ভিন দেশের অন্ধ অনুসরন ৯৮ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ কখনোই করতে পারে না। তথাকথিত ‘সীমিত আকার’ কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সমীক্ষা অনুসারে বাংলাদেশে ৬ কোটি কর্মক্ষম লোক রয়েছে যারা শ্রমিক, রিক্সাচালক ইত্যাদি বিভিন্ন পেশায় যাদেরকে মূলত ডেইলী লেবারের সংজ্ঞায় ফেলা যায়। সমীক্ষা অনুসারে, এদের হাতে খাবারের টাকা থাকে মাত্র ৩ দিনের। এরপর এদের না খাবার পালা।
সরকার যেভাবে মসজিদে যেতে শর্ত-শারায়েত দিয়েছে, ওয়াজ মাহফিল বন্ধ করে দিয়েছে, মাদরাসা বন্ধ করে দিয়েছে, মার্কেটগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্যের সময় সীমিত করে দিয়েছে, পণপরিবহনে নানারকম শর্ত জুড়ে দিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে তাতে স্বাভাবিকভাবেই জনগণ ভয়াবহ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
এতে একদিকে খাদ্যশস্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে, অপরদিকে উৎপাদন কমে গিয়ে সংকট তৈরি হচ্ছে। এতে করে কার্যত বাজারে সরবরাহ কমে যাবে, যা কিছু থাকবে তা কিন্তু গার্মেন্টস শ্রমিক, রিক্সাওয়ালা, নির্মাণ শ্রমিক, চা বিক্রেতা, ফুটপাতের ব্যবসায়ী, ফেরীওয়ালা তাদের ক্রয় করার ক্ষমতা থাকবেনা। অর্থাৎ ঘুরেফিরে আবার সেই কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ।
কিন্তু করোনা নিয়ে মিথ্যাচার ও গুজবের কারণে কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ যে কত মহাভয়াবহ হবে তা অদুরদর্শী সরকারী নীতি-নির্বাচকরা কিছুই আঁচ করতে পারছেনা।
কারণ এমনিতেই বন্যা, দুর্ভিক্ষতে সরকার থেকে যে ত্রান দেয়া হয়, বর্তমানে করোনার অজুহাতে কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট এই দুর্ভিক্ষে সেই ত্রানও পর্যাপ্ত মিলছে না, লুটপাটতো আছেই।
এদিকে প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী আমেরিকাসহ কাফির-মুশরিকদের দেশগুলোতে আর্মসের দোকানের সব আর্মস বেচা শেষ। কারণ ওইসব দেশের লোকেরা মনে করছে, গজব হিসেবে হানা দেয়া করোনায় তাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হবে। সেক্ষেত্রে নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য তারা অস্ত্র মওজুদ করে রেখেছে।
বলাবাহুল্য, সরকারের বর্তমান কার্যক্রমে ভয়াবহ পরিনিতি হবে বাংলাদেশে। দেশের কোটি কোটি লোক যখন না খেয়ে থাকবে তখন তারা শান্ত থাকতে পারবেনা। সে উচ্ছৃঙ্খল জনগোষ্ঠীকে সরকার দুর্নীতিবাজ, অদক্ষ, স্বল্পলোকের বাহিনী কিছুই সামাল দিতে পারবেনা। বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মত পুরো সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার শৃঙ্খল নস্যাৎ হয়ে যাবে। সৃষ্ট হবে চরম নৈরাজ্যের। ভয়াবহ অবনতি হবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির। রাষ্ট্র পরিণত হবে ব্যার্থ রাষ্ট্রে। সরকার হয়ে যাবে বেশামাল। সার্বিক পরিস্থিতি চরম টলমলে। যে কোনো সময় উল্টে যেতে পারে সরকারের মসনদ।
বলাবাহুল্য বিরোধী পক্ষ তথা জামাত জোট এমনটিই চাচ্ছে। এমনকি মুনাফেক হেফাজতও তাদের সাথে একযোগে কাজ করে চলছে। তারা প্যানিক সৃষ্টি করছে। তাদের প্যানিক সৃষ্টি করা এবং সরকারের ভুল প্রচারণা ও আত্মঘাতি পদক্ষেপ একই সুতায় গাঁথা। সেটি হলো করোনাকে ছোঁয়াচে বা মহামারী- এ ভুল বিশ্বাস থেকে কাজ করা। করোনা যে ছোঁয়াচে নয় এবং মহামারীও নয় তার প্রমাণ ছহীহ বোখারী শরীফ, তিরমিজী শরীফের পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে ছোঁয়াচে বলে কোনো রোগ নেই।”
এখন সরকারের নীতি নির্ধারকদের মূল্যায়ন ও কাজে যদি করোনা ছোঁয়াচে নয়- এ বিশ্বাস প্রতিফলিত হতো তাহলে মসজিদ-মাদরাসা, জুমুয়ার নামাজ, ওয়াজ-মাহফিল, মার্কেট, কারখানা, চলাচল, গার্মেন্টস, নির্মাণ কাজ, দোকান-পাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রিক্সা চলাচল, চা-দোকান, হোটেল কিছুই বন্ধ হতোনা।
কিন্তু এখন করোনার নামে যে মৃত্যুপূরীর দিকে জনগণকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে তাতে শুধু জনগণই নয়, খোদ সরকারও মৃত্যুবরণ করবে এবং দেশটাও মৃত্যুপুরীতে পরিণত হতে পারে। নাঊযুবিল্লাহ!
প্রসঙ্গত, করোনায় আক্রান্ত হয়ে কাফির বিশ্ব যেভাবে মূল্যায়ন করছে, চিন্তা করছে, পদক্ষেপ নিচ্ছে, বাস্তবায়ন করছে, সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা পোষণকারী মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ তো সে একই চিন্তায়, একই পদক্ষেপ নিতে পারে না।
উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক অপপ্রচারণা হলো আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখন তারা জাতিকে দুর্ভিক্ষ দেয়। এমনকি তারা জিয়ার আমলে এই শ্লোগানও প্রচার করে- ‘১২ টাকা সের আটা নৌকার তলী ফাটা”। কাজেই, অভিজ্ঞমহল আশা করেন, করোনার অজুহাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আরেকটি দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করবেনা।
উল্লেখ্য, অতীতেও বহু নজীর রয়েছে যে, বিশেষ বিপর্যয়ে সরকারের নির্দেশে ও পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের মুসলমানগণ গণজমায়েত হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে তওবা ও দোয়া করেছেন। এবং তার সুফলও মিলেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতেও সরকারকে সব মসজিদ ও জুমুয়া খোলা রেখে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পবিত্র মীলাদ শরীফ ও দোয়ার মাহফিলের ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যক্তিগত ও সরকারী পর্যায়ে তওবা করে সম্মানিত ইসলামী আদর্শের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ইনশাআল্লাহ! এটাই ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব বাস্তবায়ন।
0 টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।