অভাবগ্রস্ত বৃদ্ধের আত্মহত্যার ঘটনায় উত্তাল গ্রিস


গ্রিসের পার্লামেন্টের সামনে অভাবের তাড়নায় এক বৃদ্ধ আত্মহত্যার করার পর দেশটিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গতরাতে রাজধানী এথেন্সে পার্লামেন্ট ভবনের অদূরে সিন্তাগমা চত্বরে হাজার হাজার লোক বিক্ষোভ করেছে। ওই চত্বরেই ৭৭ বছর বয়সী পেনশনভোগী এক ব্যক্তি নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করে। ঋণের বোঝা ও অভাবের তাড়নায় ঐ বৃদ্ধ আত্মহত্যা করেছে বলে তার পকেট থেকে উদ্ধারকৃত এক চিরকুট থেকে জানা গেছে। সে ওই চিরকুটে লিখেছে,
“সরকার আমার বেঁচে থাকার সব আশার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছে এবং আমি কোন সুবিচার পাইনি।” ডাস্টবিন থেকে খাবার কুড়িয়ে খাওয়া ছাড়া তার সামনে আর কোন উপায় ছিল না এবং সরকার অবসরভাতা কমিয়ে দেয়ার কারণেই সে ওই কঠিন অবস্থায় পড়ে বলে চিরকুটে উল্লেখ করা হয়েছে।
তার আত্মহত্যার খবরে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরলে দাঙ্গা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস এবং ধুম্র গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। গ্রিসের পার্লামেন্ট ভবনের সামনেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের ওপর পাথর এবং পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীরা।
সিন্তাগমা চত্বরের ঠিক যে স্থানে আত্মহত্যা সংঘটিত হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সেখানে নিহত ব্যক্তিকে স্মরণ করেছে। বিক্ষোভাকারীরা বলেছে, “এটি কোন আত্মহত্যা নয় বরং তা সরকারের মাধ্যমে সংঘটিত একটি হত্যাকা-।”
সরকারের অন্যায় নীতির কারণেই দেশে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা দাবি করেছে। এসময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অনেকেই আহত হয়েছে। গতকাল পুলিশের একটি সূত্র দুই জন সাংবাদিকের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করার কথা স্বীকার করেছে। সাংবাদিকদের পেটানোর ঘটনায় দেশটির মিডিয়া জগতে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। দুই সাংবাদিকের মারধরের ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন টিভি চ্যানেল থেকে সম্প্রচার করা হয়েছে। একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পরিচয় দেয়ার পরও পুলিশ একজন সাংবাদিককে জোর করে মাটিতে শুয়িয়ে দিয়ে তাকে লাথি মারছে। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রিসে অর্থনৈতিক সংকট তীব্রতর হওয়ার কারণে দেশটির জনগণের মাঝে হতাশা বেড়েছে। এতে আত্মহত্যার ঘটনা বেড়ে গেছে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশটির সরকার ব্যয় সংকোচনের নীতি গ্রহণ করেছে। এর ফলে বেকারত্ব বেড়েছে এবং কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা হ্রাস পেয়েছে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]