শবেবরাত কি বিদাহ নাকি ধর্মীও রীতি??????


শবেবরাত বা লাইলাতুল বরাত কি?????

আরবী মাসের ১৪ তারিখ দিবা গত রাতকে সাধারণ ভাবে শবেবরাত বা লাইলাতুল বরাত বলা হয়। ‘শবেবরাত’ শব্দটি ফারসী, এর অর্থ হিস্যা বা নির্দেশ পাওয়ার রাত্রী। ‘লাইলাতুল বরাত’ আরবী শব্দ যার অর্থ বিচ্ছেদ বা মুক্তির রাত্রি। বাংলাদেশে শবেবরাত ‘সৌভাগ্য রজনী’ হিসেবেই পালিত হয়।

মানুষের ধারনা এই রাতে তাদের আয়ু ও রুযী বৃদ্ধি হয় এবং গুনাহ মাফ হয়। মানুষের হায়াত মউতের ও ভাগ্যের খাতা লেখা হয়। অনেকে মনে করেন এই রাতে মৃতদের রুহু গুলো পৃথিবীতে নেমে আসে। আত্মীয়রা দলে দলে গুরস্থানে যায়। হালুয়া রুটির হিরিক পরে যায়। আগরবাতি, মোমবাতি ও আলোকসজ্জার ব্যাবস্থা করা হয়।

কিন্তু এই শবেবরাত কে আবার অনেকে বিদআত বলে গণ্য করে। তাই মুলত এই শবেবরাত নিয়ে আমরা দ্বিধা বিভক্ত।

এখন কোন কিছু নিয়ে মতবিরধ হলে আমাদের কি করতে হবে তা আল্লাহ্‌ পবিত্র কুরআন এ বলছে- “ হে মুমিনগণ, তুমরা আল্লাহ্‌র আনুগত্য করো, অনুগত্ত করো (তার) রাসুলের এবং সেসব লোকদের যারা তুমাদের মাঝে দায়িত্বপ্রাপ্ত, অতঃপর কোন ব্যাপারে তোমারা যদি একে অপরের সাথে মত বিরোধ হয়, তাহলে সে বিষয়টি (ফয়সালার জন্য) আল্লাহ্‌ তায়ালা ও তার রাসুলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও, যদি তুমরা আল্লাহ্‌র উপর এবং শেষ বিচারের উপর ঈমান এনে থাকো!” [Al Qur’an 4:59]

 

বিদআত কাকে বলে??

“Bid’at” (অভিধান) এর সাহিত্যিক অর্থ “নতুনত্ব, নতুনের প্রবর্তন”. মুলত যে বিশ্বাস বা পদক্ষেপ যা রাসুলুল্লাহ সঃ এর পবিত্র সময়কালীন অনুশীলন ছিল না কিন্তু তার পর চালু ছিল.”

কুরআন ও হাদিসের উপর ভিত্তি করে এবং ইমাম আশ-শাতিবি, ‘বিদাহ’- এর সংজ্ঞা দিয়েছে: ধর্মের নতুন উদ্ভাবিত উপায়, যা Shari’ah সঙ্গে অঙ্গীভূত (বৈধ) ব্যাবস্থা বোঝানো হয় এবং লক্ষ্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে অনুসরণ করা হয় যা বৈধ উপায় অর্জন হবে।

বিদাহ এই সংজ্ঞার উপর ভিত্তি করে, ধর্ম জ্ঞানীরা বলেন প্রত্যেক বিদাহ ইসলামে নিষিদ্ধ।

ইমাম মালিক বলেছেন, “যে কেহ, ইসলামের মধ্যে একটি নতুনত্ব প্রবর্তন করে, যা সে ভালো বলে বিবেচনা করে, সে যেন দাবি করল যে মুহাম্মদ (সাঃ) বার্তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে  বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। মহান আল্লাহর উক্তি পড়ুন,  “আজ আমি (আল্লাহ) তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করে দিলাম, আর তোমাদের উপর আমার (পতিশ্রুত) নেয়ামতও আমি (আল্লাহ) পূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের জীবন বিধান হিসাবে আমি (আল্লাহ)  ইসলামকেই মনোনীত করলাম।” অধ্যায় 5, সূরা আল Maidah, আয়াত 3

সুতরাং তখন যা কিছু ধর্মে ছিল তা এখনও আছে। এবং যা এই উম্মাহর প্রথম অংশে সংশোধিত হয়েছে তা ছাড়া এই উম্মাহর শেষ অংশ আর সংশোধিত করা হবে না”

একটি প্রয়োজনীয় সম্পুরক যে ভাল বিদাহ বলে কিছু নেই।যদি ভালো বিদাহ বলে কেও দাবি করে তবে হয় সেটা ভালনা, অথবা সেটা বিদাহ না।

চলুন তাহলে আমরা আল্লাহ্‌র পবিত্র কুরআন ও রাসুলের দিকে ফিরে যাই। নবী সঃ এর সময় শবেবরাত কি পালিত হত নাকি নাকি হতনা তা জানি।

Dr Zakir Naik তার এক বক্তব্যে বলেছেন- 15 শাবান রাতকে গুরুত্ব প্রদান, কবরস্থান জিয়ারত, অতিরিক্ত ইবাদাত করা  এবং  বিশেষভাবে 15th শাবান উপলক্ষ্যে অতিরিক্ত নফল নামাজ পরা, আলোক শয্যা করা, এটি মৃতদের ঈদ হতে বিবেচনা করা এবং 15 শাবান পুরো রাতের জন্য জাগ্রত থাকা এবং অন্যদের একই কাজ করতে উত্সাহিত করা—- এই সব বিদাহ (নতুনত্ব)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবীরা এরকম করেনি কিংবা এটা করতে মুসলমানদের আদেশ করেনি।

আমরা নবী এবং তার সাহাবীগন এর সমগ্র খাঁটি Seerah এর মধ্যে শবেবরাতের কোনো প্রমাণ খুঁজে পাই না। আল্লামা ইবনে Rajab আবু বকর তুরতশি, ইবনে Wazzah Qurtubi, সুউতি, Shokani ইত্যাদি  এর মতে – এই বিষয় সংক্রান্ত সমস্ত হাদিস দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য।

সাধারণত 15 শাবান রাতে ইবাদাত সমর্থন করে যে হাদীস উদ্ধৃত করা হয়, Muhaddiseen (হাদিস বিশারদ) অনুযায়ী তা Zaif (দুর্বল)  এবং কার্যে পরিণত করা হয় না.

যেমন, আয়েশা (R.A.) হতে বর্ণিত, “একদা রাত্রিতে আমি আল্লাহর রসূল (সঃ) না পেয়ে দেখি তিনি একাকি মদীনার বাক্বী গোরস্থানে। সেখানে তিনি একপর্যায়ে আমাকে (আয়েশা R.A.) কে লক্ষ করে বলেনঃ তুমি কি ভয় পাচ্ছ যে আল্লাহ্‌ এবং তার রাসুল সঃ তোমার সাথে অবিচার করবেন? আমি (আয়েশা) বল্লামঃ আল্লাহর রসূল, আমি ভাবছিলাম যে আপনি হয়ত অন্য বিবিদের কাছে গেছেন। আল্লাহর রসূল (সঃ) বললেনঃ মধ্য শাবানের দিবাগত রাতে আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং ‘কল্ব’ গোত্রের ছাগল সমুহর লোম সংখ্যার চাইতে অধিক সংখ্যক লোককে মাফ করে থাকেন।”  (Tirmidhi, Hadith No. 739; Sunan Ibn-I-Majah, Hadith No. 1389; Ahmad Vol. 6, 238)

ইমাম বুখারী ও Tirmidhi অনুযায়ী, উপরে উল্লিখিত হাদীসে দুটি জায়গায় বর্ণনাকারীর একটি ভাঙা শৃঙ্খল আছে এবং সেহেতু এটি দুর্বল হাদীস। এই হাদিসটিতে হাজ্জাজ ইবনে আরত্বাত নামক একজন রাবী আছেন। আল্লামাহ ইবনুল আরাবি (543H), তার ভাষ্যে উল্লেখ করেন, হাজ্জাজ ইবনে আরত্বাত নির্ভরযোগ্য নয়। Sunan -At-Tirmidhi, titled ‘Arizatul-Ahwazi’, Vol 3, Pg No. 216 adds: ‘….further

যাই হক, এটা প্রমানিত যে নবী সঃ আল্লাহ্‌র নির্দেশে বাক্বী কবরস্থান পরিদর্শন করেছেন ও আহলে বাক্বীদের জন্য দুয়া করেছেন, কিন্তু সঠিক কোন রাত্রে তিনি এটি করেছেন তার পরিষ্কার কোন প্রমান নেই। নবী সঃ এটা করেছেন আল্লাহ্‌র নির্দেশে,  সুতরাং নবী এই আইনের একটি ব্যতিক্রম ছিল.

আয়েশা (R.A.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন যে: “জিবরাইল (আঃ) আমার কাছে এসেছিল এবং বললঃ আপনার রব আপনাকে আদেশ করেছেন বাক্বী কবরস্থানে যেতে এবং তাদের জন্য দুয়া চাইতে।”

সুতরাং আমাদের কবরস্থানে যাওয়া ও মৃত বেক্তির জন্য দুয়া চাওয়ার অনুমতি আছে, কিন্তু এটি করার জন্য বিশেষ ধর্মীও/সদ্গুণ হবেন তা বিবেচনা করে একটি নির্দিষ্ট দিন বা রাত ঠিক করার অনুমতি নেই যদি না আমরা কুরআন বা সাহি হাদিস থেকে এরকম করার পক্ষে কোন প্রমান খুজে পাই।

আল্লামাহ ইবনুল আরাবি লিখেছেনঃ “১৫ই শাবান সমন্ধে নির্ভরযোগ্য কোন হাদিস নেই। যদিও কিছু মন্তব্যকারীদের দাবি করে, Surah Dukhan, chapter 44, verse 4ঃ ‘এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় ফয়সালা হয়।’। কিন্তু এটা সত্য নয়। কারন আল্লাহ শাবান মাসে কোরান নাযিল করেনি। কুরআন নাযিল হয়েছিল রমজান মাসে Surah Baqarah, chapter 2, verse 185 “রোযার মাস (এমন একটি মাস) যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে,”।  সুতরাং যে ব্যাক্তি উপরক্ত বিবৃতি দেয়, সে অসতর্কতার ফলে আল্লাহ (SWT) এর পবিত্র কুরআনের বানী লঙ্ঘন করল।” (Arizatul Ahwazi, Vol. 3, Page No. 217)

সহীহ মুসলিম হাদীস অনুযায়ী (Vol. 2, Hadith No. 1885Smile “অধিকাংশ মন্দ বিষয় তাদের হচ্ছে নতুনত্ব, এবং প্রত্যেক নতুনত্ব ভুল”

তাই মুসলমানদের সব নতুনত্ব এবং বিদাহ সম্বন্ধে হুঁশিয়ার থাকা উচিত।

আসুন বিদআত সম্পর্কিত কিছু তথ্য জানি।

Aisha (RA) বর্ণিত: আল্লাহর রাসুল(সঃ) বলেছেন ” যদি.কেও এমন কিছু প্রবর্তন করে যা আমাদের ধর্ম, নীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ,  তা প্রত্যাখ্যাত হয় ,” বুখারী, ভলিউম 3, বই 49, সংখ্যা 861।

ইমাম আলী ইবনে আবু তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত যে আল্লাহ এর নবী  (সাঃ) বলেছেন “যে কেউ একটি নতুনত্ব (ধর্মে) প্রবর্তন করে, তিনি এর জন্য দায়বদ্ধ হবে।  যে কেউ একটি নতুনত্ব প্রবর্তন করে বা নতুনত্ব (ধর্মে) প্রবর্তনকারী বেক্তিকে  যে আশ্রয় দেয়, তিনি আল্লাহ দ্বারা , তাঁর ফেরেশতা দ্বারা, এবং সমস্ত মানুষের দ্বারা অভিশপ্ত হয়।

যাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) দ্বারা বর্ণীত আছে,  নবী মোহাম্মদ (সাঃ) একটি নৈতিক বক্তৃতায় (খুতবা)  বলেছেন   “শ্রেষ্ঠ বানী আল্লাহর পবিত্র গ্রন্থ আল- কুরআন, এবং শ্রেষ্ঠ নির্দেশিকা হচ্ছে আমার (মুহাম্মদ সঃ)কর্তৃক প্রদত্ত। সবচেয়ে মন্দ বিষয় নতুনত্বএবং প্রতি নতুনত্যে  ত্রুটি থাকে ” (reported by Muslim, no. 867)

khutbah haajah সম্পর্কে হাদিস , যার একটি অংশ বলেছেন: ওই কাজ খারাপ যা সদ্য উদ্ভাবিত করা হয়; প্রত্যেক সদ্য উদ্ভাবিত বিষয় একটি নতুনত্ব এবং প্রতি নতুনত্ব বিপথে যাচ্ছে; এবং প্রত্যেক বিপথগামী জাহান্নামী; (Reported by al-Nisaa’i in al-Sunan, Salaat al-‘Eedayn, Baab kayfa al-Khutbah). Reports with the same meaning were narrated via Jaabir (may Allaah be pleased with him) by Ahmad, via al-‘Irbaad ibn Saariyah by Abu Dawud and via Ibn Mas’ood (may Allaah be pleased with him) by Ibn Maajah.

সবশেষে বলব নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী ও ইনশাআল্লাহ তিনি আমাদের সঠিক পথ দেখাবেন। আপনাদের কারো কাছে যদি কুরআন ও সাহি হাদিস থেকে শবেবরাতের পক্ষে কোন প্রমান থাকে তা আমাকে জানাতে পারেন।

[হাদিস ও কুরআনের অনুবাদ গুলো রেফারেন্স হিসাবে ব্যাবহারের পূর্বে কুরআন ও হাদিসের সাথে মিলিয়ে নেওয়া উত্তম]

Md. Khaledul Islam.

SKYPE- Khaledul.islam3

Email/ facebook- khaledul.islam1@gmail.com

Dhaka-1212. Bangladesh.    

Views All Time
3
Views Today
10
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

৪১টি মন্তব্য

  1. অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী। কাফির নায়েক (ড. জাকির নায়েক) থেকে যারা দ্বীন শিক্ষা করার চেষ্টা করবে তারা প্রকাশ্য গোমরহীতে হাবুডুবু খাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ সে পরিপূর্ণ দ্বীন ইসলাম অনুসারী না এবং মানুষকে পরিপূর্ণ দ্বীন ইসলাম অনুসরণে উৎসাহিত করেনা। এছাড়াও সে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিকৃতি ঘটিয়ে থাকে। মানুষকে সঠিক দ্বীন থেকে ফিরিয়ে রেখে সত-মিথ্যার সংমিশ্রন ঘটানোই ইহুদী নিয়ন্ত্রিত এসব কাফির নায়েকদের ডিউটি। ইসলাম ধর্মের অপরিহার্য অংশ পবিত্র শবে সম্পর্কে তার উপরোক্ত বক্তব্যই এর প্রমাণ। উপরোক্ত দলিলগুলোর অপব্যখ্যা করেছে, মিথ্য মনগড়া ব্যখ্যা করেছে সে। পক্ষান্তুরে কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ উনাদের অসংখ্য যায়গায় পবিত্র শবে বরাত সম্পর্কে বলা হয়েছে।

    সঠিক ইসলাম জানতে হলে, কোন বিতর্কিত ব্যক্তিকে অনুসরণ না করে, সত্য মিথ্যা যাচাই করুন। এজন্য সবুজ বাংলা ব্লগের সাথে লেগে থাকুন। প্রশ্ন করুন। সঠিক দলিল-আদিল্লাহ পাবেন ইনশাআল্লাহ। আর কাফির নায়েক সম্পর্কেও তথা তার হাক্বিকত জানতে পারবেন এখানেই।
    শবে বরাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন-

    • Khaledul Islam says:

      ভাই, লেখাটা পরার জন্য ধন্যবাদ।
      ১। জাকির নায়েক কে যে কাফির বললেন এর সপক্ষে প্রমান দেখান। বিভেদ সৃষ্টি করা উচিত নয়।
      “ তুমরা সবাই মিলে আল্লাহ্‌র রশি কে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো এবং কখনো পরস্পর বিচ্ছিন্ন হইয়ো না,”
      [Al Qur’an 3:103]
      “হে মুমিনগণ, তুমরা আল্লাহ্‌র আনুগত্য করো, অনুগত্ত করো (তার) রাসুলের” [Al Qur’an 4:59]
      ২। “অতঃপর কোন ব্যাপারে তোমারা যদি একে অপরের সাথে মত বিরোধ হয়, তাহলে সে বিষয়টি (ফয়সালার জন্য) আল্লাহ্ তায়ালা ও তার রাসুলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও,” [Al Qur’an 4:59]সুতরাং নিজেকে সঠিক প্রমানের জন্য আপনাকে কুরআন ও হাদিস থেকে শবেবরাত প্রমান করতে হবে কোন জ্ঞানীদের বই বা মতবাদ/মন্তব্য থেকে নয় এবং প্রমান করতে হবে রসুল সঃ ও তার সাহাবীরা শবেবরাত পালন করেছেন। তাছারা আপনার লেখায় reference দেওয়া নেই যা দারা আমি চেক করতে পারতাম।
      ৩। আমার লেখায় শুধু জাকির নায়েকের মন্তব্য নেই আরও অনেকের আছে। কিন্তু মুলত কুরআনের ও হাদিসের কথা আছে।

    • ভারতের তথাকথিত জাকির নায়েক ওরফে জোকার নায়েক একজন উচুদরের কাফির।তার িএতা কুফরী বক্তব্য আছে যে এখন সবগুলোর শিরোরাম দেয়াও সম্ভব নয়। তবে কারবালার বিষয়ে তার একটি কুফরী আক্বীদার নমুনা এখানে তুলে ধরা হল- সে বিভিন্ন সময় কারবালার জিহাদকে “Political Battle” বলে উল্লেখ করেছে। অথচ ইতিহাস ভিন্ন কথা বলে। ইতিহাস মতে, হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হক্বকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিজের জীবন কারবালার ময়দানে দান করে শাহাদাৎ বরণ করেছেন। জোকার নায়েক কারবালার ময়াদানের ঘৃনিত পশু ইয়াজিদের নামের শেষে “রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু” উচ্চারণ করে থাকে। অথচ কুরআন শরীফ-এর সূরা নিসার ৯৩ নম্বর আয়াত শরীফ-এর ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যাক্তি স্বেচ্ছায় কোন মু’মিনকে কতল করে সে জাহান্নামী।” আর বুখারী ও মুসলিম শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, মুসলমানকে গালি দেয়া ফাসিকী ও কতল করা কুফরী।” কাজেই সাধারণ মু’মিন মুসলমানকে কতল করা যদি কুফরী ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ হয় তাহলে আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর লখতে জিগর ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুসহ আহলে বাইত-এর অন্যান্য সম্মানিত সদস্য ও সঙ্গীগণকে যারা শহীদ করেছে তাদের ব্যাপারে বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, তারা সকলেই কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী। কারবালার নরপশু ইয়াজিদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি-এর সাঙ্গপাঙ্গ ও বর্তমানে ইয়াজিদের কায়িমক্বাম জোকার নায়েকের উপর অনন্ত কাল ধরে আল্লাহ পাক-এর লা’নত বর্ষিত হোক।

    • Khaledul Islam says:

      @ তাজদীদ- ভাই আপনি কি জানেননা, আপনি জাকে কাফির বলছেন সে যদি কাফির না হয় তাহলে আপনি কাফির হয়ে যাবেন?? আশাকরি আপনি অনেক ভালো একজন মুসলমান, তাই নিজের আমলকে হুমকির সম্মুখীন করবেন না। ডাঃ জাকির নায়েক একজন মানুষ এবং তিনি সব বিষয়ে ঠিক নাও হতে পারেন। প্রতিটি মানুষ ই কোন না কোন ব্যপারে ভুল করে। আর তিনি সবসময়ই এরকম বলেন যে, তার কথা যদি কুরআন ও হাদিস বিরোধী হয়, তাহলে তার ঐ কথার কোন মূল্য নেই। নাকি আপনি ওইসব পীর বা মুরিদদের মত যে সব পীর ও তার মুরীদরা মুসলমান আর সবাই কাফের??
      আর আপনি কাউকে কাফের ঘোষণা দেয়ার যোগ্য কিনা তাতো আমরা জানিই না। জাকির নায়েক সব সময়ই বলে যেঃ আমার কথা কুরান হাদীসের বিরুধ্বে গেলে তা বর্জন করুন। তিনিও একজন মানুষ, তিনি জানেন ভূল তারো হতে পারে।
      জাকির নায়েকর কথায় বহু মানুষ মুসলমান হয়েছে। এখন বলেন আপনার অথবা আপনার পীর বাবার কথায় কয়জন মুসলমান হয়েছে? বরং পীর ও মাজার পুজারীদের ফান্দে পরে মানুষ তাদের ঈমান হারাচ্ছে।

    • শবে বরাত ও শরীয়ত ভিত্তিক প্রমাণ

      লেখাটি ভাল করে পড়ুন। আপনার সকল ভুলে কেটে যাবে।

    • Khaledul Islam says:

      আপনার লেখা পরলাম। আপনার লেখাটা সুন্দর গুছানো, সাথে reference উল্লেখ করলে check সহজ হতো।
      এত বরকতময় রাত, অথচ রাসুল সঃ ও তার সাহাবীদের এই রাত পালনের অকাট্য প্রমান নেই।
      আপনি বলেছেন ‘কুরআন শরীফ-এর ভাষায় ‘শবে বরাতকে’ ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ বা বরকতময় রজনী’ এটা ভুল, আপনারা মনগড়া ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। কুরআনের কোন শব্দের কারনে আপনার এরকম মনে হল???কারন আল্লাহ শাবান মাসে কোরান নাযিল করেনি। কুরআন নাযিল হয়েছিল রমজান মাসে Surah Baqarah, chapter 2, verse 185 আছে “রোযার মাস (এমন একটি মাস) যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে,”। সুতরাং যে ব্যাক্তি উপরক্ত বিবৃতি দেয়, সে অসতর্কতার ফলে আল্লাহ (SWT) এর পবিত্র কুরআনের বানী লঙ্ঘন করল।”

      আলোকসজ্জা ও আতশবাজি নিয়ে আমরা সবাই একমত, তবে আপনার উদাহারন টা দেখে মনে হচ্ছে …………।। কুরআন ও হাদিসের বাইরে কোন বিষয় বিশ্বাস করতে আমরা বাধ্য নই।
      আপনি বাক্বী সমন্ধে যে হাদিসটি (Tirmidhi, Hadith No. 739; Sunan Ibn-I-Majah, Hadith No. 1389; Ahmad Vol. 6, 238) বলেছেন, ইমাম বুখারী ও Tirmidhi অনুযায়ী, উপরে উল্লিখিত হাদীসে দুটি জায়গায় বর্ণনাকারীর একটি ভাঙা শৃঙ্খল আছে এবং সেহেতু এটি দুর্বল হাদীস। এই হাদিসটিতে হাজ্জাজ ইবনে আরত্বাত নামক একজন রাবী আছেন। আল্লামাহ ইবনুল আরাবি (543H), তার ভাষ্যে উল্লেখ করেন, হাজ্জাজ ইবনে আরত্বাত নির্ভরযোগ্য নয়। Sunan -At-Tirmidhi, titled ‘Arizatul-Ahwazi’, Vol 3, Pg No. 216 adds: ‘….further
      যাই হক, এটা প্রমানিত যে নবী সঃ আল্লাহ্র নির্দেশে বাক্বী কবরস্থান পরিদর্শন করেছেন ও আহলে বাক্বীদের জন্য দুয়া করেছেন, কিন্তু সঠিক কোন রাত্রে তিনি এটি করেছেন তার পরিষ্কার কোন প্রমান নেই। নবী সঃ এটা করেছেন আল্লাহ্র নির্দেশে, সুতরাং নবী এই আইনের একটি ব্যতিক্রম ছিল.
      আপনি ভাগ্য সমন্ধে বলেছেন তার বিপরিতে দেখুন রসুল সঃ বলেছেন “আসমান সমূহ ও জমীন সৃষ্টির পঞ্ছাশ হাযার বৎসর পূর্বেই আল্লাহ তাআলা স্বীয় মাখলুকাতের ভাগ্য লিখে রেখেছেন” (মুসলিম- ৬৬৯০)।
      আবু হুরায়রাহ (রাঃ) কে রসুল সঃ বলেন “তুমার ভাগ্যে যা আছে তা ঘটবে, এ বিষয়ে কলম শুকিয়ে গেছে (অর্থাৎ আর কোন পরিবর্তন হবেনা)”
      সুতরাং শবেবরাতে ভাগ্য লিপিবদ্ধ হয় বলে যে ধারনা আছে তার কোন ভিত্তি সঠিক নেই বরং লাইলাতুল বরাত বা ভাগ্য রজনী নামটি ই সম্পূর্ণ বানোয়াট, বানোয়াট, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। ইসলামী শরিয়তে এই নামের কোন অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়না।
      আপনি আমল নিয়ে বলেছেন। আমলের ব্যাপারে অনেকে যে হাদিস বলে তা হচ্ছে ‘আলী রাঃ হতে বর্ণিত, রাসুল সঃ এরশাদ করেন, “মধ্য শাবান এলে তুমরা রাত্রিতে ইবাদত কর ও দিনে ছিয়াম পালন কর। কেননা আল্লাহ্ ওই দিন সূর্যাস্তের পরে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন ও বলেন, আছ কি কেও ক্ষমা পারথনাকারী, আমি তাকে ক্ষমা কোরে দিব; আছো কি কেও রুযী প্রার্থী, আমি তাকে রুযী দিব। আছো কি কোন রোগী, আমি তাকে আরোগ্য দান করব”।’
      এই হাদিসটির সনদে ‘ইবনু আবী সাব্রাহ’ নামে একজন রাবী আছেন, যিনি হাদিস জালকারী। সে কারনে হাদিছে মুহাদ্দিছীনের নিকট ‘যাঈফ’।
      দিতীয়তঃ হাদিসটি সাহিহ হাদিছের বিরোধী হয়ায় অগ্রহণযোগ্য। কেননা এই মরমে প্রসিধ্ব্য ‘হাদীসে নুযূল’ ইবনু মাজাহার ৯৮ পৃষ্ঠায় মা আয়েশা (রাঃ) হতে (হা/১৩৬৬) এবং বুখারী শরীফের (মীরাট ছাপা ১৩২৮ হিঃ) ১৫৩, ৯৩৬, ১১৬ পৃষ্ঠায় এবং ‘কুতুবে সিত্তাহ’ সহ অন্যান্য হাদিস গ্রন্থে সর্বমোট ৩০জন সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে। সেখানে মধ্য শাবান না বলে ‘প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ’ বলা হয়েছে। অতএব ছাহিহ হাদিছের বরাাাা অনুযায়ী আল্লাহপাক প্রতি রাতের তৃতীয় প্রহরে অবতরন করে বান্দাকে ফজরের সময় পর্যন্ত উপরোক্ত আহবান করে থাকেন; শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ভাবে মধ্য শাবানের একটি রাত্রে নয়।
      মাথা ব্যাথা হয়ে গেছে, আপনার এখনো ভুল না ভেঙ্গে থাকলে দুয়া করুন আল্লাহ্ যেন আমাদের হেদায়েত দান করেন, আমীন।

  2. বক্তাবক্তা says:

    @ Khaledul Islam, আপনি লিখেছেন, ‍”আমরা নবী এবং তার সাহাবীগন এর সমগ্র খাঁটি Seerah এর মধ্যে শবেবরাতের কোনো প্রমাণ খুঁজে পাই না। আল্লামা ইবনে Rajab আবু বকর তুরতশি, ইবনে Wazzah Qurtubi, সুউতি, Shokani ইত্যাদি এর মতে – এই বিষয় সংক্রান্ত সমস্ত হাদিস দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য।”
    আপনি আপনার বক্তব্যে মধ্যে পরস্পর স্ববিরোধী বক্তব্য প্রদান করেছেন। প্রথমে বলছেন- “শবেবরাতের কোনো প্রমাণ খুঁজে পাই না” আবার পরবর্তীতে বলছেন- “এই বিষয় সংক্রান্ত সমস্ত হাদিস দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য”। প্রথমে প্রমাণ খুঁজে পাননি বললেন পরে আবার বলছেন হাদীছ শরীফ দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য। এখন যদি ধরেও নেই উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য তাহলেও আপনার প্রথম দাবী অর্থাৎ “শবেবরাতের কোনো প্রমাণ খুঁজে পাই না” এর প্রেক্ষিতে আপনাকে সুস্পষ্ট মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা যায়। আর মিথ্যাবাদীদের বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কারামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
    لعنت الله على الكذبين
    অর্থ: “মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহ পাক উনার লা’নত।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)
    অর্থাৎ মিথ্যাবাদীরা কখনোই কামিয়াব হবেনা, তাদের হালাকী বা ধ্বংস অনিবার্য।
    মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন-
    والله يشهد ان المنافقين لكاذبون
    অর্থাৎ “মহান আল্লাহ পাক তিনি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, নিশ্চয়ই মুনাফিকরা মিথ্যাবাদী।” (পবিত্র সূরা মুনাফিকুন শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১)
    সুতরাং যারা বলে শবে বরাতের কোনো প্রমাণ খুঁজে পায় না তারা প্রত্যেকেই মিথ্যাবাদী অর্থাৎ কাযযাব, এদের ধ্বংস অনিবার্য।
    আর দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ সম্পর্কে আলোচনার প্রয়োজন বোধ করছি। তাই যৎকিঞ্চিত আলোকপাত করা হলো-
    দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ : যে হাদীছ শরীফ উনার রাবী হাসান হাদীছ শরীফ উনার রাবীর গুণ সম্পন্ন নন তাকে দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ বলা হয়। মূলত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন কথাই দ্বয়ীফ নয় বরং রাবীর দুর্বলতার কারণে হাদীছ শরীফকে দ্বয়ীফ বলা হয়।
    দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ উনার দুর্বলতা কম বা বেশী হতে পারে। কম দুর্বলতা হাসানের নিকটবর্ত্তী আর বেশি হতে হতে মওজুতে পরিণত হতে পারে। এ ধরনের হাদীছ শরীফ আমলে উৎসাহিত করার জন্য বর্ণনা করা উচিৎ। তবে আইন প্রণয়নে গ্রহনযোগ্য নয়।
    এ প্রসঙ্গে হযরত ইমাম ইবনে হুমাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ যা মওজু নয় তা ফযীলতের আমল সমূহে গ্রহণযোগ্য” (ফতহুল ক্বাদীর)
    বিখ্যাত মুহাদ্দিছ ও ফক্বিহ হযরত মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “সকলেই একমত যে দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ ফযীলত হাছিল করার জন্য আমল করা জায়িয আছে।” (আল মওজুআতুল কবীর, ১০৮ পৃষ্ঠা)
    উপরোক্ত বর্ণনার দ্বারা প্রমাণিত হল যে, দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ ফযীলত হাছিল করার জন্য আমল করা জায়িয আছে। তবে দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ দ্বারা সাব্যস্ত সকল আমল মুস্তাহাব।
    যেমন : আল্লামা ইব্রাহিম হালবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার গুলিয়াতুল মুস্তামালী ফি শরহে মুনিয়াতুল মুছাল্লি কিতাবে উল্লেখ করেছেন, “গোসলের পরে রূমাল (কাপড়) দিয়ে শরীর মোছা মুস্তাহাব। হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত আছে – মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এক টুকরা কাপড় (রূমাল) ছিল যা দিয়ে তিনি ওযুর পরে শরীর মুবারক মুছতেন।” (তিরমিযী শরীফ)

    এটা দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ। কিন্তু ফযীলত হাছিল করার জন্য আমল করা যাবে। হযরত মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার আল মওজুআতুল কবীরের ১০৮ পৃষ্ঠায় বলেন, “সকলে একমত যে দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ ফযীলত হাছিল করার জন্য আমল করা জায়িয আছে। এজন্য আমাদের আইম্মায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেছেন, ওযুর মধ্যে গর্দান মসেহ্ করা মুস্তাহাব।” তার মানে ওযুর মধ্যে গর্দান মসেহ্ করা – এটি দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ।
    সুতরাং যারা শবে বরাতের হাদীছ শরীফ সংক্রান্ত কিছু দলীলকে দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ বলে শবে বরাত পালন করা বিদায়াত বলে তাদের এধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভূল।

    বিদয়াত বলতে যদি- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ার যমীনে অবস্থানকালীন সময়ে যে বিশ্বাস বা পদক্ষেপের অনুশীলন ছিল না কিন্তু তারপর চালু হয়েছে বুঝায়, তাহলে শয়তানের উস্তাদ কাফির নালায়েক ছবি উত্তোলন ও বেপর্দা হওয়ার মাধ্যমে হারাম টিভি চ্যালেনে অনুষ্ঠান যে করে সেটা কি বিদয়াত হয় না? ইসলামী শরীয়ত উনার বিধান মুতাবিক তো ছবি তোলা ও বেপর্দা হওয়া এবং কাফির-মুশরিকদের অনুসরণে তাদের মতো পোশাক পরিধান করা সম্পূর্ণ হারাম তাহলে সে এ হারাম কাজগুলো করার পরও পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কে তার বক্তব্য কি করে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
    আর বিদয়াত মানেই পরিত্যাজ্য নয়। আর তাই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
    مَنْ سَنَّ فِى الْاِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهٗ اَجْرُهَا وَاَجْرُ مَنْ عَمَلَ بِـهَا مِنْ بَعْدِهٖ.
    অর্থ : “যে কেউ দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে উত্তম কোন পদ্ধতি উদ্ভাবন করবে, তার জন্য সে ছওয়াব পাবে এবং তারপরে যারা এ পদ্ধতির অনুসরণ করবে, তার ছওয়াবও সে পাবে।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, শরহে নববী শরীফ, ফতহুল মুলহিম শরীফ, মিরকাত শরীফ, আশয়াতুল লুময়াত শরীফ, শরহুত্ ত্বীবী শরীফ)
    সব বিদয়াত যদি পরিত্যাজ্য হতো তাহলে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ কাগজে কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ করা; পবিত্র কুরআন শরীফ উনার যবর, যের, পেশ দেয়া; মাদ্রাসা নির্মাণ করা; নাহু ছরফ; উছূল ইত্যাদি প্রয়োজনীয় কিতাব লিখা ও পড়া; পোলাও, বিরিয়ানী, বুট, মুড়ি, পিঁয়াজু ইত্যাদি খাদ্য খাওয়া; ট্রেন, মোটরগাড়ী, প্লেন ইত্যাদি যানবাহনে চড়া বিদয়াতের অন্তর্ভুক্ত হতো।
    পবিত্র সূরা দুখান শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারাকাহ সম্পর্কে রঈসুল মুফাস্সিরীন বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন-
    قد اخبر الله سجانه عن هذه الليلة المباركة التى هى ليلة النصف من شعبان انه تعالى يفرق فيها كل امر من اموره المحكمة.
    অর্থ : “মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘লাইলাতুম্ মুবারাকাহ্ অর্থাৎ বরকতময় রাত্রি বলতে শা’বান মাসের মধ্য রাত অর্থাৎ শবে বরাতকে বুঝিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি এ রাতে সকল প্রজ্ঞাসম্পন্ন বিষয়ের ফায়ছালা করে থাকেন।” (ছফওয়াতুত্ তাফাসীর)
    পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
    عن حضرت محمد بن الميسرة بن الاخفش رحمة الله عليه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال يقطع الاجال من شعبان الى شعبان حتى ان الرجل لينكح ويولد له ولقد اخرج اسمه فى الموتى.
    অর্থ : “হযরত মুহম্মদ ইবনে মাইসারা ইবনে আখফাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, শা’বান মাসে (শবে বরাতে) পরবর্তী শাবান মাস পর্যন্ত মৃত্যুর ফায়ছালা করা হয়। এমনকি লোকেরা যে বিবাহ করবে এবং ওই বৎসর তার থেকে সন্তান জন্মগ্রহণ করবে তার তালিকাও প্রস্তুত করা হয় এবং ওই বৎসরে মৃত্যুদের নামেরও তালিকা প্রস্তুত করা।
    পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
    عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه ان الله يقضى الاقضية فى ليلة النصف من شعبان ويسلمها الى اربابها فى ليلة القدر.
    অর্থ : “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে, হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, অর্ধ শাবানের রাতে তথা শবে বরাতে আল্লাহ পাক তিনি যাবতীয় বিষয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন আর ক্বদর রাতে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বা কার্যকরী করার জন্য তালিকা অর্পণ করেন বাস্তবায়নকারী ফেরেশতাগণের হাতে।” (তাফসীরে খাযিন ৪র্থ খণ্ড, ১১২ পৃষ্ঠা)।
    পবিত্র সূরা দু’খান শরীফ উনার ৪ নম্বর আয়াত শরীফ فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ। এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে يُفْرَقُ শব্দের অর্থ ফায়সালা করা। প্রায় সমস্ত তাফসীরে সকল মুফাসসিরীনে কিরামগণ يُفْرَقُ (ইয়ুফরাকু) শব্দের তাফসীর করেছেন-
    ইয়ুকতাবু অর্থাৎ লেখা হয়,
    ইয়ুফাছছিলু অর্থাৎ ফায়সালা করা হয়,
    ইয়ুতাজাও ওয়াযূ অর্থাৎ বন্টন বা নির্ধারণ করা হয়,
    ইয়ুবাররেমু অর্থাৎ বাজেট করা হয়,
    ইয়ুকদ্বিয়ু অর্থাৎ নির্দেশনা দেওয়া হয়

    কাজেই ইয়ুফরাকু-এর অর্থ ও তার ব্যাখার মাধ্যমে আরো স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, লাইলাতুম মুবারাকাহ দ্বারা শবে বরাত বা ভাগ্য রজনীকে বুঝানো হয়েছে। যেই রাত্রিতে সমস্ত মাখলুকাতের ভাগ্যগুলো সামনের এক বছরের জন্য লিপিবদ্ধ করা হয়, আর সেই ভাগ্যলিপি অনুসারে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার লাইলাতুল ক্বদর বা শবে ক্বদরে তা চালু হয়। এজন্য শবে বরাতকে লাইলাতুত্ তাজবীজ অর্থাৎ ফায়সালার রাত্র এবং শবে ক্বদরকে লাইলাতুল তানফীয অর্থাৎ নির্ধারিত ফায়সালার কার্যকরী করার রাত্র বলা হয়।(তাফসীরে মাযহারী,তাফসীরে খাযীন,তাফসীরে ইবনে কাছীর,বাগবী, কুরতুবী,রুহুল বয়ান,লুবাব)
    আর তাই হাক্কানী আউলিয়ায়ে কিরাম তাফসীর করেন যে, পবিত্র বরাত উনার রাত্রি মুবারক উনার মধ্যে ফায়ছালা করা হয়- পবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে পবিত্র লওহে মাহফূয থেকে পবিত্র বাইতুল ইজ্জত শরীফ উনার মধ্যে নাযিল করা হবে আর পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার পবিত্র ক্বদর উনার রাত্রি মুবারক উনার মধ্যে সম্মানিত লওহে মাহফুজ থেকে একসাথে পূর্ণ কালামুল্লাহ শরীফ সম্মানিত বাইতুল ইজ্জত মুবারক যা সামায়ে দুনিয়া অর্থাৎ পৃথিবীর আকাশে অবস্থিত সেই ঘর মুবারক-এ নাযিল করেন। অত:পর ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি অর্থাৎ সোমবার শরীফ থেকে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ পর্যায়ক্রমে যমীনে নাযিল শুরু হয়। যা ২৩ বছরব্যাপি নাযিল হয়ে পূর্ণতা লাভ করে।

    সুতরাং মহান আল্লাহ পাক যে সুরা দু’খান-এ বলেছেন, ” আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি ” এর ব্যাখ্যামুলক অর্থ হল ” আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিলের ফায়সালা করেছি “। আর সুরা ক্বদর-এ ” আমি ক্বদরের রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি ” এর ব্যাখ্যামুলক অর্থ হল ” আমি ক্বদরের রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি “।

    • Khaledul Islam says:

      @ বক্তা- ভাই আমি ‘খাটি, authentic’ শব্দটি ব্যবহার করেছি, আপনি মনে হয় খেয়াল করেননি। তাই স্ববিরোধী বক্তব্য নেই।
      @ ভাই আপনার ‘দ্বয়ীফ হাদীছ’ সম্বন্ধে লেখাটা ভালো লাগলো। শবেবরাতে সব চাইতে বেশি যে ইবাদত করা হয়, তার মধ্যে নামায ও রোজা অন্যতম, এবং এ দুটোই আমাদের জন্য ফরয। আমরা জানি, পবিত্র শাবান মাসে নবী সঃ অন্য মাসের চাইতে বেশি রোযা রাখতেন। কিন্তু কোন সাহি হাদিসে বিশেষ কোন দিন বা রাতের উপর তিনি বেশি গুরত্ত আরোপ করেছেন কি????
      বিদাতের সংজ্ঞা যদি হয় “ধর্মের নতুন উদ্ভাবিত উপায়, যা Shari’ah সঙ্গে অঙ্গীভূত (বৈধ) ব্যাবস্থা বোঝানো হয় এবং লক্ষ্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে অনুসরণ করা হয় যা বৈধ উপায় অর্জন হবে।”। তাহলে কোন একটি বিশেষ দিনে/রাতে/তারিখে অনেক বেশি লাভের আশায় এগুলো করা হচ্ছে বিদআত যদি ওই দিনটি সম্বন্ধে কুরআন ও হাদিসে খাটি কোন প্রমান না থাকে।
      দেখুন আজ শবেবরাত কে প্রমান করার জন্য কুরআনের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। শবেকদর কে শবেবরাত বলা হচ্ছে।

      @ আপনি বিদাতের সপক্ষে যে যুক্তি উপস্থাপন করলেন তা ঠিক নয়। আর ভাল বিদাহ বলে কিছু নেই।যদি ভালো বিদাহ বলে কেও দাবি করে তবে হয় সেটা ভালনা, অথবা সেটা বিদাহ না। কারন আমার লেখায় অনেক সাহি হাদিস উল্লেখ করেছি যাকে বিদাতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মহান আল্লাহর উক্তি পড়ুন, “আজ আমি (আল্লাহ) তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করে দিলাম, আর তোমাদের উপর আমার (পতিশ্রুত) নেয়ামতও আমি (আল্লাহ) পূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের জীবন বিধান হিসাবে আমি (আল্লাহ) ইসলামকেই মনোনীত করলাম।” অধ্যায় 5, সূরা আল Maidah, আয়াত 3। সুতরাং তখন যা কিছু ধর্মে ছিল তা এখনও আছে। এবং যা এই উম্মাহর প্রথম অংশে সংশোধিত হয়েছে তা ছাড়া এই উম্মাহর শেষ অংশ আর সংশোধিত করা হবে না”। আর আল্লহ (SWT) যা যতটুকুকে পরিপূর্ণ বলেছেন তার চাইতে বেশি ভালো আর কি কিছু হতে পারে??
      টিভিতে ইসলামের দাওয়াত দেয়া; কুরআন ও হাদিস বই আকারে লিপিবদ্ধ করা; পবিত্র কুরআন শরীফ উনার যবর, যের, পেশ দেয়া; মাদ্রাসা নির্মাণ করা; নাহু ছরফ; উছূল ইত্যাদি প্রয়োজনীয় কিতাব লিখা ও পড়া; পোলাও, বিরিয়ানী, বুট, মুড়ি, পিঁয়াজু ইত্যাদি খাদ্য খাওয়া; ট্রেন, মোটরগাড়ী, প্লেন ইত্যাদি যানবাহনে চড়া সম্বন্ধে যে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন তা ঠিক না। টিভি, ক্যামেরা, ট্রেন, মোটরগাড়ী, প্লেন বিজ্ঞান এর বিষয় ধর্মের নয়। আর টিভি পর্দার সামনে ইসলামের দাওয়াত দিলে স্বাভাবিক দাওয়াতের চাইতে শুধু প্রযুক্তি ব্যাবহারের কারনে অতিরিক্ত ছওয়াব পাওয়া যাবে এরকম কোন ব্যাপার নেই। যেমন নবী সঃ গাড়ী চালাননী, তাই বলে আমরা গাড়ী চালাতে পারবোনা তা ঠিক না। কারন গাড়ির সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই। কারন গারী চালালে বেশি সওয়াব পাবে এরকম কোন বিধান নেই। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন ও হেদায়েত দান করুন।

  3. আচ্ছা খালেদ সাহেব! ছবি তোলা ও বেপর্দা হওয়া কি? একটু বলবেন কি?

  4. @ Khaledul Islam,

    * আপনার “বিদআত কাকে বলে?? অংশের দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে ড. কাফির নায়েক একটা কাট্টা বিদায়াতী। কারণ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি কখন ছবি,ভিডিও ইত্য্যাদি হারাম কাজ করেনি বরং এগুলোকে হারাম ঘোষণা করেছেন। কিন্তু ডা. কাফির নায়েক তো সারাদিন টিভিতে অনুষ্ঠান করে বেড়ায়। এ ব্যাপারে আপনি কি বলেন?

    • Khaledul Islam says:

      ভাই আপনি কি জানেননা, আপনি জাকে কাফির বলছেন সে যদি কাফির না হয় তাহলে আপনি কাফির হয়ে যাবেন?? আশাকরি আপনি অনেক ভালো একজন মুসলমান, তাই নিজের আমলকে হুমকির সম্মুখীন করবেন না। ডাঃ জাকির নায়েক একজন মানুষ এবং তিনি সব বিষয়ে ঠিক নাও হতে পারেন। প্রতিটি মানুষ ই কোন না কোন ব্যপারে ভুল করে। আর তিনি সবসময়ই এরকম বলেন যে, তার কথা যদি কুরআন ও হাদিস বিরোধী হয়, তাহলে তার ঐ কথার কোন মূল্য নেই। নাকি আপনি ওইসব পীর বা মুরিদদের মত যে সব পীর ও তার মুরীদরা মুসলমান আর সবাই কাফের??
      আর আপনি কাউকে কাফের ঘোষণা দেয়ার যোগ্য কিনা তাতো আমরা জানিই না। জাকির নায়েক সব সময়ই বলে যেঃ আমার কথা কুরান হাদীসের বিরুধ্বে গেলে তা বর্জন করুন। তিনিও একজন মানুষ, তিনি জানেন ভূল তারো হতে পারে।
      বেপর্দা দ্বারা কি বোঝাতে চাচ্ছেন???

      ছবি তোলা নিচের ৩টি আয়াত চেক করতে পারেন।
      (Chapter- 7, Al-Araf – 148)- এই আয়াতে দেখা যায়, নবী মুসা (আঃ) এর অনুপস্থিতিতে কিছু লোক একটা বাছুরের ছবি তৈরি করে ও পূজা করে। সুতরাং এটা ভূল।
      (Chapter-21, Al-Ambiya – 51-54)- এই আয়াতে দেখা যায়, নবী ইব্রাহীম (আঃ) এর সময় ছবি তৈরি করে করে তার পূজা করতো। সুতরাং এটা ভূল।
      & (Chapter 34, Saba – 13)- এই আয়াতে দেখা যায়, নবী সুলায়মান (আঃ) এর সময় কিছু লোক নবীর আদেশে ছবি তৈরি করে। এগুলো ঠিক ছিল কারন এগুলো পূজার জন্য তৈরি করা হয়নি।
      সুতরাং ছবি তোলার উদ্দেশ্য এখানে মুখ্য। যদি ভালো উদ্দেশ্যে ছবি তুলা হয়, তাহলে তা ঠিক, আর যদি খারাপ উদ্দেশ্যে/ পূজার জন্য করা হয়, তাহলে তা ভুল।
      বর্তমানে আমাদের প্রত্যেক ক্ষেত্রে ছবি দরকার, যেমন- শিক্ষা, চিকিৎসা, ভ্রমন etc. এর পক্ষে আপনি কিছু হাদিস ও পাবেন।

  5. @ Khaledul Islam, জয়ীফ হাদীছ শরীফ দ্বারা যদি আমল করা না যায় তাহলে অযূর সময় ঘাড় মাছেহ করেন কেন?

  6. পড়ে দেখবেন।
    http://shobujbanglablog.net/50259.html

    কাফির নায়েক যে গোমরাহ, সেটা এবার প্রমাণ হয়ে যাবে

    • Khaledul Islam says:

      ভণ্ড আধ্যাত্মিক পীর, আওলিয়া ও মাজার পূজারীরা আপনার মত মন্তব্য করে। আপনি কি জানেননা, আপনি জাকে কাফির বলছেন সে যদি কাফির না হয় তাহলে আপনি কাফির হয়ে যাবেন?? আশাকরি আপনি অনেক ভালো একজন মুসলমান, তাই নিজের আমলকে হুমকির সম্মুখীন করবেন না। ডাঃ জাকির নায়েক একজন মানুষ এবং তিনি সব বিষয়ে ঠিক নাও হতে পারেন। প্রতিটি মানুষ ই কোন না কোন ব্যপারে ভুল করে। আর তিনি সবসময়ই এরকম বলেন যে, তার কথা যদি কুরআন ও হাদিস বিরোধী হয়, তাহলে তার ঐ কথার কোন মূল্য নেই। আর আপনি কাউকে কাফের ঘোষণা দেয়ার যোগ্য কিনা তাতো আমরা জানিই না। জাকির নায়েক সব সময়ই বলে যেঃ আমার কথা কুরান হাদীসের বিরুধ্বে গেলে তা বর্জন করুন। তিনিও একজন মানুষ, তিনি জানেন ভূল তারো হতে পারে। তাই তার কোন ভুল হলে আপনারা সেটা বলতে পারেন।
      জাকির নায়েকর কথায় বহু মানুষ মুসলমান হয়েছে। এখন বলেন আপনার অথবা আপনার পীর বাবার কথায় কয়জন মুসলমান হয়েছে? বরং পীর ও মাজার পুজারীদের ফান্দে পরে মানুষ তাদের ঈমান হারাচ্ছে।

  7. হারামে মসগুল ব্যক্তিরাই এই সকল দিবসকে বিদাত বলে । মুলত এদের জীবনটা রহমতশুন্য ও লানতগ্রস্থ , শয়তান দ্বারা পরিচালিত । যার কারনে শয়তান যেমন তার গুম্রাহির উপর দৃড় তেমনি শবে-বরাত বিরোধীতাকারীরা তাদের বাতিলের উপর দৃড় ।

    • Khaledul Islam says:

      ইমাম মালিক বলেছেন, “যে কেহ, ইসলামের মধ্যে একটি নতুনত্ব প্রবর্তন করে, যা সে ভালো বলে বিবেচনা করে, সে যেন দাবি করল যে মুহাম্মদ (সাঃ) বার্তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। মহান আল্লাহর উক্তি পড়ুন, “আজ আমি (আল্লাহ) তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করে দিলাম, আর তোমাদের উপর আমার (পতিশ্রুত) নেয়ামতও আমি (আল্লাহ) পূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের জীবন বিধান হিসাবে আমি (আল্লাহ) ইসলামকেই মনোনীত করলাম।” অধ্যায় 5, সূরা আল Maidah, আয়াত 3

      সুতরাং তখন যা কিছু ধর্মে ছিল তা এখনও আছে। এবং যা এই উম্মাহর প্রথম অংশে সংশোধিত হয়েছে তা ছাড়া এই উম্মাহর শেষ অংশ আর সংশোধিত করা হবে না”

      একটি প্রয়োজনীয় সম্পুরক যে ভাল বিদাহ বলে কিছু নেই।যদি ভালো বিদাহ বলে কেও দাবি করে তবে হয় সেটা ভালনা, অথবা সেটা বিদাহ না।
      Aisha (RA) বর্ণিত: আল্লাহর রাসুল(সঃ) বলেছেন ” যদি.কেও এমন কিছু প্রবর্তন করে যা আমাদের ধর্ম, নীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ, তা প্রত্যাখ্যাত হয় ,” বুখারী, ভলিউম 3, বই 49, সংখ্যা 861।

      ইমাম আলী ইবনে আবু তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত যে আল্লাহ এর নবী (সাঃ) বলেছেন “যে কেউ একটি নতুনত্ব (ধর্মে) প্রবর্তন করে, তিনি এর জন্য দায়বদ্ধ হবে। যে কেউ একটি নতুনত্ব প্রবর্তন করে বা নতুনত্ব (ধর্মে) প্রবর্তনকারী বেক্তিকে যে আশ্রয় দেয়, তিনি আল্লাহ দ্বারা , তাঁর ফেরেশতা দ্বারা, এবং সমস্ত মানুষের দ্বারা অভিশপ্ত হয়।

      যাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) দ্বারা বর্ণীত আছে, নবী মোহাম্মদ (সাঃ) একটি নৈতিক বক্তৃতায় (খুতবা) বলেছেন “শ্রেষ্ঠ বানী আল্লাহর পবিত্র গ্রন্থ আল- কুরআন, এবং শ্রেষ্ঠ নির্দেশিকা হচ্ছে আমার (মুহাম্মদ সঃ)কর্তৃক প্রদত্ত। সবচেয়ে মন্দ বিষয় নতুনত্বএবং প্রতি নতুনত্যে ত্রুটি থাকে ” (reported by Muslim, no. 867)

      khutbah haajah সম্পর্কে হাদিস , যার একটি অংশ বলেছেন: ওই কাজ খারাপ যা সদ্য উদ্ভাবিত করা হয়; প্রত্যেক সদ্য উদ্ভাবিত বিষয় একটি নতুনত্ব এবং প্রতি নতুনত্ব বিপথে যাচ্ছে; এবং প্রত্যেক বিপথগামী জাহান্নামী; (Reported by al-Nisaa’i in al-Sunan, Salaat al-‘Eedayn, Baab kayfa al-Khutbah). Reports with the same meaning were narrated via Jaabir (may Allaah be pleased with him) by Ahmad, via al-‘Irbaad ibn Saariyah by Abu Dawud and via Ibn Mas’ood (may Allaah be pleased with him) by Ibn Maajah.

      সবশেষে বলব নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী ও ইনশাআল্লাহ তিনি আমাদের সঠিক পথ দেখাবেন।

  8. সুরা দুখান শরীফ উনার ৪ নং আয়াত শরীফে বর্নিত রয়েছে, এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহ ফয়সালা করা হয়।

    ৪ নং আয়াত শরীফ দ্বারাই ৩ নং আয়াত শরীফ উনার ব্যখ্যা দেয়া হয়েছে।

    অর্থাৎ এ মুবারক রাতে কুরআন শরীফ নাজিলের ফয়সালা করা হয়েছে।

    আর আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েগেছে হাদীছ শরীফে।

    কিছু বাতিল ও গুমরাহ ব্যতীত অনুসরনীয় সকল ইমাম মুজতাহিদগণ ১৫ শাবান শরীফ তথা শবে বরাত পালন করেছেন।

  9. “শবেবরাত কি বিদাহ নাকি ধর্মীও রীতি?”

    এটা তো মুসলমানের কোন প্রশ্ন মনে হয় না।

  10. মহিমান্বিত বরকতময় রজনী : শবে বরাত

    হাদীস শরীফে উম্মুল মুমীনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত,
    مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ إِلَّا رَمَضَانَ، وَمَا رَأَيْتُهُ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ
    আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি অয়াসাল্লামকে রমজান মাসের পর শাবান ব্যতীত অন্য কোন মাসে এত রোজা রাখতে দেখিনি।
    [সহিহ বুখারী, কিতাবুস সাওম, হাদীস নং-১৯৬৯/১৮৬৮, সহীহ মুসলিম, কিতাবুস সিয়াম, হাদীস নং-১১৫৭,সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুস সাওম, হাদীস নং-২৪৩৪, সুনানু ইবনে মাজাহ, কিতাবুস সিয়াম, হাদীস নং-১৭১০, মুয়াত্তা এ মালিক-৬৮৮/১০৯৮, সহীহ ইবনে হাববান-৩৬৪৮, মুসনাদে আহমদ-২৪৮০১, নাসাঈ আস সুনানুল কুবরা-২৬৭২, বায়হাক্বী আস সুনানুস সগীর-১৪৫৭, সুনানুল কুবরা-৭৭৮৪,৭৮২৫]

    অপর বর্ননায় এসেছে,
    لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ شَهْرًا أَكْثَرَ مِنْ شَعْبَانَ، فَإِنَّهُ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّه
    নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম শাবান মাসের চেয়ে অধিক রোজা অন্য কোন মাসে রাখতেননা, এমনকি তিনি পুরো শাবান মাস রোজা রাখতেন।
    [সহিহ বুখারী, হাদীস নং-১৯৭0, সহীহ মুসলিম, কিতাবুস সিয়াম, হাদীস নং-১১৫৭, নাসাঈ আস সুনানুল কুবরা-২১৭৯, নাসাঈ আস সুনানুল কুবরা-২৫০০, সহীহ ইবনে হিববান-৩৬৩৭]

    হাদীস শরীফে আরও ইরশাদ হয়েছে-
    رَجَبُ شَهْرُ اللَّهِ وَشَعْبَانُ شَهْرِي وَرَمَضَانُ شَهْرُ أُمَّتِي
    রজব আল্লাহর মাস,শাবান আমার মাস আর রমজান আমার উম্মতের মাস।
    [ফিরদাউসুল আখবার, যাহাভী তারিখুল ইসলাম-২৬১, শওকানী ফাওআয়িদুল মাজমুয়া’ত-২২১, কানযুল উম্মাল-৩৫১৬৪, সাখাভী আল মাকাসিদুল হাসানাহ-৫১০]

    আরও ইরশাদ হয়-
    شعبان شهري ورمضان شهر أمتي
    শা’বান আমার মাস আর রমযান আমার উম্মতের মাস।
    [নুজহাতুল মাজালিস ওয়া মুনতাখাবুন নাফাইস, বাব,ফাদলু শ’বান ওয়া ফাদলু সালাতুত তাসবীহ, ১:১৪৬/১:১৬১]

    শবে বরাত এমনি এক বরকতময় রজনী। শরীয়ত সম্মত এই রজনী সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা সত্বেও তা নিয়ে কিছু লোক বর্তমানে একে ভিত্তিহীন বলে প্রচারিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। নিম্নে এই মহিমান্বিত রজনী সম্পর্কে শরীয়ত সম্মত আলোচনা করা হল-

    শবে বরাতঃ
    শব শব্দটি ফার্সি,অর্থ রাত।আর বরাত শব্দের অর্থ-পবিত্রতা, মুক্তি, উদ্ধার, আশ্রয়, অব্যাহতি, দায়মুক্তি, বন্টন, বরাদ্দ ইত্যাদি।সুতরাং শবে বরাত বা লায়লাতুল বরাত অর্থ বন্টন, বরাদ্দ, পবিত্রতা, নাজাত ও মুক্তির রাত। পবিত্র কোরআনে একে ‘লায়লাতুল মুবারাকাহ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছারাও এর আরও নাম পাওয়া যায় যেমন, লায়লাতুল মুবারাকাহ, লায়লাতুল বরাত, লায়লাতুল রহমত, লায়লাতুল মাগফিরাত, লায়লাতু্ত তাওবাহ ইত্যাদি।
    শা’বান মাসের ১৫ তারিখ দিবাগত রাতই শবে বরাত হিসেবে পরিচিত।

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাকের ইরশাদ-
    حٰمٓ ﴿۱﴾ وَ الْکِتٰبِ الْمُبِیۡنِ ۙ﴿ۛ۲﴾ اِنَّا اَنۡزَلْنٰہُ فِیۡ لَیۡلَۃٍ مُّبٰرَکَۃٍ اِنَّا کُنَّا مُنۡذِرِیۡنَ ﴿۳﴾ فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ
    হা-মীম!শপথ এই সুস্পষ্ট কিতাবের।নিশ্চই আমি সেটাকে বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি।নিশ্চই আমি সতর্ককারী।এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ কাজের ফয়সালা দেওয়া হয়।
    [সূরা দুখানঃ ১, ২, ৩, ৪ পারা-২৫]

    এখনে বরকতময় রাত বলতে কোন রাতকে বুঝানো হয়েছে তা নিয়ে দুটি মত রয়েছে,শবে ক্বদর আর শাবানের মধ্য রাত্রি অর্থাৎ শবে বরাত।
    [তাফসীরে ইবনে কাসীর, তাফসীরে ত্ববারী জামেউল বয়ান, তাফসীরে কাশশাফ, তাফসীরে সা’লাবী, তাফসীরে সামআ’নী, তাফসীরে বগবী, তাফসীরে জালালাঈন, তাফসীরে বায়জাভী, তাফসীরে কবীর, (মাফাতিহুল গাইব (তাফসীরে রুহুল মা’আনী, যাদুল মাইসির ফি ইলমিত তাফসীর, তাফসীরে ক্বুরতুবী, তাফসীরে দুররে মানসুর, তাফসীরে নাসাফী, তাফসীরে মাজহারী, তাফসীরে ফাতহুল কাদীর, তাফসীরে সা’বী, তাফসীরে জুমাল,তাফসীরে রুহুল বয়ান, তাফসীরে নিসাপুরী, তাফসীরে ইবনে রজব, তাফসীরে কিরমানী গারায়িবুত তাফসীর, সফওাতুত তাফাসীর, আল লুবাব, তাফসীরে মাদারিক, তাফসীরে মাওয়ার্দি, আবী সাউদ]

    আল্লামা শিহাবুদ্দীন আলুসী রহঃ তার তাফসীর গ্রন্থ রূহুল মা’য়ানী তে উল্লেখ করেন-
    قال عكرمة. وجماعة: هي ليلة النصف من شعبان. وتسمى ليلة الرحمة والليلة المباركة وليلة الصك وليلة البراءة، ووجه تسميتها بالأخيرين أن البندار إذا استوفى الخراج من أهله كتب لهم البراءة والصك كذلك أن الله عزّ وجلّ يكتب لعباده المؤمنين البراءة والصك في هذه الليلة.
    ইকরামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও একদল মুফাসসিরগনের মতে, লায়লাতুম মুবারাকাহ হল শা’বান মাসের মধ্য রাত। একে রহমত ও মুক্তির রাত বলা হয়। যেমন খাজনা ও যাকাত আদায়কারী খাজনা ও যাকাত প্রাপ্তির পর দাতাকে মুক্তি সনদ বা রশীদ দেয়, অনুরূপ এ রাতে যারা ইবাদত বান্দেগীতে রাত যাপন করে তাদেরকে মুক্তি সনদ দেয়া হয়। তাই এ রাতকে লায়লাতুল বারাআ’ত বা লায়লাতুস সাক (চেক) বলা হয়।
    [তাফসীরে রূহুল মা’আনী, সুরা দুখান, ১৮:৪২৩/১৩:১১০]

    আল্লামা জারুল্লাহ যামাখশারী রহঃ বলেন-
    وقيل: ليلة النصف من شعبان، ولها أربعة أسماء: الليلة المباركة، وليلة البراءة، وليلة الصكّ، وليلة الرحمة
    অন্য মতে লায়লাতুম মুবারাকাহ হল শ’বান মাসের মধ্য রাত। এর চারটি নাম পাওয়া যায়, লায়লাতুল মুবারাকাহ (বরকতের রজনী), লায়লাতুল বারাআহ (ভাগ্য/কল্যাণের রজনী), লায়লাতুস সাক্ক (বন্টন/বাজেটের রজনী), লায়লাতুর রাহমাহ (অনুগ্রহের রজনী)।
    [তাফসীরে কাশশাফ, সুরা দুখান,৪:২৬৯]
    অনুরূপ বর্ণনা তাফসীরে ক্বুরতুবী তে পাওয়া যায়।

    ষষ্ঠ শতাব্দীর মুজাদ্দীদ আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী রহঃ বলেন-
    وَقَالَ عِكْرِمَةُ وَطَائِفَةٌ آخَرُونَ: إِنَّهَا لَيْلَةُ الْبَرَاءَةِ، وَهِيَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ
    ইকরামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও একদল মুফাসসিরগনের মতে, লায়লাতুম মুবারাকাহ হল লায়লাতু বরাত অর্থাৎ শা’বান মাসের মধ্য রাত।
    [তাফসীরে কবীর মাফাতিহুল গায়ব, সুরা দুখান ২৭:৬৫২]

    হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর শিস্য ও স্বাধীনকৃত গোলাম হযরত ইকরামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
    (আয়াতে বর্ণিত) লাইলাতুম মুবারাকা” হল শা’বান মাসের মধ্য রাত্রি। এ রাতে আল্লাহ পাক হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালামকে প্রথম আকাশে (দুনিয়া সংলগ্ন আকাশ) প্রেরণ করেন। তিনি প্রথম আকাশের ফেরেশতাদের কাছে পূর্ণ কোরআন একেবারে লিপিব্ধ করে দিয়েছেন। এই রাতকে মুবারক রাত নামকরণনের কারণ হল-এ রাতে অনেক কল্যাণ ও বরকত রয়েছে। এ রাতে আল্লাহর রহমত নাজিল হয় এবং দোয়া কবুল হয়।
    [তাফসীরে কাশফুল আসরার ৯:৭৪]

    ইকরামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, শাবান মাসের মাঝামাঝি রাতে (১৫ই শাবান রাতে) সারা বছরের কার্যক্রমের ফয়সালা করে দিয়া হয়। জীবিতদেরকে পৃথকভাবে লিখে দিয়া হয় মৃতদের থেকে। এ ফায়সালার কোন পরিবর্তন করা হয় না। বাগবী লিখেছেন, মোহাম্মাদ ইবন মাইসারা আখফাশ বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেন- শাবান মাসে পরবর্তি শাবান পর্যন্ত মৃত্যুর ফায়সালা করে দিয়া হয়। এমনকি ঐ সকল শিশুর নামও পৃথক করা হয়, যাদের পিতা বিয়ে করে ১৫ শাবানের পরে। আর যে সব শিশু জন্মগ্রহণ করে সে সময়ে। আবার মৃত্যু বরণও করে ঐ বৎসরে।
    আবুজ জোহার বর্ণনায় এসেছে, হযরত ইবন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, অর্ধ শাবানের রাতে (শবে বরাতে) আল্লাহ তা’আলা সব কিছুই মিমাংসা করে দেন এবং রামযানের কদর রাত্রিতে সেই মিমাংসা দিয়া হয় মিমাংসা বাস্তবায়নকারীদের হাতে।
    [তাফসীর মাযহারী ১০:৫১৯]

    আল্লাহ তা’আলা আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন! সুম্মা আমীন

  11. শবে বরাত ও শরীয়ত ভিত্তিক প্রমাণ এই লেখাটি খুব ভালো করে পড়ুন। আপনার সব ভুল কেটে যাবে।

  12. Bostame13Bostame13 says:

    কাফির নায়েক (ড.জাকির নায়িক) তো প্যান্ট-শার্ট, টাই পরে আর এগুলোতো ইহুদী খ্রিস্টানদের পোশাক। ভাত একটা টিপলেই তো বুঝা যায়।

    আশা করি আমার প্রশ্নের উত্তর দিবেন মি. খালেদুল ইসলাম?

    আর নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুসরণ-অনুকরণ করতে হলে কুরআন শরীফ- সুন্নাহ শরীফ মোতাবেক চলতে হবে।

    ইহুদী নাছারাদের তর্য-তরীকা মোতাবেক চললে তো কাফির হতে হবে।কারণ পবিত্র দ্বীন ইসলাম আসার পর অন্যান্য ধর্মকে বাতিল বলে গণ্য করা হয়েছে।

    না তাহলে আর বুঝার বাকি রইলো না যে ডা. ডাকির নায়েক একজন কাফির নায়েক?

    ড. কাফির নায়েকের পক্ষে সাফাই গাওয়ার আগে তাকে চিনুন যে সে আসলে পবিত্র দ্বীন ইসলামের নামে কত বড় বড় মিথ্যা কথা উপস্থাপন করে যাচ্ছে?

    ড. কাফিরের সব বই গুলো ভালভাবে পড়ুন। কম জ্ঞান কম বুঝ নিয়ে বড় বড় ভুলে পা বাড়াবেন না নইলে………………..।
    Search

  13. বক্তাবক্তা says:

    ৥ Khaledul Islam, আপনার বক্তব্যে ছহীহ হাদীছ শরীফ বিষয়ে আলোচিত হয়েছে। কিন্তু পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের কোথায়ও “ছহীহ হাদীছ শরীফ” মানতে বলা হয়নি। বরং “পবিত্র হাদীছ শরীফ” মানতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে পবিত্র হাদীছ শরীফ যাচাই-বাছাই করে শ্রেণীবিভাগ করেছেন হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা। আর সেই হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাই শ্রেণীবিন্যাসকৃত হাদীছ শরীফ উনাদের উপর আমলের উপর বিষয়েও মাসায়ালা প্রদান করেছেন। যেমন ছহীহ, হাসান, দ্বয়ীফ, মওজু ইত্যাদি শ্রেনীবিন্যাস উনারাই করেছেন, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের কোথায়ও এ বিষয়ে শ্রেনীবিন্যাস করা নেই বা করতেও বলা হয়নি। আর এই শ্রেনীবিন্যাসকৃত হাদীছ শরীফ বিষয়ে উনারা মাসায়ালা দিয়েছেন যে, দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ ফযীলত হাছিল করার জন্য আমল করা জায়িয আছে। তবে দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ দ্বারা সাব্যস্ত সকল আমল মুস্তাহাব।
    কিন্তু আপনি বা আপনার সমগোত্রীয়রা পবিত্র হাদীছ শরীফ বিষয়ে হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের শ্রেণীবিভাগ/শ্রেণীবিন্যাস মানছেন কিন্তু উনারা উক্ত শ্রেণীবিন্যাস হাদীছ শরীফ উনাদের উপর আমলের বিষয়ে যে মাসায়ালা দিয়েছেন তা মানছেন না। এটা কি স্পষ্ট দ্বিমুখীতা নয়?
    আপনি লিখেছেন, “কোন সাহি হাদিসে বিশেষ কোন দিন বা রাতের উপর তিনি বেশি গুরত্ত আরোপ করেছেন কি????”
    অথচ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
    ان الدعاء يستجاب فى خمس ليال اول ليلة من رجب وليلة النصف من شعبان وليلة القدر المباركة وليلتى العيدين.
    অর্থ : “নিশ্চয়ই পাঁচ রাত্রিতে দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হয়ে থাকে। (১) রজব মাস উনার প্রথম রাতে, (২) বরাত উনার রাতে, (৩) ক্বদর উনার রাতে, (৪) ঈদুল ফিতর উনার রাতে, (৫) ঈদুল আদ্বহা উনার রাতে।” (মা ছাবাতা বিসসুন্নাহ, আমালুল ইয়াত্তমি ওয়াল লাইলাতি)
    আর পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
    وَلَقَدْ أَرْ‌سَلْنَا مُوسَىٰ بِآيَاتِنَا أَنْ أَخْرِ‌جْ قَوْمَكَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ‌ وَذَكِّرْ‌هُم بِأَيَّامِ اللَّـهِ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ‌ شَكُورٍ‌ ﴿٥﴾
    অর্থ : “আমি হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে নিদর্শনাবলী সহ প্রেরণ করেছিলাম যেন, তিনি স্বজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে আনয়ন করেন এবং তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহ স্মরণ করান। নিশ্চয় এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল কৃতজ্ঞের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।” (পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)
    পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের নুযুল খাছ হলেও হুকুম আম অর্থাৎ সবার জন্যে উন্মুক্ত। তাই এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহ স্মরণ করানো যে বিষয় বণিত রয়েছে তা ২ প্রকার। যথা : ১) মুসলমান উনাদের জন্য রহমত, বরকত, সাকিনা নাযিলের দিন সমূহ যেমন : পবিত্র শবে বরাত, পবিত্র শবে ক্বদর, পবিত্র আশূরা শরীফ ইত্যাদি আর ২) যে দিবস সমূহে মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফির-মুশরিকদের উপর বিভিন্ন আযব-গযব নাযিল করে দিয়ে তাদের ধ্বংস করে দিয়েছেন, যেমন- ফেরআউনকে ধ্বয়স করা হয়েছে পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন ইত্যদি।
    তাই বিশেষ কোন দিন বা রাতের উপর বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়নি বলা চরম গোমরাহী বৈ আর কিছু নয়।
    আর আপনি বলেছেন, “শবেবরাত কে প্রমান করার জন্য কুরআনের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে।” নাউযুবিল্লাহ!
    পবিত্র সূরা দুখান শরীফ উনার মধ্যে ব্যবহৃত ليلة مباركة দ্বারা যে পবিত্র শা’বান মাসের ১৫ তারিখ রাতকে বোঝানো হয়েছে তা কোন সাধারণ মানুষের বক্তব্য নয় বরং বিশিষ্ট ছাহাবী এবং যাঁকে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মুফাসসীর বলে উল্লেখ করেছেন সে বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু তিনি সহ অপর একজন বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ব্যাখ্যা করেছেন-
    هى ليلة النصف من شعبان وسـمى ليلة الرحـمة والليلة الـمباركة وليلة الصك
    অর্থ : “লাইলাতুম মুবারাকা দ্বারা লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান তথা অর্ধ শাবানের রাত (শবে বরাত)কে বুঝানো হয়েছে। এবং নামকরণ করা হয়েছে ليلة الرحمة (লাইলাতুর রহমত) তথা রহমতের রাত, ليلة الـمباركة (লাইলাতুল মুবারাকাহ) তথা বরকতের রাত ও ليلة الصك (লাইলাতুছ ছক) ভাগ্য লিপিবদ্ধকরণের রাত তথা ভাগ্য রজনী।”
    সুতরাং আপনি যে বলছেন, “শবেবরাত কে প্রমান করার জন্য কুরআনের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে।” তা সুস্পষ্ট কুফরী। অর্থাৎ আপনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের চেয়ে বেশি জ্ঞানী দাবী করছেন। নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক!
    এখনও সময় আছে তওবা করে সঠিক মুসলমান হওয়ার!
    পবিত্র সূরা দুখান শরীফ দ্বারা শবে বরাত প্রমাণিত আর পবিত্র সূরা ক্বদর শরীফ দ্বারা শবে ক্বদর প্রমাণিত। তাই শবে ক্বদর ও শবে বরাত একই বিষয় বলা গোমরাহী। পবিত্র কুরআন শরীফ শবে বরাত উনার রাত্রিতে নাযিলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় আর পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার পবিত্র ক্বদর উনার রাত্রি মুবারক উনার মধ্যে সম্মানিত লওহে মাহফুজ থেকে একসাথে পূর্ণ কালামুল্লাহ শরীফ সম্মানিত বাইতুল ইজ্জত মুবারক যা সামায়ে দুনিয়া অর্থাৎ পৃথিবীর আকাশে অবস্থিত সেই ঘর মুবারক-এ একসাথে নাযিল করেন। অত:পর ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি অর্থাৎ সোমবার শরীফ থেকে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ পর্যায়ক্রমে যমীনে নাযিল শুরু হয়। যা ২৩ বছরব্যাপি নাযিল হয়ে পূর্ণতা লাভ করে।
    আপনি আরো লিখেছেন- “ভাল বিদাহ বলে কিছু নেই।যদি ভালো বিদাহ বলে কেও দাবি করে তবে হয় সেটা ভালনা, অথবা সেটা বিদাহ না। কারন আমার লেখায় অনেক সাহি হাদিস উল্লেখ করেছি যাকে বিদাতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”
    আপনার এ বক্তব্যে প্রেক্ষিতে আপনার প্রতি চ্যালেঞ্জ রইল, আপনি প্রমাণ করুন যে, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে কোথাও হাদীছ শরীফ শ্রেনীবিভাগ করতে বলা হয়েছে? যদি বলা না হয়ে থাকে তবে উক্ত কাজ বিদয়াত হবে কিনা?
    “টিভি, ক্যামেরা, ট্রেন, মোটরগাড়ী, প্লেন বিজ্ঞান এর বিষয় ধর্মের নয়।” আবার আপনি লিখেছেন- “মহান আল্লাহর উক্তি পড়ুন, “আজ আমি (আল্লাহ) তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করে দিলাম, আর তোমাদের উপর আমার (পতিশ্রুত) নেয়ামতও আমি (আল্লাহ) পূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের জীবন বিধান হিসাবে আমি (আল্লাহ) ইসলামকেই মনোনীত করলাম।” অধ্যায় 5, সূরা আল Maidah, আয়াত 3।”
    মহান আল্লাহ পাক তিনি তো জীবন বিধান হিসাবে ইসলাম উনাকে মনোনীত করেছেন। অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি ক্ষণ দ্বীন ইসলাম উনার অন্তর্ভুক্ত। অথচ আপনার বক্তব্য মুতাবিক বুঝা যাচ্ছে মুসলমানের জিন্দেগী ২ ভাগে বিভক্ত। ১. ঈমানী জিন্দেগী, ২. কুফরী জিন্দেগী।
    নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গাড়ী চালাননি ঠিক তিনি উট, গাধা, খচ্চর, ঘোড়া ইত্যাদি বাহনে চড়েছেন। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন প্রকার গাড়ি সে বাহনেরই যান্ত্রিক সংস্করণ। তাই উট, গাধা, খচ্চর, ঘোড়া ইত্যাদি বাহন যদি না পাওয়া যায় তবে পবিত্র সুন্নত উনার নিয়তে এ যান্ত্রিক বাহনে চড়েলে সে পবিত্র সুন্নত আদায় হবে। সুতরাং গাড়িতে চড়া ইবাদত হচ্ছে। এমনিভাবে একজন মুসলমান উনার জীবনের প্রতিক্ষণ ইবাদতে অন্তর্ভুক্ত হয়।
    কেননা মুসলমান উনাদের জিন্দেগী পুরোটাই বন্দেগী যদি পবিত্র সুন্নত মুতাবিক তা চালিত হয়। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধর্ম জড়িত। তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
    কারণ আল্লাহ্ পাক “বলেন,
    كل فى كتب مبين.
    অর্থ : “সমস্ত কিছুই প্রকাশ্য কিতাবে রয়েছে।” (পবিত্র সূরা হুদ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)
    পবিত্র “সূরা আনয়াম শরীফ উনার ৩৮নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আরো বলেন,
    ما فرطنا فى الكتب من شىئ.
    অর্থ : “আমি কিতাবে কোন কিছুই তরক করিনি।”
    তিনি “পবিত্র সূরা আনয়াম শরীফ উনার ৫৯নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আরো বলেন,
    ولارطب ولايابس الا فى كتب مبين.
    অর্থ : “ভিজা এবং শুক্না সব কিছুর বর্ণনাই প্রকাশ্য কিতাবে রয়েছে।
    সুতরাং সমস্ত বিষয়ের সাথে ধর্মের সম্পর্ক রয়েছে।
    আপনি কয়েক জায়গায় বলেছেন- “ঠিক না।” কোন দলীল বলে ঠিক না উল্লেখ করুন যদি মুসলমান হয়ে থাকেন। আপনার বক্তব্য কি দ্বীন ইসলাম উনার দলীল? আশা করি উত্তর দিবেন!

    • Khaledul Islam says:

      @ বক্তা – আপনি বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে পবিত্র হাদীছ শরীফ যাচাই-বাছাই করে শ্রেণীবিভাগ করার বাপারে লিখেছেন। আমার বিশ্বাস আপনি এই ব্যাপারে আমার চাইতে ভালো জানেন। কারন সব হাদিসের উপর আমল করা হলে মানুষ কত ভুল করত ও এখনও করে তা একবার ভাবুন। আর যে পরিমান সাহি হাদিস আছে তার পরে আর বিতর্কিত বিষয়/দ্বয়ীফ হাদিসের উপর আমল করার কি প্রয়োজন আছে????? এটা কি শুধু মুসলমানদের মধ্যে বিবেধ তঊরি করছেনা???
      মহিমান্বিত কুরআন বলছে: “যারা নিজেদের দ্বীনকে টুকরো টুকরো করে নিজেরাই নানা দল উপদলে বিভক্ত হয়ে গেছে, তাদের কোন দায়িত্বই তুমার উপর নাই, তাদের (ফয়সালার) ব্যাপারটা আল্লাহতালার হাতে, (যেদিন তারা তার কাছে ফিরে যাবে)তখন তিনি তাদের বিস্তারিত বলবেন, তারা কে কি করেছিল।” [Al Qur’an 6:159]

      আপনি বলেছেন “আপনার এ বক্তব্যে প্রেক্ষিতে আপনার প্রতি চ্যালেঞ্জ রইল, আপনি প্রমাণ করুন যে, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে কোথাও হাদীছ শরীফ শ্রেনীবিভাগ করতে বলা হয়েছে? যদি বলা না হয়ে থাকে তবে উক্ত কাজ বিদয়াত হবে কিনা?”
      উত্তর- না এটা বিদাহ না, কারন নবী সঃ এর সময় হাদিস লিখে রাখা হতনা তার ২টি কারন হতে পারে।
      ১। লিপিবদ্ধ করা নিষেধ ছিল। কারন মানুষ কুরআন ও হাদিস মিলিয়ে ফেলতে পারে।
      ২। লেখার উপাদান এতো সহজলভ্য ছিলনা।
      কিন্তু নবী সঃ এর মৃত্যুর প্রায় ১০০ বছরের বেশি সময় পরে যখন হাদিস সংগ্রহ করা হয়, তখন দেখা যায় অনেক ভুল হাদিস মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পরেছে।
      প্রাথমিক ভাবে প্রায় ৭,০০,০০০ হাদিস সংগ্রহ করা হয় যার বেশিরভাগ মিথ্যা/ জাল/ ভুল প্রমাণিত নয়।
      (1) মালিক ইবনে আনাস (রাঃ) তাঁর বিখ্যাত বই “আল Muwattaa” এর মধ্যে 500 হাদিস সংগ্রহ করেন।
      (২) আহমেদ ইবনে হানবালী (রাঃ) তার বিখ্যাত “মুসনাদ” এ ৭ লক্ষ হাদিস হতে ৪০,০০০ (40,000)হাদিস সংগ্রহ করেন। তার মানে মোট ৬,৬০,০০০ হাদিস তার মতে ভুল/ জাল/ মিথ্যা/ প্রমানিত নয়। আর বাকি ৪০,০০০ এর ব্যাপারে তিনি আশাবাদী এগুলো সত্য হতে পারে। তার মানে পুরো সংগ্রহের প্রায় ৯৪% হাদিস ভুল।
      (৩) ইমাম বুখারি (রাঃ)৬ লক্ষ হাদিস সংগ্রহ করেন এবং তার থেকে ৭২৭৫ টি হাদিস বেছে নেন। তার মানে মোট ৫৯২,৭২৫ টি হাদিস তার মতে ভুল/ জাল/ মিথ্যা/প্রমানিত নয়। আর বাকি ৭২৭৫ টি হাদিসের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী এগুলো সত্য হতে পারে। তার মানে পুরো সংগ্রহের প্রায় ৯৯% হাদিস ভুল।
      (৪) মুসলিম (রাঃ)৩ লক্ষ হাদিস সংগ্রহ করেন এবং তার থেকে ৪,০০০ টি হাদিস বেছে নেন। তার মানে মোট ৫৯২,৭২৫ টি হাদিস তার মতে ভুল/ জাল/ মিথ্যা/প্রমানিত নয়। আর বাকি ৭২৭৫ টি হাদিসের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী এগুলো সত্য হতে পারে। তার মানে পুরো সংগ্রহের প্রায় ৯৯% হাদিস ভুল।
      আর বাকি যে ১% তা বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। এবার আপনি বলেন কিসের ভিত্তিতে আপনি বাকি ১% এর দুর্বল হাদিস গুলার উপর জোর দিচ্ছেন যা ধর্মে একটা নতুন বিষয়ের দিকে নিয়ে জায়?????

      বিদাতের ব্যাপারে— মুমিনদের প্রত্যেক কাজ ইবাদত যদি তা নিয়ম মেনে চলা হয়। এখানে নিরদেশনা আছে কোন জিনিস হারাম ও কনটা হালাল। আল্লহ ও নবী সঃ যা কিছু নিষেধ করেনি তার সব কিছু হালাল, আর যা নিষেধ করেছেন তা হারাম। বিজ্ঞান চর্চা কি নিষেধ করছেন??? কিন্তু ধর্মে নতুন কিছু আনতে নিষেধ করছেন।
      কুরআনে বিজ্ঞানের অনেক বিষয় আছে, এমন অনেক কিছু আছে যা বিজ্ঞান এখনও আবিস্কার করতে পারেনি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেও কুরআনের কোন ভুল পায়নি আর কখন পাবেওনা। যদিও বিজ্ঞানের অনেক কিছু কুরআনে আছে, কিন্তু কুরআন মুলত নিদর্শন সমুহের বই (Book of signs) বিজ্ঞানের নয় (not Book of science ।
      [Al-Qur’aan 3:190] নিশ্চয় নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃজনে এবং দিবস ও রাতের পরিবরতনে জ্ঞানবানদের জন্য স্পষ্ট নিদর্শনাবলি রয়েছে।

      আপনি বলেছেন “পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের কোথায়ও “ছহীহ হাদীছ শরীফ” মানতে বলা হয়নি।” এর উত্তর পবিত্র কুরআনে [Chapter 6, আন’আম:112-113] উল্লেখ করা জেতে পারে। ১১২- “আর এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নবীর জন্য বহু শয়তানকে শত্রু রুপে সৃষ্টি করেছি, তাদের কতক শয়তান মানুষের মধ্যে এবং কতক জ্বীনদের হতে হয়ে থাকে, এরা একে অন্যকে কতকগুলো মনোমুগ্ধকর ও চাকচিক্য কথা দারা প্ররোচিত করে থাকে। কারন যেন তারা ধোঁকায় পতিত হয়, তুমার প্রতিপালকের ইচ্ছা হলে তারা এমন কাজ করতে পারতনা, সুতরাং তুমি তাদেরকে ও তাদের মিথ্যা রচনা গুলকে বর্জন করে চলবে।”
      ১১৩- (তাদের এইরূপ প্ররোচনামূলক কথার উদ্দেশ্য হল) যারা পরকালের উপর ঈমান রাখেনা তাদের অন্তরকে ওই দিকে অনুরক্ত করা, এবং তারা যেন তাতে সন্তুষ্ট থাকে আর তারা যেসব কাজ করে তা যেন তারাও করতে থাকে।

      আমার কোন অনুবাদে ভুল হলে দয়া করে বলবেন, আমি শুধরে নিবো।
      Star

  14. বক্তাবক্তা says:

    ৥ Khaledul Islam, “যদি ভালো উদ্দেশ্যে ছবি তুলা হয়, তাহলে তা ঠিক, আর যদি খারাপ উদ্দেশ্যে/পূজার জন্য করা হয়, তাহলে তা ভুল।” তাহলে কু উদ্দেশ্যে হলে ব্যাভিচার অবৈধ আর সন্তান উৎপাদনের উদ্দেশ্যে হলে ব্যাভিচার বৈধ! কি বলেন?

  15. বক্তাবক্তা says:

    ৥ Khaledul Islam, “যদি ভালো উদ্দেশ্যে ছবি তুলা হয়, তাহলে তা ঠিক, আর যদি খারাপ উদ্দেশ্যে/পূজার জন্য করা হয়, তাহলে তা ভুল।” তাহলে নেশা উদ্রেগকারী বস্তু বা মাদক দ্রব্য হিসেবে হলে মদ্যপান করা অবৈধ আর পানীয় হিসেবে হলে মদ্যপান বৈধ! কি বলেন?

  16. বক্তাবক্তা says:

    ৥ Khaledul Islam, “তখন যা কিছু ধর্মে ছিল তা এখনও আছে। এবং যা এই উম্মাহর প্রথম অংশে সংশোধিত হয়েছে তা ছাড়া এই উম্মাহর শেষ অংশ আর সংশোধিত করা হবে না” তাহলে উম্মাহর শেষ অংশে এসে হারাম ছবি এবাবে সংশোধিত হরো কেন যে, “যদি ভালো উদ্দেশ্যে ছবি তুলা হয়, তাহলে তা ঠিক, আর যদি খারাপ উদ্দেশ্যে/পূজার জন্য করা হয়, তাহলে তা ভুল।” অথচ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে “হালাল স্পষ্ট ও হারাম স্পষ্ট।” (বুখারী শরীফ)
    ওহীর দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। হারাম হারাম হি„সেবে সাব্যস্ত হয়ে গেছে এবং হালাল হালাল হিসেবে সাব্যস্ত হয়ে গেছে। তাইিইসলামী শরীয়„ত উনার দৃষ্টি„ত হারামকে হালাল আর হালালকে হারাম বলা কাট্টা কুফরী। যারা বলবে তারা কাট্টা কাফির হবে।
    পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে যে, যারা প্রাণীর ছবি তুলবে, তোলাবে, আঁকবে, আঁকাবে তাদের সবচেয়ে বেশী এবং কঠিন শাস্তি দেয়া হবে। যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
    قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.
    অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ওই ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দিবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিলদ, পৃঃ ৮৮০)
    عن عبد الله بن عمر رضى الله تعالى عنه اخبره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الذين يصنعون هذه الصور يعذبون يوم القيمة يقال لهم احيوا ما خلقتم.
    অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যারা প্রাণীর ছবি তৈরী করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাদের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, যে ছবিগুলো তোমরা তৈরী করেছো, সেগুলোর মধ্যে প্রাণ দাও।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, ৮৮০ পৃষ্ঠা, মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ ২১০ পৃষ্ঠা)
    এ সম্পর্কে মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ ২০১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
    عن ابى معاوية رضى الله تعالى عنه ان من اشد اهل النار يوم القيمة عذابا المصورون.
    অর্থ : হযরত আবূ মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, “নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন দোযখবাসীদের মধ্যে ওই ব্যক্তির কঠিন আযাব হবে, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি আঁকে বা তোলে।”
    عن سعيد رضى الله تعالى عنه قال جاء رجل الى ابن عباس فقال انى رجل اصور هذه الصور فافتنى فيها فقال له ادن منى فدنا منه ثم قال ادن منى فدنا حتى وضع يده على راسه وقال انبئك بما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم وسمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول كل مصور فى النار يجعل له بكل صورة صورها نفسا فيعذبه فى جهنم وقال ان كنت لا بد فاعلا فاصنع الشجر وما لا نفس له.
    অর্থ : হযরত সাঈদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, এক ব্যক্তি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট এসে বলল, আমি এমন এক ব্যক্তি যে প্রাণীর ছবি অঙ্কন করি, সুতরাং এ ব্যাপারে আমাকে ফতওয়া দিন। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তাকে বললেন, তুমি আমার নিকটবর্তী হও। সে ব্যক্তি উনার নিকটবর্তী হল। পুনরায় বললেন, তুমি আরো নিকটবর্তী হও। সে আরো নিকটবর্তী হলে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তার মাথায় হাত রেখে বললেন, আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এ ব্যাপারে যা বলতে শুনেছি তোমাকে তা বলব। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি েইরশাদ মুবারক করেন, “প্রত্যেক প্রাণীর ছবি তৈরীকারীই জাহান্নামে যাবে এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেকটি ছবিকে প্রাণ দিবেন এবং সেই ছবিগুলো তাদেরকে জাহান্নামে শাস্তি দিতে থাকবে। অতঃপর ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, তোমার যদি ছবি আঁকতেই হয় তবে, গাছ-পালা বা প্রাণহীণ বস্তুর ছবি আঁক। (মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ২০২)
    عن عائشة رضى الله تعالى عنها عن النبى صلى الله عليه وسلم قال ان اشد الناس عذابا يوم القيمة الذين يضاهون بخلق الله.
    অর্থঃ হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য কোন প্রাণীর ছূরত তৈরী করবে।” (মিশকাত পৃঃ ৩৮৫)
    পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সুস্পষ্ট বিধান থাকার পরও মুফতী Khaledul Islam এর মতো যারা ফতওয়া দেয় যে, “যদি ভালো উদ্দেশ্যে ছবি তুলা হয়, তাহলে তা ঠিক, আর যদি খারাপ উদ্দেশ্যে/পূজার জন্য করা হয়, তাহলে তা ভুল।” তাদের ঈমান নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
    মূলত এসব দুপায়া জন্তুর বিষয়ে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কিতাব “মুসলিম শরীফ” উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
    عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يكون فى اخر الزمان دجالون كذابون يأتونكم من الاحاديث بما لم تسمعوا انتم ولا ابائكم فاياكم واياهم لايضلونكم ولا يفتنونكم.
    অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার বর্ণনায়- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক বলেন, আখিরী যামানায় বহু সংখ্যক মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে। তারা তোমাদের নিকট এমন সব (মিথ্যা, মনগড়া, দলীলবিহীন ও বিভ্রান্তিকর) কথা উপস্থাপন করবে, যা তো উনারা এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও কখনো শুনেনি। সাবধান! তোমরা তাদের কাছ থেকে দূরে থাক এবং তাদেরকেও তোমাদের কাছ থেকে দূরে রাখ। তবে তারা তোমাদেরকে গুমরাহ করতে এবং ফিৎনায় ফেলতে পারবে না।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
    এ হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত “দাজ্জালে কাযযাব” তারাই, যারা মিথ্যা, মনগড়া, বিভ্রান্তিকর ও দলীলবিহীন বক্তব্য প্রদান করে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাদের কাজই হচ্ছে- পবিত্র কুরআন শরীফ- পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী ও কুফরীমূলক বক্তব্য প্রচার করে জনসাধারণের ঈমান বিনষ্ট করা এবং মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে হক্কানী উলামায়ে কিরাম তথা আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের বিরোধিতা ও কুৎসা রটনা করা।

    • Khaledul Islam says:

      ভাই ভুল হলে ক্ষমা করবেন, ফতোয়া দেয়ার যোগ্যতা আমার নেই। আমি যতোটুকু জানি তা বলছি। আমি এক্ষেত্রে যা বলেছি তা কুরআন থেকে বলেছি, তাই ভুল হলে বলতে পারেন। আমি যতোটুকু জানি, প্রাথমিক ভাবে প্রায় ৭,০০,০০০ হাদিস সংগ্রহ করা হয় যার বেশিরভাগ (৯৯%) মিথ্যা/ জাল/ ভুল প্রমাণিত নয়। এবার বলুন কুরআনের থেকে প্রমান থাকার পরে আর কোন প্রমান কি আমার দরকার আছে??

  17. ইবলিশ শয়তানের চ্যালা প্যালা কাফেররা কিন্তু কাফেরদের বিশেষ বিশেষ দিন ( যেমন বাবা দিবস , ভালবাসা দিবস , পহেলা বৈশাখ , কুত্তা দিবস!!!!!!, গু দিবস!!!!!!!! ) নিয়ে কিছু বলে না ।
    তখন বলে না যে কোরআনে এগুলার কোন উল্লেখ নাই ।

    তখন কিন্তু তারা বলে না যে সহি হাদিসে এগুলার কোন উল্লেখ নাই। তাদের যত ঘেঊ ঘেঊ শুরু হয় ইসলাম পালন করা নিয়ে ।
    http://shobujbanglablog.net/51032.html

    • Khaledul Islam says:

      ভাই, ওইগুলা তো ইসলামের অংশ না। আর কেও দাবি করেনি ওইগুলা করলে বেশি সয়াব হবে, কিন্তু আপনারা শবেবরাত সমর্থন কারিরা বেশি সওয়াবের আশা দেখাচ্ছেন। তাছাড়া (বাবা দিবস , ভালবাসা দিবস , পহেলা বৈশাখ) কাফিররা ও পালন করে। তাই কাফিররা ভুল করে বলে ইসলাম ধর্মে ভুল থাকবে তা কি ঠিক????

  18. “” ‘‘’’’’আল্লাহ পাক যাঁকে হিদায়েত দান করেন, সেই হিদায়েত পায়। আর যে ব্যক্তি গুমরাহীর মধ্যে দৃঢ় থাকে, সে কোন ওলীয়ে মুর্শিদ (কামিল শায়খ বা পীর) উনার ছোহবত লাভ করতে পারে না।’’ – (পবিত্র ‘সূরা কাহাফ’: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭)

    উপরে এতগুলো দলিল দেয়া হলো, যুক্তি খন্ডন করা হলো, তারপরেও কি আপনার বিবেচনা বোধ জাগ্রত হয়না? দলিলে না পেরে প্রসঙ্গ বদলাচ্ছেন। এদিক সেদিক করছেন। কিন্তু কোনটাতেই আপনার দাবি প্রমাণ করতে পারলেন না। এখানে প্রকাশ্যে না হোক; মনে মনে হলেও তওবা করুন। পরিচয় গোপন রেখে হলেও রাজারবাগ দরবার শরীফ আসা যাওয়া করুন।
    সঠিক ইলিম তথা হক্ব তালাশ করা ফরয।

  19. বক্তাবক্তা says:

    ৥ Khaledul Islam, আমি তো হাদীছ শরীফ সঙ্কলনের ইতিহাস জানতে চাইনি।
    আমি বলেছি আপনি বা আপনার সমগোত্রীয়রা পবিত্র হাদীছ শরীফ বিষয়ে হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের শ্রেণীবিভাগ/শ্রেণীবিন্যাস মানছেন কিন্তু উনারা উক্ত শ্রেণীবিন্যাসকৃত হাদীছ শরীফ উনাদের উপর আমলের বিষয়ে যে মাসায়ালা দিয়েছেন তা মানছেন না। এটা কি স্পষ্ট দ্বিমুখীতা নয়?
    বার বার পাশ কেটে যাচ্ছেন কেন?
    আপনি শ্রেণীবিভাগ মানবেন কিন্তু শ্রেণীবিভাগকৃত হাদীছ শরীফ উনাদের উপর আমল করার মাসয়ালা আংশিক মানবেন তা হতে পারে না।
    শ্রেণীবিভাগকৃত ছহীহ হাদীছ শরীফ মানছেন অর্থাৎ শ্রেনীবিভাগ মেনে নিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে হযরত ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের আমল বিষয়ে যে মাসয়ালা (ছহীহ হাদীছ শরীফ আমল করা যাবে) তাও মানছেন।
    শ্রেণীবিভাগকৃত মওজু বা জাল হাদীছ মানছেন অর্থাৎ শ্রেনীবিভাগ মেনে নিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে হযরত ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের আমল বিষয়ে যে মাসয়ালা (মওজু বা জাল হাদীছ আমল করা যাবে না) তাও মানছেন।
    কিন্তু শ্রেণীবিভাগকৃত দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ মানছেন অর্থাৎ শ্রেনীবিভাগ মেনে নিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে হযরত ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের আমল বিষয়ে যে মাসয়ালা (দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ ফযীলত হাছিল করার জন্য আমল করা জায়িয আছে। তবে দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ দ্বারা সাব্যস্ত সকল আমল মুস্তাহাব) তা মানছেন না।
    ছহীহ হাদীছ শরীফ ও ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার উপর আমলের মাসয়ালা, মওজু বা জাল হাদীছ ও মওজু বা জাল হাদীছের উপর আমলের মাসয়ালা এবং দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ যেহেতু মেনে থাকেন সেহেতু দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ উনার উপর আমলের মাসয়ালাও অবশ্যই মানতে হবে। কিছু মানবেন আবার কিছু মানবেন না তা হতে পারে না। বরং এর মাধ্যমে আপনি নিজেই দ্বীনকে টুকরো টুকরো করে ফেলার চেষ্ট করছেন। দ্বীন আপনার পছন্দ-অপছন্দের উপর নির্ভরশীল নয়। আপনার পছন্দ হলো একটি বিষয়ের কিছু অংশ মানলেন আবার পছন্দ হলো না তাই একই বিষয়ের অন্য অংশ মানলেন না। এটা কখনোই হতে পারে না।

    আপনি লিখেছেন- “আপনি বলেন কিসের ভিত্তিতে আপনি বাকি ১% এর দুর্বল হাদিস গুলার উপর জোর দিচ্ছেন যা ধর্মে একটা নতুন বিষয়ের দিকে নিয়ে জায়?????”
    এর উত্তরে আপনাকে বলতে হয় আপনি উপরের বিষয়টির উত্তর দিলেই অর্থাৎ কিছু মানবেন কিছু মানবেন না তা ঠিক কিনা এর উত্তর দিলেই নিজেই উক্ত প্রশ্নে উত্তর পেয়ে যাবেন যে, দুর্বল হাদীছগুলোর উপর জোর দেয়া হচ্ছে নাকি দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ ফযীলত হাছিল করার জন্য আমল করা জায়িয আছে। তবে দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ দ্বারা সাব্যস্ত সকল আমল মুস্তাহাব।

    আপনাকে বিজ্ঞান চর্চা কি নিষেধ করা হয়েছে? আপনি বলেছিলেন- “টিভি, ক্যামেরা, ট্রেন, মোটরগাড়ী, প্লেন বিজ্ঞান এর বিষয় ধর্মের নয়।” এ বিষয়টি বুঝানোর জন্য আপনাকে বলা হয়েছে- মুসলমান উনাদের জিন্দেগী পুরোটাই বন্দেগী যদি পবিত্র সুন্নত মুতাবিক তা চালিত হয়। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধর্ম জড়িত।
    যেমন- টিভিতে প্রানীর ছবি দেখানো হয়, সাথে রয়েছে বেপর্দা, গান-বাজনা ইত্যাদি শরীয়ত বিরোধী আমল। আর ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে প্রাণীর ছবি তোলা, তোলানো, আঁকা, আঁকানো, দেখা, দেখানো সবই হারাম, বেপর্দা হওয়া হারাম, গান-বাজনা শোনা হারাম। তাই টিভি তখনই দেখা যাবে যখন এতে কোন প্রাণীর ছবি থাকবে না, বেপর্দা থাকবে না, তথা ইসলামী শরীয়ত উনার খিলাফ কোন বিষয় সংশ্লিষ্ট থাকবে না। বর্তমানে যেহেতু টিভি মানেই- প্রানীর ছবি দেখা, বেপর্দা হওয়া, গান-বাজনা শোনা ইত্যাদি শরীয়ত বিরোধী আমল জড়িত তাই টিভি দেখা সম্পূর্ণ হারাম ও হালাল জানা কুফরী।
    অনেকে ইসলামী অনুষ্ঠনের দোহাই দিয়ে এই হারাম কাজকে জায়িয বলার চেষ্টা করছে। যেখানে প্রাণীর ছবি তোলা, দেখা, বেপর্দা হওয়া হারাম সেখানে প্রানীর ছবি তুলে ও বেপর্দা হয়ে তারা কোন ইসলাম প্রচার করছে। কাউকে ইসলাম প্রচারের জন্য হারাম পন্থা অবলম্বন করতে বলা হয়নি।
    হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও উনার সম্মানিত পুত্র হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনারা যখন জনমানবহীন মরু প্রান্তরে হজ্জ পালনের জন্য যে আযান দিয়েছিলেন তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সমগ্র জাহানে সে আযান প্রচার করেছিলেন, সে মহান আল্লাহ পাক তিনি আজও আছেন, চিরদিন থাকবেন। আর ইসলাম সে মহান আল্লাহ পাক উনারই। তাই ইসলাম তিনি প্রচার-প্রসার করবেন এবং প্রচার-প্রসারের পথ বাতলে দিয়েছেন। মানুষ শুধু ইসলামী শরীয়ত উনার গণ্ডির মধ্যে থেকে চেষ্টা করতে পারে মাত্র। এর চেয়ে বেশি কিছু না।
    সুতরাং ইসলাম উনার বিধি-বিধানের দ্বারা বিজ্ঞানের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই বিজ্ঞানের কোন বিষয় ব্যবহার করা যাবে আর কোন বিষয় ব্যবহার করা যাবে না তা পবিত্র সূরা হুদ শরীফ উনার ৬নং আয়াত শরীফ, পবিত্র সূরা আনয়াম শরীফ উনার ৩৮নং আয়াত শরীফ এবং পবিত্র সূরা আনয়াম শরীফ উনার ৫৯নং আয়াত শরীফ উনাদের দ্বারা সুস্পষ্ট।

  20. বক্তাবক্তা says:

    ৥ Khaledul Islam, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ উনার ১৯নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
    ان الد ين عند الله الاسلام.
    অর্থ : “নিশ্চয়ই ইসলামই মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে একমাত্র দ্বীন।”
    আর মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ উনার ৩নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ঘোষণা করেন-
    اليوم اكملت لكم د ينكم واتممت عليكم نعمتى ور ضيت لكم الاسلام دينا.
    অর্থ : “আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে (দ্বীন ইসলাম উনাকে) কামিল বা পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত তামাম বা পূর্ণ করে দিলাম এবং আমি তোমাদের দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি সন্তুষ্ট রইলাম।”
    আবার পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
    عن جابر رضى الله تعالى عنه ان عمر بن الخطاب عليه السلام اتى رسول الله صلى الله عليه وسلم بنسخة من التورة فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم هذه نسخة من التورة فسكت فجعل يقم أ ووجه رسول الله صلى الله عليه وسلم يتغير فقال ابو بكر عليه السلام ثكلتك الثوا كل ما ترى ما بوجه رسول الله صلى الله عليه وسلم فنظر عمر الى وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال اعوذ بالله من غضب الله وغضب رسوله رضينا بالله ربا و بالا سلام د ينا وبمحمد نبيا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم والذى نفس محمد صلى الله عليه وسلم بيده لو بدا لكم موسى عليه السلام فاتبعتموه وتر كتمو نى لضللتم عن سواء السبيل ولو كان حيا وادر ك نبوتى لاتبعنى.
    অর্থ : “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। একদিন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার একটি কপি এনে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটি পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার একটি কপি। মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চুপ রইলেন। হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি তা পড়তে আরম্ভ করলেন। আর এদিকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেহারা মুবারক লাল হতে লাগলো। অর্থাৎ অসন্তুষ্টির ভাব ফুটে উঠলো। এটা দেখে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম! আপনার জন্য আফসুস! আপনি কি দেখছেন না যে, মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেহারা মুবারক কি রূপ ধারণ করছে? তখন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেহারা মুবারকের দিকে তাকালেন এবং অসন্তুষ্টির ভাব লক্ষ্য করে বললেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার অসন্তুষ্টি থেকে এবং উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অসন্তুষ্টি থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পানাহ চাচ্ছি। এবং আমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মহান রব হিসেবে, দ্বীন ইসলাম উনাকে দ্বীন হিসেবে ও মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নবী হিসেবে পেয়ে খুশী হয়েছি। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, সেই মহান আল্লাহ পাক উনার কছম! যার অধিকারে আমার প্রাণ মুবারক রয়েছে, এ সময় যদি আপনাদের নিকট হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম (যাঁর উপর পবিত্র তাওরাত কিতাব মুবারক নাযিল হয়েছে) জাহির বা প্রকাশ হতেন আর আপনারা আমাকে ছেড়ে উনার অনুসরণ করতেন তবুও আপনারা সরল পথ থেকে অবশ্যই বিচ্যুত অর্থাৎ গোমরাহ হয়ে যেতন। এমনকি তিনি যদি এখন হায়াতে থাকতেন আর আমাকে পেতেন তাহলে তিনিও নিশ্চয়ই আমার অনুসরণ করতেন।” (দারিমী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ)
    মহান আল্লাহ পাক তিনি দ্বীন ইসলাম উনাকে শুধুমাত্র পরিপূর্ণ সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত ও নিয়ামতপূর্ণ করেই নাযিল করেননি সাথে সাথে দ্বীন ইসলাম উনাকে মনোনীতও করেছেন। তাই দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য সমস্ত ধর্ম যা ওহী মুবারক দ্বারা নাযিল করা হয়েছিল যেমন, পবিত্র তাওরাত শরীফ, পবিত্র যাবূর শরীফ, পবিত্র ইনজীল শরীফ ও ১০০ খানা ছহীফা মুবারক বাতিল ঘোষণা করেছেন।
    এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামে পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
    هو الذى ارسل رسوله بالـهدى ودين الـحق ليظهره على الد ين كله وكفى بالله شهيدا. مـحمد رسول الله.
    অর্থ : “তিনি (মহান আল্লাহ পাক) উনার প্রিয়তম রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হিদায়েত এবং সত্য দ্বীন সহকারে পাঠিয়েছেন সকল দ্বীনের উপর প্রাধান্য দিয়ে (অর্থাৎ সমস্ত দ্বীনকে বাতিল ঘোষণা করে তা ওহী দ্বারা নাযিলকৃত হোক অথবা মানব রচিত হোক আর তা পূর্বে হোক অথবা পরে হোক) এবং এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষ্যই যথেষ্ট। (যার সাক্ষী মহান আল্লাহ পাক তিনি) আর রসূল হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হযযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।” (পবিত্র সূরা ফাতহ্ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮, ২৯)
    অর্থাৎ দ্বীন ইসলাম হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ওহী মুবারক উনার মাধ্যমে নাযিলকৃত, একমাত্র, পরিপূর্ণ, সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত, নিয়ামতপূর্ণ ও মনোনীত দ্বীন।
    সুতরাং দ্বীন ইসলাম আসার পর পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব মুবারক উনাদের সমস্ত হুকুম ক্বিয়ামত পর্যন্ত রহিত হয়ে গিয়েছে। আর তাই বর্তমানে আপন বোন বিবাহ হারাম অথচ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার শরীয়ত মুতাবিক তা বৈধ ছিল। পূর্ববর্তী শরীয়ত উনাদের মধ্যে উটের গোশত খাওয়া হারাম ছিল, প্রাণীর ছবি আঁকা বৈধ ছিল কিন্তু বর্তমানে উটের গোশত খাওয়া হালাল; আর প্রাণীর ছবি আঁকা, আঁকানো, তোলা, তোলানো, দেখা, দেখানো সম্পূর্ণ হারাম। ইসলামী শরীয়ত কোন শর্ত দিয়ে প্রাণীর ছবি হারাম ঘোষণা করেনি। তবে মানুষ যখন অপারগ হয়ে যায় তখন হারাম তার জন্য মুবাহ হয় অর্থাৎ না গুনাহ হয়, না নেকী হয়, কিন্তু তখনও হারাম জায়িয বা হালাল হয়ে যায় না। হারাম হারামই থেকে যায়।
    অথচ আপনি পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ উনার ১৪৮ নং আয়াত শরীফ, পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ উনার ৫১-৫৪নং আয়াত শরীফ ও পবিত্র সূরা সাবা শরীফ উনার ১৩ নং আয়াত শরীফ উল্লেখ করে বলেছেন-
    “সুতরাং ছবি তোলার উদ্দেশ্য এখানে মুখ্য। যদি ভালো উদ্দেশ্যে ছবি তুলা হয়, তাহলে তা ঠিক, আর যদি খারাপ উদ্দেশ্যে/ পূজার জন্য করা হয়, তাহলে তা ভুল।”
    মনগড়াভাবে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের খিলাফ কোন ক্বিয়াস করলে তার পরিণতি সম্পর্কে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
    من قال فى القران برايه فليتبوأ مقعده من النار.
    অর্থ : “যে ব্যক্তি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার (তাফসীরে) স্বীয় রায় অনুযায়ী কথা বলে, সে তার অবস্থানকে যেন দোযখে নির্ধারণ করে নেয়।” (তিরমিযী শরীফ)
    অন্য হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আছে,
    من قال فى القران برايه فاصاب فقد اخطأ.
    অর্থ : “যে ব্যক্তি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার (তাফসীরে) স্বীয় মতানুযায়ী কথা বলে, সে সত্যে উপনীত হলেও ভুল করলো।” (তিরমিযী শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ)
    আশা করি আপনার বোধদয় হবে!!!

  21. বক্তাবক্তা says:

    ৥ Khaledul Islam, ‍আপনি লিখেছেন- “কুরআনের থেকে প্রমান থাকার পরে আর কোন প্রমান কি আমার দরকার আছে??”

    অথচ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
    وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْـهَوٰى ﴿٣﴾ اِنْ هُوَ اِلَّا وَحْيٌ يُوحٰى ﴿٤﴾
    অর্থ : “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ওহী মুবারক ব্যতীত নিজের থেকে কোন কথাই বলেন না।” (পবিত্র সূরা নজম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩, ৪)
    উপরোক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা এটা স্পষ্টই বুঝা যায় যে, পবিত্র হাদীছ শরীফও পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ন্যায় ওহী মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। আর তাই ওহী মুবারক উনাকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
    (১) ওহীয়ে মাতলূ অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ, যা নামায উনার মধ্যে তিলাওয়াত করা হয়।
    (২) ওহীয়ে গায়ের মাতলূ অর্থাৎ পবিত্র হাদীছ শরীফ যা নামায উনার মধ্যে তিলাওয়াত করা হয় না।
    আর হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
    عَنْ حَضْرَةْ اَبِـىْ رَافِعٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا اُلْفِيَنَّ اَحَدُكُمْ مُّتَّكِيًا عَلٰى اَرِيْكَتِهٖ يَأْتِيْهِ الْاَمْرُ مِنْ اَمْرِىْ مِـمَّا اَمَرْتُ بِهٖ اَوْ نَـهَيْتُ عَنْهُ فَيَقُوْلُ لَا اَدْرِىْ مَا وَجَدْنَا فِـىْ كِتَابِ اللهِ اِتَّبَعْنَاهُ.
    অর্থ : “হযরত আবু রা’ফে রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি তোমাদের কাউকে যেন এরূপ না দেখি যে, সে তার গদীতে ঠেস দিয়ে বসে থাকবে আর তার নিকট আমার মুবারক আদেশাবলী উনাদের কোন একটি আদেশ মুবারক পৌঁছাল, যাতে আমি কোন বিষয়ে আদেশ বা নিষেধ মুবারক করেছি। তখন সে বলবে, আমি এসব কিছু জানিনা, মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব মুবারক উনার মধ্যে যা পাবো, তাই অনুসরণ করবো।” (তিরমিযী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ)
    পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক করা হয়,
    عَنْ حَضْرَةْ العرباضبن سارية رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قام رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ايـحست احدكم متكتا على اربكته يظن ان الله لـم يـحرم شيئا الا مافى القران الاوانى والله قد امرت ووعظت ونـهيت عن اشياء انـها الـمشل القران.
    অর্থ : “হযরত ইরবাজ ইবনে সারিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার গদীতে ঠেস দিয়ে একথা মনে কর যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি যা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে অবতীর্ণ করেছেন, তা ব্যতীত তিনি আর কিছুই হারাম করেননি? তোমরা জেনে রাখ, আমি খোদার কসম করে বলছি- নিশ্চয়ই আমি তোমাদের অনেক বিষয়ে আদেশ দিয়েছি, উপদেশ দিয়েছি এবং নিষেধও করেছি, আমার এরূপ বিষয়ও নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআন শরীফ উনার বিষয়ের ন্যায়।” (আবূ দাউদ শরীফ)
    আশা করি আপনার বোধদয় হবে!!!

  22. দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ উনার উপর আমলের বিষয়ে শরয়ী ফায়সালা : http://shobujbanglablog.net/51200.html

  23. salim says:

    @বক্তা —- ভাই “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ওহী মুবারক ব্যতীত নিজের থেকে কোন কথাই বলেন না।” (পবিত্র সূরা নজম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩, ৪)।
    আপনি সঠিক কথা বলেছেন। কিন্তু হাদিসে যা বর্ণিত আছে তা সত্যই Prophet Muhammad সঃ বলেছেন কি বলেন নি তা আপনি কিভাবে বুজবেন যেখানে ৯৯% জাল হাদিস প্রথমেই বাদ দেওয়া হয়েছে????
    তাই হাদিস কে কুরানের সমান গুরত্ত দেব কেন বলবেন কি????

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে