✅কারবালার হৃদয় বিদারক ইতিহাস ধারাবাহিক পর্ব-০৮ (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার আহলিয়া হিসেবে হযরত শহরবানু আলাইহাস সালাম উনার আগমন)


কারবালার হৃদয় বিদারক ইতিহাস ধারাবাহিক পর্ব-০৮ (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার আহলিয়া হিসেবে হযরত শহরবানু আলাইহাস সালাম উনার আগমন)

12109205_1134518219910921_2515157241511440877_n

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা আহলিয়া ছিলেন পারস্য সম্রাট ইয়াজদর্গিদের কনিষ্ঠা কন্যা হযরত শহরবানু আলাইহাস সালাম।

কিতাবে বর্ণিত আছে, আমিরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিমুস সালাম উনার খিলাফতকালে সারা দুনিয়ায় ব্যাপকভাবে ইসলামের পতাকা উড়তে থাকে। বড় বড় ও পরাক্রমশালী রাজ্যগুলোও ইসলামের পতাকাতলে ঠাঁই পায়।
২১ হিজরী সনে পারস্যের মহা প্রতাপশালী সম্রাট ইয়াজদর্গিদ একের পর এক যুদ্ধে মুসলমানদের কাছে পরাজিত হয়ে পারস্যের রাজধানী মাদায়েন থেকে বিতাড়িত হয়ে কাবুল এসে আশ্রয় গ্রহণ করে।
হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে মরিয়া হয়ে সে বিপুল সম্পদ ব্যয় করে শাহী ফৌজকে পুনর্গঠিত করলো এবং পার্শ্ববর্তী চীন সম্রাট খাকানের দরবারে হাজির হয়ে চীনের সাহায্য প্রার্থনা করলো। চরম মুসলিমবিদ্বেষী চীন সম্রাট খাকান মুসলমানদের ব্যাপক উত্থানের কারণে ভীষণ আতঙ্ক-উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করতো। তাই আগে ভাগে মুসলমানদের গতিরোধ করা বুদ্ধিমানের কাজ মনে করে ইয়াজদর্গিদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসলো। উভয় দেশের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী নিয়ে ইয়াজদর্গিদ পারস্য উদ্ধারে মুসলমানদের হানা দিলো। আমিরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি তৎক্ষণাৎ হযরত আহনাফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সেনাপতি করে ইয়াজদর্গিদের বিরুদ্ধে একটি বাহিনী প্রেরণ করেন।

উভয় বাহিনীর মধ্যে তিন দিন তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হলো। কোনমতেই তারা মুসলমানদের গতি রোধ করতে পারলো না। অবশেষে পারস্য ও চীনের সম্মিলিত সামরিক বাহিনী সেনাপতি হযরত আহনাফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাহিনীর কাছে খড়-কুটোর মতো ভেসে গেলো। চীন সম্রাট খাকান তার বাহিনীসহ পিঠটান দিলো। সম্রাট ইয়াজদগির্দ নিহত হলো। পারস্য সম্রাট ইয়াজদর্গিদের পরিবারের কয়েক শতাব্দীর সঞ্চিত বিপুল রতœভা-ার মুসলমানদের হস্তগত হলো। যা বায়তুল মালে জমা হয়। সম্রাটের পরিবার-পরিজন বন্দি হলো। বন্দিদের মধ্যে ছিলেন সম্রাটের তিন কুমারী কন্যা। যাঁরা ছিলেন বুদ্ধিমত্তায়, রূপে, গুণে, সৌন্দর্যে অতুলনীয়। তাঁদের মধ্যে কনিষ্ঠা কন্যার নাম ছিল হযরত শহরবানু আলাইহাস সালাম।

এই তিন কন্যার জন্য মজলিসে শূরা ডাকা হলো। অনেক আলোচনা হলো। এক পর্যায়ে শেরে খোদা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বললেন- “হে আমিরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিমুস সালাম! তাঁরা শ্রেষ্ঠ খান্দানের মেয়ে। তাঁদের সাথে সাধারণ বন্দিদের মতো আচরণ করা উচিত হবে না। তাঁদেরকে ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার আহবান জানানো হোক। যদি ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে মদীনা শরীফ-এর তিন যুবককে স¦ামী হিসেবে গ্রহণ করার ইখতিয়ার দেয়া হোক।”

এই প্রস্তাব সকলেই এক বাক্যে মেনে নিলেন। সম্রাটের মেয়েগণ অত্যন্ত খুশি হলেন। তাঁরা ইসলাম কবুল করলেন। পছন্দের পাত্র গ্রহণের ইখতিয়ার দেয়া হলে বড় মেয়ে স¦ামী হিসেবে বেছে নিলেন খোদ খলীফা হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে। মধ্যমা মেয়ে পছন্দ করলেন আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব¡ আলাইহিস সালাম উনার পুত্র হযরত মুহম্মদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে। আর ছোট মেয়ে হযরত শহরবানু আলাইহাস সালাম তিনি পুলকিত চিত্তে স¦ামী হিসেবে বেছে নিলেন শেরে খোদা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার ছেলে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাকে।
সাথে সাথে বিয়ের কাজ সুসম্পন্ন হলো। শেরে খোদা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি উনাদেরকে মুবারকবাদ জানিয়ে দোয়া করলেন এবং বললেন, ‘আরব আজমের দুই শ্রেষ্ঠ রক্তধারার মহামিলন হওয়ার ফলে আপনাদের মাঝে জন্ম নিবে দুনিয়ার সেরা প্রতিভাবান সন্তান।’ পরবর্তিতে উনার দোয়া অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হয়েছিল।

এভাবে হযরত শহরবানু আলাইহাস সালাম তিনি হযরত আলী আলাইহিস সালাম উনার স্নেহধন্য লখতে জিগার জান্নাতের যুবকদের সাইয়্যিদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার আহলিয়ারূপে গৃহিত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করলেন।সুবহানাল্লাহ!
(ইনশাআল্লাহ চলবে…Wink

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে