✅কারবালার হৃদয় বিদারক ইতিহাস ধারাবাহিক পর্ব-১২( হযরত মুসলিম বিন আকীল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কূফা গমন)


কারবালার হৃদয় বিদারক ইতিহাস ধারাবাহিক পর্ব-১২( হযরত মুসলিম বিন আকীল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কূফা গমন)

12109205_1134518219910921_2515157241511440877_n

কূফাবাসীদের পক্ষ থেকে এ ধরনের চিঠি লিখার পরিপ্রেক্ষিতে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি চিন্তা করলেন যে, সেখানে তিনি যাবেন কিনা। তিনি অনেকের সাথে এ বিষয়ে পরামর্শ করলেন এবং শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, প্রথমে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিকে পাঠাবেন, যিনি সেখানে গিয়ে স¦চক্ষে কূফার সার্বিক অবস্থা যাচাই করে দেখবেন যে, ওরা বাস্তবিকই উনাকে চায় কিনা? উনার প্রতি সত্যিই আন্তরিক মুহব্বত ও বিশ্বাস আছে কিনা? সঠিক সংবাদ পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন, তিনি যাবেন কি যাবেন না।
অতঃপর তিনি উনার আপন চাচাতো ভাই হযরত মুসলিম বিন আকীল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে এ কাজের জন্য মনোনীত করলেন এবং ফরমালেন, “হে ভাই মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি! কূফা থেকে যেভাবে চিঠি আসছে তা যাচাই করে দেখার জন্য আমি আপনাকে আমার প্রতিনিধি করে সেখানে পাঠানোর মনস্থ করেছি। আপনি সেখানে গিয়ে স¦চক্ষে অবস্থা উপলব্ধি এবং যাচাই করে যদি অবস্থা বাস্তবিকই সন্তোষজনক মনে করেন, তাহলে আমার কাছে চিঠি লিখবেন। চিঠি পাওয়ার পর আমি কূফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবো, অন্যথায় আপনি সেখান থেকে চলে আসবেন।” উনার চাচাতো ভাই হযরত মুসলিম বিন আকীল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কূফায় যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে গেলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম তিনি কূফাবাসীদের কাছে একটি চিঠি লিখলেন-
“ওহে কূফাবাসী! পরপর তোমাদের অনেক চিঠি আমার কাছে পৌঁছেছে। তাই আমি আমার চাচাতো ভাই হযরত মুসলিম বিন আকীল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে আমার প্রতিনিধি করে তোমাদের কাছে পাঠালাম। তোমরা সবাই উনার হাতে বাইয়াত গ্রহণ কর এবং উনার খিদমত কর। তিনি তোমাদের মনোভাব যাচাই করে আমার কাছে চিঠি লিখবেন। যদি তোমাদের মনোভাব সন্তোষজনক হয়, তাহলে উনার চিঠি আসার পর পরই আমিও তোমাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে যাব।”

এভাবে চিঠি লিখে সীল মোহর লাগিয়ে হযরত মুসলিম বিন আকীল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দিলেন এবং উনাকে বিদায় দিলেন। হযরত মুসলিম বিন আকীল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দুই ছেলে হযরত মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইবরাহীম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারাও তৈরি হয়ে গেলেন। উনারা বলতে লাগলেন, “আব্বাজান! আমাদেরকে ফেলে যাবেন না, আমাদেরকেও সাথে নিয়ে যান।” হযরত মুসলিম বিন আকীল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ছেলেদের অন্তরে আঘাত দিতে চাইলেন না। তাই উনার ছেলেদ্বয়কেও সাথে নিয়ে নিলেন। অতঃপর তিনি মক্কা শরীফ থেকে মদীনা শরীফ গেলেন এবং আত্মীয়-স¦জনের সাথে দেখা করার পর কূফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। (ইনশআল্লাহ চলবে…Wink

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে