Posts Tagged ‘সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ’

পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়ে লিখিত কয়েকটি বিখ্যাত কিতাবের নাম


ইদানীং সাইয়্যিদে ঈদে আকবর ওয়া ঈদে আ’যম পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা পবিত্র সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ উনার নাম শুনলে কিছু লোক বিদয়াত বিদয়াত বলে চিৎকার করে, কিতাবে নেই, পূর্বের কোনো আউলিয়াগণ করেননি ইত্যাদি ইত্যাদি নানা মিথ্যা কথা

ঈমানে মূল্য কত জানেন?


আসুন একটা হিসাব করা যাক, পৃথিবীর ভর ৫.৯৭২৩৭x১০^২৪ কেজি। ১১.৬৬৪ গ্রাম = ১ ভরি ১ কেজি = ৮৫.৭৩৪ ভরি ৫.৯৭২৩৭x১০^২৪ কেজি = ৮৫.৭৩৪ x ৫.৯৭২৩৭x১০^২৪ ভরি = ৫১২.০৩৫x১০^২৪ ভরি = ৫,১২,০৩৫,০০,০০,০০০,০০,০০,০০০,০০,০০,০০০ ভরি। ৫ লাখ ১২ হাজার ৩৫ কোটি কোটি কোটি ভরি

মক্কা শরীফে ঈদে মীলাদুন্নবী পালন হওয়ার প্রমাণ


১. সাইয়্যিদ মুহম্মদ সুলাইমান নদভী রহমতুল্লাহি আলাইহি “ সিরাতুন নবী “ জীবনী গ্রন্থে , ভলিউম ৩ উল্লেখ করেছেন ৩/৪ শতক হিজরী ইলাদ শরীফ উদযাপন করা হত । ২. আল আযরাকী (৩য় শতাব্দী ) উল্লেখ করেছেন যে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

প্রখ্যাত মুসলিম ইতিহাসবিদের লিখনিতে ঈদে মিলাদুন্নবি ।


১. ৭ম শতকের ইতিহাসবিদ শায়েখ আবু আল আব্বাস আল আযাফি এবং আবু আল কাসিম আল আযাফি ( সার্জারির জনক )  তাঁদের কিতাব আল দুরর আল মুনাজ্জাম কিতাবে লিখেন – ” মক্কা শরিফে ঈদে মিলাদুননবির দিন ধার্মিক ওমরাহ হজ্জ্বযাত্রী  এবং পর্যটকেরা দেখতেন

আজ থেকে প্রায় ১২০০ বছর পুর্বেও ঈদে মিলাদে হাবীবি পালিত হত।


হিজরি ৩য় শতকের মক্কা শরীফের মুসলিম ইতিহাসবিদ আল আজরাকী ( মৃত্যু ২১৯ হিঃ/৮৩৪ খৃঃ) উনার “আল মক্কাহ”ভলি ২ , ১৬০ পৃঃ উল্লেখ করেন ” হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেখানে বিলাদতি শান প্রকাশ করেন সেখানে নামাজ আদায় হত” কোরআনের স্কলার

বাদশাহ মুজাফরের পুর্ব থেকেই ঈদে মিলাদে হাবীবির প্রচলন ছিল ।


  ১. আজ থেকে প্রায় ৯০০ বছর পুর্বে ওমর বিন মুল্লা মুহম্মদ মউসুলি রহমতুল্লাহি আলাইহি ঈদে মিলাদে হাবীবি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিবসকে নিয়মিতভাবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জারী রাখার প্রচলন চালু করেন । উনার অনুসরনে ইসলামের অমর সিপাহসালার সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি

ঈদে মীলাদুন্নবীর ইতিহাস


১. হযরত আল্লামা মোল্লা আলী কারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ননা করেন – “মদিনাবাসী ঈদে মিলাদুন্নবীতে খুবই আগ্রহ ,উৎসাহ ও আনন্দের সহিত এ দিবস উদযাপন করতেন “। মাওরিদ আর রাওয়ী ফি মাওলিদ আন নাবী – পৃ-২৯ ২. হযরত ইবনে যাওজী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন

কথিত ক্রিসমাস থেকে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ নয়, বরং পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ থেকেই খ্রিস্টানরা কথিত ক্রিসমাস থিউরী গ্রহণ করেছে


কিছু মূর্খ দাবি করে থাকে, খ্রিস্টানদের ক্রিসমাস থেকে মুসলমানরা পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করতে শিখেছে। নাউযুবিল্লাহ! মূলত এ শ্রেণীর লোকগুলি গ-মূর্খ কাফিরদের কাজের দ্বারা হীনম্মন্য হয়ে পড়েছে। ইতিহাসই বলে দেয়, সেই শুরু থেকেই মুসলমানগণ উনাদের মধ্যে পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ কি?


’সাইয়্যিদ’ অর্থ শ্রেষ্ঠ এবং ’আ’ইয়াদ’ হচ্ছে ঈদ বা খুশির বহুবচন। সুতরাং সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অর্থ ’সকল ঈদের সাইয়্যিদ’ বা সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ অর্থাৎ দুনিয়াতে আগমন দিবস

পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অস্বীকার করার অর্থই হলো পবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে অস্বীকার করা


মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন- قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْمَتِهٖ فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُوْنَ. অর্থ: “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যে ফযল-করম, রহমত

অন্তর ইছলাহ ব্যতীত হাক্বীক্বী সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন সম্ভব নয়


গাইরুল্লাহ, নফছানিয়ত নেক কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখে। প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে অন্তর ইছলাহ করে, তাযকিয়ায়ে নফছ ক্বলব হাছিল করা। অন্তরের ইছলাহ ব্যতীত হাক্বীক্বী রেযামন্দি, সন্তুষ্টি পাওয়া সম্ভব নয়। যা কিছু করবে রসম-রেওয়াজ হবে। বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে,

যদি কেউ ‘পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ’ উনাকে বিদয়াত বলে, তাহলে তাকে নিম্নের বিদয়াত কাজ অবশ্যই বাদ দিতে হবে


কিছু কিছু গন্ডমূর্খ, জাহেল খাইরুল কুরুনের পর আবিষ্কৃত প্রত্যেক নতুন জিনিস বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ বলে থাকে। অথচ ইহা মোটেও শুদ্ধ নয়। কেননা যদি তাই হতো, তবে আমাদের সামাজে প্রচলিত এমন অনেক নতুন বিষয় রয়েছে, যা অবশ্যই পরিত্যাগ করা জরুরী হয়ে পড়তো। যেমন-