#‪#‎দেশীয়‬ সম্পদ বিদেশীদের দিয়ে দিলে আমরা কেনো বিরোধিতা করব না!–৫ম পর্ব।


#‪#‎দেশীয়‬ সম্পদ বিদেশীদের দিয়ে দিলে আমরা কেনো বিরোধিতা করব না!–৫ম পর্ব।

আমার দেশের সম্পদ নিয়ে মোট কথা আমরা যা বলতে চাই
আমরা সব সময় একটি বিষয় লক্ষ করি, যে কোন বড় চুক্তি হলে তা করা হয় গোপনে , জনগণকে রাখা হয় অন্ধকারে। সংসদে এই নিয়ে আলোচনা হয় না। লোক দেখানো পরিবেশ সমীক্ষা করে। ভালোভাবে গণ শুনানি হয় না। কিন্তু সবাইতো সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকে না, কেউ কেউ নিজের প্রয়োজনে, নিজেদের অস্তিত্বের প্রয়োজনে এসব গণবিরোধি চুক্তি মানুষকে জানানোর ব্যবস্থা করে। আরেকটি বিষয় জাতীয় কমিটি বার বার বলে যে, আমাদের দেশীয় কোম্পানি বাপেক্সকে শক্তিশালী করা হোক, কিন্তু কে শুনে কার কথা দিনে দিনে বাপেক্সকে আরও পরনির্ভরশীলতা করে তোলা হচ্ছে। দেখা গেছে বহুজাতিক কোম্পানি থেকে বাপেক্সের দক্ষতা মূলত বেশিই ছিল । এখানে একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে, বিদেশী কোম্পানি টাল্লোর হয়ে বাঙ্গোরায় ওয়ার্ক ওভার কূপটি খনন করতে পেট্রোবাংলা সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বাপেক্স নেয় ৭ কোটি টাকা এই কাজে তাদের খরচ হয় ৫৩ লাখ টাকা। বাপেক্সের লাভ হয়েছে ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। কিন্তু এই লাভ কোন লাভই না। কারণ টাল্লো তার কস্ট রিকভারিতে এই টাকাটা পেট্রোবাংলার কাছ থেকে তুলে নিয়েছে। কিন্তু যদি আমাদের হাতে থাকতো সবকিছু এই বিপুল মুনাফা বহুজাতীকের হাতে যেত না।
উপরে উল্লিখিত চুক্তিগুলো যে দেশ বিরোধী, দেশের জনগনের স্বার্থে না তা বুঝতে কি খুব শিক্ষিত হওয়া লাগে? মাস্টার্স পিএইচডি লাগে? না এসব কিছু লাগে না , যে বুঝতে পারে যে তার গাছের আম সে নিজে পাড়তে পারে না (তাকে পাড়তে দেয় না) বলে অন্য একজনকে নিয়ে এসেছে পেড়ে দিতে, পাড়ার পর সে নিয়ে গেলো ৯৪ টা কিংবা ৮০ টা কিংবা ৮৫ টা আর বাকি গুলো গাছের মালিক বলে সে নেবে। এই হিসাব বুঝলেই যথেষ্ট।
আমরা এমন সকল চুক্তির বিরোধীতা করে যাবো। সরকারের কিংবা ভাড়াটে বিজ্ঞানী – সুশীল বুদ্ধিজীবীদের কথায় কান না দিয়ে।
কারণ সবাই স্রোতে গা ভাসায় না। অল্প কয়জন থাকে যারা স্রোতের বিপরীতে দাঁড়ায় বুক টান করে।
যারা ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ীতে তাদের বুকে লিখেছিল “জীবন দেবো, ফুলবাড়ী দেবো না” তাদের সাথে কি সবাই বেইমানী করতে পারে? তরিকুল, আমিন ও সালেকিনের রক্তের সাথে কি সবাই বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে?
তথ্যসূত্র-
১ – বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক বিকল্প আছে, সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নাই (বুকলেট) – তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।
২ – বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, সমাধান কি অসম্ভব? – বি. ডি. রহমতউল্লাহ্‌
৩ – প্রশ্ন ও উত্তর – তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।
৪ – জ্বালানি সম্পদ ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব – গনসংহতি আন্দোলন।
৫ – পারমাণবিক বিদ্যুৎ সমস্যা, রূপপুর প্রকল্প ও বাংলাদেশ – বাংলাদেশ অধ্যয়ন কেন্দ্র।
৬ – http://www.bonikbarta.com/2016-02-29/news/details/67865.html
৭ – http://bangla.bdnews24.com/economy/article1077748.bdnews
– See more at: http://istishon.com/…

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে