ইসলাম ও জীবন
ইসলামী শরীয়তে নারী নেতৃত্ব হারাম এবং তার মূল কারণ
লিখেছেন উসওয়াতুন হাসানাহ
·

-
মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন নারী নেতৃত্বের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছেন। তেমনিভাবে উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও নারী নেতৃত্বের কুফলতার কথা ব্যক্ত করেছেন। তাই ইসলামী শরীয়তে নারী নেতৃত্বকে হারাম ও নাজায়িয ফতওয়া দেয়া হয়েছে। এর পিছনে কতগুলো কারণ বিদ্যমান রয়েছে।কারণগুলো দলীল-আদিল্লার ভিত্তিক আলোচনা করছি-
১. আল্লাহ পাক উনার নিষেধাজ্ঞা: আল্লাহ পাক কুরাআন শরীফ-এ নারীদের উপরে যে পুরুষদের অভিভাবকত্য চলবে, তথা পুরুষদের উপরে নারীদের নেতৃত্ব হারাম এ বিষয়ে জানিয়ে দিয়ে বলেছেন,
অর্থ: পুরুষেরা নারীদের উপরে কর্তৃত্ব করবে। এজন্য যে, আল্লাহ পাক একের উপর অন্যের মর্যাদা দান করেছেন।
<span;>(সূরাতুন নিসা ৩৪ নং আয়াত শরীফ)
এ আয়াত শরীফ-এর তাফসীরে তাফসীরে জালালাইন শরীফে উল্লেখ আছে,
অর্থ: (পুরুষেরা কর্তৃত্ব করবে) নেতৃত্ব দিবে বা সুলতান হবে (নারীদের উপর) তাদেরকে আদব শিক্ষা দিবে এবং তাদের সমস্ত দায়িত্ব নিবে। অর্থাৎ মহিলাদের উপর পুরুষদের মর্যাদা দিয়েছেন ইলম আক্বল অভিভাবকত্ব এবং অন্যান্য বিষয়ে।ইবারতটি থেকে জানা যায় যে, সব সময়ের জন্য মহিলাদের উপর পুরষরাই কর্তৃত্ব করবেন। খলীফা হবেন পুরুষ, মুজাদ্দিদ হবেন পুরুষ, ইমাম, কাযী, গভর্ণরও হবেন পুরুষ। তাই নারীদের পক্ষে পুরুষদের উপর কর্তৃত্ব করার কোন অধিকার নেই।
২. হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারী নেতৃত্বের ব্যাপারে কুফলতা বর্ণনা করেছেন। যেমন-
অর্থ: হযরত আবূ বাকরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে শুনা একটি হাদীছ শরীফ দ্বারা আল্লাহ পাক আমাকে রক্ষা করেছেন। পারস্য সম্রাট কিসরা নিহত হলে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তারা কাকে শাসক বানিয়েছে? হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম বললেন, তার কন্যাকে। তখন হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করলেন, সে জাতি কখনোই সফলকাম হবে না, যারা তাদের শাসনভার নারীর হাতে তুলে দেয়। রাবী বলেন, যখন হযরত আশিয়া ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম বসরায় উপস্থিত হলেন, তখন রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ঐ হাদীছ শরীফ স্মরণ হলো। অত:পর এর দ্বারাই আল্লাহ পাক আমাকে (হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ থেকে) রক্ষা করেন।”
(তিরমিযী শরীফ)
অর্থ:- হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, যখন তোমাদের মধ্যকার উত্তম লোক (পুরুষ) তোমাদের শাসক হবে, তোমাদের ধনবানরা দানশীল হবে এবং তোমাদের কাজ-কর্ম পরামর্শের ভিত্তিতে বা মজলিসে শুরা’র ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে, তখন জমিনের পেটের তুলনায় জমিনের পিঠই তোমাদের জন্য উত্তম হবে। আর যখন তোমাদের মধ্যকার নিকৃষ্ট লোক তোমাদের শাসক হবে, তোমাদের ধনবানরা কৃপন হবে এবং তোমাদের কার্যাবলী তোমাদের নারীদের উপর ন্যস্ত হবে, তখন জমিনের পিঠের তুলনায় জমিনের পেটই তোমাদের জন্য উত্তম হবে। (অর্থাৎ জীবনের চেয়ে ইন্তিকাল উত্তম হবে) (তিরমিযী শরীফ)
উল্লিখিত হাদীছ শরীফগুলো থেকে প্রমাণিত হলো যে, নারীদেরকে যে জাতি শাসক হিসেবে নির্বাচন করবে সে জাতির ইহকাল ও পরকাল কোন কালেই মঙ্গল হবে না। আর নারী নেতৃত্ব ফিতনা-ফাসাদের কারণ হয়ে থাকে৩. মহিলারা হচ্ছে পর্দার অধীন। তারা ঘরের প্রকোষ্ঠে অবস্থান করবে। বিশেষ জরুরত ছাড়া বাড়ীর বাইরে যাওয়া তাদের জন্য হারাম এবং তাদের জন্য শাসক হওয়া জায়িয নেই: কারণ, মহিলা শাসক দেশের প্রধান অথবা সমাজ নেত্রী হলে বেপর্দা হওয়ার কারণে অবশ্যই আল্লাহ পাক উনার লা’নতের অধিকারী হবে। তাই শরীয়তে নারী নেতৃত্ব হারাম বা নাজায়িয হিসেবে ফতওয়া দেয়া হয়েছে। যার অস্বীকারকারীরা কাফির তথা মুরতাদ।
মহিলাদের ক্ষেত্র হচ্ছে ঘরের অভ্যন্তর, নেত্রী বা শাসক হওয়া যে তাদের ক্ষেত্র নয়।এ সম্পর্কে দলীলসহ আলোচনা উপস্থাপন করছি,
অর্থ:- তোমরা তোমাদের ঘরের প্রকোষ্ঠে অবস্থান করো। জাহিলিয়াত যুগের মত সৌন্দর্যতা প্রদর্শন করে বাইরে বেড়িওনা।”
- (সূরাতুল আহযাব ৩৩নং আয়াত শরীফ
- এই আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে, মহিলারা ঘরে থাকবে।” তাদের জন্য বাইরে বের হওয়া জায়িয নেই। শাসক হলে তো বাইরে বের হওয়ার কারণে আল্লাহ পাক উনার বিধান লঙ্ঘন হওয়ায় গুনাহগার হতে হবে। বিশেষ জরুরতের কথা আলাদা। মহিলা শাসক হলে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় বেপর্দা হওয়ার কারণে নিজেও গুনাহগার হবে এবং যারা দেখবে তারাও গুনাহগার ও লা’নতগ্রস্থ হবে। তাই মহিলা নেতৃত্ব হারাম নাজায়িয।অর্থ:- যদি আল্লাহ পাক উনার ভয় করেন, তবে পুরুষদের সাথে কোমল আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলবেন না। ফলে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে ব্যক্তি কু-বাসনা করবে। আপনারা শক্তভাবে কথা-বার্তা বলবেন।”
(সূরাতুল আহযাব ৩২ নং আয়াত শরীফ)
অত্র আয়াত শরীফ-এর মধ্যে পুরুষদের সাথে কোমল ও আকর্ষণীয়ভাবে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ এতে ফাসিক-ফুজজার এবং খারাপ লোকেরা কু-মতলব করে ধ্বংস ডেকে আনে। বিনা প্রয়োজনে পুরুষদের সাথে মহিলাদের কথা বলা জায়িয নেই।
পক্ষান্তরে নেত্রী বা শাসক হলে তাকে বিভিন্ন স্বভাবের লোকের সাথে কথা বলতে হবে এবং দেখা করতে হবে। যা শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষেধ তথা হারাম ও নাযায়িয। আর যদি আয়াত শরীফ-এর আমল করতে গিয়ে পর্দায় থেকে শক্তভাবে কথা বলে, তবে শাসকের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশের অবনতি তরান্বিত হবে। কারণ কাফির, ফাসিক-ফুজ্জাররা তো কুরআন শরীফ-এর বিধান মানতে রাজী নয়। তাই প্রমাণিত হলো যে, নারীদের শাসক হওয়া বা নেত্রী হওয়া জায়িয নেই। এটাই দ্বীন ইসলামের ফতওয়া।
অর্থ:- হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই মহিলা পর্দার অধিন। যখন সে ঘর থেকে বাইরে বের হয় তখন শয়তান (পাপ কাজ করানোর জন্য) তার দিকে উঁকি-ঝুঁকি মারে। সে তার রব আল্লাহ পাক উনার রহমতের নিকটবর্তী হয় তখনই, যখন ঘরের প্রকোষ্ঠে অবস্থান করতে থাকে।” (তিরমিযী শরীফ)
এই হাদীছ শরীফ এবং অন্যান্য হাদীছ শরীফ থেকে প্রমাণিত হয় যে, মহিলারা পর্দায় থাকবে, বাইরে বের হবে না, বের হলে শয়তান ওয়াসওয়াসা দিয়ে গুনাহের কাজ সংঘটিত করাবে। তাহলে মহিলাদের জন্য কিভাবে নেতৃত্ব দেয়া জায়িয হতে পারে?
অতএব আলোচনার ভিত্তিতে যে সমস্ত কারণে নারী নেতৃত্ব হারাম তা বলছি,
১. আল্লাহ পাক উনার বাণী নারীদের উপর পুরুষদের অভিভাবকত্ব বা নেতৃত্ব চলবে।
২. হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারী নেতৃত্বের ব্যাপারে ইহকাল ও পরকালীন অকল্যাণ ও কুফলতার কথা ব্যক্ত করেছেন।
৩. নারী নেতৃত্ব দিলে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় বেপর্দা হতে হবেই। যা সম্পূর্ণ নাজায়িয ও হারাম।
৪. অকারণে বা অগ্রহণযোগ্য কারণে বাড়ীর বাইরে বের হতে হবে। এটাও আল্লাহ তায়ালার বিধানের খিলাফ কাজ।
৫. ইচ্ছায় অনিচ্ছায় বেগানা পুরুষদের সাথে কথা বলতে হবে বা তাদের ফরিয়াদ শুনতে হবে। অথচ কুরআন কারীমে মহিলাদের কন্ঠস্বরকেও পর্দার আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
৬. মহিলাদের আক্বল পুরুষদের আক্বলের তুলনায় অর্ধেক।
৭. মহিলার স্বাক্ষী পুরুষদের সাক্ষীর অর্ধেক।
৮. মহিলার জন্য পুরুষের ইমামতি করা জায়িয নেই।
৯. বিবিধ উল্লেখযোগ্য কারণে মহিলাদের নেতৃত্ব জায়িয নেই। তন্মধ্যে বেপর্দা হওয়ার বিষয়টি অন্যতম।
ইছলাহে ক্বলব বা অন্তর শুদ্ধ হলেও বেগানা পুরুষদের সাথে সাক্ষাৎ করা জায়িয হবে না।
ঈমান বা আক্বীদা শুদ্ধ হওয়ার পর একটা মানুষের জন্য যেমন- নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ইবাদত ফরয হয়ে যায়। নামায, রোযা ইত্যাদি ইবাদত যেমন ওয়াক্ত অথবা সময় সাপেক্ষে ফরযে আইন। তেমনি পর্দাও প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর ইন্তিকাল পর্যন্ত ফরযে আইন। নামায, রোযা ইত্যাদি ইবাদতের কাযা রয়েছে কিন্তু পর্দার কোন কাযা নেই। তাই শরীয়তে পর্দার খিলাফ খুবই মারাত্মক অপরাধ ও গুনাহ।
ওলীআল্লাহ হোক, আলিম হোক, মাওলানা হোক, আবিদ হোক, আম-সাধারণ লোক হোক, ফাসিক হোক প্রত্যেকের জন্যই পর্দার বিধান সমান। বেগানা মহিলাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা কথা বলা নির্জনে অবস্থান করা কারো জন্যই জায়িয নেই। সে যে শ্রেণীর ব্যক্তি হোক না কেন। তাই অন্তর শুদ্ধ বা ইছলাহে কা’লব হলেই তার জন্য পর্দা ও অনুরূপ ফরয, ওয়াজিব এবং সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ইত্যাদি ইবাদতসমূহ ছেড়ে দেয়া জায়িয হবে না। কারণ এগুলো আল্লাহ পাক উনার বিধান, যা ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত, পালন করে চলতেই হবে। যদি আল্লাহ পাক এবং উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি অর্জন করতে হয়।
<span;>কিন্তু আজকাল কিছু ভন্ড ফকীর এবং যাহিরী ফকীর বা উলামায়ে সূ’রা বলে থাকে যে, অন্তর ঠিক হলেই আর পর্দার দরকার নেই। (নাঊযুবিল্লাহ) তাই তারা মহিলাদের হাতে হাত ধরে বাইয়াত করে এবং সামনে নিয়ে বেপর্দার সাথে তা’লীম দেয়।
যারা বলে, ‘অন্তরের পর্দা বড় পর্দা, বাহ্যিক পর্দার কোন মুল্য নেই। তাদের এ রকম আক্বীদা কুফরীমূলক। এ আক্বীদা রাখা জায়িয হবে না। এর থেকে খালিছ তওবা করা ফরয-ওয়াজিব। তারা তাদের ভ্রান্ত আক্বীদার পক্ষে কুরআন শরীফ থেকে দলীল পেশ করে থাকে। অথচ তারা যে আয়াত শরীফ খানা দলীল হিসেবে পেশ করে থাকে তার ব্যাখ্যা এবং অর্থ না বুঝার কারণে তারা তাদের আক্বীদাকে নষ্ট করেছে।
আয়াত শরীফ খানা হলো-
অর্থ:- অতএব আপনি আপনার রব বা প্রতিপালকের তাছবীহ পাঠ করুন, প্রশংসার সাথে এবং সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান। এবং আপনার রব এর ইবাদত করুন, মউত আসা পর্যন্ত।”
(সূরাতুল হিজর শরীফ ৯৮, ৯৯নং আয়াত শরীফ)
ভন্ড ফকীররা এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যা করে এভাবে যে, আপনার রবের ইবাদত করুন, বিশ্বাস আসা পর্যন্ত।” নাঊযুবিল্লাহ!
অর্থাৎ তাদের মতে ঈমান আক্বীদা শুদ্ধ হলে এবং আত্মশুদ্ধি হলে আর কোন ইবাদত করা লাগবেনা। নাঊযুবিল্লাহ!
তাদের এ ব্যাখ্যা কুরাআন শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর সম্পূর্ণ খিলাফ, মনগড়া, ধোকা প্রসূত। যা সর্বজনমান্য সমস্ত তাফসীরের খিলাফ।
যেমন, তাফসীরের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে যে,
অর্থ:- (আপনার রব-এর ইবাদত করুন ইয়াক্বীন আসা পর্যন্ত) অর্থাৎ মউত-ইন্তিকাল পর্যন্ত।
তাফসীরুল জালালাইন, তাফসীরুল মাযহারী
, তাফসীর ত্ববারানী, তাফসীরে বাইযাবী, তাফসীরে রূহুল বয়ান, তাফসীরে রূহুল মায়ানী ইত্যাদি তাফসীর এবং এছাড়াও অসংখ্য তাফসীরের কিতাবে আয়াত শরীফ-এর يقين ‘ইয়াক্বীন’ শব্দের ব্যাখ্যা করা হয়েছে, موت
‘মউত বা ইন্তিকাল’ হিসেবে।
তাই আয়াত শরীফ-এর অপব্যাখ্যা করে পর্দার বিধানকে মানুষের থেকে হালকা করার কোনই পথ নেই। অন্যান্য ইবাদতের মত পর্দাও ফরযে আইন। তাই ‘অন্তর ঠিক হলে মহিলাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা জায়িয । এমন বক্তব্য কুফরীমূলক। যে বা যারা এমন আক্বীদা রাখবে এবং বক্তব্য পেশ করবে সে বা তারা কাফির হবে।
যে সকল নামধারী পীর, মাওলানা, আলিম, ইমাম, খতীব বেগানা মহিলাদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের পিছনে নামায পড়ার শরয়ী হুকুম বা বিধান বর্ননা করছি,
মহিলাদের সাথে সাক্ষাৎ করা বা বেপর্দা হওয়া হারাম ও নাজায়িয। আর যারা অহরহ হারাম কাজ করে থাকে তারা হলো ফাসিক। ফাসিকের পিছনে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী। তবে জামায়াতের খাতিরে জায়িয।
যেমন ফিক্বাহের কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে,
অর্থ:অসদাচারী লোক, অন্ধলোক, গোলাম বা দাস, ব্যভিচারের সন্তান এবং ফাসিক ব্যক্তির ইমামতী জায়িয। যেমনটি ‘খুলাছা’য় আছে। তবে নিশ্চয়ই বিশুদ্ধ মতে তা মাকরূহ তাহরীমী। অনুরূপ ‘মাত’ন’ নামক কিতাবে আছে।” (আল ফাতাওয়াল আলমগীরিয়া ১ম জি: ৮৫ পৃষ্ঠা, খুলাছা, মাতূন)
আর যারা বেগানা মহিলাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করাকে জায়িয মনে করে থাকে, তারা কাফির কারণ শরীয়তের বিধানে যারা হারামকে হালাল বলে বা জানে এবং হালালকে হারাম বলে বা জানে তারা কাফির। আর কাফিরের পিছনে নামায পড়া জায়িয নেই।
যারা বাতিল ফিরকার অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু নিজেদেরকে হক্ব বলে দাবী করে, তাদের পিছনেও নামায পড়া জায়িয হবে না। তেমনিভাবে যারা পর্দার মত ফরযে আইন বিধানকে অমান্য করে বেপর্দা হয় বা নারীর সাথে গোপনে, প্রকাশ্যে, মিছিল, মিটিং তথা অহরহ দেখা সাক্ষাৎ করে এবং বলে থাকে এ যুগে এত পর্দা লাগেনা, এক রকম পর্দা করলেই চলে তাদের পিছনে নামায পড়া জায়িয নেই।
অনুরূপভাবে খারিজী, রাফিয়ী, ওহাবী, ‘কাদিয়ানী, শিয়া, কদরীয়া, জাবরিয়া, জাহমীয়া, মুশাব্বিহা এবং যারা কুরআন শরীফকে ‘মুখলুক’ বলে তাদের সকলের পিছনে নামায পড়া নাজায়িয-হারাম।
যদি কেউ এমন ব্যক্তির পিছনে নামায পড়ে তাহলে তাকে নামায দোহরানো ফরয-ওয়াজিব। নামায না দোহরালে নামায তরকের গুনাহে গুনাহগার হবে।
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, সকল মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসির, শাইখুল হাদীছ, শাইখুত তাফসীর, খতীব, ছুফী, দরবেশ, পীর, ওয়ায়িয ও আমীন নামধারী ব্যক্তিরা পর্দাকে ফরয বলে জানে কিন্তু নিজে পর্দা করেনা; বরং বেপর্দা হয়, বেগানা মহিলাদের সাথে দেখা করে, মিটিং করে, বেগানা মহিলাদের সাথে বসে ইফতার করে তারা চরম স্তরের ফাসিক।তাদের পিছনে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী। আর যারা বলে বর্তমানে পর্দার প্রয়োজন নেই, এত পর্দা লাগেনা, ইসলামী আইন কায়িমের জন্য বেপর্দা হওয়ার প্রয়োজন আছে, অর্থাৎ পর্দাকে অস্বীকার করে, তারা কাট্টা কাফির। তাদের পিছনে নামায পড়া সম্পূর্ণই হারাম ও কুফরী। যেমনিভাবে কাদিয়ানী, বাহাই, শিয়া, খারিজী ইত্যাদি ইত্যাদি ফিরক্বার লোকদের পিছনে নামায পড়া হারাম ও কুফরী।
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।