সবুজ বাংলা ব্লগ

সবুজ বাংলা ব্লগ

খবর

৪৯ মামলার আসামী কাঞ্চনের মায়ের আকুতি: “কাঞ্চন আমার বিরুদ্ধে দুইটি মামলা করে, অন্য নারীকে মা বানিয়ে তৈরী করে জাল দলিল”

আলোচিত ৪৯ মামলার আসামী একরামুল আহসান কাঞ্চনকে নিয়ে মুখ খুলেছেন তারই গর্ভধারীনি মা ৮৪ বছরের বৃদ্ধা কমরের নেহার। কাঞ্চন সম্পর্কে বলেছেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। জানিয়েছেন, কাঞ্চন তার আপন মায়ের বিরুদ্ধেই ২টি মামলা করে, এমনকি নিজের মায়ের নামীয় সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে অন্য নারীকে মা বানিয়ে জাল দলিল তৈরী করে। গতকাল ইয়াওমুল খামীস (বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আলোচিত ৪৯ মামলার আসামী একরামুল আহসান কাঞ্চনের মা কমরের নেহার এসব কথা বলেন। এ সময় তার সাথে স্ব-পরিবারে উপস্থিত ছিলেন কাঞ্চনের বড় ভাই আক্তারী কামাল ও একমাত্র বোন ফাতেমা আক্তার, মামাতো ভাই শাকেরুল কবির ও তার দুই বোন। এছাড়া অনলাইনে স্ব-পরিবারে সংযুক্ত হন কাঞ্চনের ছোট ভাই কামরুল আহসান বাদল ও তার পরিবার। উক্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে কাঞ্চনের মা বলেন, আমি কমরের নেহার। গত কয়েকদিনে আপনারা ৪৯ মামলার আসামী হিসেবে যে একরামুল আহসান কাঞ্চনের নাম শুনেছেন, তারই হতভাগ্য মা আমি। যে জমি-জমা নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা, সেই জমির মালিকও আমি। আমার মনে হয়েছে, আমি যদি প্রকাশ্যে কথা না বলি, তবে সত্যটা কখনই বেরিয়ে আসবে না, চিরদিনের জন্য আড়ালেই রয়ে যাবে। আর সে জন্যই আজকে আমার মিডিয়ার সামনে আসা। আমার স্বামীর নাম ডা আনোয়ার উল্লাহ সাহেব। ১৯৯৫ সালে ৭০ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফে বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন। তিনি দরবার শরীফের একজন একনিষ্ট মুরিদ ছিলেন। উনার ইন্তেকালের পর জানাজা পড়ান ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফের সম্মানিত পীর সাহেব কিবলা আলাইহিস সালাম। আমার স্বামীর অনুকরণে আমিও রাজারবাগ দরবার শরীফে বাইয়াত গ্রহণ করি। ১৯৯৩ সালে যখন থেকে রাজারবাগ দরবার শরীফের সম্মানিত হযরত আম্মা হুজুর কিবলা আলাইহাস সালাম উনার তালিম সব মহিলাদের জন্য উন্মুক্ত হয়, তখন থেকেই আমি তাতে অংশগ্রহণ করে আসছি। আমার স্বামী জীবিত থাকাকালে আমার বড় ছেলে ও একমাত্র কন্যাও ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফের বায়াত গ্রহণ করে। তবে আমার মেঝ ছেলে একরামুল আহসান কাঞ্চন জাপানে থাকায় ঐ সময় দরবার শরীফের বাইয়াত হতে পারেনি। ১৯৯৫ সালে তার পিতার ইন্তেকালের পর জাপান থেকে ফিরে এসে কাঞ্চন রাজারবাগ দরবার শরীফের বাইয়াত হয় এবং তার দ্বিতীয় বিয়ের অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয় রাজারবাগ দরবার শরীফে। তবে আমার ছোট ছেলে বাদল শাহজাহানপুরে একটি দরবারের বাইয়াত হওয়ায় রাজারবাগ দরবার শরীফের বাইয়াত গ্রহণ করেনি। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার স্বামী ব্যক্তি জীবনে খুবই ধর্মপরায়ন মুসলিম ছিলেন। তিনি নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। উনার খুব ইচ্ছা ছিলো একটি হেফজখানা ও কুরআন শরীফ তালিমগার প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে ছোট ছোট বাচ্চারা আল্লাহ পাকের কালাম শিখবে আর সেই সওয়াব উনার আমলনামায় যোগ হবে। কিন্তু জীবদ্দশায় তিনি তা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। হেফজখানা ও কুরআন শরীফ তালিমগার প্রতিষ্ঠা নিয়ে উনার ওসিয়ত পরবর্তীতে স্ত্রী হিসেবে আমি বাস্তবায়ন করি। আমার স্বামী আর্থিকভাবে সামর্থবান ছিলেন। তিনি অনেক জমিজমা ক্রয় করেন। ঢাকার শেওড়াপাড়ার জমি, শাহজাহানপুর থানার শান্তিবাগে বাড়ি, নারায়নগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবাইলে ফ্যাক্টরি, তক্কার মাঠে জমি, পিলকুনিতে ৪টি প্লট উল্লেখযোগ্য এছাড়া তিনি নোয়াখালীতে পৈত্রিক সূত্রে অনেক জমিজমা লাভ করেন। উনার ইন্তেকালের পর এই সম্পত্তিগুলোর প্রত্যেক ওয়ারিশের মধ্যে বণ্টন হয়, যা প্রত্যেকের স্বচ্ছল জীবন-যাপনের জন্য যথেষ্ট। আমার স্বামী জীবিত থাকতে আমার জন্য আলাদা কিছু সম্পত্তি ক্রয় করেছিলেন। মূলত, এই জমি সেই জমি, যা নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা। ২০০৯ সাল থেকে এ জমি নিয়েই আমার মেঝ পূত্র কাঞ্চনের সাথে আমার প্রথম বিরোধ শুরু হয়। কারণ স্বামীর অনুকরণে আমিও চেয়েছিলাম, পরকালের সম্পদ হিসেবে কিছু ধর্মীয় কাজ করে যাওয়ার জন্য। সে ইচ্ছা থেকেই আমার নিজের জমি থেকে কিছু জমি মাদ্রাসা ও ইয়াতিমখানায় দান করার নিয়ত করি। কিন্তু আমার এ দানের বিষয়টি অন্য সন্তানরা মেনে নিলেও প্রথম থেকেই দ্বিতীয় পূত্র একরামুল আহসান কাঞ্চন মানতে পারেনি। তার কাছে আমার পরকালের সম্পদ থেকে তার ইহকালের সম্পদের ভাগ বড় হওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ কাঞ্চন ওয়ারিশসূত্রেই পর্যাপ্ত জমিজমা লাভ করেছে। আমি যে জমিটুকু দানের নিয়ত করেছি, এটা তো আমার পরকালের সম্পদ, সেটা কেন তাকে দিয়ে দিতে হবে ? আমি আমার সকল সন্তানকেই বিষয়টি ভালোভাবে বুঝিয়েছি। সবাই বিষয়টি সহজভাবে বুঝলেও স্ত্রীর প্ররোচনায় কাঞ্চন শুরু থেকেই আমার কথা মানতে চায়নি। সে সময়ে-অসময়ে আমার উপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে যেন, আমি আমার সম্পত্তি পুরোটাই তাকে লিখে দেই, কোনভাবেই যেন মাদ্রাসায় দান না করি। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি কাঞ্চনের কথা মেনে না নেয়ায়, সে অন্য এক মহিলাকে মা বানিয়ে আমার জমির জাল দলিল তৈরী করে (জাল হেবা দলীল নং ১৩৯২৬, তারিখ: ২২/১১/২০০৯)। আসলে আমার স্বামীর সম্পত্তির সব দলিলপত্র সব সময় আমার মেঝ ছেলে কাঞ্চনের কাছেই জমা থাকতো। তাকে আমরা পরিবারের সবাই খুব বিশ্বাস করতাম। কিন্তু অন্য নারীকে মা বানিয়ে জাল দলিল তৈরীর পর সবাই নড়েচড়ে বসে এবং খুঁজতে থাকে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে সে আর কি নড়চড় করেছে। তখন কেঁচো খুড়তে সাপ বেড়িয়ে আসে। দেখা যায় প্রায় ১ যুগ আগেই সে আমাকে মৃত দেখিয়ে এবং তার একমাত্র বোন ফাতেমা আক্তারকে বাদ দিয়ে ওয়ারিশনামা তৈরী করেছে। কাঞ্চনের বানানো জাল দলিল বাতিল করতে এবং আমার কন্যার ওয়ারিশসত্ত্ব ফিরিয়ে আনতে আমি আদালতের দারস্থ হই। এতে কাঞ্চন ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা শুরু করে। আমি গর্ভধারিনী মা হওয়া সত্ত্বেও আমার বিরুদ্ধে ২টি, তার আপন বড় ভাই আক্তারী কামালের বিরুদ্ধে ৭টি, তার একমাত্র বোনের বিরুদ্ধে ৩টি এবং তার মামাতো ভাই শাকেরুল কবিরের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা করে। একইসাথে, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যেন তার জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে আমার দানের জমি গ্রহণ না করে সেজন্য রাজারবাগ দরবার শরীফ ও মুহম্মদীয়া জামিয়া শরীফ মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট লোকজনের উপর মামলা-হামলা করতে থাকে। রাস্তাঘাটে যেখানে সে রাজারবাগ দরবার শরীফ বা মাদ্রাসায় আগত লোকজন পেতো, সেখানেই তাদের উপর হামলা ও মারধর চালাতো। অনেককে সে রক্তাক্ত করে হাসপাতালে পাঠায়। মাদ্রাসায় যাওয়া বোরকা পরিহিতা নারীদের সে উত্যাক্ত করতো। কয়েকদিনের মধ্যে আমার পুত্র কাঞ্চনের আচরণ এতটাই উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠে যে, লজ্জায় আমার মুখ দেখানোর যায়গা থাকে না। তার কারণে আমার মান-সম্মান সব ধুলায় মিশে যায়। তারপরও আমি আমার সিদ্ধান্তে দৃঢ় থাকি যে, আমার পরকালের সম্পদ কিছুতেই ইহকালে ফেরত নেবো না। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে আমি সাব-রেজিস্টারের সামনে স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে স্বাক্ষর করে মুহম্মদীয়া জামিয়া শরীফ মাদ্রাসায় সর্বমোট প্রায় ৭৬ শতাংশ জমি দান করি। একজন বৃদ্ধা ও বিধবা নারী হিসেবে আমার জন্য এতকিছুর আয়োজন করা মোটেও সহজ ছিলো না। কারণ আমার বড়পুত্র আক্তারী কামাল ও কন্যা মোসাম্মত ফাতেমা আক্তার পরিবার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করে। এছাড়া ছোট সন্তান কামরুল আহসান বাদলও থাকে দূরে। এমতবস্থায় আমি আমার ছোট ভাইয়ের ছেলে শাকেরুল কবিরের সাহায্য চাই। নোয়াখালিতে জন্ম নেয়া শাকেরুল কবির কলেজ জীবন থেকে আমার শান্তিবাগের বাসায় থেকেই বড় হয়েছে। সে আমার সন্তানের মতই। কাঞ্চন আর শাকের এক সময় দুই ভায়ের মত চলতো, দুইজন দুইজনকে ছাড়া কিছু বুঝতো না। শাকের আমার বিপদের সময় এগিয়ে আসায় আমার অনেক উপকার হয়। শাকেরের কারণে জমি-জমাগুলো কাঞ্চনের দখলে যায় না, আমার নিয়ন্ত্রণেই থাকে। এতে কাঞ্চন শাকেরের উপর মারাত্মক ক্ষেপে যায় এবং মিডিয়ায় তার নামে আবোল তাবোল বলতে থাকে, যার কোনটাই সত্য না। ২০১৪ সালে মাদ্রাসায় জমি দান করা হয়ে গেলে কাঞ্চন তা বাতিল করতে উঠে পড়ে লাগে। এজন্য সে মিডিয়ায় আমার সম্পর্কে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার শুরু করে। প্রথম অবস্থায় সে বলে বেড়ায়, “আমাকে নাকি গুম করে আমার থেকে সম্পদ লিখে নেয়া হয়েছে। তাই আমার দান বিশুদ্ধ হয়নি। ” তখন আমি বলি, “আমার থেকে কেউ জোর করে জমি লিখে নেয় নাই, বরং আমি স্বেচ্ছায় মাদ্রাসায় জমি দান করেছি।” আমার বক্তব্যের পর তার এ ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়। এরপর কাঞ্চন মিডিয়ায় ‘আমি পাগল হয়ে গেছি, কাজেই আমার দান শুদ্ধ নয়’ বলে প্রচার শুরু করে। এজন্য সে প্রচার করে, আমি নাকি আমাদের থাকার শান্তিবাগের বাড়ি পীর সাহেবকে লিখে দিয়েছি। কিংবা পীর সাহেবের বড় মেয়ের বিয়েতে ৪০ ভরি ওজনের স্বর্ণের মুকুট দিয়েছি। প্রচার করে, সম্পত্তি বিক্রি করে নাকি আমি পীর সাহেবকে ১৩ কোটি টাকা দিয়েছি। আরো দাবী করে, সে নাকি জাপান থেকে একটা গাড়ি পাঠিয়েছে, সেই গাড়ি নাকি আমি পীর সাহেবকে দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, আমি মোটেও পাগল হয়নি, আমি সম্পুর্ণ সুস্থ মস্তিষ্কে আছি। তাছাড়া আমি পীর সাহেবের বড় মেয়ের বিয়েতে ৪০ ভরি ওজনের কোন স্বর্ণের মুকুট তো দূরের কথা, কোন মেয়ের বিয়েতেই কোন গিফট দেইনি। আর আমি নিজেই যেখানে ১০ ভরি স্বর্ণও ব্যবহার করিনা, সেখানে অন্যকে কিভাবে ৪০ ভরি স্বর্ণ উপহার দিতে যাবো? অন্যদিকে শান্তিবাগের থাকার বাড়ি দেয়ার প্রশ্নই আসে না, কারণ শান্তিবাগের বাড়ি তো আমার স্বামীর নামে। আমি কিভাবেই সেই সম্পত্তি দিবো ? এছাড়া ‘আমি সম্পত্তি বিক্রি করে ১৩ কোটি টাকা দিয়েছি’ এটাও সম্পূর্ণ বানোয়াট বক্তব্য। কারণ আমি আমার কিছু জমি বিক্রি করেছিলাম এটা ঠিক, কিন্তু বিক্রি করা জমির মূল্য ১ কোটি টাকাও হবে না, ১৩ কোটি টাকা দিবো কিভাবে ? আর জাপান থেকে সে কখন কোন গাড়ি পাঠায়নি, এটাও সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাকে নানান উপায়ে পাগল প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে কাঞ্চন মিডিয়ায় ভুল তথ্য উপস্থাপন করে দাবী করে, ‘আমার স্বামী নাকি আমাকে কোন সম্পত্তি দিয়ে যাননি। অর্থাৎ আমার জন্য তিনি যে সম্পত্তি ক্রয় করেছিলেন, তা আমার কাছে আমানত হিসেবে রেখে গেছেন, কিন্তু মালিক বানিয়ে দিয়ে যাননি।’ এর মধ্য দিয়ে কাঞ্চন বুঝাতে চায়, ‘আমার নামের সম্পত্তি আসল মালিক আমার স্বামী, যেখানে কাঞ্চনসহ অন্যান্য ওয়ারিশদের ভাগ আছে, ফলে আমি তা দান বা বিক্রি করার অধিকার রাখি না।’ এটাও সম্পূর্ণ ভুল কথা। আমার স্বামী কখনই বলেননি এই সম্পত্তি তিনি আমার কাছে আমানত রাখছেন। বরং তিনি বলেছিলেন- স্ত্রী হিসেবে তিনি আমাকে এতটুকু সম্পত্তি দিয়ে যাচ্ছেন, যেন তার অনুপস্থিতিতে আমাকে কষ্ট করতে না হয়। একই সাথে তিনি আরো বলে যান, “মসজিদ-মাদ্রাসার মত সমস্ত নেক কাজে তোমার এ সম্পত্তি ইচ্ছামত খরচ করতে পারবে।” অর্থাৎ তিনি জীবিত থাকতে আমার নামে যে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করেছিলেন, তা তিনি আমার মালিকানাতেই দিয়ে গেছেন এবং আমাকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে গেছেন। সম্প্রতি কাঞ্চন নতুন করে প্রচার শুরু করছে, পীর সাহেব নাকি আমাকে বাইয়াত করে ভুলভাল বুঝিয়ে আমার সব সম্পত্তি লিখে নিচ্ছেন। আমি নাকি তাদের পৈর্তৃক সম্পত্তি থেকে তাদের বঞ্চিত করে পীর সাহেবকে সব সম্পত্তি লিখে দিচ্ছি। অথচ আমি দরবার শরীফে নতুন বাইয়াত হয়নি। আমি ২৮ বছর ধরে দরবার শরীফের বাইয়াত। আমাকে নতুন করে বাইয়াত করে ভুল বুঝানোর কিছু নেই এবং আমি কোন সম্পত্তি পীর সাহেবকে লিখেও দেই নি। যতটুকু সম্পত্তি আমি দান করেছি সেটা মাদ্রাসা ও ইয়াতিমখানার নামে, পীর সাহেব বা দরবার শরীফের নামে নয়। বাস্তবতা হলো, আমার দান বাতিলে কাঞ্চনের এই অপপ্রচার বন্ধ হবার নয়। সে নিত্য নতুন গল্প ফেঁদে সবাইকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতেই থাকবে। তাই আমি মিডিয়া ও প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলবো, আপনারা দয়া করে তার এই অসৎকর্মে সহায়তা করবেন না। বরং আমি যে নেক উদ্দেশ্যে জমি দান করেছি, সেটাতে আপনারা সহায়তা করতে এগিয়ে আসুন। কাঞ্চন যদি আমার দান করা জমি কেড়ে নিতে পারে, তবে সেখানেই সে থেমে থাকবে না। একটা সময় তার আপন ভাইবোনদের সম্পত্তির দিকেও হাত বাড়াবে। ইতিমধ্যে ওয়ারিশনামায় সে তার একমাত্র বোনকে বঞ্চিত করেছে, জাল হেবায় বড় ভাইকে বঞ্চিত করেছে আর শেওড়াপাড়া ও নারায়নগঞ্জের ফ্যাক্টরির জমিতে ছোট ভাইকে বঞ্চিত করেছে। সুযোগ পেলে ভাই-বোনদের পুরো সম্পত্তি সে গ্রাস করবে। আমি চাই, প্রত্যেকেই যেন তার প্রাপ্য জমির হক্ব বুঝে পায়, একজন যেন অন্যজনের হক্ব নষ্ট না করতে পারে। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সবশেষে বলবো, আমার বয়স ৮৪ বছর হয়ে গেছে। আর কয়দিন বাচবো জানি না। আমি আমার ছেলে-মেয়ে নাতী-নাতনীদের ওসিয়ত করে যাচ্ছি, আমার মৃত্যুর পরও যেন আমার দান যেন অক্ষত থাকে, তা মাদ্রাসা ও ইয়াতিমখানা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। আমার আশঙ্কা হয়, আমি মারা গেলে কাঞ্চন আমার পরকালের সম্বল মাদ্রাসা-ইয়াতিমখানা হতে দিবে না, ঠিক যেভাবে তার পিতার ওসিয়ত করা হেফজখানা সে বন্ধ করে দিয়েছে। মিডিয়া ও প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলবো, আমার এ ওসিয়ত বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহায়তা করবেন, এটাই আপনাদের আমার প্রতি আকুল আকুতি।

0 টি মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করতে হলে লগ ইন করুন।