✅কারবালার হৃদয় বিদারক ইতিহাস ধারাবাহিক পর্ব-০৯ ( ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির মসনদ দখল)


12109205_1134518219910921_2515157241511440877_n

আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বিছাল শরীফ-এর পর ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি সিংহাসনে আরোহণ করলো এবং আরোহণ করার সাথে সাথেই তার মনের মধ্যে সীমাহীন অহঙ্কার ও গর্ববোধের সৃষ্টি হলো। যার ফলে এমন কাজ-কর্ম শুরু করলো, যা মহান দ্বীন ইসলামী শরীয়তের সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রায় মানুষই ক্ষমতার মোহে বিভোর হয়ে ধরাকে সরা, সরাকে ধরা জ্ঞান করে। যেমন- ফিরআউন প্রথমে গরিব ছিল, কিন্তু ভাগ্যক্রমে বাদশাহ হয়ে সিংহাসনে আরোহণ করার সাথে সাথে এমন অহঙ্কারী হয়ে বসলো যে, শেষ পর্যন্ত নিজেকে খোদা বলে ঘোষণা করলো। নাঊযুবিল্লাহ! সে বলতে লাগলো, ‘আমি তোমাদের সবচেয়ে বড় খোদা’। আমার পূজা, আরাধনা কর। সেই রক্ষা পাবে যে আমার পূজা করবে। আর যে আমার পূজা করতে অস¦ীকার করবে, তাকে আমি খতম করবো। একমাত্র এ কারণেই সে অনেক লোকের গর্দান দ্বিখ-িত করেছিল। উনাদের অপরাধ ছিল, উনারা তার পূজা করতেন না এবং তাকে মা’বূদ মানতে অস¦ীকার করেছিলেন।
তদ্রƒপ ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহিও যখন সিংহাসনে বসলো, সে ক্ষমতায় আরোহণ করার পর পরই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু প্রমুখ বিশিষ্ট ছাহাবী থেকে বাইয়াত তলব করলো। একে তো উনারা ছিলেন বিশিষ্ট ছাহাবী, বিশেষ সম্মানিত ব্যক্তি। আবার উনারা বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বংশধর ছিলেন। তাই উনারা কিভাবে ফাসিক-ফাজির ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির হাতে বাইয়াত করতে পারেন? সুতরাং উনারা বাইয়াত গ্রহণ করতে অস¦ীকার করলেন এবং এটা উনাদের মর্যাদাগত সদাচরণই ছিল। অস¦ীকার করার পর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা মদীনা শরীফ থেকে মক্কা শরীফ-এ চলে গেলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি মদীনা শরীফ-এর গভর্নর ওয়ালীদের আহবানে তার দরবারে তাশরীফ নিলেন। তার সঙ্গে আলোচনা করলেন। মদীনা শরীফ-এর গভর্নর বললো, ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি আপনার বাইয়াত তলব করেছেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি হলো ফাসিক-ফাজির, এ ধরনের অনুপযুক্ত লোকের হাতে আমি বাইয়াত গ্রহণ করতে পারি না। আমি কোন অবস্থাতেই তার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করতে রাজি নই।” তিনি সুস্পষ্টভাবে অস¦ীকার করলেন। এটা উনার মর্যাদাগত সদাচরণই ছিল।

উল্লেখ্য, তিনি যদি বাইয়াত গ্রহণ করতেন, তাহলে নিজের প্রাণ বাঁচতো, পরিবার-পরিজন বাঁচতো। হয়তো এমনও হতো যে, অগাধ ধস-সম্পত্তির মালিকও তিনি হয়ে যেতেন। কিন্তু ইসলামের আইন-কানুন ছত্রভঙ্গ হয়ে যেত এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত ফাসিক-ফাজিরের আনুগত্য বৈধ হয়ে যেত এবং তাদের কাছে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার আনুগত্য প্রধান দলীল হিসেবে পরিগণিত হতো। লোকেরা বলতো, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি যখন ফাসিক-ফাজিরের আনুগত্য স¦ীকার করেছেন, তাহলে নিশ্চয়ই তা জায়িয।

কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির আনুগত্য গ্রহণ অস¦ীকারের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে প্রমাণ করে দিলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি শত কষ্ট-যাতনা ভোগ করতে পারেন, অনেক বিপদ-আপদের মুকাবিলা করতে পারেন, এমনকি আপন পরিজনের সমস্ত লোকদের নির্দয়ভাবে শহীদ হওয়াটা অবলোকন করতে পারেন; নিজেও যালিমদের হাতে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করতে পারেন, কিন্তু ইসলামের নিজাম বা বিধান ছত্রভঙ্গ হওয়া কিছুতেই সহ্য করতে পারেন না। নিজের নানাজান হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দ্বীন ধ্বংস হওয়াটা কিছুতেই মেনে নিতে পারেন না। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি নিজের কাজ ও কর্মপন্থা দ্বারা তা প্রমাণ করেছেন এবং দুনিয়াবাসীকে এটা দেখিয়ে দিয়েছেন, আল্লাহ তায়ালা উনার মনোনীত ও খাছ বান্দাগণের এটাই শান যে, বাতিলের সামনে বুক ফুঁলিয়ে দাঁড়িয়ে যান এবং তীর তলোয়ারের সামনে বুক পেতে দেন, কিন্তু কখনো বাতিলের সামনে মাথা নত করেন না। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি নিজের আমল দ্বারা উনার উচ্চ মর্যাদার পরিচয় দান করেছেন এবং জনগণের সামনে নিজের পদমর্যাদা তুলে ধরেছেন।
(ইনশাআল্লাহ চলবে…

Views All Time
2
Views Today
4
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে