✅কারবালার হৃদয় বিদারক ইতিহাস ধারাবাহিক পর্ব-১১ (মক্কা শরীফ-এ গমনের কারণ এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার কাছে কূফাবাসীর চিঠি)


কারবালার হৃদয় বিদারক ইতিহাস ধারাবাহিক পর্ব-১১ (মক্কা শরীফ-এ গমনের কারণ এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার কাছে কূফাবাসীর চিঠি)

12109205_1134518219910921_2515157241511440877_n

আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক ফরমান-
ومن دخله كان امنا
অর্থ : “যে হেরেম শরীফ-এ প্রবেশ করলো, সে নিরাপদ আশ্রয়ে এসে গেলো।” (সূরা আলে ইমরান : আয়াত শরীফ ৯৭)
কেননা হেরেম শরীফ-এর অভ্যন্তরে ঝগড়া-বিবাদ, খুন-খারাবী নাজায়িয ও হারাম। এমনকি হেরেম শরীফ-এর সীমানায় উকুন মারা পর্যন্ত নিষেধ। তবে সাপ, বিচ্ছু ইত্যাদি মারতে পারে। কিন্তু যে সব পশু-পাখি মানুষের কোন ক্ষতি করে না সেগুলো মারা জায়িয নেই। আর মু’মিনের শান-মান, ইজ্জত-সম্মান এটা তো আরো অনেক ঊর্ধ্বের বিষয়। তাই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি চিন্তা করলেন যে, হেরেম শরীফ-এর অভ্যন্তরে যেহেতু ঝগড়া-বিবাদ, খুন-খারাবী নিষেধ সেহেতু কেউ আমার সাথে এখানে ঝগড়া-বিবাদ করতে আসবে না। তাই হেরেম শরীফ-এর সীমানায় অবস্থান করে আল্লাহ তায়ালা উনার ইবাদত-বন্দেগীতে বাকি জীবন কাটিয়ে দেব। এ মনোভাব নিয়ে তিনি মদীনা শরীফ থেকে মক্কা শরীফ-এ চলে আসলেন।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম
উনার কাছে কূফাবাসীর চিঠি

মক্কা শরীফ আগমনের সাথে সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার কাছে কূফা থেকে লাগাতার চিঠি-পত্র এবং সংবাদ বাহক আসতে শুরু করলো। অল্প সময়ের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার কাছে দেড়শত চিঠি এসে পৌঁছিল। উলামায়ে কিরামগণের কেউ কেউ তাঁদের কিতাবে বারোশত চিঠির কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু নির্ভরযোগ্য কিতাবে দেড়শত চিঠির কথাই উল্লেখ পাওয়া যায়। দেড়শত চিঠি কথাই বিশেষ নির্ভরযোগ্য। তাছাড়া সেই যুগে ডাক আদান-প্রদান এত সহজ ছিল না। লোকেরা পত্র বাহকের মাধ্যমে চিঠি-পত্র প্রেরণ করতো। আর পত্র বাহক পায়ে হেঁটে বা ঘোড়ায় চড়ে গন্তব্যস্থানে চিঠি পৌঁছিয়ে দিত। এমতাবস্থায় বারোশত চিঠি পৌঁছাটা এতটা সহজ ব্যাপার ছিল না।
যাই হোক, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার কাছে দেড়শত চিঠি পৌঁছেছিল। প্রত্যেক চিঠির বিষয়বস্তু ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। প্রেরিত চিঠি-পত্রের বিষয়বস্তুগুলো হচ্ছে-
“হে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম! আমরা আপনার সম্মানিত পিতা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনারই অনুসারী এবং আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ভক্ত। আমরা তো ইয়াযীদকে সমর্থন করিনি। আর তাকে মানার তো প্রশ্নই উঠতে পারে না। আমরা আপনার পিতা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম ও আপনার ভাই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনাদের সমর্থনকারী। আমরা ইয়াযীদের অনুসারী নই। ইয়াযীদ এখন তখতে আরোহণ করেছে, কিন্তু আমরা ইয়াযীদকে খলীফা বা ইমাম মানতে পারি না। আপনাকেই বরহক্ব ইমাম ও বরহক্ব খলীফা মনে করি। আপনি মেহেরবানী করে কূফায় তাশরীফ আনুন। আমরা আপনার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবো এবং আপনাকে মনে-প্রাণে খলীফা হিসেবে গ্রহণ করবো। আপনার জন্য আমাদের মাল-জান কুরবান করতে প্রস্তুত এবং আপনার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে, আপনার অনুসরণ করে আমরা বাকি জিন্দেগী অতিবাহিত করতে ইচ্ছুক। তাই আপনি আমাদের নিকট তাশরীফ আনুন। আমাদের প্রতি মেহেরবানী করুন এবং আমাদেরকে আপনার ছোহবতে রেখে আপনার ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ-বরকত দ্বারা আমাদেরকে উপকৃত করুন।”

সমস্ত কবিলা খান্দানের পক্ষ থেকে উনার কাছে এই ধরনের চিঠি এসেছিল। অনেকে আবার এ ধরনের চিঠিও লিখেছিল-
“হে মহান ইমাম! আপনি যদি আমাদের কাছে তাশরীফ না আনেন; তাহলে আমাদেরকে বাধ্য হয়ে ইয়াযীদের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করতে হবে। কারণ ইয়াযীদের মোকাবেলা করা আমাদের পক্ষে কিছুতেই সম্ভব নয়। আর যদি ইয়াযীদের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করতে হয়, তাহলে কাল ক্বিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তায়ালা তিনি যখন আমাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন- ‘আমরা কেন নালায়েক ইয়াযীদের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করলাম?’ তখন আমরা পরিষ্কার বলে দিব, ‘হে মওলা! আমরা আপনার পেয়ারা হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম উনার দৌহিত্রের কাছে অসংখ্য চিঠি লিখেছিলাম, সংবাদ পাঠিয়েছিলাম, মাল-জান কুরবানী করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের নিকট তাশরীফ আনেননি এবং আমাদের দাওয়াতও কবুল করেননি। তিনি যখন অগ্রাহ্য করলেন তখন আমরা বাধ্য হয়ে ইয়াযীদের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছি।’ অতএব, হে ইমাম! আপনি স্মরণ রাখবেন, ইয়াযীদের নিকট আমাদের এ বাইয়াত গ্রহণের জন্য আপনিই দায়ী হবেন।” (ইনশাআল্লাহ চলবে…Wink

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে