২৩শে রমাদ্বান শরীফ- সুবহানাল্লাহ! মালিকাতুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা অন্য কোনো নারীদের মত নন।’ সুবহানাল্লাহ!
আজ সুমহান বরকতময় মহাপবিত্র ২৩শে রমাদ্বান শরীফ- সুবহানাল্লাহ! মালিকাতুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! এ মহান দিবস উপলক্ষে সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক আলোচনা করার লক্ষ্যে মাহফিল করা এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ করা।
আর সরকারের জন্যও দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- মাহফিলসমূহের সার্বিক আনজাম দেয়ার সাথে সাথে উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক শিশুশ্রেণী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা।
– ক্বওল শরীফ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ১০ম উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম। উনার মহাসম্মানিত ও পবিত্র নাম মুবারক হচ্ছেন হযরত ছফিয়্যা আলাইহাস সালাম। তিনি আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের ৩য় বৎসর পবিত্র ২৫শে রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুল আহাদ বা রোববার পবিত্র মদীনা শরীফে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার পিতা ছিলেন হযরত হারুন ইবনে ইমরান আলাইহিস সালাম উনার অধস্তন পুরুষ। এজন্যই উনাকে বলা হয় হযরত ছফিয়্যা বিনতে হুইয়াই ইবনে আখত্বব আলাইহাস সালাম। উনার নসব নামা হচ্ছেন- হযরত ছফিয়্যা বিনতে হুইয়াই আলাইহাস সালাম ইবনে আখত্বব আলাইহিস সালাম ইবনে সাঈদ আলাইহিস সালাম ইবনে আমির আলাইহিস সালাম ইবনে ওবাইদ আলাইহিস সালাম ইবনে কা’ব ইবনুল খাযরাজ আলাইহিস সালাম ইবনে আবু হাবীব আলাইহিস সালাম ইবনে নুছাইর আলাইহিস সালাম ইবনে নাহহাম আলাইহিস সালম ইবনে মাইখুম আলাইহিস সালাম। উনার মাতা ছিলেন হযরত বারা বিনতে সামাওয়াল আলাইহাস সালাম। উনার নসবনামা ইহুদীদের মশহুর খান্দান কুরাইযার সাথে মিলিত হয়েছে। এ হিসেবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম উনার পিতৃকুল বনু নযীর এবং মাতৃকুল বনু কুরাইযার ইহুদীদের এক বংশে গিয়ে মিলিত হয়েছেন।

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম উনার পিতা এবং দাদা উভয়ই ছিলেন জাতির সম্ভ্রান্ত এবং সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। আর এ কারণে বনী ইসরাঈলের সকল আরবীয় গোত্রের মধ্যে উনাকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হতো। উনার পিতা হুইয়াই ইবনে আখত্ববকে বেমেছাল সম্মান করা হতো। জাতির সব লোক বিনা দ্বিধায় উনার নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব মেনে নিত। উনার মাতা হযরত বাররা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন হযরত সামাওয়াল আলাইহিস সালাম উনার কন্যা, শৌর্য-বীর্য ও বীরত্বের জন্য তিনি গোটা জাযিরাতুল আরবে খ্যাত ছিলেন। মোট কথা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম উনার নসবনামা এক বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম উনার প্রথম নিসবাতুল আযীম শরীফ সম্পন্ন হয় সালমা ইবনে মিশকাম আল-কারাযীর সাথে। সে ছিলো প্রসিদ্ধ কবি। এ সম্পর্ক বিচ্ছেদ হওয়ার পর কেনানা ইবনে আবূল আফীফের সাথে নিসবাতুল আযীম শরীফ সম্পন্ন হয়। মর্যাদার দিক থেকে সে সালমা ইবনে মিশকামের চেয়ে কম ছিলো না। সে ছিলো খয়বরের প্রসিদ্ধ দুর্গ আল ক্বামুসের সর্দার। পরিবার পরিজন নিয়ে সে এখানেই বসবাস করতো। খায়বর মুসলমান উনাদের হস্তগত হয়। এ সময় কেনানা ইবনে আবুল আফীফ দুর্গের অভ্যন্তরে নিহত হয় এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম তিনিসহ উনার পরিবার-পরিজন মুসলমান উনাদের জিম্মায় আসেন।

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ইহুদীদের জন্য খায়বর জিহাদ ধ্বংসকর প্রমাণিত হয়। এ জিহাদের ফলে তাদের সকল আশা-আকাঙ্খা ধুলিসাৎ হয়ে যায়। এ জিহাদে তাদের নাম করা সর্দাররা মারা যায়। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম উনার পিতা এবং ভাইও এদের মধ্যে ছিলেন। এ কারণে খাইবার বাসীদের মধ্যে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম তিনি বিশেষ মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, গণীমতের মালামাল বন্টনের সময় সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম উনাকেও উপস্থিত করা হয়। কোন কোন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আরয করেন যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম তিনি বনু নযীর এবং বনু কুরাইযার রইস বা সম্মানিতা মহিলা। তিনি তো আপনার জন্যই শোভা পান। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ পরামর্শ কবুল করেন। তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্ন করেন। এটা হিজরী ৭ম সালের ২৫শে মুহররমুল হারাম শরীফ ইছনাইনিল আযীম শরীফ উনার ঘটনা। নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার পর মদীনা শরীফ অভিমুখে রওনা হলে ‘ছহবা’ নামক স্থানে নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এখানে ওয়ালিমা মুবারকও সম্পন্ন হয়। ‘ছহবা’ নামক স্থানে আগমনকালে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম উনাকে নিজ উটের পিঠে বসান আর নিজের জুব্বা মুবারক দিয়ে উনাকে ছায়া দেন, যাতে লোকেরা জানতে পারে যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম তিনিও ‘উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম’ উনাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম উনার প্রতি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারক ছিল অপরিসীম। তিনি একবার সফরে ছিলেন। অন্যান্য উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাও সঙ্গে ছিলেন। ঘটনাক্রমে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম উনার উট অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিনি চিন্তিত হলেন এবং কাঁদতে শুরু করলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জানতে পেরে উনার নিকট গমন করেন এবং আপন নূরুল মাগফিরাহ বা হস্ত মুবারক দ্বারা উনার চোখের পানি মুছে দেন। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন সীমাহীন অল্পে তুষ্ট এবং দানশীল। ঐতিহাসিক ইবনে সা’আদ বলেন, উনার কেবল একখানা ব্যক্তিগত গৃহ ছিল আর তাও উনার হায়াত মুবারকেই তিনি দান করে দেন। হযরত যুরকানী উনার বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তিনি যখন উম্মুল মু’মিনীন হিসেবে পবিত্র মদীনা শরীফ আগমন করেন তখন আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম ও উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মাঝে তিনি সে¦চ্ছায় উনার স্বর্ণের চুড়িগুলো বণ্টন করে দেন। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম তিনি ৫০ হিজরী সনের ২৩শে রমাদ্বান শরীফ জুমুয়াবার দুনিয়াবী ৬০ বৎসর বয়স মুবারকে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার পবিত্র রওযা শরীফ পবিত্র জান্নাতুল বাকীতে অবস্থিত। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আজ সুমহান বরকতময় মহাপবিত্র ২৩শে রমাদ্বান শরীফ- সুবহানাল্লাহ! মালিকাতুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আ’শিরাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! এ মহান দিবস উপলক্ষে সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক আলোচনা করার লক্ষ্যে মাহফিল করা এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ করা। আর সরকারের জন্যও দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- মাহফিলসমূহের সার্বিক আনজাম দেয়ার সাথে সাথে উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক শিশুশ্রেণী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে