✅কারবালার হৃদয় বিদারক ইতিহাস ধারাবাহিক পর্ব-০৬( কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর বর্ণনায় আহলে বাইত শরীফ ও আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ফযীলত )


কারবালার হৃদয় বিদারক ইতিহাস ধারাবাহিক পর্ব-০৬( কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর বর্ণনায় আহলে বাইত শরীফ ও আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ফযীলত )

12109205_1134518219910921_2515157241511440877_n

عن يعلى بن مرة رضى الله تعلى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم حسين منى
وانا من حسين احب الله من احب حسينا حسين سبط من الاسباط.
অর্থ : “হযরত ইয়া’লা ইবনে মুররাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি আমার থেকে আর আমি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার থেকে। যে ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে মুহব্বত করবে আল্লাহ পাক তিনি তাকে মুহব্বত করবেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি বংশসমূহের মধ্যে একটি বংশ।” (তিরমিযী শরীফ)
عن على رضى الله تعالى عنه قال الحسن اشبه رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بين الصدر الى الرأس والحسين اشبه النبيى صلى الله عليه وسلم ما كان اسفل من ذلك.
অর্থ : “হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বলেছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি হলেন (চেহারা-আকৃতি-অবয়বে) মাথা মুবারক হতে বক্ষ মুবারক পর্যন্ত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদৃশ। আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি হলেন বক্ষ মুবারক হতে নিচ পর্যন্ত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদৃশ।” (তিরমিযী শরীফ)
عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم احبوا الله لما يغذوكم من نعمة واحبونى لحب الله واحبوا اهل بيتى لحبى.
অর্থ : “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন : তোমরা আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত কর। কেননা, তিনি তোমাদের প্রতি খাদ্য সামগ্রীর মাধ্যমে অনুগ্রহ করে থাকেন। আর আমাকে মুহব্বত কর আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে, যেহেতু আমি আল্লাহ পাক উনার হাবীব। আর আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত কর আমার মুহব্বতে।” (তিরমিযী শরীফ)
عن ابى ذر رضى الله تعالى عنه انه قال وهو اخذ بباب الكعبة سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول الا ان مثل اهل بيتى فيكم مثل سفينة نوح من ركبها نجا ومن تخلف عنها هلك.
অর্থ : “হযরত আবু যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি কা’বা শরীফ-এর দরজা ধরে বলেছেন, আমি নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, সাবধান! আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হলেন তোমাদের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার নৌকার ন্যায়। যে তাতে আরোহণ করবে, সে রক্ষা পাবে। আর যে তা হতে পশ্চাতে থাকবে সে ধ্বংস হবে।” (মুসনাদে আহমদ শরীফ)

হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, হযরত দাহইয়াতুল কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ঈমান আনার পর হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি সাধারণত হযরত দাহইয়াতুল কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ছূরত মুবারক-এ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে আসতেন। আর এদিকে হযরত দাহইয়াতুল কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার একটি আদত মুবারক ছিল তিনি যখন আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে আসতেন তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের জন্য কিছু হাদিয়া নিয়ে আসতেন। উনাদেরকে কোলে নিতেন, চুমা খেতেন, আদর-সোহাগ করতেন। যার কারণে উনাদের সাথে হযরত দাহইয়াতুল কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার একটা আলাদা মুহব্বত পয়দা হয়েছিল। উনারা হযরত দাহইয়াতুল কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দেখলেই উনার কাছে ছুটে যেতেন। হযরত দাহইয়াতুল কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনাদেরকে খাছভাবে মুহব্বত করতেন। আর উনারাও হযরত দাহইয়াতুল কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে মুহব্বত করতেন।

একদিন আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা বসা ছিলেন। এমতাবস্থায় হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে আসলেন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে হযরত দাহইয়াতুল কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মনে করে উনার কাছে যেতে চাচ্ছিলেন। আর আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে ফিরিয়ে রাখছিলেন। এমনিভাবে একবার, দুইবার, তিনবার হয়ে গেলো। হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বিষয়টি খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করলেন। অতঃপর বিনয়ের সাথে আরজ করলেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বেয়াদবী মাফ করবেন, আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারছি না। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা আমার কাছে আসতে চাচ্ছেন, আর আপনি উনাদেরকে ফিরিয়ে রাখছেন। ব্যাপারটি কি একটু বলবেন?”

আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “হে ভাই হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! আপনি তো হযরত দাহইয়াতুল কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ছূরত মুবারক-এ এসেছেন। হযরত দাহইয়াতুল কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার একটা আদত মুবারক রয়েছে, তিনি আমার নিকট যখনই আসেন তখনই উনাদের জন্য কিছু হাদিয়া নিয়ে আসেন, উনাদেরকে কোলে নেন, মুহব্বত করেন। উনারাও উনার কাছে যান। আপনাকে দেখে উনারা মনে করেছেন, আপনি হয়তো হযরত দাহইয়াতুল কালবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, সেহেতু উনারা আপনার কাছে যেতে চাচ্ছেন।” হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার বেয়াদবী ক্ষমা করবেন, আমাকে একটু সময় দেন, আমি এখনই আসছি।” এটা বলে তিনি বের হয়ে গেলেন, কিছুক্ষণ পর আবার আসলেন এক থোকা তাজা আঙ্গুর নিয়ে। আঙ্গুরগুলো পেশ করলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের খিদমতে। উনারা সেটা গ্রহণ করলেন। আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! আপনি এগুলো এত তাড়াতাড়ি কোথা থেকে আনলেন?” হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের জন্য যে জান্নাত নির্ধারণ করে রেখেছেন সে জান্নাত থেকে এ আঙ্গুর ফলগুলো আমি এনেছি।” সুবহানাল্লাহ!

আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! আপনার হয়তো কষ্ট হয়েছে, আপনি কিছু মনে করবেন না।” তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “আপনি বলেন কি, আমি কেন কিছু মনে করবো, আমরা ফেরেশতারা তো উনাদের খাদিম। কেননা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনারা যখন ঘুমিয়ে থাকেন, আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের যখন ঘুম আসেনা গরমের কারণে, তখন আল্লাহ পাক উনার নির্দেশে আমরা ফেরেশতারা উনাদেরকে বাতাস করে থাকি ঘুমানোর জন্য। সুবহানাল্লাহ! কাজেই আমরা কেন কিছু মনে করবো।”
সুতরাং ফেরেশতা, জিন-ইনসান, পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ, তরুলতা, জামাদাত-শাজারাত-হাজারাত যা কিছু রয়েছে সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা। আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা সকলেরই নাজাতের কারণ। সেজন্য ফেরেশতারা মুহব্বত করেছেন, তা’যীম-তাকরীম করেছেন, ইজ্জত-সম্মান করেছেন। সেটা জিন-ইনসানের উপরও ফরয করা হয়েছে। এখন যে যতটুকু মুহব্বত করবে, সে ততটুকু মর্যাদা লাভ করবে।
(ইনশাআল্লাহ চলবে…Wink

Views All Time
1
Views Today
5
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে