৫০ বছর আগে শুরু হওয়া বিশ্ব ইজতেমার কথিত ফজিলত নাকি পবিত্র হাদীছ শরীফ গ্রন্থে আছে!! তাবলীগীরা এত বড় মিথ্যাচার কিভাবে করলো?


download
ঢাকার টঙ্গিতে ছয় উছুলী তাবলীগীদের বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয় ১৯৬৭ সালে। তাবলীগীদের এক কথিত মুরুব্বী তার প্রকাশিত ‘দাওয়াতে তাবলীগ (সমালোচনা কারীদের প্রশ্ন ও তার জবাব)’ নামক বইতে বিশ্ব ইজতেমায় নামায পড়ার ফজিলত সম্পর্কে লিখতে গিয়ে সে প্রসিদ্ধ হাদীছ শরীফ গ্রন্থ আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ শরীফ উনাদের উদ্বৃতি দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! মালানা মুফতে আশরাফ আলী তালেবী নামক এই মিথ্যাবাদী লেখক তার কিতাবের ৮০ পৃষ্ঠায় লিখেছে, “মক্কা শরীফে এক রাকাত নামাজ পড়লে এক লক্ষ রাকাত নামাজের ছাওয়াব। মদীনা শরীফে নামাজ পড়লে পঞ্চাশ হাজার রাকাতের ছাওয়াব। বায়তুল মুকাদ্দাস শরীফে নামাজ পড়লে পঁচিশ হাজার রাকাত নামাজের ছাওয়াব। কিন্ত… বিশ্ব এস্তেমায় এসে নামাজ পড়লে উনপঞ্চাশ কোটি রাকাত নামাজের ছাওয়াব হয়।” নাউযুবিল্লাহ!
(রেফারেন্স: দাওয়াতে তাবলীগ, পৃষ্ঠা ৮০, লেখক: আশরাফ আলী তালেবী, প্রকাশনা: আফতাবীয়া লাইব্রেরি)
জঘন্য মিথ্যাচারের এখানেই শেষ নয়। এই মিথ্যাচারকে সত্য হিসেবে প্রমাণ করতে দলীল বা রেফারেন্স হিসেবে ‘ইবনে মাজাহ শরীফ ও আবু দাউদ শরীফ’ নাম লিখেছে। নাউযুবিল্লাহ!
বলা বাহুল্য, প্রচলিত ছয় উছুলি তাবলীগ শুরু হয় প্রায় ১০০ বছর আগে। মালানা ইলিয়াস মেওয়াতী তার এক স্বপ্নের মাধ্যমে নাকি এই কাজ শুরু করার নির্দেশ পেয়েছে। সেই ছয় উছুলি তাবলীগের আয়োজিত ইজতেমা টঙ্গিতে শুরু হয় ৫০ বছর আগে। অথচ এখানে নামাযের ফযীলতের বর্ণনা নাকি ১৪০০ বছরপূর্বে সংরক্ষিত পবিত্র হাদীছ শরীফ গ্রন্থে বর্ণিত আছে! নাউযুবিল্লাহ!
অনেকে এটাকে ‘ভুল হয়ে গেছে’ বলে সাধারণ ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখতে চাইতে পারেন। কিন্তু তার আগে এই বইটিকে কারা স্বীকৃতি ও অনুমোদন দিয়েছে সেটা বিবেচনা করেই বইটির মূল্যায়ন করা উচিত। আফতাবীয়া লাইব্রেরী (৩৬, বাংলাবাজার) থেকে প্রকাশিত উক্ত বইটির শুরুতে ‘বাণী ও দোয়া’ দিয়েছে- মালানা মুহম্মদ ইছহাক আল-গাজী (শায়খুল হাদীছ, সদরুল মুদাররিসীন, সদরুল মজলিসিল ইলমী, রাইসুল দারুল ইফতা আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম); বইটিতে আরো অনুমোদন দিয়েছে- পটিয়ার উক্ত মাদরাসার মুহাদ্দিস আল্লামা আব্দুল হালিম (বুখারি); অনুমোদন দিয়েছে- মালানা শাহ আহমদ শফী (মহা পরিচালক ও শায়খুল হাদীছ, দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারি, চট্টগ্রাম); বইটির স্বীকৃতি দিয়েছে- মুফতে ফজলুল হক আমিনী (এমপি); আরো স্বীকৃতি দিয়েছে- মাসিক মদীনা পত্রিকার সম্পাদক মালানা মাহিউদ্দীন খান। এছাড়াও আরো কিছু টাইটেলধারী মালানা উক্ত বইয়ের স্বীকিৃত ও অনুমোদন দিয়েছে, যাদেরকে বইয়ের শুরুতে অলংকার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
অর্থাৎ এর দ্বারা প্রমাণিত হলো- অনুমোদনকারী উপরোক্ত আলেম নামধারী ব্যক্তিরাও এসব কুফরি আক্বীদা ও মিথ্যাচারের ধারক, বাহক ও প্রচারক।
মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে শয়তানের নেক সুরতে ধোঁকা ও বাতিল বাহাত্তর ফিরক্বার বিভ্রান্তি থেকে হিফাজত করে হাক্বীকী মুসলমান হওয়ার তওফিক দান করুন। আমীন।
নিম্নে কিতাবের ৮০ তম পৃষ্ঠার ছবি দলীল হিসেবে পেশ করা হলো-

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে