‘শবে বরাত কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর কোথাও নেই’ এরূপ বক্তব্য চরম জিহালতি ও মূর্খতাসূচক-১


কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর ভাষা যেহেতু আরবী তাই ফারসী ‘শব’ শব্দটি কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ না থাকাটাই স্বাভাবিক। প্রকাশ থাকে যে, পৃথিবীতে যত ভাষা রয়েছে তন্মধ্যে একমাত্র আরবী ভাষাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। এছাড়া অন্যান্য প্রতিটি ভাষাই একটি আরেকটির উপর নির্ভরশীল। তবে কোনো ভাষাই শরীয়তের খিলাফ নয়, বরং প্রতিটি ভাষাই শরীয়তসম্মত।
তাফসীরে মাযহারীতে উল্লেখ রয়েছে, “হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি সাত লক্ষ ভাষায় কথা বলতে পারতেন।” সুবহানাল্লাহ! তবে সর্বাধিক উত্তম ভাষা ও শ্রেষ্ঠ ভাষা আরবী। এর পর ফারসী। যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আরবী ভাষার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ কারণে আরবী ভাষার সাথে ফারসী ভাষা মিশ্রিত হয়ে বহু শব্দের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। যেমন, গুম্বাদে খাদ্বরা (সবুজ গম্বুজ), মাহে রমাদ্বান (রমাদ্বান মাস), শবে ক্বদর (ক্বদরের রাত), শবে মি’রাজ (মি’রাজের রাত্র), আবে যমযম (যমযম কূপের পানি), কোহে তুর (তুর পর্বত)।
উপরোক্ত উদাহরণে গুম্বাদ, মাহ, শব, আব, কোহ শব্দসমূহ ফারসী ভাষার শব্দ যা যথাক্রমে আরবী শব্দ খাদ্বরা, রমাদ্বান, ক্বদর, মি’রাজ, যমযম ও তুর শব্দের সাথে বা সহযোগে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এ নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এক ভাষায় অপর ভাষার শব্দের মিশ্রণ মূলত একটি অনিবার্য ঐতিহ্য। প্রায় সব ভাষাতেই এর নিদর্শন রয়েছে। আমাদের বাংলা ভাষায়ও এর নিদর্শন অনেক। ব্যাকরণের ভাষায় একে বলা হয় মিশ্র শব্দ। প্রতি ভাষাতেই মিশ্র শব্দের ব্যবহার রয়েছে। কাজেই যারা বলে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর কোথাও ‘শবে বরাত-এর’ উল্লেখ নেই মূলত এ উক্তি তাদের জিহালতি, অজ্ঞতা ও মূর্খতার নামান্তর।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+