৩ মাসে জার্মানির ডয়েচে ব্যাংকের ক্ষতি ৬.৬ বিলিয়ন ডলার: ছাটাই হবে ৩৫ হাজার কর্মী, বন্ধ হবে অনেক শাখা


লোকসানের ধাক্কা সামলাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে জার্মানির ডয়েচে ব্যাংক। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির লোকসান দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। লোকসানের তথ্য প্রকাশের পর পরই ডয়েচে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৩৫ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। খবর এপি, বিবিসি ও সিএনএন।

ব্যবস্থাপনায় উৎকর্ষ আনতে ও মুনাফা বাড়াতে জার্মানির সবচেয়ে বড় ব্যাংকটিতে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে এর নতুন প্রধান নির্বাহী জন ক্রাইয়ান। এর অংশ হিসেবে ৩৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই ও কয়েকটি ব্যবসা বিক্রি করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।
ডয়েচে ব্যাংক বলছে, তারা নয় হাজার পূর্ণকালীন এবং ছয় হাজার চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছাঁটাই করবে। এছাড়া আগামী দুই বছরের মধ্যে কয়েকটি ব্যবসা বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে ডয়েচে ব্যাংকের। এগুলোয় কাজ করে প্রায় ২০ হাজার লোক। এছাড়া ১০টি ছোট দেশে কার্যক্রম বন্ধ করবে ব্যাংকটি। ছাঁটাই করতে যাওয়া নয় হাজার পূর্ণকালীন কর্মীর মধ্যে প্রায় চার হাজার রয়েছে জার্মানিতে।
খুচরা ব্যাংকিং ব্যবসা পোস্টব্যাংক বিক্রি করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ডয়েচের। ব্যবসাটি বিক্রি করে দিলে এ থেকেই সবচেয়ে বেশি কর্মী চাকরি হারাবে। ২০১৮ সালের মধ্যে ছাঁটাই ও পরিত্যাগের মাধ্যমে ব্যাংকটির কর্মী বাহিনী ১ লাখ ৩ হাজার থেকে কমে দাঁড়াবে ৭৭ হাজারে।
ডয়েচে ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ও পোস্টব্যাংকের সম্পদমূল্য কমায় তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসান বেড়েছে। চলতি ও আগামী বছর শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ না দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে ডয়েচে ব্যাংক।
ডয়েচে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ক্রাইয়ান বলেছে, যেহেতু প্রতিষ্ঠানকে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে, তাই অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। সে বলেছে, আমাদের অবশ্যই ডয়েচে ব্যাংকের বোঝা কমাতে হবে।
এ সংস্কার কার্যক্রম হঠাৎ করে শুরু করেনি ডয়েচে ব্যাংক। মূলত চলতি বছরের মে ও জুনে ব্যাংকটির দুই সহকারী প্রধান নির্বাহী অংশু জৈন ও ইয়ুর্গেন ফিশেন পদত্যাগ করে। এর পর ব্যাংকটিতে সংস্কার আনার উদ্যোগ নেয়া হয়। এর পর লক্ষ্য অনুযায়ী মুনাফা না হওয়ায় ক্রাইয়ান ডয়েচে ব্যাংকে যোগ দেয়ার পর প্রতিষ্ঠানটিতে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জুলাইয়ে ডয়েচের প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগ দেয় ক্রাইয়ান।
ক্রাইয়ান বলেছে, অতীতের ভুল আচরণের জন্য আমাদের খেসারত দিতে হবে। বিভিন্ন মামলার আইনি ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংকটি কয়েক বিলিয়ন ডলার আলাদা করেছে। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের অন্যতম হলো লাইবর সুদের হার জালিয়াতি। এ অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে ব্যাংকটি ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষকে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা দিয়েছে।
ডয়েচে ব্যাংক জানিয়েছে, তারা আর্জেন্টিনা, চিলি, মেক্সিকো, পেরু, উরুগুয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, মাল্টা ও নিউজিল্যান্ডের ব্যবসা বন্ধ করতে পারে। এছাড়া জার্মানির কিছু শাখাও বন্ধ করে দেয়া হতে পারে।
দুর্বল প্রবৃদ্ধির এ সময়টায় কর্মী ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে মুনাফার অঙ্ক বৃদ্ধির চেষ্টা করছে ডয়েচে ব্যাংক। ব্যাংকটি চাচ্ছে বছরে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরো ব্যয় হ্রাস করতে। বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক শ্লথগতি ও কঠোর নিয়মকানুনের জন্য অন্যান্য ব্যাংকের মতো ইউরোপের ব্যাংকটিরও সময় খারাপ যাচ্ছে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে