সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনাকে উনার আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি কিছু সুওয়াল মুবারক করেছিলেন। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি অতি উত্তমভাবে জবাব মুবারক প্রদান করেছিলেন; যা কুল-কায়িনাতবাসীর জন্য রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত, নাজাত ও হিদায়াতের জন্য যথেষ্ট। সুবহানাল্লাহ!


 

১. সদাচরণ কাকে বলে?
জবাব মুবারকে তিনি বলেন- ‘সততার মাধ্যমেই অসত্যকে প্রতিহত করা।’ সুবহানাল্লাহ!
২. ভদ্রতা কাকে বলে?
জবাব মুবারকে তিনি বলেন- পরিবার-পরিজনের প্রতি ইহসান করা এবং তাদের অসদাচরণের মোকাবেলায় ধৈর্য ধারণ করা। সুবহানাল্লাহ!
৩. উদারতা এবং দানশীলতা কাকে বলে?
জবাব মুবারকে তিনি বলেন- সচ্ছল এবং অসচ্ছল উভয় অবস্থায় মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় খরচ করা। সুবহানাল্লাহ!
৪. কমিনা কাকে বলে?
জবাব মুবারকে তিনি বলেন- ইযযত-সম্মান বিলীন করে অর্থ সম্পদ রক্ষা করা। নাউযুবিল্লাহ!
৫. বুজদিলী কাকে বলে?
জবাব মুবারকে তিনি বলেন- বন্ধুর প্রতি দুঃসাহসী হওয়া এবং শত্রুর থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করা।
৬. অমুখাপেক্ষিতা কাকে বলে?
জবাব মুবারকে তিনি বলেন- মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত নিয়ামতে তুষ্ট থাকা। সুবহানাল্লাহ!
৭. ধৈর্য কাকে বলে?
জবাব মুবারকে তিনি বলেন- রাগ হযম করা এবং প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা। সুবহানাল্লাহ!
৮. সম্মান কাকে বলে?
জবাব মুবারকে তিনি বলেন- বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ করা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠাকরণের সময় নিরপেক্ষ থাকা।
৯. অপমান কাকে বলে?
জবাব মুবারকে তিনি বলেন- বিপদের সময় অস্থির এবং ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে যাওয়া।
১০. ছল-চাতুরী এবং বানোয়াটি কাকে বলে?
জবাব মুবারকে তিনি বলেন- অনর্থক কথা বলা।
১১. মহত্ত্ব কাকে বলে?
জবাব মুবারকে তিনি বলেন- ঋণগ্রস্ত অবস্থায় দান খয়রাত করা এবং অপরাধীকে ক্ষমা করা। সুবহানাল্লাহ!
১২. নেতৃত্ব কাকে বলে?
জবাব মুবারকে তিনি বলেন- সৎকর্মপরায়ণ হওয়া এবং পাপকার্য বর্জন করা।
১৩. বোকামি কাকে বলে?
জবাব মুবারকে তিনি বলেন- নিম্নশ্রেণীর লোকদের সাহচর্য অবলম্বন এবং পথভ্রষ্ট লোকদেরকে মুহব্বত করা। নাউযুবিল্লাহ!
১৪. গাফলতী কাকে বলে?
জবাব মুবারকে তিনি বলেন- মসজিদ-বিমুখ হওয়া এবং অসৎ লোকদের আনুগত্য করা। নাউযুবিল্লাহ!
পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যমণি সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অনেক সময় বলতেন, তিন কারণে মানুষ ধ্বংস হয়- (ক) অহংকার, (খ) লোভ এবং (গ) হিংসা। নাউযুবিল্লাহ!
তিনি বলেন, (ক) অহংকারের কারণে মানুষের পবিত্র ধর্মীয় অনুভূতি বিনষ্ট হয়, এ কারণেই ইবলিস অভিশপ্ত হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
(খ) লোভ হচ্ছে নফসের দুশমন। যে কারণে ইবলিস পবিত্র জান্নাত থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
(গ) আর হিংসা পাপীদের গোয়েন্দা, এ কারণেই কাবিল সে হযরত হাবিল আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করেছে। নাউযুবিল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+