JE SUIS TABLEEG গাট্রিওয়ালাদের চিল্লা নিয়ে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মিথ্যাচার। নাউযুবিল্লাহ


প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা বলে থাকে যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “গারে হেরায়” চিল্লা দেয়ার উসীলাই পবিত্র কুরআন শরীফ ও নুবুওওয়ত প্রাপ্ত হয়েছেন | যেমন এ প্রসঙ্গে তাদের কিতাবে বিবৃত হয়েছে- “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৪০ দিন পর্যন্ত “গারে হেরা” পর্বতে থাকিয়া আল্লাহর ধ্যান ও যেকেরে চিল্লা দিলেন, যাহার ফলে তিনিও কুরআন ও নুবুওওয়াত প্রাপ্ত হইলেন |
দলীল- তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব পৃষ্ঠা-৮৯, লেখকঃ ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী |
আমাদের জবাব-
প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের এ বক্তব্য ডাহা মিথ্যা ও সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চিল্লা হিসেবে গারে হেরাতে কখনো একাধারে চল্লিশ দিন ব্যয় করেননি | বরং যখন উনার বয়স মুবারক তেত্রিশ থেকে চৌত্রিশ, তখন থেকে তিনি মাঝে মাঝে গারে হেরাতে গিয়ে মুরাক্বাবা করতেন | যা উনার সীরাত কিতাবসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে | মূলতঃ প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা তাদের প্রচলিত চিল্লাকে সুন্নত প্রমাণ করতে গিয়ে মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, যা কুফরী হয়েছে | যে প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে,
“যে আমার নামে মিথ্যা বলে, সে যেন দুনিয়ায় থাকতেই তার স্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয় |”
(পবিত্র বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, ওমদাতুল ক্বারী ইত্যাদি)
দ্বিতীয়তঃ নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গারে হেরাতে ধ্যান ও যিকিরে চিল্লা দেয়ার ফলে পবিত্র কুরআন শরীফ ও নুবুওওয়ত দেয়া হয়েছে, তাদের একথাও মিথ্যা ও অশুদ্ধ | কারণ কোন নবী আলাইহিমুস সালামগণকে নুবুওওয়াত ও কোন রসূল আলাইহিমুস সালামগণকে রেসালাত দেয়ার জন্য রিয়াযত-মুশাক্কাত, মুরাক্বাবা-মুশাহাদা, শর্ত করা হয়নি | অর্থাৎ রিয়াযত-মুশাক্কাত বা মুরাক্বাবা-মুশাহাদার বিনিময়ে বা বদলে অথবা কোশেশের কারণে কাউকেও নুবুওওয়াত বা রেসালত দেয়া হয়নি | বরং বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, রিয়াযত-মুশাক্কাত, মুরাক্বাবা-মুশাহাদা ইত্যাদি কোশেশের দ্বারা অলী-আল্লাহ্ হওয়া যায়, নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম হওয়া যায় না | নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ সম্পর্কে এ প্রকার শর্ত আরোপ করা উনাদের শানের খিলাফ, যদ্বারা উনাদেরকে এহানত (অবজ্ঞা) করা হয় | আর নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণকে এহানত করা কাট্টা কুফরী |
আরো উল্লেখ্য যে, কাফেরেরা নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ সম্পর্কে নানা প্রকার মন্তব্য পেশ করার ফলে, কে নবী-রসূল হবেন, সে প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ পাক বলেন, “আল্লাহ্ পাকই সবচেয়ে অধিক জানেন, কোথায় উনার রিসালত রাখতে হবে | অর্থাৎ কাকে নবী এবং কাকে রসূল হিসেবে মনোনীত করতে হবে, তা আল্লাহ্ পাক সমধিক জ্ঞাত |” (সূরা আনআম/১২৪)
মহান আল্লাহ্ পাক সূরা হজ্বের ৭৫নং আয়াত শরীফে আরো বলেন, “আল্লাহ্ পাক ফেরেশতা ও মানুষের মধ্য থেকে রসূল মনোনীত করেন |”
মূলতঃ উপরোক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা একথাই প্রমাণিত হয় যে, সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণকেই মহান আল্লাহ্ পাক মনোনীত ও নির্বাচিত করেন | (সমূহ তাফসীরের কিতাব)
সেখানে যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার শান সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ পাক সূরা ইমরানের ৮১নং আয়াত শরীফে বলেন, “এবং যখন আল্লাহ্ পাক নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার বা শপথ গ্রহণ করলেন যে, আমি কিতাব ও হেকমত থেকে তোমাদেরকে যা দান করেছি | অতঃপর তোমাদের নিকট তোমাদের কিতাবকে সত্য প্রতিপাদন করার জন্য কোন রসূল আসেন, তখন নিশ্চয়ই সে রসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং উনাকে সাহার্য করবে | আল্লাহ্ পাক বললেন, তোমরা কি শপথ করছ এবং এ শর্তে আমার ওয়াদা গ্রহণ করে নিয়েছ? উনারা বললেন, আমরা স্বীকার করে নিলাম | আল্লাহ্ পাক বললেন, তোমরা স্বাক্ষী থাক এবং আমিও তোমাদের সাথে স্বাক্ষী রইলাম |”
এ আয়াত শরীফের তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে, এই যে ওয়াদা নেয়া হয়েছে, তা আলমে আরওয়াহয়, রোজে আযলে বা অন্য কোথাও | তবে এ বিষয়ে সকলে একমত যে, ওয়াদা যেখানেই নেয়া হোক না কেন, তবে তা সৃষ্টির শুরুতে নেয়া হয়েছে | (সমূহ তাফসীরের কিতাব)
আর পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে, “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললেন, যে আল্লাহর রসূল! আপনি কখন থেকে নবী? তিনি বললেন, “আমি তখনো নবী ছিলাম, যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম রূহ্ এবং শরীরে ছিলেন |”
(তিরমিযী শরীফ, মেশকাত, উরফুশ শাজী, তোহফাতুল আহওয়াযী, মায়ারেফুস সুনান, মেরকাত ইত্যাদি)
অন্য রেওয়ায়েতে রয়েছে, আমি তখনো নবী ছিলাম, যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম মাটি ও পানিতে ছিলেন |”
উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফের মাধ্যমে এ কথাই সুস্পষ্ট হয়ে উঠে যে, তিনি তখনো নবী ছিলেন, যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সৃষ্টিই হয়নি | আর কোন নবী আলাইহিমুস সালামগণকে নুবুওওয়াত দেয়া হয়নি, কোন রসূলকে রেসালত দেয়া হয়নি, মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রেসালতের উপর ঈমান না আনা পর্যন্ত | অথচ সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের নুবুওওয়াত ও রেসালত দেয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে সেই রোজে আযলেই |
(সমূহ তাফসীরের কিতাব)
তাহলে প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের লোকদের এ কথা কি করে শুদ্ধ হতে পারে যে, মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নুবুওওয়াত দেয়া হয়েছে, গারে হেরাতে ধ্যান ও যিকিরে চিল্লা দেয়ার কারণে |
আর পবিত্র কুরআত শরীফ, যা মহান আল্লাহ্ পাক নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দিয়েছেন, তা সম্পর্কেও তাদের বক্তব্য মিথ্যা | কারণ, গারে হেরায় যিকির ও ধ্যানে চিল্লা দেয়ার কারণে আল্লাহ্ পাক, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পবিত্র কুরআন শরীফ দেননি বরং মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল হিসেবে তৈরী করেছেন, সেই জন্যই পবিত্র কুরআন শরীফ দিয়েছেন | মূলতঃ তাদের উক্ত বক্তব্য মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ ও উনার শান এহানতকারী উক্তি, যা কুফরীর অন্তর্ভূক্ত |
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে, “যে আমার নামে স্বেচ্ছায় মিথ্যা কথা বলে সে যেন দুনিয়ায় থাকতেই তার স্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয় |”
(পবিত্র বুখারী শরীফ, ফতহুল বারী, ওমদাতুল ক্বারী ইত্যাদি)
স্মরণীয় যে, মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে চল্লিশ বছর বয়সে নুবুওওয়াত দেয়া হয়েছে | এ কথার অর্থ হলো, এই যে, মহান আল্লাহ্ পাক, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার দুনীয়াবী হায়াতে জিন্দেগীর চল্লিশ বছর বয়স মুবারকে নুবুওওয়াতের ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে দিয়েছেন | কিন্তু নবী হিসেবেই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তৈরী হয়েছেন |
অতএব প্রতীয়মান হলো যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাধারে চল্লিশ দিন পর্যন্ত গারে হেরায় চিল্লা দেয়ার ফলে পবিত্র কুরআন শরীফ ও নুবুওওয়ত প্রাপ্ত হয়েছেন | একথা সম্পূর্ণ ভুল, যা মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে মিথ্যা তোমহম দেয়ার শামিল এবং যা উনার শান ও আদবের খেলাফ হওয়ার কারণে কুফরীর অন্তর্ভূক্ত | তাই এ আক্বীদা পোষণ করা থেকে প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতসহ সংশ্লিষ্ট সকলেরই তওবা করা ফরয/ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত |

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে