেলিত ও হাস্যোজ্জ্বল। হুর-পরীরা খিদমতের আরজি নিয়ে অপেক্ষমান। জিন-ইনসান গোলামীর সনদ নিতে গভীর ইনতিজারে মশগুল। পৃথিবীর যমীন শুকরিয়া আদায় করছে উনার মুবারক পদচারণার ছোঁয়া বুকে পেয়ে, আসমান শুকরিয়া আদায় করছে উনাকে তার নীলিমার আবরণে আচ্ছাদিত করতে পেরে।
চন্দ্র-সূর্যের আলো উজ্জ্বল থেকে আরো সমুজ্জ্বল হয়েছে উনার মুবারক অবয়বের নূরী ফোয়ারার সাইয়্যিদি ঝলক মাখা রৌশনে। ঝরণা, নদী, সাগরের স্রোত অনুপম ছন্দে উনার শানে ক্বাছীদা শরীফ উনার পরশমাখা আবেগী ছন্দ শুনাচ্ছে।
পুষ্প-গুল্মের হৃদয়কাড়া সুবাসে আনন্দমুখর ধরণীর প্রতিটি বিয়াবান।
মোদ্দাকথা হলো- কায়িনাত ও তার সমস্ত সৃষ্টিই আজি ঐশী নব উদ্যমের পরশে আবেগাপ্লুত ভাবগাম্ভীর্যের মোহনায় সাঁতার কাটছে। কেনইবা এ রকম হবে না? দেখতে হবে না- কোন্ মহামতি উনার আবির্ভাব আজ? কোন্ ধ্রুব জ্যোতি উনার তাশরীফান আজ? কোন্ সীপাহশালার নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস আজ? উনি হচ্ছেন হাশিমী বংশের কুরাইশী খান্দানের সাইয়্যিদ। উনার ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষ উনাদের বংশানুক্রম মুবারক সিলসিলা মিলেছে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে। সুবহানাল্লাহ!
এ কারণেই তিনি হচ্ছেন আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! আর আওলাদুর রসূল সম্পর্কে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
قل لا اسئلكم عليه اجرا الا المودة فى القربى
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি জানিয়ে দিন, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাচ্ছি না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও; তাহলে তোমাদের জন্য ফরয হচ্ছে, আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া।” (পবিত্র সূরা শুরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ-২৩)
এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত তাফসীর ‘তাফসীরে মাযহারী’ শরীফ উনার ৮ম জিলদ ৩২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে-
لا اسئلكم اجرا الا ان تودوا اقربائى واهل بيتى وعترتى.
অর্থ: “আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাই না; তবে তোমরা আমার নিকটাত্মীয়, আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও বংশধর উনাদের (যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক) হক্ব আদায় করবে।
এ ব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-
عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم احبوا الله لـما يغذوكم من نعمة واحبونى لحب الله واحبوا اهل بيتى لحبى.
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, তোমরা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো। কেননা, তিনি তোমাদের প্রতি খাদ্যসামগ্রীর মাধ্যমে অনুগ্রহ করে থাকেন। আর আমাকে মুহব্বত করো খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে, যেহেতু আমি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার মুহব্বতে।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ)
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ সম্পর্কে আরো বলেন-
عن حضرت ابى ذر رضى الله تعالى عنه انه قال وهو اخذ بباب الكعبة سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول الا ان مثل اهل بيتى فيكم مثل سفينة نوح من ركبها نجا ومن تخلف عنها هلك.
অর্থ: “হযরত আবূ যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনার দরজা মুবারক ধরে বলেছেন, আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, সাবধান! আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হলেন তোমাদের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিস্তির ন্যায়। যে উনার মধ্যে আরোহণ করবে, সে রক্ষা পাবে। আর যে উনার থেকে পশ্চাতে থাকবে সে ধ্বংস হবে।” (মুসনাদে আহমদ শরীফ)
তিরমিযী শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-
عن حضرت جابر رضى الله تعالى عنه قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم فى حجته يوم عرفة وهو على ناقته القصواء يخطب فسمعته يقول يا ايها الناس انى تركت فيكم ما ان اخذتم به لن تضلوا كتاب الله وعترتى اهل بيتى.
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি, তিনি (বিদায়) পবিত্র হজ্জে আরাফাতের দিন উনার ‘কাসওয়া’ নামক উষ্ট্রী উনার উপর সওয়ার অবস্থায় খুতবা মুবারক প্রদান করছেন। আমি শুনেছি, তিনি খুতবা মুবারক উনার মধ্যে বলেছেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদের মাঝে এমন বিষয় রেখে যাচ্ছি, তোমরা যদি উক্ত বিষয় অর্থাৎ উনাদেরকে শক্তভাবে ধরে রাখো, তবে কখনো গুমরাহ হবে না। উনারা হলেন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব ও আমার ইতরত বা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম।” সুবহানাল্লাহ!
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ, পবিত্র তাফসীর শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের হাক্বীক্বী মিছদাক্ব হচ্ছেন শাফিউল উমাম, বাবুল ইলম, কুতুবুল আলম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। উনাকে তা’যীম-তাকরীম, সম্মান করা কুল কায়িনাতের জন্য ফরয উনার অন্তর্ভুক্ত।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে উনার মা’রিফাত-মুহব্বত অনুধাবন করে, তা’যীম-তাকরীম সম্মান করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম
আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পরিচিতি

শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ আওলাদ। বর্তমান যামানার সুমহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামে আ’যম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং উম্মুল উমাম, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, হাবীবাতুল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদের প্রথমা বানাত ত্বাহিরাহ, ত্বাইয়িবাহ, ফক্বিয়াহ, নাক্বীবুতুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী উলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত যাওজুম মুকাররম। সুবহান্নাল্লাহ!
জান্নাতী বাগানের মালিকা, ত্বাহিরাহ, ত্বাইয়িবাহ, রহীমাহ, মাশুকাহ, মাহবুবাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলা আলাইহিন্নানাস সালাম উনাদের সম্মানিত আব্বাজান। সুবহান্নাল্লাহ!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা ওয়ারাউল ওয়ারা হিসেবে কবুল করেছেন। উনাকে দিয়েছেন অসংখ্য-অগণিত নিয়ামত। তামাম দুনিয়ার কুতুব করে উনাকে যমীনে প্রেরণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসলীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ আওলাদ হিসেবে কবুল করেছেন তথা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম হিসেবে মনোনীত করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
মুবারক বংশ পরিচয় এবং আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর দ্বারা শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সুমহান শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক সুস্পষ্টত প্রকাশিত। কিন্তু বান্দা-বান্দী, জিন-ইনসানদের পক্ষে উনার হাক্বীক্বী মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উপলব্ধি করা তো কখনও সম্ভব হবে না। তথাপিও সীমিত জ্ঞানের দ্বারা উনাদের যতটুকু শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উপলব্ধি করা যায়, তার যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা সকলেরই কর্তব্য।
আর খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি তো বান্দাদের বলেছেন যেন বান্দারা নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে। নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলেই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিয়ামত আরো বাড়িয়ে দেন। কাজেই আমাদের উচিত হবে, সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনাকে যে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের মাঝে রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন, এর জন্য শুকরিয়া আদায় করা, উনাকে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম এবং খিদমত মুবারক করা তথা নিয়ামতের যথাযথ হক্ব আদায় করার কোশেশ করা; যদিও বান্দাদের পক্ষে হাক্বীক্বী হক্ব আদায় করা কখনই সম্ভব নয়।
সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আমাদের মাঝে নাজাতী তরীস্বরূপ। উনাকে যে অনুসরণ-অনুকরণ করবে, মুহব্বত করবে, তা’যীম-তাকরীম করবে, খিদমত করবে সে অবশ্যই নাযাত পেয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি, তিনি পবিত্র (বিদায়) পবিত্র হজ্জে আরাফাতের দিন উনার ‘কাসওয়া’ নামক উষ্ট্রীর উপর সওয়ার অবস্থায় খুতবা মুবারক প্রদান করছেন। আমি শুনেছি, তিনি খুতবা মুবারক উনার মধ্যে বলেছেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা যদি তাকে শক্তভাবে ধরে রাখো, তবে কখনো গুমরাহ হবে না। তা হলো খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব ও আমার ইতরত বা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম।” সুবহানাল্লাহ!
অন্যত্র আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালামগণ উনারা হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার যামানার কিসতীস্বরূপ। যারা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের অনুসরণ-অনুকরণ মুবারক করবে তারা সকলেই নাজাত পেয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ!
এ জন্য আমাদের সকলেরই উচিত হবে, আখাছছুল খাছ আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে অনুসরণ-অনুকরণ করা, খিদমত করা। আর উনার নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ শরীফ যথাযথভাবে পালন করা। আর এলক্ষ্যে মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ, ওয়াজ মাহফিল-এর আয়োজন করা। উনার ছানা-ছিফতে মশগুল থাকা এবং হাক্বীকী মুহব্বত এবং খিদমতে নিয়োজিত থাকা। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের সকল মাখলুকাতকে যামানার সুমহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার উসীলায় শাফিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহ দামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সুমহান পবিত্রতম নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস যথাযথভাবে পালন করে খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ সন্তুষ্টি, রেযামন্দি হাছিল করার তাওফীক দান করেন। আমীন।

গ্রাম।

বাবুল ইলম সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি প্রতি যামানায় অসংখ্য-অগণিত ওলীআল্লাহ উনাদেরকে জিন ও বিশেষ করে ইনসানের (মানুষের) হিদায়েত দানের লক্ষ্যে প্রেরণ করেছেন, প্রেরণ করছেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত প্রেরণ করতে থাকবেন।
যে সম্পর্কে স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই আমি যমীনে খলীফা প্রেরণ করবো।”
এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে হাক্বীক্বী মিছদাক্ব খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার আখাছছুল খাছ ওলী এবং বিশেষভাবে খলীফা হিসেবে মনোনীত শাফিউল উমাম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার সাথে বর্তমান পঞ্চদশ হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, ইমামুল উমাম ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রথমা আওলাদ যিনি আফযালুন নিসা, ফক্বিহাতুন নিসা, ত্বাহিরাহ, ত্বইয়িবাহ, আলিমা, আবিদাহ, হাফিযাহ, বিনতে মুজাদ্দিদে আ’যম, নক্বীবাতুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের সম্মানিতা হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক সুসম্পন্ন হয় এবং উনাদের মাধ্যমেই দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ আনেন নববী দুই নূরী ফুল সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতাল উমাম আমাদের সম্মানিতা হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতুন আলাইহিমুস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ!
কুতুবুল আলম, শাফিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হলেন আওলাদে রসূল যে সম্পর্কে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি জানিয়ে দিন, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাচ্ছি না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও; তাহলে তোমাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে, আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া।” (পবিত্র সূরা শুরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ-২৩)
আওলাদে রসূল উনাদের শান, মান, ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা, বুযূর্গী-সম্মান আলোচনা করে তো শেষ করা যাবে না। কাজেই বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কুতুবুল আলম, শাফীউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদে আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী ও সম্মান কতটুকু তা চিন্তা ও ফিকিরের বিষয়। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, শাফিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদে আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
উনার মুহব্বত-মা’রিফত, নিসবত-তাওয়াল্লুক, সন্তুষ্টি ও রেযামন্দি পেতে সকল বান্দা-বান্দী অর্থাৎ সকল মু’মিন-মু’মিনা মুসলমানদের দায়িত্ব-কর্তব্য হবে উনাকে অনুসরণ করা, মুহব্বত করা এবং উনার শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবসে মীলাদ শরীফ, ওয়াজ শরীফ ও সামা শরীফ উনার মাহফিলের আয়োজন করা এবং উক্ত দিবসকে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করা।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে সেই মহান তাওফীক দান করুন। আমীন!

সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম
উনার শান মান মুবারক

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার বেশুমার শুকরিয়া যিনি আমাকে আমাদেরকে ও বিশ্ববাসীকে এক মহান নিয়ামত মুবারক দান করেছেন। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন।
সেই নিয়ামত মুবারক কি? সেই মহান নিয়ামত মুবারক হচ্ছেন যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীউল্লাহ আল মুজাদ্দিদুল আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াত ওয়াশ শিরক, মুস্তাজাবুদ দাওয়াত, আওলাদুর রসূল ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
এই মহান মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার শাহযাদীয়ে ঊলা আলাইহাস সালাম উনার যাওজুম মুকাররম হিসেবে যিনি সম্পৃক্ত হন, তিনিই হচ্ছেন শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
উনারা উভয়েই পবিত্রা ও পবিত্র। এমনটি নয় যে, উনারা পরে পবিত্র হয়েছেন। বরং পূর্ব থেকেই পবিত্রা, পবিত্র। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র সূরা নূর শরীফ উনার ২৬ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র পুরুষগণ উনাদের জন্য পবিত্রা নারীগণ আর পবিত্রা নারীগণ উনাদের জন্য পবিত্র পুরুষগণ উনাদেরকে তৈরি করা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র আয়াত শরীফ থেকে যা নিশ্চিত বুঝা যায় তা হচ্ছে, যিনি বা যাঁরা মুজাদ্দিদ আ’যম আওলাদুর রসূল আলাইহিস সালাম উনার আওলাদ ও আখতান জামাতা হবেন উনারা তো পূর্ব থেকে পবিত্রা, পবিত্র ও মনোনীত। যেমনটি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে ইচ্ছা উনার রহমত দ্বারা খাছ করে নেন।” সুবহানাল্লাহ!
শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনি মশহূর হয়েছেন শাহদামাদ হিসেবে। তিনি এই পৃথিবীতে আগমন করেন তথা উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস হচ্ছে ১৪ই যুল ক্বা’দাহ শরীফ-এ। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র হজ্জ উনার মাস হচ্ছে তিনটি: পবিত্র শাওওয়াল, পবিত্র যুলক্বা’দাহ ও পবিত্র যুলহিজ্জাহ। তিনি পবিত্র হজ্জ উনার মাসসমূহের মধ্যে অন্যতম যুল কা’দাহ মাসেই পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। এছাড়াও এ মাসটি হচ্ছে বছরে চারটি হারাম বা পবিত্র মাস উনার একটি অন্যতম মাস। অর্থাৎ হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম একদিক থেকে হারাম বা পবিত্র মাসে অন্যদিক থেকে সম্মানিত হজ্জ উনার মাসে দুনিয়ায় আগমন করেন।
পবিত্র বংশ মুবারক: তিনি সাইয়্যিদ বংশোদ্ভূত তথা আওলাদুর রসূল। অর্থাৎ কায়িনাত মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ বংশোদ্ভূত তিনি। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র ইলম মুবারক ও প্রজ্ঞা: তিনি ইলমুশ শরীয়ত ও ইলমুল মা’রিফত-এ পূর্ণ মুহাক্কিক। কারণ উনি তো মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার দামাদ এবং একই সাথে নাক্বীবাতুল উমাম, নূরে মুকাররমাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত যাওজ। সুবহানাল্লাহ!
উনার প্রজ্ঞা, মেধা, তীক্ষèতা, বিচক্ষণতা সীমানা ছাড়িয়ে এক সুউচ্চ আসনে সমাসীন। শ্রেষ্ঠতম ছোহবতে তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ, হিকমত ইত্যাদি যাবতীয় জ্ঞান বিজ্ঞানে মুহাক্কিক আলিম। সুবহানাল্লাহ!
চরিত্র মুবারক: তিনি উন্নত ও উত্তম চরিত্র মুবারক উনার অধিকারী। কথাবার্তায়, কাজে কর্মে, পারস্পরিক আচার আচরণে অত্যন্ত শরীফ স্বভাবের। কোমল, নরম ও দয়ার্দ্র ভাবাপন্ন উনার চিত্ত মুবারক।
জিসমী অবয়ব: উনি জিসমী অবয়বে মুজাদ্দিদে আ’যম আওলাদুর রসূল হযরত মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার চেহারা মুবারক উনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উন্নত ও মানানসই দাড়ি মুবারক উনার মুখে শোভা পাচ্ছে। উনার হাসির মুহূর্তে মুক্তাসম দাঁত মুবারকগুলো যেন আকাশের তারকাকে ম্লান করে দেয়। ক্ষণে ক্ষণে উনার মুচকি হাসি মুবারককে মনে হয় এ যেন আকাশে রহমতী বৃষ্টির মেঘের ফাঁকে যে বছর যত বেশি আকাশে বিজলি চমকাবে, সে বছর ফসল তত ভালো হবে। এ হাসি নিশ্চিত আমাদের জন্য এমনই। আলহামদুলিল্লাহ!
পরহেযগারিতা: সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আ’লা দরজার মুত্তাকী, ওলীউল্লাহ, তাহাজ্জুদ গুজার, সদাসর্বদায় যিকির-আযকার, দুরূদ-সালাম, শানে মুজাদ্দিদে আ’যম উনার ইশকে ও ইত্তিবায় ফানা ও বাক্বা। সুবহানাল্লাহ! উনার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ তাক্বওয়া উনার প্রতিফলন হচ্ছে তিনি নিজেই আওলাদুর রসূল এবং মুজাদ্দিদী আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কর্তৃক নূরানী প্রাচীরে পরিবেষ্টিত। সুবহানাল্লাহ!
তিনি ১৪ যুলক্বাদাহ শরীফ-এ পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। এজন্য এদিন মুবারকে উনাকে লক্ষ-কোটি মুবারকবাদ ও আহলান সাহলান।
হযরত মুজাদ্দিদ আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ‘শাহদামাদ আউওয়াল’ লক্ববে যিনি মশহুর।
শাহযাদী ঊলা উনার মহান যাওজ, শাহ নাওয়াসী উনারা এ বাগের রাইহানাহ।

এক অনন্য, অসাধারণ, অকল্পনীয়, অচিন্তনীয়, তুলনাবিহীন, বেমেছাল নিয়ামত লাভে ধন্য হলেন কায়িনাতবাসীর মান্যবর হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম

ফার্সী ভাষায় হযরত বুযূর্গানে দ্বীন, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের একখানা সুপ্রসিদ্ধ ক্বওল শরীফ বিবৃত হয়েছে। তাহলো-
داد حق را قابلیت شرط نیست
بلکہ شرط قابلیت داد اوست
উচ্চারণ: ‘দাদে হক্বরা ক্বাবিলিয়াত শর্ত নীস্ত
বলকেহ্ শর্ত ক্বাবিলিয়াত দাদে ঊস্ত’।
অর্থাৎ হক্ব তায়ালা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক জাল্লা শানুহূ তিনি কাউকে কবুল করে নিবেন, উনার রহমত ও নিয়ামত মুবারক দানে ভূষিত করবেন, এজন্য কোনো প্রকার শর্ত নেই। বরং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সদয় ইচ্ছায় কাউকে কবুল করে নেয়াটাই শর্ত। অর্থাৎ খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত ও নিয়ামতের অধিকারী করে নিলেই কোনো ব্যক্তি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মকবুল বা কবুলকৃত হয়ে যান। সুবহানাল্লাহ!
উদ্ধৃত পবিত্র ক্বওল শরীফ উনার অনুপম মিছদাক হলেন শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য, খালিক্ব মালিক রব্বুল আলামীন তিনি যেরূপ মহান তদ্রƒপ উনার রহমত, নিয়ামত অপার-অপরিসীম। উনার এই গণনা অসাধ্য, অসংখ্য নিয়ামত মুবারকসমূহের মধ্যে কতক নিয়ামত মুবারক সমস্ত মাখলুকাতই লাভ করে থাকে। আবার কতক নিয়ামত মুবারক শুধু মানুষ ও জিন জাতিই লাভ করে থাকে। আবার কতক নিয়ামত মুবারক শুধুমাত্র মানবজাতির মধ্যে মু’মিন-মুসলমানের জন্যেই বরাদ্দ। কিছু নিয়ামত রয়েছে যা বান্দা ও উম্মতের কোশেশের দ্বারা অর্জিত হয়ে থাকে। আবার কিছু নিয়ামত এমন রয়েছে যা বান্দার কোনো ধরনের কোশেশ দ্বারা অর্জিত হয় না।
বলাবাহুল্য, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম হওয়ার বিষয়টি, হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম হওয়ার বিষয়টি, অতঃপর যামানার মূল মুজাদ্দিদ হওয়ার বিষয়টি এবং সেই সাথে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম এবং আওলাদ হওয়ার বিষয়টি এসব বান্দা ও উম্মতের সম্পূর্ণরূপে ইখতিয়ারবিহীন ও কোশেশবিহীন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।
সর্বোপরি যাঁকে উপলক্ষ করে এ লেখার কিঞ্চিৎ প্রয়াস উনার পবিত্রতম শাহদামাদ ক্বিবলা হওয়ার বিষয়টিও সম্পূর্ণরূপে কোশেশ ও ইখতিয়ারবিহীন বিষয়।
এ মুবারক বিষয়টি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ রহমতের বিষয় এবং একই সাথে উনার যিনি হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ ইহসানের বিষয় এবং সেই সাথে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মনোনীত খলীফা হযরত মুজাদ্দিদ আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক বণ্টনের বিষয়। সুবহানাল্লাহ!

মুসলিম বিশ্বের সাড়ে তিনশ কোটি মুসলমানের একমাত্র আযীমুশ শান অপ্রতিরোধ্য ইমামে আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যম, মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক বলিষ্ঠ দস্ত মুবারক শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদে আউওয়াল আলাইহিস সালাম

ঈদে বিলাদতে শাফিউল উমাম আসসালাতু আসসালাম। মারহাবা ইয়া শাফিউল উমাম মারহাবা। খুশির প্রবাহে মুখরিত পবিত্র দরবার আ’যম-এ মুজাদ্দিদ শরীফ। পবিত্র দরবার শরীফ জুড়ে ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে আহলান সাহলান শাহদামাদ জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ শাহদামাদ। আশিকিন, যাকিরিন, ছালিকিন, মুহিব্বীন, মুরীদিন সকলের হৃদয়জুড়ে উথলে উঠছে ঈদে বিলাদতে শাহদামাদ আলাইহিস সালাম। আমরা বাস্তবেই সৌভাগ্যবান। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের নিকটবর্তী।” সুবহানাল্লাহ!
আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পবিত্র বিলাদত শরীফ, বিছাল শরীফ ও নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবসে রহমতের বারি অঝোর ধারায় ঝরতে থাকে। এই পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ পালনেই আরো হৃদয়ঙ্গম হয় ও হচ্ছে রহমতের সিক্ততা। আর যাঁরা আখাছছুল খাছ ওলীআল্লাহ, খাছ আহলে বাইত শরীফ, উনাদের উপর খাছ রহমত মেছালে শবে ক্বদর। সুবহানাল্লাহ! অনুরূপ খাছ আওলাদে রসূল, খাছ খলীফায়ে রসূল, খাছ খলীফায়ে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনিই হচ্ছেন মাখযানুল মা’রিফাত, ছাহিবাতুল আরকাম, আবরারে মুকাররম, আকতাবুল ক্বায়িনাত, ইমদাদুল বারাকাত, শাফিউল উমাম, কুতুবুল আলম, শাহ ছূফী সাইয়্যিদ মুহতারাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম।
হে বিশ্ব মুসলিম! আসো সবাই উনার আযীমুশ শান নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস পালনে শরীক হই, আমরা ধন্য হই, কামিয়াব হই। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কবুল করুন। আমীন!

শানে শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম-
পনের শতক হিজরী সনে মুসলিমাকাশে উদিত হলো আরো একজন মহাবীর

ইহুদী-খ্রিস্টানদের কলিজার পানি শুকিয়ে যায়, শক্তি হারিয়ে ফেলে, বুতপরস্তির খবরদারী হলো নিস্তানাবুদ। ধুরন্দর ইহুদী গুপ্তচরদের চরম শিক্ষা হয়ে যায়। মুনাফিক দুনিয়ালোভী, স্বৈরাচারী মুসলিম নামধারী রাজা, আমীর জমিদারদের কুখ্যাত নফসী খাহেশকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়া হলো।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার যমীনে রহমতের বারি অঝোর ধারায় সিঞ্চিত হলো। সুন্নতী আমল আখলাক ঐক্যতা মুসলমানিত্ব, ঐতিহ্য, গর্বিত স্নিগ্ধ তাহজীব তমুদ্দুনের অঙ্কুর পুনরায় গজিয়ে উঠছে। তামাম পৃথিবী জুড়ে আযানের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠছে। যিকির আজকারের মুহুর্মুহু মুবারক গুণগুণানিতে পৃথিবীর যমীনের সজীবতা ফিরে আসছে। খ্রিস্টানদের কলিজা পোড়া স্মরণীয় ক্রুসেড যুদ্ধের শোচনীয় পরাজয় আর ঘৃণা এবং ভয় অক্টোপাসের ন্যায় এখনও জড়িয়ে ধরে আছে প্রতিটি ইহুদী-খ্রিস্টান, মুশরিকদের, ভ-, প্রতারক, আমীর, জমিদারদের। তাদের পাপিষ্ঠ আত্মা গুমরে গুমরে কাঁদছে জাহান্নামের গহীন কুটিরে। ইতিহাস তার শির উঁচু করে বলছে- সেই সুমহান বীর সুলত্বান সালাহুদ্দীন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
যাঁর নাম মুবারক শুনলে এখনও ইহুদী-খ্রিস্টানসহ তামাম তাগুতি নেতাদের ভয়ে জ্বর এসে যায়। সেই মহামতীর বিছাল শরীফ উনার পর থেকে ওই কুখ্যাত কাফির, বেঈমান, মুশরিক, ইহুদী-খ্রিস্টান, দুনিয়ালোভী উলামায়ে সূ’ কায়িমী স্বার্থবাদী মুসলিম নামধারী রাজা, বাদশাহ, মন্ত্রী, উপমন্ত্রীসহ সকল অসৎ পুঁজাকারীরা সেই পূর্ব পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রতিশোধ নিচ্ছে। অহেতুক মুসলমানদের হত্যা করছে। মানসম্মান নষ্ট করছে। ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে। ভিটাবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে দিচ্ছে। মুসলমান দেশসহ পুরো জনতার মাঝে বিদ্রোহের আগুন দাউ দাউ করে জ্বালিয়ে দিয়ে সমূহ ক্ষতিসাধন করে চলছে। এহেন নিদানকালে গর্জে উঠে বাংলার যমীন থেকে পুরো ক্বওমে তাগুতকে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, পাশাপাশি উপযুক্ত শাস্তি দানেও বহুল পারঙ্গমতার দ্বীপ্ত পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন; তিনিই হচ্ছেন এই যামানার অপ্রতিরোধ মহাবীর, নকশায়ে সুলত্বান সালাহুদ্দীন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি, শাফিউল উমাম, শাফিউল কুওওয়াত, আকরামুল কাওনাইন, সাইয়্যিদুল সাকালাইন, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, সাইয়্যিদুস সিরাজ, আফতাবে আহলে বাইত, কুতুবুল আলম, নকশায়ে হায়দার, যামানার আসাদুল্লাহিল গালিব, শেরে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
আলহামদুল্লিাহ! আমরা উনার মুবারক ছোহবতে ধন্য, পুরো মাখলুকাত ধন্য। তাই বিশ্ববাসীর পক্ষ থেকে উনার পবিত্রতম নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস উনার সম্মানার্থে জানাই আহলান সাহলান। আস্সালাতু আসসালাম।

আসুন, সবাই মিলে পালন করি সুমহান ২২শে শাওওয়াল শরীফ

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
اذكروا نعمة الله علبكم .
অর্থা: “খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে যে নিয়ামত দিয়েছেন তা স্মরণ করো।”
সুমহান পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে নিয়ামত প্রাপ্তির একটি অন্যতম স্মরণীয় দিন। যেদিন এ ধরার বুকে সংঘটিত হয় কুতুবুল আলম, বাবুল ইলম, শাফীউল উমাম, আওলাদে রসূল হযরত শাহদামাদ হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার আযীমুশ শান নিকাহ মুবারক বা নিসবাতুল আযীম শরীফ।
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কর্তৃক মনোনীত এবং উনাদের থেকে সর্বপ্রকার নিয়ামত পেয়ে পূর্ণতাপ্রাপ্ত।
হবেন না-ই বা কেন? খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব উনারা যে উনাকে মনোনীত করেছেন মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, আওলাদে রসূল, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুন নিসা, নাক্বীবাতুল উমাম, আওলাদে রসূল, হযরত শাহযাদী ঊলা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত যাওজুল মুকাররম হিসেবে। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার আহাল পাক উনাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে তিনি আরো বেমেছালভাবে পূর্ণতায় পৌঁছেছেন। সুবহানাল্লাহ!
তাই আসুন, আমরা সকলেই উনার পবিত্র নিকাহ মুবারক উনার দিনকে স্মরণ করে ঈদ বা খুশি প্রকাশ করি, উনার ছানা-ছিফত বর্ণনায় মশগুল থাকি। যা আমাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে বিশাল কামিয়াবীর কারণ হবে।

শানে শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম।
মনোমুগ্ধকর অপরিমেয় সুবাস ছড়িয়ে শাহানশাহী বাগিচার প্রথমা পুষ্পের ডালে নব পুষ্পের প্রকাশ

কুদরতে ইলাহী! মু’জিযায়ে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!!
মহান বারী তায়ালা উনার রহমত কুল আলমে বিস্তারে, মাখলুকাতকে হিদায়েত দানের লক্ষ্যে অত্যন্ত শান-শওকতের সাথে, অত্যন্ত মনোলোভা, মনোমুগ্ধকর, মনকাড়া, অপরিমেয় সৌন্দর্যম-িত করে একটি বাগিচা তৈরি করেন। মুবারক লহুর ফোয়ারা বাগিচা মূলে সদা বহমান। যেই ফোয়ারা বাগিচার উৎসমূল সেই ফোয়ারাই হচ্ছেন হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক লহু।
বাগিচার যিনি মূল তিনি হচ্ছেন খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, গাউছুল আ’যম, ইমামে আ’যম, মুর্শিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, রসূলে নোমা, নূরে মুকাররম, ক্বায়িম-মাক্বামে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে মাদারজাদ, হাবীবুল্লাহ লি ইত্তিবায়ি সুন্নাতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আওলাদুর রসূল, ইমাম ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং ছাহিবাতুল মুকাররমা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, আওলাদে রসূল, ওলীয়ে মাদারজাদ, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম। উনাদের যাবতীয় কাজ ও বিষয় পবিত্র সুন্নত উনার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পুঙ্খানুপুঙ্খ রঙে মাখা।
ক্রমান্বয়ে সেই বাগিচায় এক, দুই, তিনটি অতুলনীয়, আকর্ষণীয়, মনোলোভা, মনকাড়া, রৌওশন দীপ্ত নূরী ফুল প্রস্ফুটিত হয়। যাঁদের নূরে সারা জাহান আলোকিত হয়। বাগিচা হতে অনবরত নূরের রশ্মি সারা আলমে বিচ্ছুরিত হয়। মৌ মৌ ঘ্রাণে কুল আলমকে মোহিত করে। অসংখ্য, অগণিত পথিক সেই নূরের ছটায় এবং মুগ্ধকর সুবাসে আকৃষ্ট হয়। তা লাভে নিজেদের ধন্য করে। পরপারের রাস্তা আলোকিত করে।
সেই শাহানশাহী বাগিচার প্রথমা ফুটন্ত ফুল। যা যাহরায়ী রঙে ও গুণে মিশে অতুলনীয়। সেই প্রথমা ডালে বিস্ময়করভাবে আরো একটি ফুল হাবীবী লহুর ফোয়ারায় সিক্ত, সৌন্দর্যম-িত হয়ে প্রকাশ ঘটে। (সুবহানাল্লাহ)

“ইলাহীর গড়া পুষ্প বাগিচার বিকাশ
ছড়িয়ে ওই সুবাস প্রথমা ডালে প্রকাশ
শাফিউল উমাম হন, রাসূলী নির্যাস” ॥

সেই নূরী ফুল মুবারক হচ্ছেন, কুতুবুল আলম, বাবুল ইলম, শাফিউল উমাম, মুহইউস সুন্নাহ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম। সেই নব ফুল মামদূহ আক্বা ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক সৌন্দর্যে সৌন্দর্যম-িত। সেই ফুল মামদূহ আক্বা ক্বিবলা কাবা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক নিসবতে সর্বক্ষণ অটুট রহেন। সেই ফুলের প্রত্যয়ী ব্যক্তিত্ব সকলকে আকর্ষণ করে। এক নজর দেখলে আরেক নজর দেখার জন্য আগ্রহ জাগে। মামদূহ আক্বা ক্বিবলা কাবা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ইলমের দরজা হয়েই উনার আত্মপ্রকাশ ঘটে।

“মামদূহয়ী হুসনেদাদ শাহদামাদজীর বদন
নিসবতে বাঁধা রহেন অটুট সর্বক্ষণ
প্রত্যয়ী আপনার ব্যক্তিত্ব, করে আকর্ষণ
হায়দারী লহু পাক জাতে হয় বর্ষণ
‘বাবুল ইলম’ হয়েই হলেন প্রকাশ” ॥

“তীক্ষè সমঝ সর্বদা সূক্ষ্ম রয় মনন
পাক আহালী রঙেই রাঙানো গড়ন
দীদারী মোহনায় ডুবান দেহ-মন
ক্বিবলা কা’বায় মিশ্রিত থাকেন অনুক্ষণ
ছড়িয়ে সুবাস হন আহালে প্রকাশ” ॥
মামদূহ আক্বা ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক সন্তুষ্টিকে যে কেউ লক্ষ্য রেখে অগ্রসর হলে শাফিউল উমাম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি অত্যন্ত আদরের সহিত উনার দৃষ্টির নূর বিছিয়ে দেন।
উনার মুবারক হস্তে সর্বদা শোভা পায় জুলফিকার। যার ঝলসানো তেজে তিনি বাতিলের সমস্ত কুটকৌশল সমূলে বিনাশ করেন। যমীন থেকে উৎখাত করেন। উনার মুবারক শানে তাকবীর ধ্বনিতে আজ আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত।

“লক্ষ্য যবে স্থির হয় মুর্শিদীপুর
শাহদামাদ আদরে বিছিয়ে দেন নূর
নাঙ্গা জুলফিকারের ঝলসানো তেজে
দীপ্ত পদে হরদম ভাঙেন বাতিল চূড়
তাকবীরে প্রকম্পিত আকাশ-বাতাস” ॥

শাহানশাহী সোপানে উনার মুবারক অধিষ্ঠান। উনার মুবারক বদনের মিষ্টি হাসিতে যেন মুক্তা ছড়ায়। দয়ার দরিয়ার সর্বদা বহে জোয়ার। আহালী মায়ার নিছবতে সকলকে শামিল করেন। হিংসা, বিদ্বেষ, রিয়া সমূলে করেন বিনাশ।
“উপনীত শাহানশাহী সোপানে
অমায়িকতায় আপনার জয় জাহানে
মনকাড়া মিষ্টি হাসিতে মুক্তা ছড়ায়
মামদূহতে অধম মিশি উহা কুড়ায়
ছড়িয়ে সুবাস হন আহালে প্রকাশ” ॥

“দরিয়ায় অনুক্ষণ রহে জোয়ার
মুর্শিদী বাগের রাযী ছড়ান দুর্বার
অঝোর ধারায় বহান নাজের ফোয়ার
নিছবতী ছায়া মাখেন আহালী মায়ার
অন্তঃরিপু সমূলে করেন বিনাশ” ॥

শাফিউল উমাম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি আহালীবাগের কোমল সমীরণের মাধ্যমে সকলকে সিক্ত করছেন। দু’আখির রওশন ঢেলে মামদূহ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ক্বদমে অর্পণ করছেন। কামিয়াবী উনার মুবারক ক্বদম যুগলে। সেই কামিয়াবীর হিস্যায় তিনি আমাদের সকলকে মকবুল করছেন। মামদূহ ক্বিবলা কাবা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক সন্তুষ্টির চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছাচ্ছেন। সর্বোপরি আহালী নাজে মোদের নাজি করছেন। সুবহানাল্লাহ!

“দেখি ওই সাজের কোমল সমীরণ
বাগিচা হতে বহিছে বেগবান
একটু ইশারা চায় শাহদামাদজীর ছোঁয়ায়
এখনি সোহাগে জড়াবে মম কায়ায়
দু’পদে অনন্তই মোর হবেই আবাস” ॥

“আঁখি যুগলে অপরিমেয় রওশন
এক দৃষ্টিতে করেন মামদূহতে অর্পণ
কামিয়াবী আপনার ক্বদমে বিচরণ
চুমোয় চুমোয় উহা করবো আহরণ
মিলন ক্ষণের কভু না হয় নিঃশেষ” ॥

তাই আমাদের সকলের আরজু- “হে মামদূহ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম! আমাদের সকলকে সেই বাগিচার হাক্বীক্বী মালী হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন! ছুম্মা আমীন!!

সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম ও
সাইয়্যিদুনা হযরত হাদিউল উমাম ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম
উনারা হচ্ছেন খাছ আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
উনাদেরকে সম্মান, মুহব্বত ও অনুসরণ করা সকলের জন্য ফরয।

আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
ان اولادى كسفينة النوح عليه السلام من دخلها فقد نجا .
অর্থাৎ:- “আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা হচ্ছেন হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিস্তির ন্যায়। যারা তাতে প্রবেশ করেছে তারা বন্যা থেকে নাজাত পেয়েছে।” সুবহানাল্লাহ!
অনুরূপ আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকেও যারা সম্মান, মুহব্বত ও অনুসরণ করবে তারাও দুনিয়া ও আখিরাতে বালা-মুছীবত ও আযাব-গযব থেকে নাজাত পাবে।
কুতুবুল আলম, বাবুল ইলম, শাফিউল উমাম, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম এবং কুতুবুল আলম, বাবুল ইলম, হাদিউল উমাম, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনারা হচ্ছেন খাছ আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাই উনাদেরকে যারা সম্মান করবে, মুহব্বত করবে, অনুসরণ করবে তারা নিঃসন্দেহে হক্বের উপর থাকবে এবং নাজাত লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!

শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আখাছছুল খাছ আওলাদে রসূল

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র সূরা শূরা শরীফ উনার ২৩ নম্বর আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি জানিয়ে দিন, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাচ্ছি না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও; তাহলে তোমাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে, আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া।”
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামিন তিনি আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদ তথা বংশধরগণ উনাদের তা’যীম-তাকরীম, অনুসরণ-অনুকরণ করার জন্য নির্দেশ মুবারক প্রদান করেছেন। এজন্য বান্দা-বান্দী, উম্মতগণের জন্য আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অনুসরণ-অনুকরণ, মুহব্বত, তা’যীম-তাকরীম, খিদমত করা আবশ্যক।
প্রসঙ্গত, শাফিউল উমাম, কুতুবুল আলম, মাহিউল বিদয়াত, মুহইউস সুন্নাহ সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আখাছছুল খাছ আওলাদে রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এছাড়াও তিনি পঞ্চদশ হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামে আ’যম, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রথমা আওলাদ ত্বাহিরাহ, ত্বইয়িবাহ, রহীমাহ, মাশুকাহ, মাহবুবা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আহাল। তাই জগৎবাসীর জন্য শাফিউল উমাম, কুতুবুল আলম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে অনুসরণ-অনুকরণ করা, মুহব্বত খিদমত মুবারক এবং তা’যীম-তাকরীম করা আবশ্যক।

Views All Time
1
Views Today
5
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে