অ্যানথ্রাক্স এর দিন শেষ


দেশে অ্যানথ্রাক্স রোগের বিস্তার বন্ধ হওয়ায় জারি করা রেড অ্যালার্ট প্রত্যাহার করছে আজ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। এদিকে অ্যানথ্রাক্স নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং মুরগির মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত থাকা খামার মালিকদের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে সরকার। তদন্ত শেষে এসব মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস।

অ্যানথ্রাক্স নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) কোন ভীতিকর রোগ নয়। এ রোগে প্রতি বছরই অনেক প্রাণি আক্রান্ত ও মারা যায়। কিন্তু এ নিয়ে কোন নেতিবাচক প্রচারণা না থাকায় জনমনে আতংক ছড়ায়নি। এবার একটি মহল নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে স্বার্থ সিদ্ধি করেছে।

তড়কা রোগে আক্রান্ত প্রাণির একটি তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, ২০০৮ সালে দেশে ৪৩৭টি গরু তড়কা রোগে আক্রান্ত হয়। এরমধ্যে ১৫৬টি গরু মারা গেছে। পরের বছর এ রোগে আক্রান্ত ৪৪৯টি গরুর মধ্যে ১১৪টি মারা যায়। চলতি ২০১০ সালের এ পর্যন্ত তড়কা রোগে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা মাত্র ১০৪টি। এতে মারা গেছে ৩৭টি গরু। আরো ১১টি গরু জবাই করা হয়েছে।

গত দুই বছরের সঙ্গে এ বছরে গরুর বাদলা, ক্ষুরা এবং পিপিআর রোগে আক্রান্ত হওয়ারও একটি চিত্রে দেখা যায়, ’০৮ সালে বাদলা রোগে আক্রান্ত এক হাজার ৩৪৬টি গরুর মধ্যে ৯৪৫টি, ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত৩২ হাজার ৭০১টি গরুর মধ্যে ২০৩টি এবং পিপিআর রোগে আক্রান্ত ৩৬ হাজার ৮৪২টির মধ্যে এক হাজার ৮৪৩টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। ’০৯ সালে বাদলায় আক্রান্ত এক হাজার ১২৩টির মধ্যে ৬১১টি, ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত দুই লাখ ৪৬ হাজার ৬১৩টির মধ্যে ছয় হাজার ২০টি এবং পিপিআর রোগে ৫৩ হাজার ৫১৯টির মধ্যে তিন হাজার ৪৯১টি গরুর মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে চলতি বছরে বাদলা রোগে ২৩৭টি গরুর মধ্যে ৮৯টি, ক্ষুরা রোগে চার হাজার ১৩৫টি গরুর মধ্যে ৮৩টি এবং পিপিআর রোগে আক্রান্ত চার হাজার ৩৫৯টি গরুর মধ্যে ২৩১টির মৃত্যু হয়েছে।এ হিসেবে দেখা যায় অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্তের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। নেতিবাচক প্রচারণার মাধ্যমে এ নিয়ে জনমনে ভীতির সৃষ্টি করা হয়েছে। গরু, ছাগল, হাঁস, পাখিসহ সকল পশু-পাখির তড়কা হয়েছে বলে প্রচারণা চালানো হয়েছে। অথচ মুরগিতে হয়েছে এমন কোন তথ্য নেই। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য এটা পরিকল্পিতভাবেই করা হয়েছে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+