আক্বীদা বিশুদ্ধ রাখার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা


আর ‘সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম’ উনার মধ্যে প্রবেশ করার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছেন ‘সম্মানিত ঈমান’। সুবহানাল্লাহ! যখন কেউ সম্মানিত ঈমান আনেন, তখন তিনি সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রবেশ করেন। আর সম্মানিত ঈমান সুসংঘঠিত হয়ে থাকেন সম্মানিত আক্বীদাহ মুবারক উনার মাধ্যমে। সুবহানাল্লাহ!
এ কারণে যিনি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ اٰمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে পরিপূর্ণরূপে দাখিল হও। তোমরা কখনও শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারাহ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২০৮)
এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ঈমানদার উনাদেরকে সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে পরিপূর্ণরূপে প্রবেশ করার জন্য বলেছেন। অর্থাৎ তিনি সম্মানিত ঈমানদার উনাদেরকে উনাদের সম্মানিত আক্বীদাহ মুবারক ও সম্মানিত আমল মুবারক পরিশুদ্ধ করার জন্য বলেছেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দুইটি দিক রয়েছে। এক. সম্মানিত আক্বীদাগত দিক এবং দুই. সম্মানিত আমলগত দিক। আর এ উভয়ের মধ্যে সম্মানিত আক্বীদাহ মুবারক উনার গুরুত্ব অনেক অনেক গুণ বেশি। কেননা, কারো যদি সম্মানিত আক্বীদাহ মুবারক শুদ্ধ থাকে কিন্তু তার আমলে ত্রুটি থাকে, তারপরও সে ঈমানদার থাকবে। অর্থাৎ সে মু’মিনে ফাসিক্ব থাকবে। সে যদি এ অবস্থায় ইন্তেকাল করে, তাহলে সে কোনো এক সময় চিরস্থায়ী জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করবে। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু কারো যদি সম্মানিত আক্বীদাহ মুবারক অশুদ্ধ হয়, তাহলে তার সম্মানিত ঈমান বিনষ্ট হয়ে যায়, সে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার থেকে খারিজ হয়ে যায়। তার কোনো আমলই মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে কবূল হয় না। তার সর্বশেষ পরিণতি হচ্ছে, সে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী। না‘ঊযুবিল্লাহ!
ইবলীস ছয় লক্ষ বছর ইবাদত করার পরও তার আক্বীদায় ত্রুটি থাকার কারণে সে কাট্টা কাফির চির জাহান্নামী হয়ে গেছে। বাল‘আম ইবনে বা‘ঊরা ৩০০ বছর ইবাদত-বন্দেগী করার পরও তার আক্বীদায় ত্রুটি থাকার কারনে সে কাট্টা কাফির চির জাহান্নামী হয়ে গেছে। অনুরূপভাবে আবুল হারিছাহ মালানা সেও দীর্ঘ বছর ইবাদত-বন্দেগী, দরস-তাদরীস করেছিলো, তথাপি তার আক্বীদা অশুদ্ধ থাকার কারণে সেও কাট্টা কাফির চির জাহান্নামী হয়ে গেছে। একই কারণে বাতিল ৭২ ফিরক্বার লোকেরা যদিও সম্মানিত ও পবিত্র কালিমা শরীফ পাঠ করে থাকে এবং নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাতসহ আরো অন্যান্য ইবাদাত বন্দেগীও করে থাকে, তারপরও তারা কাট্টা কাফির চির জাহান্নামী। কেননা তাদের আক্বীদায় ত্রুটি রয়েছে। অন্যদিকে বণী ইসরাঈলের এক ব্যক্তি দুই শত বছর মহান আল্লাহ পাক উনার নাফরমাণী করার পরও তার সম্মানিত আক্বীদাহ মুবারক বিশুদ্ধ থাকার কারণে সে সর্বোচ্চ জান্নাতী হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ! তাহলে সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে সম্মানিত আক্বীদাহ মুবারক উনার গুরুত্ব কতো বেশি তা এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!
এ জন্য যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّ الْاِنْسَانَ لَفِىْ خُسْرٍ.اِلَّا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَتَوَاصَوْا بِالْـحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ
অর্থ: “নিশ্চয়ই সমস্ত মানুষ ক্ষতিগ্রস্থের মধ্যে রয়েছে, একমাত্র যারা ঈমান এনেছেন এবং আমলে ছালেহ করেছেন উনারা ব্যতীত।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ‘আছর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ- ২-৩)
তাই, প্রত্যেক মুসলমান, পুরুষ-মহিলা, জিন-ইনসান সকলের জন্য ফরযে আইন হচ্ছে তাদের সম্মানিত ঈমান, সম্মানিত আক্বীদাহ ও সম্মানিত আমল পরিশুদ্ধ করা, হাকীক্বী হুসনে যন হাছিল করা। এ জন্য আবশ্যক সম্মানিত ইলমে তাছাউফ অর্জন করা। কেননা, সম্মানিত ইলমে তাছাউফ অর্জন করা ব্যতীত কেউ কস্মিনকালেও তার সম্মানিত ঈমান, সম্মানিত আক্বীদাহ ও সম্মানিত আমল পরিশুদ্ধ করতে পারবে না, হাক্বীক্বী হুসনে যন হাছিল করতে পারবে না। তাই সকলের জন্য ফরযে আইন হচ্ছে, একজন হক্কানী-রব্বানী শায়েখ উনার হাতে বায়াত গ্রহণ করে ক্বলবী যিকির ও মহাসম্মানিত শায়েখ উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার মাধ্যমে সম্মানিত ইলমে তাছাউফ অর্জন করা, সম্মানিত ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করা এবং নিজের সম্মানিত ঈমান, সম্মানিত আক্বীদাহ ও সম্মানিত আমল পরিশুদ্ধ করা, হাক্বীক্বী হুসনে যন হাছিল করা।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে