২৭ শে জিলহজ্জ শরীফ হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার শাহাদাত মুবারক গ্রহণ দিবস


আমর বিন মাইমুন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন,
যেদিন সকালে হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আহত হন, সেদিন সকালে আমি উনার সাথে দাঁড়ানো ছিলাম। আমাদের দুজনের মাঝে হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন। আর তখন ছিল পবিত্র ফজরের সময়। তিনি যখন নামাযের মুহূর্তে দুই কাতারের মাঝখান দিয়ে আতিক্রম করতেন, তখন তিনি মুসল্লিদের লক্ষ্য করে বলতেন, আপনারা কাতার সোজা করে দাঁড়ান, তখন মুসল্লিগণ ঠিকভাবে কাতার সোজা করে দাঁড়াতেন,

এসময় তিনি লক্ষ্য করতেন যে কোন কাতারে খালি জায়গা আছে কিনা। যদি তিনি কাতারে খালি জায়গা দেখতে না পেতেন তখন তিনি মুসল্লিদের সামনে গিয়ে তাকবীর বলে নামায শুরু করতেন।

আর তিনি অধিকাংশ সময় পবিত্র ফজরের নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা “ইউসুফ শরীফ” বা সূরা “নাহল শরীফ” অথবা এজাতীয় অন্য কোন দীর্ঘ সূরা শরীফ পড়তেন যাতে লোকজন সবাই জাময়াতে শামিল হতে পারেন।

হযরত আমর বিন মাইমুন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন সেদিন তাকবীর দিয়ে নামায শুরু করতেই আমি শুনলাম তিনি বলে উঠলেন, আমাকে কুকুরটি খেয়ে ফেললো বা মেরে ফেললো, কারণ এসময় একটি কালো নিগ্রো কাফের হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দু’ধারী তরবারি দিয়ে আঘাত করে পালাতে লাগলো এবং আশে পাশে যারই পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছে তাকেই আঘাত করেছে। এভাবে সে একে একে তের জনকে আহত করল। এর মধ্যে আঘাতপ্রাপ্ত সাত জনই ইন্তেকাল করেলেন ।

এই মুহূর্তে একজন মুসলমান লক্ষ্য করলেন যে, হত্যাকারী লোকটি পলায়ন করছে, তখন তিনি কানটুপিওয়ালা একটি ভারী পোশাক তার দিকে ছুড়ে মারলেন। ফলে হত্যাকারী লোকটি মাটিতে পড়ে গেলো এবং সে বুঝতে পারল যে, সে ধরা পড়ে যাবে। তাই সে আত্মহত্যা করল।

এমন অবস্থায় হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাত মুবারক ধরে পবিত্র নামাযের ইমামতির জন্য তাকে সামনে বাড়িয়ে দিলেন। তখনো আমি হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকটেই ছিলাম। ফলে আমি সব কিছুই লক্র‌্য করছিলাম এবং আমার আশপাশে যারা ছিল উনারাও তা লক্ষ্য করলো। আর যিনারা পবিত্র মসজিদের প্রান্তে ছিলেন উনারা কিছুই বুঝতে পারছিলেন না।

তবে উনারা এটুকু বুঝতে পারলেন যে হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র নামাযের কিরাত শুনতে পাচ্ছেননা। তাই উনারা সুবহানাল্লাহ বলে তাকবীর দিতে লাগলেন। কিন্তু ততক্ষণে হযরত আবদুর রহমান বিন আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সংক্ষিপ্তভাবে নামায শেষ করে দিলেন।

যারা এঘটনা বুঝতে পারেননি উনারা যার যার বাড়িতে চলে গেলেন। আর উনার কাছে ডানে বামে যারা ছিলেন তারা নামাযের পর উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সামনে জমায়েত হয়ে গেলেন।

তখন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন,
হে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ,
আপনি দেখুন তো কে আমাকে আঘাত করলো?

তাই তিনি ঐ লোকটিকে দেখে এসে বললেন, হযরত মুগিরা ইবনে শু’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুিউনার নিগ্রো গোলামটি আপনাকে আঘাত করেছে।

একথা শুনে হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন সেই দক্ষ কারিগরটি নাকি? হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন , জ্বি , সেই লোকটিই।

তখন তিনি বললেন- আল্লাহপাক তাকে ধ্বংস করুন, তবে শুনুন আমি আপনাদেরকে তার সাথে ভালো ব্যবহার করার আদেশ দিচ্ছি। কারণ আমাকে তার সাথে ভাল ব্যবহার করার আদেশ দেয়া হয়েছে। এরপর তিনি বললেন, সমস্ত প্রসংশা একমাত্র আল্লাহপাক উনার। যিনি আমার মৃত্যু এমন একজন লোকের হাতে নির্ধারণ করেননি যে ব্যক্তি ইসলামের দাবীদার। কাফেরের হাতে মৃত্যু বরণ করা আল্লাহপাকের পথে শাহাদত বরণের সমতুল্য।

হযরত আমর ইবনে মাইমুন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, এসমস্ত আলাপ আলোচনার পর হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলো। সাথে আমরাও উনার বাড়িতে গেলাম।
হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বাড়িতে গিয়ে বললেন আমার মনে হচ্ছে ইতিপূর্বে মুসলমান উনারা এধরণের বিপদের সম্মুখিন হননি। কারণ তিনি গুরুতর আহত ছিলেন। যার কারণে সমস্ত মানুষ পেরেশান হয়ে পড়লেন। তবে উনাদের মধ্য হতে একজন বললেন, আমার মনে হচ্ছে তার কোন বিপদ হবে না, তিনি সুস্থ হয়ে যাবেন।
একথা শুনে অন্য একজন বললেন, আমার মনে হচ্ছে আমরা উনার ব্যাপারে আশঙ্কা মুক্ত নই। কিছুক্ষণ পর পান করার জন্য তার সামনে শরবত নিয়ে আসা হলো, তিনি তা পান করলেন। কিন্তু তা উনার উদর মুবারক থেকে বের হয়ে গেলো। আবার দুধ আনা হলো এবং তিনি তা পান করলেন তাও উনার উদর মুবারক থেকে বের হয়ে গেলো। ফলে লোকেরা বুঝতে পারলো তার মৃত্যু অবধারিত।

আহত হওয়ার ৩য় দিন হিজরী ২৩ সনের ২৭ শে জিলহজ্জ শরীফ বুধবার (ইয়াওমুল আরবিয়া) অর্থ্যাৎ আজকের দিনে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণকালে উনার বয়স মুবারক হয়েছিল ৬৩ বছর।
(সুবহানাল্লাহ্)

আল্লাহপাক যেনো আমাদের সকলকে হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা উনার সম্মানার্থে আমাদের গুনাহসমুহ ক্ষমা করে দেন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে