৬ ই রজবুল হারাম শরীফ হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস


সম্রাট আলমগীর (আড়ঙ্গজেব) রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একদা হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফ জিয়ারত করতে গেলেন৷ সেখানে তিনি দরবার শরীফে ফরিয়াদ রত এক অন্ধকে দেখতে পেলেন। অন্ধ ব্যক্তিটি আরজ করছেন, “ইয়া খাজা মুঝে আঁখ দে দো” অর্থ্যাৎ “ওহে খাজা আমাকে চক্ষু দিয়ে দাও”।
তিন বছর পর বাদশা আলমগীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আবারও হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবার শরীফ যিয়ারত করতে গেলেন। তিনি আবারও দেখতে পেলেন, ঐ অন্ধ লােকটি বলছে, “ইয়া খাজা, মুঝে আঁখ দে দো”!
বাদশাহ আলমগীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তার গায়ে হাত রেখে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জান আমি কে? অন্ধ বলল , জি না!
বাদশা বললেন, আমি পাক ভারত সম্রাট আলমগীর! অন্ধ একটু ভীত হয়ে গেলেন বাদশা জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কত বছর যাবত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবার শরীফে চক্ষু প্রার্থনা করছো?
অন্ধ বলল, প্রায় তিন বছর৷
বাদশা জিজ্ঞাসা করলেন, চোখ পাওনি?
অন্ধ বলল, জি না৷
তারপর বাদশা বললেন, আমি খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রওজা শরীফের ভিতর যাচ্ছি ফিরে এসে যেন তোমার চক্ষু ভালো দেখি অন্যথায়, তোমার গর্দান উড়িয়ে দিব।
এইবার অন্ধ বলছে, “ইয়া খাজা মুঝে বাচালাে”, ওয়ারনা, “বাদশা মুঝে মার ডালেগা”, “মুঝে আখ দে দো, “মুঝে বাচালো”!
বাদশাহ রওজা শরীফের ভিতর থেকে বের হয়ে দেখতে পেলেন, অন্ধ ভালাে হয়ে গেছে। তারপর সমবেত মানুষের সামনে বাদশা বললেন, এই লােকটি। এতদিন পর্যন্ত খালেস নিয়তে খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে চক্ষু চায় নি। তার নিয়ত ছিল, ভিক্ষা করা, চোখ ভালো হওয়া নয়। প্রাণের ভয়ে যেই মুহুর্তে সে মন থেকে উনার দরবার শরীফে চক্ষু চাইল, ঠিক সেই সময় বেলায়তের ক্ষমতার বলে তিনি তাকে চক্ষু দান করলেন।
সুবহানাল্লাহ
(কিতাব ছিয়ারুল আকতাব দ্বিতীয় খন্ড ১০৭ পৃষ্ঠা)
আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা হচ্ছে, ওলী আল্লাহগণ কবরে জীবিত। এ বিষয়ে অনেক ওয়াকিয়া কিতাবে পাওয়া যাবে। কিন্তু অবিশ্বাসীদের জন্য সহজ একটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে, ভারতে আজমীর শরীফে অবস্থিত হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র দরগা শরীফ। প্রায় ৮০৭ বছর পর এখনও উনার দরগা শরীফে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা মনোবাসনা পূরণের নিয়তে যাতায়াত করে থাকে।৬৩৩ হিজরী সনের ৬ই রজবুল হারাম শরীফ হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।বিছালী শান মুবার প্রকাশের পরপরই উনার কপাল মুবারকে ‘হাযা হাবীবুল্লাহ মাতা ফী হুব্বিল্লাহ’ লিখাটি ভেসে উঠেছিল। যার অর্থ, ‘,তিনি মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব, তিনি মহান আল্লাহপাক উনার মুহব্বতেই পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন”
সুবহানাল্লাহ

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে