“মসনবীয়ে রুমী ” লেখকঃ হযরত মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি


বাংলা অনুবাদ

***প্রথম পর্ব***

“মন দিয়ে শোন বাঁশী (রুহ) কি বলছে!

সে তো প্রিয়তমের (আল্লাহ্‌ তা’আলা) বিচ্ছেদ বেদনায় আর্তনাদ করছে।”

 

“যখন থেকে আমাকে বাঁশবন থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে,

আমার কান্না ও আর্তনাদে নারী পুরুষ সকলে কেঁদেছে।”

 

“বিরহ ব্যথায় যাদের হৃদয় বিদীর্ণ,

আমার প্রেম ব্যথা প্রকাশের জন্য এমন চূর্ণ-বিচূর্ণ হৃদয়ই প্রয়োজন।”

 

“যে ব্যক্তি নিজের বাসস্থান থেকে দূরে চলে এসেছে ,

সে পুনরায় তা ফিরে পেতে চায়।”

***( কবি এখানে রুপকের মাধ্যমে বলছেন যে, বাঁশী যেমন তার সুমধুর করুন সুর এর মাধ্যমে মূলত বাঁশবন থেকে তার বিচ্ছেদের ব্যথা প্রকাশ করে ঠিক তেমনি  কবির আত্মা (রুহ) আল্লাহ্‌ তা’আলা থেকে বিচ্ছেদের কারণে সর্বদা কাঁদতে থাকে। কারণ পৃথিবীতে আসার পূর্বে তিনি আল্লাহ্‌ তা’আলা’র পরম সান্নিদ্ধে ছিলেন।)***

 

“প্রতিটি জনসমাবেশে আমি কেঁদেছি,

ভাল মন্দ সবার সাথে মিলিত হয়েছি।”

 

“প্রত্যেকে নিজ নিজ খেয়াল ও ধারনা অনুযায়ী আমার বন্ধু হল ,

কিন্তু আমার অন্তরে লুকায়িত গুপ্ত রহস্যের সন্ধান কেউ পেল না।”

 

“অথচ আমার গোপন ব্যথা, আমার কান্না ও আবেগের সাথেই জড়িত,

কিন্তু চোখ ও কানের সেই জ্যোতি নেই।”

 

“দেহ প্রান থেকে এবং প্রান দেহ থেকে আলাদা নয়,

কিন্তু প্রান কে কেউ দেখতে পায় না!”

 

“বাঁশীর এই সুর মৃদু সমীরণ নয়, এটা আগুন ।

যার মাঝে এই আগুন নেই তার জন্য মৃত্যুই ভাল।”

 

“প্রেমের আগুন যা বাঁশীতে বাজে,

প্রেমের মত্ততা যা শরাবে থাকে।”

 

“যারা নিজ বন্ধু থেকে বিচ্ছিন্ন বাঁশী তাদের প্রকৃত বন্ধু,

এই বাঁশীর সুর আমাদের অন্তরের আবরণ ছিন্ন করে।”

 

“বাঁশীর মত বিষ ও বিষনাশক ওষুধ কেউ দেখেছে কি?

বাঁশীর ন্যায় হিতৈষী বন্ধু ও উৎসাহী প্রেমিক কে দেখেছে?”

 

“বাঁশী রক্তিম প্রেমের পথের অবস্থা বর্ণনা করে,

মজনুর প্রেমের কাহিনী শোনায়।”

 

“বেহুশ ছারা এই হুশের সন্ধান কেউ পায় নাই ,

কান না থাকলে কি কথা শোনা যায়?”

 

“বাঁশীর আহাজারির যদি কোন ফল না থাকত ,

তবে বাঁশী বিশ্বকে মিষ্টি দ্বারা পূর্ণ করতে পারত না।”

 

“চিন্তা পেরেশানিতে আমার জীবনের দিনগুলিই বিফল হল,

সারা জীবনের সবগুলি দিনই একমাত্র জ্বালা যন্ত্রণার সাথী হয়ে থাকল।”

 

“জীবনের এই দিনগুলি যদি বিফল ও বিনষ্ট হয়েও থাকে তবে বলে দাও কোন ক্ষতি নাই,

কেননা হে অনুপম পবিত্র প্রেম, তুমি আমার সাথে আছ।”

 

“যারা মৎস্য (অর্থাৎ আসেকে এলাহির) গুনবিহীন তারা স্বল্প পানিতে তৃপ্ত,

এই পথে যারা জীবিকাহীন (একেবারে বঞ্চিত) তাদের জীবন অকাজে নষ্ট হয়েছে।”

 

“অপরিপক্ক ব্যক্তি কামেল অলি আল্লাহ্‌ গনের অবস্থা উপলব্ধি করতে অক্ষম,

কাজেই কথা বন্ধ করে সালাম দিয়ে বিদায় গ্রহন করাই উত্তম।”

 

“ধন সম্পদের শৃঙ্খল ছিন্ন করে ফেল,

আর কতকাল সোনা রুপার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকবে!”

 

“সমুদ্রকে যদি একটি পিয়ালায় ঢাল, তবে কতটুকু সংকুলান হবে?

একদিন ব্যবহারের সমপরিমান অধিক নয়!”

 

“লোভী ব্যক্তির চক্ষু পিয়ালা কখনও পূর্ণ হয় না,

অল্পে তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ঝিনুক মুক্তা পূর্ণ হয় না।”

 

“প্রেমের দ্বারা যার জামা ছিন্ন হয়ে গেছে,

সে লোভ ও দোষ ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র হয়ে গেছে।”

 

“তোমার মঙ্গল হোক হে প্রেম! তুমি আমাদের উত্তম ধ্যান ধারণা,

তুমি আমাদের সকল রোগের চিকিৎসক।”

 

“তুমি আমাদের অহংকার ও যশ লিপ্সা রুপ রোগের ওষুধ,

তুমি আমাদের আফ্লাতুন ও জালিনুস।”

 

“প্রেমের কারনে মাটির দেহ আসমানের উপর উঠল,

পাহাড় আনন্দে মত্ত হয়ে নাচতে লাগল।”

 

“প্রেম যখন তূর পাহাড়ের প্রান হল,

তখন তূর উন্মত্ত ও মুসা আলাইহিস সাল্লাম মূর্ছিত হয়ে গেলেন।”

 

“আহা! আমি যদি আমার অন্তরঙ্গ বন্ধুর ঠোঁটের সাথে মিলিত হতে পারতাম!

তবে বাঁশীর মত আমিও বহু বলার কথা বলতাম।”

 

“যে ব্যক্তি স্বীয় কথার সাথী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে,

সে অফুরন্ত উপকরণের অধিকারী হলেও একেবারেই নিঃসম্বল!”

 

“ফুলের মৌসুম অতীত হলে যখন উদ্যান বিরান হয়ে যায়,

তখন আর বুলবুলের গান শুনবে না।”

 

“ফুলের মৌসুম অতীত হবার পর যখন বাগান উজাড় হয়ে যায়,

তখন ফুলের সুবাস কোথায় পাব? গোলাপ নির্যাস থেকে!”

 

“বাঁশীর মিহিন ও উচ্চ সুরের মধ্যে গোপন তথ্য নিহিত আছে,

যদি তা প্রকাশ করি বিশ্ব জগত উলট পালট হয়ে যাবে।”

 

“মিহিন ও উচ্চ এই দ্বিবিধ সুরে বাঁশী যা কিছু বলছে,

যদি আমি তা প্রকাশ করি তবে বিশ্ব জগত রসাতলে যাবে।”

 

“জগতের সবকিছু মাশুক (প্রেমাস্পদ) আর সমস্ত আশিক আবরন,

মাশুক জিবিত আর আশিক মৃত।”

“মাশুক যদি আশিকের প্রতি কৃপা দৃষ্টি না করেন,

তবে সে পালক হীন পাখীর মত থেকে যাবে।”

 

“আমার মাহবুবের আলো যদি আমার সাথী না হয়,

তবে আমি অগ্র পশ্চাতের খবর কিভাবে রাখব!”

 

“তাঁর নূর ডানে, বামে, উপরে, নীচে,

আমার মাথার উপর ঘিরে আছে।”

 

“প্রেম চায় যে তার কথা সবাই জানুক,

কিন্তু হে শ্রোতা! তোমার হৃদয় দর্পণ স্বচ্ছ না হলে তা কিভাবে সম্ভব!”

 

“তুমি কি জান কেন তোমার হৃদয় দর্পণ স্বচ্ছ নয়?

কারণ তার উপর থেকে মরিচা দূর করা হয় নি।”

 

“যে দর্পণ ময়লা ও মরিচা থেকে পরিষ্কার,

আল্লাহ্‌’ র সূর্যের আলো তাতে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হবে।”

 

“যাও হৃদয় দর্পণের চেহারা থেকে মরিচা পরিষ্কার কর,

তারপর ঐ নূর উপলব্ধি কর।”

 

***বাদশাহ ও বাঁদির কাহিনী***

 

“বন্ধুরা! আমার এই কাহিনীটি শোন,

এই ঘটনাটি আমাদের বর্তমান অবস্থার অবিকল ছবি।”

 

“আমরা যদি আমাদের অবস্থার মধ্যে গভীর ভাবে চিন্তা করতে থাকি,

তাহলে ইহলোক ও পরলোক উভয় জগতেরই উপকার ও মঙ্গল ভোগ করতে পারব।”

 

“এই বাস্তব ঘটনাটি দিলের কান দিয়ে শোন,

তাহলে তুমি সম্পূর্ণ ভাবে কাদা পানি থেকে বাহির হতে পারবে।”

 

“বিবেক কে একত্রিত করে নাও ও মনোযোগী হও,

অতঃপর উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে পা বাড়াও।”

“পূর্বযুগে (রাসুল ছল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জামানার আগে) একজন বাদশাহ ছিলেন,

তিনি দ্বীন দুনিয়া উভয় রাজত্বের অধিকারী ছিলেন।”

 

“ঘটনাক্রমে বাদশাহ একদিন নিজের মোসাহেববর্গ নিয়ে

শিকারের উদ্দেশে ঘোড়ায় চেপে যাত্রা শুরু করলেন।”

 

“শিকারের উদ্দেশে তিনি পাহাড়ে ময়দানে ঘোরাফেরা করছিলেন,

হঠাৎ প্রেমের ফাঁদে তিনি নিজেই শিকার হয়ে গেলেন।”

 

“তিনি রাজপথে একটি বাঁদি দেখতে পেলেন,

দেখামাত্র বাদশাহ’র প্রান ঐ বাঁদির গোলাম হয়ে গেল।”

 

“বাদশাহ’র প্রান-পাখি দেহ-পিঞ্জিরে ছটফট করতে লাগল,

তিনি প্রচুর টাকা পয়সা দিয়ে ঐ বাঁদিকে কিনলেন।”

 

“যখন বাদশাহ ঐ বাঁদি কিনে  সফল হলেন,

তখন দুর্ভাগ্যক্রমে ঐ বাঁদি রোগাক্রান্ত হল।”

 

“এক ব্যক্তির একটা গাধা ছিল কিন্তু তার গদি ছিল না,

পরে গদি পেল কিন্তু নেকড়ে বাঘ গাধাটি নিয়ে গেল!”

 

“আর এক ব্যক্তির পেয়ালা ছিল কিন্তু পানি পাচ্ছিল না,

পরে যখন পানি পেল পিয়ালাটি ভেঙ্গে গেল।”

 

“বাদশাহ চতুর্দিক থেকে চিকিৎসক একত্রিত করলেন,

বললেনঃ আমাদের উভয়ের প্রান আপনাদের হাতে।”

 

“আমার প্রান তো কিছুই নয়, ঐ বাঁদিই আমার জানের জান,

আমি পীড়িত ও হৃদয় আহত, বাঁদিই আমার ওষুধ ও চিকিৎসা।”

 

“যে ব্যক্তি আমার জান (মাশুক) কে চিকিৎসা দ্বারা রোগমুক্ত করবে,

সে আমার মনি-মুক্তা প্রবালের ভাণ্ডার নিয়ে যাবার হকদার হবে।”

 

“চিকিৎসকগন একবাক্যে বাদশাহকে বললেনঃ আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করব, গভীর গবেষণা করব,

এবং পরস্পর পরামর্শ করে সম্মিলিতভাবে কাজ করব।”

 

“আমরা প্রত্যেকেই এক একজন জগৎ বিখ্যাত বিজ্ঞ চিকিৎসক,

আমাদের হাতে প্রত্যেক জখমেরই মলম আছে।”

 

“সেই চিকিৎসকগণ অহংকারবশে ইনশাল্লাহ বলে নাই,

সুতরাং আল্লাহ্‌ তায়ালা তাদের মানবিক দুর্বলতা দেখিয়ে দিলেন।”

 

“ইনশাল্লাহ না বলার অর্থ অন্তরের কাঠিন্যতা, শুধু এমনি মুখে বলা না,

কেননা এটা তো একটা অস্থায়ী অবস্থা।”

 

“এমন বহু লোক আছে যারা মুখে ইনশাল্লাহ বলেন না,

কিন্তু তাদের অন্তর ইনশাল্লাহ মর্মার্থের মধ্যে ডুবে থাকে।”

 

“উক্ত চিকিৎসকগণ ওষুধ যা দিল

তাতে রোগ না কমে বরং বাড়তে থাকল।”

 

“বাঁদি রোগে দুর্বল ও শুকিয়ে গেল ,

বাঁদির চিন্তায় বাদশাহ’ র রক্তাস্রু বইতে থাকল।”

 

“রুগ্ন ব্যক্তির ভাগ্য বিড়ম্বনা ঘটলে চিকিৎসক নির্বোধ হয়ে যায়,

ওষুধ তখন উপকারের স্থলে অপকার করে।”

 

“হরতকি তখন কোষ্ঠকাঠিন্য আনে,

পানি আগুনের মত দাউ দাউ করে জ্বলে!”

 

“বাদশাহ বিসন্ন হলেন, অনিদ্রায় চোখ জ্বালা পোড়া করতে লাগল,

মনের ব্যথা ও অশান্তিতে তিনি মুষড়ে পরলেন।”

 

***আল্লাহ্‌’র নিকট বাদশাহ’র প্রার্থনা ও বিজ্ঞ চিকিৎসক প্রাপ্তি***

 

“বাদশাহ চিকিৎসকদের ব্যর্থতা দেখে

নগ্ন পায়ে মসজিদ পানে ছুটে গেলেন।”

 

“মসজিদে গিয়ে বাদশাহ সোজাসুজি সিজদায় পরে গেলেন,

বাদশাহ’র অশ্রু ঝরে সিজদা’র স্থান ভিজে গেল।”

“বললেনঃ হে আল্লাহ্‌! আমার সমস্থ রাজত্ব আপনার দানের যৎকিঞ্চিত মাত্র,

আমার মনের আবেদন আমি কি প্রকাশ করব আপনি তো সবকিছু অবগত আছেন!”

“আমার অবস্থা এবং এই চিকিৎসকদের অবস্থা

আপনার অসীম দয়ার সম্মুখে কিছুই না!”

“হে আল্লাহ্‌! আপনি সর্বদা আমাদের যাবতীয় প্রয়োজনে আশ্রয়স্থল,

আমরা পুনরায় পথ ভুল করলাম!”

“কিন্তু আপনি যেহেতু বলেছেন যে তোমার গোপন কথা যদিও আমি অবগত,

তবুও তুমি তোমার মুখে আবেগময় কণ্ঠে তা প্রকাশ কর।”

“বাদশাহ যখন অন্তরের অন্তস্থল থেকে প্রার্থনা করলেন,

তখন আল্লাহ্‌ তা’আলার দয়ার সাগর উথলে উঠল।”

“ক্রন্দন অবস্থায় বাদশাহ ঘুমিয়ে গেলেন,

স্বপ্নে দেখলেন এক বৃদ্ধ তার কাছে উপস্থিত।”

“বৃদ্ধ বললেনঃ হে বাদশাহ! সুসংবাদ শোন, তোমার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করা হয়েছে,

আগামীকাল প্রভাতে যদি কোন আগন্তক তোমার নিকট উপস্থিত হয় তবে তাকে আমার নিকট থেকে প্রেরিত মনে করবে।”

“যখন তিনি আসবেন তখন তাকে বিজ্ঞ ও বিচক্ষণ চিকিৎসক মনে করবে,

তাকে সত্যবাদী বলে মনে কর কারণ তিনি বিশ্বস্ত ও মহৎ।”

“তার জাদুকরি চিকিৎসা তুমি দেখতে পাবে,

তার স্বভাব ও কাজের মধ্যে আল্লাহ্‌’ র কুদরতের মহিমা চাক্ষুষ দেখতে পাবে।”

“এই স্বপ্ন দেখে ঘুমন্ত বাদশাহ জেগে উঠলেন,

বাঁদির দাস ছিলেন এখন বাদশাহ হলেন।”

“যখন ঐ প্রতিশ্রুত সময় এসে পড়ল এবং দিবালোক প্রকাশ পেল,

পূর্বাকাশ থেকে সূর্য উঠে নক্ষত্রসমূহ কে বিলুপ্ত ও স্তিমিত করে দিল।”

“বাদশাহ শাহী মহলের খিড়কির ধারে বসে অপেক্ষা করতে লাগলেন,

যেন সেই রহস্য দেখতে পান যা তার উপর প্রকাশ করা হয়েছিল।”

“বাদশাহ একজন মহাগুনি কামেল ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন,

যেন একটি সূর্য ছায়ার মধ্যে আসছেন।”

“নতুন চাঁদের মত দূর থেকে ক্ষীণ ও কৃশ আকারে আসছিলেন,

কল্পনার মূর্তির মত কখনও দৃষ্টি গোচর হচ্ছিলেন কখনও হচ্ছিলেন না।”

“দুনিয়াতে খেয়াল একটি অস্তিত্বহীন বস্তু তুল্য,

তা সত্ত্বেও তুমি সমস্থ দুনিয়াকে এই খেয়াল ও কল্পনার উপরই চলতে দেখবে!”

“মানুষের সন্ধি ও যুদ্ধ তাদের খেয়ালের উপরই নির্ভর করে,

খেয়ালের দরুনই মানুষের গর্ব, খেয়ালের কারনেই মানুষের লজ্জা।”

“ঐ সমস্থ খেয়াল যা আউলিয়ায়ে কেরামের ফাঁদ

তা আল্লাহ্‌ তা’আলার বাগানের চন্দ্রাননের প্রতিচ্ছবি।”

“সেই কাল্পনিক ছবি যা বাদশাহ স্বপ্নে দেখেছিলেন,

অভ্যাগত মেহমানের চেহারায় তা উত্তমভাবে প্রকাশিত ছিল।”

“আল্লাহ্‌’র অলিদের মধ্যে আল্লাহ্‌ তা’আলার নূর দীপ্তিমান থাকে,

তোমার অন্তর্দৃষ্টি নিখুত হলে তুমি তা দেখতে পাবে।”

“যখন সেই অলি আল্লাহ্‌ লোকটি দূর থেকে দৃশ্যমান হলেন,

তখন দেখা গেল তাঁর আপাদমস্তক প্রতিটি লোমকূপ থেকে নূরের ধারা বর্ষিত হচ্ছে।”

“বাদশাহ স্বয়ং দারবানরুপে

সেই গায়েবি মেহমানের সম্মুখে উপস্থিত হলেন।”

“বাদশাহ যখন তাঁকে সংবর্ধনা জানালেন তখন তাঁকে আবেগে জরিয়ে ধরলেন,

যেন তিনি চিনির ন্যায় গোলাপ ফুলের সাথে মিশে গেলেন।”

“মনে কর তাদের একজন তৃষ্ণার্ত অপর জন পানির মত তৃপ্তিদায়ক,

একজন ছিলেন মাতাল অপরজন ছিলেন শরাবতুল্য।”

 

“তাঁরা উভয়ে ছিলেন মারেফতের সমুদ্রে সন্তরণপটু,

উভয়ের আত্মা সিলাই ব্যতীত সিলাইকৃত ছিল।”

“বাদশাহ বললেনঃ বাঁদি নয় আসলে আপনিই ছিলেন আমার প্রেমাস্পদ,

কিন্তু দুনিয়াতে এক কাজ দ্বারা অপর কাজ সমাধা হয়।”

“হে মহান! আপনি আমার জন্য মোস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তুল্য,

আর আমি যেন ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু’র ন্যায় আপনার খেদমতের জন্য কোমর বাঁধলাম।”

 

***বে-আদবির কুফল***

 

“আমরা আল্লাহ্‌ তা’আলার দরবারে আদব রক্ষা করার তাওফিক প্রার্থনা করছি,

বস্তুত বে-আদব ব্যক্তি আল্লাহ্‌ তা’আলার মেহেরবানী থেকে বঞ্চিত।”

 

“বে-আদব কেবল নিজেরই ক্ষতি করে না,

বরং বিশ্বের সবদিকে আগুন ছড়িয়ে দেয়।”

 

“খাঞ্চা আসমান থেকে ক্রয়-বিক্রয় এবং

কোন রকম বলা-শোনা ছাড়াই আসত।”

 

“মুসা আলাইহিস সাল্লাম এর কতিপয় বে-আদব ব্যক্তি

বললঃ রসূন ও মসুরের ডাল কোথায়?”

 

“আসমান থেকে খাঞ্চা আসা বন্ধ হল,

কৃষিকার্য, কোদাল-কাস্তে ইত্যাদির কষ্ট ঘাড়ে পড়ল।”

 

“আবার যখন হজরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম সুপারিশ করলেন,

আল্লাহ্‌ তা’আলা খাঞ্চা প্রেরণ করলেন এবং একেবারে মুফত প্রেরণ করলেন।”

 

“যখন হজরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম বললেনঃ আমাদের উপর খাঞ্চা নাজিল করুন,

তখন আসমান থেকে তা নাযিল হতে থাকল।”

 

“আবার বে-আদবের দল আদব ত্যাগ করল,

ভিখারিদের ন্যায় উদ্ধৃত খাদ্য উঠিয়ে রাখল।”

 

“হজরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম নম্রভাবে তাদেরকে বোঝালেন যে এই খাবার সর্বদা আসতে থাকবে,

এবং জমিন থেকেও খাবার কম হবে না, কাজেই খাবার জমা করে রাখবে না।”

 

“হজরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম আরও বললেন

আল্লাহ্‌’ র খাঞ্চা সম্বন্ধে খারাপ ধারণা ও লোভ করা কুফরি।”

 

“অবশেষে সেই ভিক্ষুক প্রকৃতির লোকদের কারণে যারা লোভের বশে অন্ধ ছিল,

উক্ত রহমতের দরজা (আসমানি খাঞ্চা অবতরণ) গোটা কওমের উপর বন্ধ হয়ে গেল।”

 

“আসমানি খাঞ্চা অবতরণ বন্ধ হয়ে গেল,

এরপর আর কেউ সেই খাঞ্চা দ্বারা কখনও উপকৃত হয় নি।”

 

“যাকাত বন্ধ করলে বৃষ্টি বর্ষে না,

আর জেনার কুফলে চতুর্দিকে মহামারী ছড়িয়ে পড়ে।”

 

“যেই চিন্তার অন্ধকার তোমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে,

তা তোমারই নির্ভীক আচরণ ও বে-আদবির কারণে ঘটে।”

 

“যে কেহ দোস্তের (আল্লাহ’ র) পথে নির্ভীক আচরণ করে,

সে সর্বসাধারণের পক্ষে ডাকাত এবং নিজে না –মর্দ।”

 

“যে ব্যক্তি তরিকতের পথে বে-আদবি করে,

পরিতাপের উপত্যকায় সে ডুবে মরে।”

 

“আদবের কারণেই এই আসমান আলোকে আলোকিত হয়েছে,

আর আদবের কারণেই ফেরেশতাকুল নিস্পাপ ও পবিত্র হয়েছে।”

 

“মানুষের বে-আদবির দরুন সূর্য গ্রহণ হয়েছে,

শয়তান বে-আদবির কারণে আল্লাহ’র দরবার থেকে বিতাড়িত হয়েছে।”

 

“এখন বাদশাহ ও মেহমানের অবশিষ্ট সংবাদ ব্যক্ত কর,

কেননা আদবের বর্ণনার কোন শেষ নেই।”

***মেহমানের সাথে বাদশাহ’ র সাক্ষাৎকার***

“বাদশাহ যখন মেহমানের নিকট গেলেন,

সম্পূর্ণ ফকির বেশে গেলেন।”

“তাঁকে বার বার আলিঙ্গন করলেন,

প্রেমের মত তাঁকে মন ও প্রাণের মধ্যে স্থান দিলেন।”

“তাঁর হাতে চুম্বন করলেন,

বাড়ী ও পথের অবস্থা জিজ্ঞাস করলেন।”

“তাঁকে খাস-মহলে নিয়ে গেলেন,

বললেনঃ অনেক ছবরের দ্বারা আপনার মত একটি রত্নভাণ্ডার পেয়েছি।”

“ছবর করা কার্যত খুবই কঠিন,

কিন্তু তা পরিণামে বড়ই সুস্বাদু ও উপাদেয় ফল দান করে।”

“বললেনঃ হে আল্লাহ’ র দান! হে সংকট মোচনকারী!

আপনি “ছবর সচ্ছলতা লাভের কুঞ্জি” এই হাদিস শরিফটির বাস্তব রুপ।”

“আপনি এমন বুজুর্গ যার সাক্ষাৎলাভ সর্বপ্রকার প্রশ্নের জওয়াব,

কথাবার্তা বলা ও শোনা ব্যতীত আপনার দ্বারা সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।”

“হে মহামানব! আপনি আমাদের অন্তরের সমস্যাবলী ব্যক্তকারী,

যার পা কাদায় আটকে গেছে তাকে উদ্ধারকারী।”

“আপানকে স্বাগতম জানাই হে মনোনীত মেহমান!

আপনার অবর্তমানে আমার মৃত্যু, আমার জগত সঙ্কীর্ণ।”

“আপনি মানুষের সাহায্যকারী ও হিতাকাঙ্ক্ষী বন্ধু!

যে আপনার প্রতি নিরুৎসাহী তার ধ্বংস অনিবার্য।”

***রোগিণীর শিয়রে মেহমান চিকিৎসক***

 

“যখন মজলিস শেষ হল

তখন বাদশাহ মেহমানকে অন্দর-মহলে নিয়ে গেলেন।”

 

“বাদশাহ বাতেনি চিকিৎসককে রোগিণীর যাবতীয় অবস্থা বর্ণনা করলেন

এবং তাকে দেখার জন্য রোগিণীর নিকট বসালেন।”

 

“চিকিৎসক রোগিণীর চেহারা, শিরা ও প্রস্রাব দেখলেন,

তার রোগের লক্ষণ ও কারণসমূহ শুনলেন।”

 

“বললেনঃ পূর্ব চিকিৎসকগণ যে সমস্থ ওষুধ প্রয়োগ করেছেন

তা সুস্থতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করে নি বরং তা বিনাশ করেছে।”

 

“পূর্ব চিকিৎসকগণ রোগীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্বন্ধে অজ্ঞ ছিলেন,

তারা যে ভুল করেছেন আমি তা থেকে আল্লাহ্‌ তা’আলার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”

 

“তিনি রোগ পর্যবেক্ষণ করলেন এবং রোগের রহস্য তার কাছে স্পষ্ট হল,

কিন্তু বাদশাহ’র নিকট রোগের কারণ গোপন রাখলেন।”

 

“রোগিণীর রোগ অম্ল বা পিত্ত থেকে উৎপন্ন হয় নি,

প্রত্যেক জ্বালানী কাঠের ঘ্রাণ তার ধুঁয়া থেকে বোঝা যায়।”

 

“চিকিৎসক রোগিণীর কান্নাকাটি দেখে অনুমান করলেন যে

সে অন্তর-রোগে আক্রান্ত, তার দেহ সুস্থ ও নীরোগ।”

 

“হৃদয়ের কান্না ও হাহুতাশ আসেক হবার পরিচয়,

অন্তর-রোগ (এসক) এর ন্যায় কোন রোগ নাই।”

 

“আসেকের রোগ (প্রেমরোগ) অন্যান্য রোগ থেকে ভিন্ন,

এসকে এলাহি আল্লাহ্‌’র রহস্যসমূহ অনুধাবনের যন্ত্র।”

 

“প্রেম তা যেমনই হোক

তা আমাদের আল্লাহ্‌ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।”

 

“প্রেমের ব্যাখ্যা ও বর্ণনা যতই করি না কেন,

নিজে যখন প্রেমের অবস্থা উপলব্ধি করি তখন লজ্জিত হই।”

 

“রসনার ব্যাখ্যা যদিও অধিকাংশ বস্তুর তথ্য খুব ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলে,

কিন্তু রসনাহীন প্রেম নিজেই ফুটে উঠে।”

 

“লেখনী লেখার মধ্যে  দ্রুত চলছিল,

যখন প্রেমের বর্ণনা আসল, লেখনী বিদীর্ণ হয়ে গেল।”

 

“বাক্য যখন প্রেমের কাহিনী বর্ণনার কাছে উপস্থিত হল,

তখন কলম ভেঙ্গে গেল ও কাগজ ফাটিয়া গেল।”

 

“প্রেমের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জ্ঞান ও বিবেক যেন গাধার মত কাদায় বসে পরল,

প্রেমের ব্যাখ্যা একমাত্র প্রেমই করতে পারে।”

 

“সূর্য নিজেই তার অস্তিত্বের প্রমাণ,

তুমি যদি সূর্যের প্রমাণ চাও তবে তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না।”

 

“আসমানের সূর্য যেমন ছায়া দান করে,

তেমনি প্রকৃত সূর্য (আল্লাহ্‌ তা’আলা) আরেফের অন্তরে নূর দান করতে থাকেন।”

 

“আসমানের সূর্যের ছায়া তো কেচ্ছা কাহিনীর মত নিদ্রা আনে,

কিন্তু প্রকৃত সূর্য (আল্লাহ্‌ তা’আলা) আরেফের অন্তরে উদিত হবার পর সমস্ত অন্ধকার বিলীন হয়ে যায়।”

 

“আসমানি সূর্যের মত কোন মুসাফির দুনিয়াতে নাই,

কিন্তু আল্লাহ্‌ পাক সর্বস্থায়ী, তিনি কখনও অস্তমিত হন না।”

 

“আসমানে সূর্য যদিও একটি দেখা যায়,

কিন্তু তার মত বহু সূর্য কল্পনা করা যায়।”

 

“কিন্তু সমস্ত আসমান যে সূর্যের (আল্লাহ্‌ তা’আলা) অনুগত,

কল্পনায় ও বাস্তবে তার কোন তার কোন নজীর নাই।”

 

“আল্লাহ্‌ তা’আলার সত্তাকেই তো আমরা কল্পনা করতে পারি না,

আবার আল্লাহ্‌ তা’আলার নজীর কোথা থেকে আমাদের কল্পনায় আসবে!”

 

“অবশ্য সামস তাবরিজি রহমতুল্লাহ আলাইহি যিনি কামেল নূর,

তিনি একটি সূর্য এবং আল্লাহ্‌ তা’আলার নূর।”

 

*** সামস তাবরিজি রহমতুল্লাহ আলাইহি মাওলানা রুমী রহমতুল্লাহ আলাইহি’র পীর সাহেব ছিলেন। ***

 

“ঘটনাক্রমে আলোচনা যখন সামসুদ্দিন তাবরিজি রহমতুল্লাহ আলাইহি পর্যন্ত আসল,

তখন চতুর্থ আসমানের সূর্য লজ্জায় মুখ লুকাল।”

 

“তাঁর নাম যখন আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হয়েই পড়ল,

তখন তাঁর এহসানের যৎকিঞ্চিত বর্ণনা করা উচিত।”

 

“এক্ষণে আমার রূহ আমার জামার কোণ মজবুত করে ধরেছে,

কেননা সে ইউসুফের (আলাইহিস সাল্লাম) জামার গন্ধ পেয়েছে।”

 

“আমার রূহ আমাকে বলছে, বহুদিনের সাহচর্যের হক আদায়ের জন্য

ঐ মোবারক হাল (অবস্থা) সমূহ কিছু বর্ণনা কর।”

 

“তাহলে জমিন ও আসমান জ্যোতির্ময় হবে,

আকল, রূহ, জ্ঞান-চক্ষু শতগুণ প্রদীপ্ত হবে।”

 

“আমি রূহকে বললামঃ হে রূহ! যে রোগী চিকিৎসক থেকে দূরে অবস্থিত,

তার মত তুমিও তো বন্ধু থেকে দূরে আছ।”

 

“তাই আমাকে বন্ধুর আলোচনা করতে বাধ্য করোনা কেননা আমি স্বীয় সত্তাকে মিটিয়ে দিয়েছি,

জ্ঞান- বিবেক নিস্তেজ হয়ে গিয়েছে, কাজেই আমি প্রশংসা করতে সক্ষম হব না।”

 

“চেতনা হীন ব্যক্তি যা কিছু বলে, মনের উপর জোর দিয়ে বলুক,

বা অবাস্তবই বলুক, কিছুই ঠিক হবে না।”

 

“চেতনা হীন ব্যক্তি যা কিছু বলে, সময়োপযোগী না হবার জন্য

তা বানানো কথার মত অসমীচীন মনে হবে।”

 

“যেই বন্ধুর কোন শরীক নেই তাঁর বর্ণনা কিভাবে করব!

আমার একটি শিরারও তো চেতনা নেই।”

 

“এই বিচ্ছেদ ও কলিজার রক্তের বর্ণনা এখন পরিত্যাগ কর,

এটা অন্য সময় বলা যাবে।”

 

“রূহ বললঃ আমাকে খাইতে দাও, আমি ক্ষুধার্ত,

তাড়াতাড়ি কর, কেননা সময় তীক্ষ্ণ তলোয়ার।”

 

“হে বন্ধু! সূফীগন তো এবনুল ওয়াক্ত (যখনকার কাজ তখন করা),

‘কাল করিব’ বলা তরীকতের পন্থা নয়।”

 

“সূফী লোকদেরকে দৃষ্টান্ত স্বরূপ এবনুল হাল বলা হয়,

যদিও সূফী ও ওয়াক্ত উভয়ের মাস ও বৎসরের সাথে কোন সম্পর্ক নেই।”

 

“রূহ বলছেঃ মনে হয় তুমি সূফী মানুষ না!

তুমি কি জান না বাকীতে নগদের ক্ষতি!”

 

“আমি রূহকে বললামঃ বন্ধুর গোপন কথা গোপন রাখাই ভাল,

যদি একান্ত শুনতে চাও তবে দৃষ্টান্তের মাধ্যমে শুনে নাও।”

 

“বন্ধুদের গোপন কথা অন্য লোকের কাহিনীর মাধ্যমে

শুনিয়ে দেয়াই ভাল।”

 

“রূহ বললঃ হে অনর্থক বাক্যালাপকারী! আমাকে কষ্ট দিও না,

পরিস্কারভাবে কোন কিছু গোপন না করে হুবুহু বল।”

 

“নবীগনের রহস্যাবলী ও ইশারা- ইঙ্গিত বর্ণনা কর,

দ্বীনের কথা স্পষ্ট ভাবে বর্ণনা করাই ভাল, গোপন রাখা উচিত না।”

 

“পর্দা উন্মোচন কর, পরিস্কার বল,

কেননা আমি জামা পরিধান করে প্রিয়ার সাথে শয়ন করব না।”

 

“আমি বললামঃ বিশ্বে যদি তা প্রকাশিত হয়ে পরে,

তাহলে তুমিও থাকবে না, তোমার কোলও থাকবে না, তোমার কটিদেশও থাকবে না।”

 

“তুমি তোমার কাম্য বস্তু চেয়ে নাও কিন্তু নিজের পরিমান মত চাও,

ঘাসের একটি পাতা কি পাহাড়ের ভার সহ্য করতে পারবে!”

 

“হে রূহ! তুমি এখন মুখ বন্ধ রাখ ও চোখ সিলাই করে ফেল,

যেন বিশ্বজগত ধংসপ্রাপ্ত না হয়।”

 

“দেখ এই সূর্য যা দ্বারা বিশ্ব ভুবন আলোকিত,

যদি সামনের দিকে একটু অগ্রসর হয় তাহলে সব জ্বলে পুড়ে ছারখার হবে।”

 

“ফেৎনা- ফ্যাসাদ ও রক্তারক্তির পিছনে পড়িও না,

সামস তাবরিজি রহমতুল্লাহ আলাইহির সমীপে এর অধিক আর কিছু বলিও না।”

 

“এই আলোচনার তো কোন শেষ নেই,

চল, ঐ কাহিনীর অবশিষ্টাংশটুকু আবার শুনাও।”

 

*** বাঁদির রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকের নির্জনতা কামনা ***

(চলবে)

 

Views All Time
1
Views Today
7
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

২টি মন্তব্য

  1. এত ধৈর্য নিয়ে কে বঙ্গানুবাদ করেছেন? সুন্দর হয়েছে Rose

    • @দিগ্বিজয়ী, কয়েকটি অনুবাদ দেখে আমি সহজ ভাষায় ব্লগ এর পাঠকদের জন্য লিখছি। আমার ধারণা এগুলো অনুবাদ বাংলাদেশে পাওয়া দুষ্প্রাপ্য বিধায় এটি প্রকাশিত হলে ও মানুষ পড়লে উপকৃত হবে। যেমনঃ শেখ সাদি রহমতুল্লাহ আলাইহি’র বই যদি কারও কাছে থাকে তাহলে তিনি ব্লগ এর পাঠকদের এভাবে উপহার দিতে পারেন। নাস্তিক ও বিধর্মী দের অনেক প্রশ্নের সুন্দর জবাব এই বই গুলতে আছে। তারা ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালায় তার উত্তর দেবার জন্য এই বই গুলোই যথেষ্ট। মাওলানা রুমি রহমতুল্লাহ আলাইহি, শেখ সাদি রহমতুল্লাহ আলাইহি, ইমাম গাজ্জালি রহমতুল্লাহ আলাইহি, ইবনুল আরাবি রহমতুল্লাহ আলাইহি ইত্যাদি ইনাদের বই গুলোর অনুবাদ ব্লগ এ প্রকাশ পেলে অনেকের উপকার হবে। উপরন্ত ইসলাম বিরোধীদের মুখও বন্ধ হবে ইনশাল্লাহ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে