২৫শে ডিসেম্বরকে ‘বড়দিন’ নামে ডাকা হবে কোন যুক্তিতে ?


প্রথমেই বলে রাখি, এ পোস্টের উদ্দেশ্য সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো নয়, বরং সাংবাদিক বা মিডিয়া যখন কোন কোন বিশেষ ধর্মের বিষয়গুলো উদ্দেশ্যমূলক প্রোমোট করে তখন তাদের সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ থেকেই বিভিন্ন প্রশ্নের উদ্রেক ঘটে।

যেমন সামনে খ্রিষ্টাদের ধর্মীয় উৎসব ২৫শে ডিসেম্বর আসছে। এই দিনটি বিভিন্ন খ্রিস্টান প্রধান দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন- ক্রিসমাস, খ্রিস্টমাস, নেটিভিটি, নয়েল কিংবা শীতকালীন পাস্কা । তারমানে কোন খ্রিস্টান প্রধান দেশে ২৫শে ডিসেম্বরকে বড়দিন বলে ডাকা হয় না।

আবার, দিনের দৈর্ঘ্য অনুসারে উত্তর গোলার্ধে বছরে সবচেয়ে বড় দিন হচ্ছে ২১শে জুন, আর উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন হচ্ছে ২২ ডিসেম্বর। সে হিসেবে ২৫শে ডিসেম্বরের সময়টিতে বাংলাদেশে দিনগুলো খুবই ছোট। তাই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই নামকরণ সম্পূর্ণ উল্টো।

তারমানে দেখা যাচ্ছে- খ্রিস্টানদেশগুলোতেও ২৫শে ডিসেম্বরকে ‘বড়দিন’ নামে ডাকা হয় না, আবার বৈজ্ঞানিকভাবেও ২৫শে ডিসেম্বর বছরের অন্যতম ছোটদিন। তাহলে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে এই ২৫শে ডিসেম্বরকে ‘বড়দিন’ নামে ডাকা শুরু করলো কারা ??

তারমানে দেখা যাচ্ছে- বড়দিন টার্মটা শুধু বাংলাদেশের জন্য আবিষ্কৃত এবং বলাবাহুল্য এই নামটি প্রমোট করেছে বাংলাদেশের কুখ্যাত খাঃপোঃ জগত তথা মিডিয়াজগত। অথচ এই মিডিয়াজগত কিন্তু ইসলাম ও মুসলিমদের বিষয়গুলো সম্পূর্ণরূপে বিপরীত করে প্রকাশ করে, মুসলমানদের কোন বিশেষ দিবস কিংবা বিশেষ ঘটনাকে নেগেটিভ করে উপস্থাপন করে, প্রকাশ্যে উগ্র ইসলাম বিদ্বেষ ছড়ায়, মুসলমানদের সর্বক্ষেত্রে হেয় করে। অথচ খ্রিস্টানদের একটি দিবসকে ‘বড়’ করে উপস্থাপন করে তারাই প্ল্যাটফর্ম তৈরী করে দেয়। এটা সবারই জানা মিডিয়া পয়সা ছাড়া একটা ‘পা’ ফেলে না। স্বাভাবিকভাবে ধরে নেয়া যায় খ্রিস্টান এনজিওদের সামান্য অর্থপ্রাপ্তী থেকেই ‘বড়দিন’ শব্দটা তৈরী করে দিয়েছে বাংলাদেশে খাঃপোঃ জগত তথা মিডিয়াজগত।

আমি ২৫শে ডিসেম্বেরকে ‘বড়দিন’ বলে ডাকার তীব্র বিরোধীতা করছি এবং মিডিয়ায় এই অযাচিত শব্দের ব্যবহার বাদ দিয়ে খ্রিস্টানদের মূল শব্দ যেমন- খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব এই টাইপের বাক্য ব্যবহারের দাবি জানাচ্ছি।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে