নারী সমাবেশে লোক জড়ো করতে মরিয়া সরকার : চাপের মুখে পোশাক খাতের মালিক-শ্রমিক নেতারা


আগামী ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আয়োজন করা হচ্ছে নারী সমাবেশ। নারীদের দাবি আদায়ের নামে এই সমাবেশ ডাকা হলেও মূল উদ্দেশ্য ৫ মে হেফাজতে ইসলমারে পূর্ব ঘোষিত ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি ঠেকানো। নারী সমাবেশের নামে ঢাকায় অন্তত দুই লাখ পোশাক খাতের নারী শ্রমিক জমায়েতের পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে এজন্য পোশাক খাতের ৫২টি শ্রমিক সংগঠন, পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

জানা গেছে, ২৭ এপ্রিলের নারী সমাবেশ থেকে আগামী ৫ মে ঢাকায় নারীদের অবস্থান কর্মসূচি নামে অপর একটি কর্মসূচি ঘোষণা হতে পারে। আর এতে মূলত ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে পোশাক কারখানার নারী শ্রমিকদের। এ লক্ষ্যে গত কয়েকদিন ধরেই ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। গতকালও শ্রমিক নেতাদের নিয়ে ২৭ এপ্রিলের নারী সমাবেশের প্রস্তুতি সভা করেছেন শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রায় রমেশ চন্দ্র। বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কামরুল আনাম। এই প্রস্তুতি সভা থেকে সিদ্ধান্ত হয়, আজ বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ২৭ এপ্রিলের নারী সমাবেশের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। প্রস্তুতি সভায় গতকাল আওয়ামী লীগ সমর্থিত ২৭টি শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এদিকে পোশাক শ্রমিকদের ওপর ভর করে ঢাকায় নারী সমাবেশের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি বানচালের যে উদ্যোগ সরকারের তরফ থেকে নেয়া হয়েছে তার সঙ্গে একমত নন পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র বর্তমান ও সাবেক নেতারা।
তারা জানিয়েছেন, সরকার তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে এই সমাবেশে নারী শ্রমিক পাঠানোর জন্য। এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতায় পোশাক খাতে গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থান বিরাজ করছে। বিশ্ব অর্থনেতিক মন্দার ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। তিনি বলেন, আমাদের পোশাক খাতের নারী শ্রমিকরা খুবই শান্তিপ্রিয়। আমরা সরকারের কাছে বা অন্য যে কোনো সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানাব এমন কোনো কিছু যাতে করা না হয় যার ফলে এই খাতের শ্রমিকদের মধ্যে বিদ্যমান সুশৃঙ্খলা নষ্ট হয়।
জানা গেছে, ২৭ এপ্রিল পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে শ্রমিকদের নারী সমাবেশে পাঠাতে বলা হতে পারে সরকারের তরফ থেকে। এমন একটি সিদ্ধান্তই হয়েছে জানিয়ে বিজিএমইএ’র এক শীর্ষ নেতা বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে দু’একদিনের মধ্যে এমন নির্দেশনা আসতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, গার্মেন্ট শ্রমিকদের রাজনীতিতে নিয়ে আসা কখনও উচিত হবে না। এটা পোশাক শিল্পকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। পোশাক শ্রমিকরা রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লে উত্পাদন ব্যাহত হবে। যা একদিকে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করবে অন্যদিকে রাজনৈতিক পালাবদলে পোশাক শিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। পোশাক শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকায় সঠিক সিদ্ধান্ত হবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তার কাছে শ্রমিক চেয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো অনুরোধ আসেনি বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলাম রাজধানী ঢাকায় লাখ লাখ লোকের উপস্থিতিতে এক বিশাল সমাবেশ করে। এই সমাবেশে সরকারের কাছে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ক্রমতালিকায় থাকা অষ্টম দাবিটি ছিল ‘ব্যক্তি ও বাক-স্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বলনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে।’ মূলত শাহবাগের বেলেল্লাপনা সম্পর্কেই এ দাবিটি ছিল। কিন্তু এর ভুল ব্যাখ্যা করে সরকারের মদতে একটি মহল নারীদের উসকে দিতে চাইছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে পোশাক খাতের শ্রমিক সংগঠন জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার গতকাল আমার দেশকে বলেন, হেফাজতে ইসলাম যেসব দাবি তুলেছে তার সঙ্গে আমাদের পোশাক খাতের শ্রমিক বা মালিকদের স্বার্থ বিষয়ে কিছু নেই। ফলে তাদের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার কোনো যৌক্তিকতাও নেই।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী তাদের উত্থাপিত দাবি বিষয়ে বলেছেন, ‘ইসলামই নারীকে সবচেয়ে বেশি মর্যাদা দিয়েছে। আমরা প্রগতির নামে বেলেল্লাপনার বিরুদ্ধে। নারীকে যেন পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা না হয় সেটাই বলেছি। কারণ বেলেল্লাপনায় আজ মূল্যবোধ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এতে সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌন নির্যাতন, ধর্ষণসহ নানা অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে। নারীরা শিক্ষায়, চাকরিতে এগিয়ে যাবে সেটা অবশ্যই আমরাও চাই।’
এদিকে নারী সমাবেশের নামে ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে এ বিষয়ে নারীদের হুশিয়ার করে দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। গতকাল ঢাকায় লালবাগের কার্যালয়ে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর এক জরুরি সভায় নেতারা একথা বলেন। সংগঠনের ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা নুর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নেতারা গার্মেন্টের নারী ও দেশের অন্যান্য সেক্টরে কর্মরত নারী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারাও মুসলমান। আল্লাহ ও রাসুলকে আপনারাও বিশ্বাস করেন, ভালোবাসেন। কারও প্ররোচনা, প্রলোভন, ভয়-ভীতিতে আপনারা আল্লাহ ও তার রাসুলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নিজের ঈমানকে ধ্বংস করে জাহান্নামের দিকে ধাবিত হবেন না। আপনারা নিজ নিজ কর্মস্থলে, নিজ নিজ পেশায় আত্মনিয়োগ করুন। ইসলাম আপনাদের কর্ম, পেশা ও চাকরিবিরোধী নয়।

গণজাগরণ মঞ্চ ও হেফাজতে ইসলাম

মোঃ রবিউল ইসলাম রবি ঃ

হুজুগে বাঙ্গালী বলে একটি কথা আছে । ন্যায্য দাবী কিংবা গুজোব নিয়ে এদেশের মানুষ এসব হুজুগে যোগ দেয়। এই হুজুগ বা গুজুবের মধ্যে যেগুলো সঠিক, সত্য, ন্যায়্য ও বাস্তব সেগুলো কোন একদিন প্রতিষ্ঠিত এবং সম্মানের সাথে অর্জিত হয় । এভাবেই গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের রাঙ্গানো সংগ্রামী ইতিহাস। ৫২তে দেশের ভাষা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ৭১’এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। দেশের সমস্ত মানুষ এই সব সংগ্রামে অংশগ্রহন ও সম্মতি না দিলে এই সফলতা কোনদিন অর্জিত হতো না। বর্তমানে গণজাগরণ মঞ্চ ও হেফাজতে ইসলাম এই দুটি সংগঠনই একই ভাবে নিজ নিজ অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ থেকে দেশের সমস্ত মানুষ হুজুগ দিয়ে উপচে পরেছে। ৭১’এ রাজাকারদের বিচারে সরকারের খেয়াল খুশিমত বিচার প্রক্রিয়া ও বিচারক নিয়োগ করায় বা অন্য কারো ইশারায় বিতর্কিত রায় এবং এ রায়ের প্রতিবাদে দেশের তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে, তৈরি হয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ এবং এদের বৈধ দাবী ও জাতীয় চেতনা কে নশ্যাত করার জন্য কুচক্রি মহল মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি এক মহাযোদ্ধাকে রাজাকার বলা থেকে শুরু করে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সঃ কে নিয়ে কটুক্তি করার দুঃসাহস করেছে। ৯০ ভাগ মুসলমানদের বাংলাদেশে সৃষ্টিকর্তা বিশ্বাসি ও নবী প্রেমিক মানুষ চরম ক্ষিপ্ত হয়ে হেফাজতে ইসলামের নামে সংগঠিত হয়ে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে ফুসে উঠেছে। নাস্তিক ব্লগারদের গ্রেফতার ও বিচার দাবীসহ ১৩ দফা দাবী সরকারের কাছে পেশ করেছে। সরকার ও বিভিন্ন মহলের মুখোমুখি অবস্থানে দেশে চলছে এক চরম অস্থিরতা ও আতংক।

দিকে কথায় কথায় হরতাল, রাজনীতিবিদদের ডাকে হরতাল, পেশাজীবিদের ডাকে হরতাল, পরিবহণ মালিকদের হরতাল, ছাত্র সংগঠনের ডাকে হরতাল, অবরোধ, ধর্মীয় নেতাদের ডাকে হরতাল। বাংলাদেশের ইতিহাশে এই প্রথম যুক্ত হলো সরকারের ডাকে অঘোষিত হরতাল, এমনকি নাস্তিকদের ডাকেও হরতাল হলো ধর্মভীড়– বলে পরিচিত বাংলাদেশে। হরতালে হরতালে দেশের ব্যবসা বানিজ্য, শিল্প, পরিবহণ, ব্যংক-বীমাসহ সমগ্র অর্থনীতির মুখ থুবরে পড়েছে। প্রতি হরতালে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা লোকসান হলেও মাথা ব্যথা নেই কারও। হরতালের ব্যপক ক্ষতিতে যেমন মাথা ব্যথা নেই হরতাল আহব্বান কারির, আর যে কারণে বা দাবীতে হরতাল ডাকা হয় সেই দাবির প্রতিও কোন গুরুত্ব নেই সরকারের। ফলে হরতালের পর চলছে টানা হরতাল। এখন প্রশ্ন কেন এই হরতাল, কেন এই ধ্বংশ। জনগণ তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়, নিজের জানমালের নিরাপত্তাসহ স্বুষ্ঠু ভাবে দেশ পরিচালনার জন্য। কিন্তু প্রতিটি সরকারই সেই আমানত খিয়ানত করে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে জনগণের আবেগ অনুভূতি উপেক্ষা ও জানমালের নিরাপত্তায় উদাসীন থেকে শুধু বিরোধীদের দমনে ব্যস্ত থাকে। অন্যদিকে বিরোধী পক্ষ ক্ষমতায় ফিরে যাওয়ার জন্য আন্দোলন করতে থাকে। কিন্তু এসব হরতাল ও আন্দোলনে ধ্বংশ ও রক্তপাত ছারা উভয় দল জাতিকে এখন পর্যন্ত আর কি দিতে পেরেছে?

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বিশাল জয় নিয়ে ক্ষমতায় বসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে , আর বিরোধী দল সেটি পুণরুদ্ধারে আন্দোলন করছে। প্রথমে বি এন পি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবীতে হরতাল না দিয়ে শান্তিপ্রিয় কর্মসুচি মানব বন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ করা শুরু করেছিল। কিন্তু প্রতিবারই সরকারের বাধার মুখে পরেছে এবং কোন কোন সময় পুলিশ তাদের কোথাউ সংঘবদ্ধভাবে দাড়াতেও দেয়নি। বাধ্য হয়ে বিএনপি হরতালের মত ধ্বংশাত্বক কঠোর কর্মসুচি দিয়েছে। এখানে বলবো সরকার হরতাল দিতে বিরোধী দলকে বাধ্য করেছে। কারণ হরতাল নামটা শুধু ঘোষণা করলেই সারাদেশের পরিবহণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার আশংকায় সব বন্ধ থাকে। সুতরাং হরতাল ডাকলেই হরতাল। তবে হামলা এড়াতে চাইলেও রক্ষানেই অনেকের, হরতালের আগের দিন আতংক সৃষ্টির জন্য গাড়ীতে আগুণ ও ইট পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। যা কোন ভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। বিএনপির হরতালের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে যুদ্ধাপরাধীর বিচার ঠেকানোর জন্য জামায়াত শিবিরের হরতাল। বিশেষ করে জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাইদিকে ফাসির রায়ের প্রতিবাদে সারা দেশে সাইদি প্রেমিক ও জামায়াত শিবির চরম বিক্ষোভে আন্দোলনে নেমে ধ্বংশলীলা চালায় আর এই আন্দোলন সরকারের নির্দেশে পুলিশ গরম মাথায় মোকাবেলা করতে গিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে শতাধিক আন্দোলনকারী সহ সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায়। আহত হয় কয়েক হাজার। এরপর চাঁদে সাইদির ছবি দেখা গেছে বলে কিছু কাঠমোল্লার অপপ্রচার সারাদেশে গুজব ছরিয়ে পড়ে। এই গুজবে কিছু নির্বোধ অজ্ঞ মানুষ হুজুগে পড়েূূূ বিশৃংখলার চেষ্টা চালায়, যাদের নাস্তিকতার অভিযোগ এনে বিচার প্রয়োজন। কিন্তু সরকারের হেফাজতে ও নিরাপত্তায় থাকা কিছু বিভ্রান্তরা ইসলাম ও তার নবীকে নিয়ে সদর্পে কটুক্তি করে এবং তার বিরুদ্ধে ধর্মপ্রাণ মুসলমানের বিক্ষোভ ও আন্দেলনের মুখে নাস্তিকদের ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকে সরকার, অন্যদিকে নাস্তিক বিরোধী মুসলমানদের শান্তিপ্রিয় বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের পেছন থেকে গুলি করা সহ বায়তুল মোকাররম মসজিদেও গুলি চালানো হয়। জনমনে সন্দেহ ও চরম অসন্তোস দেখা দেয়। ৮ এপ্রিল হেফাজতে ইসলাম রাজধানীর মতিঝিলে মহাসমাবেশ ডাকে। মুসলমানদের এই শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ঠেকাতে কিছু সংগঠন ৬ ও ৭ তারিখ হরতাল ডাকে এবং সরকারের সহযোগিতায় ঢাকার চতুর্পাশে চেকপোস্ট বসানো হয়। সারাদেশের পরিবহন মালিক সমিতি গাড়ী চালনা বন্ধ করে দেয় যদিও বিরোধী দলের ডাকা হরতালে তারা গাড়ী চালানোর ঘোষণা দেয়। দেশের অধিকাংশ মানুষের মুখে উচ্চারিত হয় সরকারি দলের হরতাল চলছে। আলোচনা হয় মুসলমানদের বিরুদ্ধে নাস্তিকদের ডাকা হরতাল। কিন্তু নবী প্রেমিক মুসলমানদের কোন ভাবেই আটকানো যায়নি। তাঁদের ঈমানি শক্তি দিয়ে সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে পায়ে হেটেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। ৭১,এর পর বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বরণকালের বৃহত্তম গণজমায়েতের সৃষ্টি হয় মতিঝিলে। জাতীয় পার্টির এরশাদ সহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ এসব মুসল্লিদের ন্যায্য দাবির প্রতি সংহতি জানাতে খাবার ও পানি হাতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কিছু ডাক্তররাও এগিয়ে আসে তৌহিদী জনতার চিকিৎসা সেবায়। দেশবাসি অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখে সেই দৃশ্য। ১৩ দফা দাবি তুলে ১ মাসের আল্টিমেটাম দিয়ে আগামি ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসুচি ঘোষণা করে সমাবেশ শেষ করা হয় । লক্ষ লক্ষ মানুষ সেচ্ছায় ঢাকা ছেড়ে চলে আসে। এরপরপরই প্রধানসন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রীবর্গ ও আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতারা হেফাজতের ১৩ দফা দাবির ১টিও মানা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন। তারা ভুলে যান সেদিনকার গণবিস্ফোণকে, ভুলে যান মুসলমানদের ঈমানি শক্তিকে। এহেন পরিস্থিতিতে দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ আশংকা করছেন অনিবার্য সংঘাতের।
যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবীতে যেমন নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ সর্ব স্তরের মানুষ স্বতস্ফূর্ত ভাবে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি করেছিল এবং জামায়াত বাদে সব রাজনৈতিক দল তাতে সমর্থন দিয়েছিল। ঠিক একি ভাবে ধর্ম অবমাননা ও নবীজীকে কটুক্তির প্রতিবাদে ও নাস্তিকদের বিচারের দাবীতে সর্বস্তরের মানুষ হেফাজতে ইসলাম এর সৃষ্টি করেছে এবং নাস্তিকবাদি দল বাদে সমস্ত রাজনৈতিক দল তাতে সমর্থন দেয়। গণজাগরণ মঞ্চ-এ কতিপয় নাস্তিক ব্লগাররা ও বামপন্থিরা যোগদিয়ে মুক্তিযোদ্ধাকে নষ্ট ভ্রষ্ট ও রাজাকার বলে অসম্মান এবং ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে যেমন বিতর্কিত হয়েছে, তেমনি হেফাজতে ইসলামে জামায়াত ও উগ্রপন্থী যোগদিয়ে নারী সাংবাদিককে পিটিয়ে নাস্তিক সমর্থনকারি যারা লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশকে খাটো করে অল্পলোকের সমাগমকে লাইফ দেখান সেইসব টিভি চেনেল গুলোকে ইসলামের বিরুদ্ধে উৎসাহিত করেছে। আজকে সরকার গণজাগরণ মঞ্চ-এ সরাসরি অংশগ্রহন করে এবং হেফাজতে ইসলামসহ সবকিছুকেই জামায়াত শিবির বলে আখ্যা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইসলামের অনুভূতি থেকে জন্ম যথাক্রমে গণজাগরণ মঞ্চ ও হেফাজতে ইসলামকে সরকার সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করতে না পেরে উভয়টিই সরকারের অস্তিত্বে বিষফোড়ার মত হয়ে দাড়িয়েছে। গণজাগরণ মঞ্চ-এ লোক সমাগম কমে গেলেও হেফাজতে ইসলাম-এ দিন দিন ব্যাপকতা পাচ্ছে।

 

এদিকে বিরোধীদলের উপর সরকারের চরম নির্যাতন. অসংখ্য মামলা, গ্রেফতার, বড় দুই দলের সাহায্য সহযোগিতায় গড়ে উঠা ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ভাবে শক্তিশালি ও কট্টরপন্থি সংগঠন জামায়াত শিবিরের নেতাদের বিচার এবং বিচার ঠেকানো আন্দোলনে পুলিশের নির্বিচারে দেড়শতাধিক মানুষ হত্যা,ইসলাম ও মহানবী সঃ এর কটুক্তি কারিদের সহজেই বিচারের আওতায় না আনা এবং নাস্তিক ব্লগারদের পক্ষালম্বনে হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ লংমার্চ- পূর্ববর্তি বামপন্থিদের হরতাল ও সমাবেশ স্থলে আসতে বাধাদান ইত্যাদি কারনে চরম অসন্তোস থেকে আন্দোলনকারীদের আইন হাতে তুলে নেয়ার মত লোমহর্ষক দূর্ঘটনা ইতোমধ্যে দেশবাসি লক্ষ করেছে। তারা পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের উপর হামলা চালাচ্ছে। পাবনায় থানায় হামলা,বোমা মেরে পুলিশের দুইহাত উড়িয়ে দেয়া থেকে শুরু করে পুলিশের মাথা থেতলে দেয়া হয়েছে এবং সর্বশেষ চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হরতাল বিরোধী হোন্ডা মিছিলে হামলায় ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যা গৃহযুদ্ধের শামিল। এহেন পরিস্থিতিতে মানবাধিকার কর্মীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন সরকারকে নানা পরামর্শ দিলেও তা আমলে না নিয়ে দেশকে আরোও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে বিরোধী দলের শীর্ষনেতাদেরসহ প্রায় সব নেতা কর্মীদের আটক করছে। সবমিলিয়ে অস্থির পরিবেশে বাংলাদেশের জাতীয় দাবী রাজাকারদের বিচার আসলে কে কারা বাধাগ্রস্থ করতে চাইছে তা আজ অনেকের কাছেই অনুমেয় হতে চলেছে। সে যাই হোক আমরা সব রাজাকারসহ নাস্তিক ব্লগারদের বিচার দেখতে চাই। বিরোধীদলের তত্তাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা ও হেফাজতে ইসলামের দাবীগুলোর বিপরীতে সরকারের অনড় অবস্থান জাতীয় ঐক্যমত ছাড়া জামায়াত শিবিরের বিচার প্রক্রিয়া, জামায়াত শিবিরের সহিংসতা, পুলিশের নির্বিচারে গুলি, গণজাগরণ মঞ্চ ও হেফাজতে ইসলামের তৎপরতা এবং বিএনপির সমস্ত নেতাকর্মীদের আটকের পর সংঘাত ও ধ্বংশের রাজনীতি এখন কোন দিকে যাচ্ছে আর কতজনের মৃত্যু হবে তা এখন সর্বত্র আলোচ্য। এরপর ৫ই মে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ কর্মসুচিতে দেশের অবস্থা কি দাড়ায় তা নিয়ে দেশের শাস্তিপ্রিয় মানুষ শংকায় রয়েছে। সৃস্টিকর্তা এই সংকট নিরোসনে সকলকে সুভবুদ্ধি দিন এবং নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নিয়ে সকল সমস্য সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করুন এটাই জাতির প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+