আজওয়াদুন নাস, আশজা’য়ুন নাস, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সাখাওয়াতী বা দানশীলতা মুবারক


খলিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার যেমন অসংখ্য-অগণিত ছিফত মুবারক রয়েছেন, ঠিক একইভাবে উনার মহাসম্মানিত মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারও অসংখ্য-অগণিত ছিফত মুবারক রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! উনার অসংখ্য ছিফত মুবারক উনাদের মধ্যে একখানা মহাসম্মানিত ছিফত মুবারক হচ্ছেন ‘আজওয়াদুন নাস’ বা সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। সুবহানাল্লাহ! তিনি বিক্ষিপ্ত বাতাসের চেয়েও অধিক গতিতে দান করতেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পৃক্ত কোন বিষয়ই কায়িনাতের কারো পক্ষে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। যিনি যখনই উনার সাথে সম্পৃক্ত কোন বিষয় আলোচনা করেছেন, বর্ণনা করেছেন তিনিই সম্মানিত হয়েছেন, সম্মান লাভ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তাই নিম্নে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আলোকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সাখাওয়াতী বা দানশীলতা মুবারক উনার কিঞ্চিত পরিমাণ বর্ণনা করা হলো:

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাত মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল:
যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ تَدْرُوْنَ مَنْ اَجْوَدُ جُوْداً قَالُوْا اَللهُ وَرَسُوْلُهٗ اَعْلَمُ قَالَ اَللهُ اَجْوَدُ جُوْدًا ثُـمَّ اَنَا اَجْوَدُ بَنِـىْ اٰدَمَ وَاَجْوَدُهُمْ مِنْ بَعْدِ رَجُلٌ عَلِمَ عِلْمًا فَنَشَرَهٗ يَاْتِىْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ اَمِيْرًا وَحْدَهٗ اَوْ قَالَ اُمَّةً وَاحِدَةً
অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদিন আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি বলতে পার দানের দিক দিয়ে সর্বাপেক্ষা বড় দানশীল কে? উনারা বললেন, মহান আল্লাহ পাক এবং উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই সবচেয়ে ভালো জানেন। অতপর তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন সবচেয়ে বড় দানশীল। অতঃপর বনী আদমের মধ্যে, কায়িনাতের মাঝে আমিই হচ্ছি সবচেয়ে বড় দানশীল। সুবহানাল্লাহ! আর আমার পর বড় দাতা হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যে ব্যক্তি ইল্ম শিক্ষা করলো এবং উহা প্রচার করলো। কিয়ামতের দিন সে একাই একজন আমীর অথবা একজন উম্মত হয়ে উঠবে।” সুবহানাল্লাহ! (বায়হাক্বী শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ১৭৬৭, মিশকাত শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ২৫৯)

উনার কাছে কেউ কোন কিছু আরজু করলে তিনি কখনো কাউকে না বলতেন না:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ الْمُنْكَدِرِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ سَـمِعَ حَضْرَتْ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ مَا سُئِلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا قَطُّ فَقَالَ لَا ‏‏
অর্থ: “হযরত ইবনে মুনকাদির রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে শুনেছেন। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট কেউ কিছু কামনা করলে কোন দিন তিনি তাকে ‘না’ বলেননি অর্থাৎ ফিরিয়ে দেননি অবশ্যই তার আরজী পুরা করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৫৯১২)
আরো বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ مُوسَى بْنِ اَنَسٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ مَا سُئِلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْاِسْلاَمِ شَيْئًا اِلَّا اَعْطَاهُ قَالَ فَجَاءَهٗ رَجُلٌ فَاَعْطَاهُ غَنَمًا بَيْنَ جَبَلَيْنِ فَرَجَعَ اِلـٰى قَوْمِهٖ فَقَالَ يَا قَوْمِ اَسْلِمُوْا فَاِنَّ سَيِّدَنَا مُـحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْطِـىْ عَطَاءً لاَ يَـخْشَى الْفَاقَةَ ‏
অর্থ: “হযরত মূসা ইবনে আনাস রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। উনার সম্মানিত পিতা (হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট ইসলাম গ্রহণ করার পর কেউ কোন কিছু আরজী করলে তিনি অবশ্যই তাকে সেটা দিয়ে দিতেন। সুবহানাল্লাহ! “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি বলেন, জনৈক লোক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আসলো। তিনি তাকে এত বেশী ছাগল দিলেন যাতে দু’উপত্যকার মাঝামাঝি স্থান পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ! অতপর সে ব্যক্তি তার গোত্রের নিকট গিয়ে তাদেরকে বলল, হে আমার জাতি ভাইয়েরা! তোমরা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম কবূল কর। কেননা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অভাবের আশঙ্কা না করে দান করতেই থাকেন। সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, হা/নং ৫৯১৪)
অপর বর্ণনায় রয়েছে, একবার জনৈক ব্যক্তি উনার নিকট দু পাহাড়ের মাঝামাঝি ছাগলগুলো চাইলে তিনি তাকে সবগুলোই দিয়ে দেন। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَجُلاً سَاَلَ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَنَمًا بَيْنَ جَـبَلَيْنِ فَاَعْطَاهُ اِيَّاهُ فَاَتَى قَوْمَهٗ فَقَالَ اَىْ قَوْمِ اَسْلِمُوْا فَوَاللهِ مَا يَـخَافُ الْفَقْرَ فَقَالَ اِنَّ سَيِّدَنَا حَضْرَتْ مُـحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيُعْطِىْ عَطَاءً فَقَالَ اَنَسٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اِنْ كَانَ الرَّجُلُ لَيُسْلِمُ مَا يُرِيدُ اِلَّا الدُّنْيَا فَمَا يُسْلِمُ حَتّٰى يَكُوْنَ الْاِسْلَامُ اَحَبَّ اِلَيْهِ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا عَلَيْهَا ‏.‏
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক লোক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে দু’ পাহাড়ের মাঝামাঝি ছাগলগুলো চাইলে তিনি তাকে তা দিয়ে দিলেন। অতঃপর সে ব্যক্তি তার গোত্রের নিকট প্রত্যাবর্তন করে বলল, হে আমার জাতি ভাইয়েরা! তোমরা সম্মানিত ইসলাম কবূল কর। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন প্রকার দারিদ্রতার ভয় না করে দান করতেই থাকেন। সুবহানাল্লাহ! বর্ণনাকারী হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি বলেন, যদিও মানুষ শুধু ইহকালের উদ্দেশ্যেই সম্মানিত ইসলাম গ্রহণ করে তবুও সম্মানিত ইসলাম গ্রহণ করতে না করতেই তার কাছে পৃথিবী এবং পৃথিবীর সকল প্রাচুর্যের চাইতেও সম্মানিত ইসলাম অধিকতর প্রিয় হয়ে যান। সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, হা/নং ৫৯১৫)

তিনি এতো অধিক দান করতেন যে, বিদ্বেষপোষণকারীর কাছেও সবচেয়ে মুহব্বতের ব্যক্তিত্ব মুবারক হয়ে যেতেন:
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتِ ابْنِ شِهَابٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ غَزَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةَ الْفَتْحِ فَتْحِ مَكَّةَ ثُـمَّ خَرَجَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِـمَنْ مَعَهٗ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَاقْتَتَلُوا بِـحُنَيْنٍ فَنَصَرَ اللهُ دِيْنَهٗ وَالْمُسْلِمِيْنَ وَاَعْطَى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَئِذٍ حَضْرَتْ صَفْوَانَ بْنَ أُمَيَّةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ مِائَةً مِّنَ النَّعَمِ ثُـمَّ مِائَةً ثُـمَّ مِائَةً قَالَ اِبْنُ شِهَابٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ حَدَّثَنِـىْ حَضْرَتْ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ رَضِىَ اللهُ تعالى عَنْهُ اَنَّ حَضْرَتْ صَفْوَانَ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ وَاللهِ لَقَدْ اَعْطَانِـىْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا اَعْطَانِـىْ وَاِنَّهٗ لَاَبْغَضُ النَّاسِ اِلَـىَّ فَمَا بَرِحَ يُعْطِينِـىْ حَتَّى اِنَّهٗ لَاَحَبُّ النَّاسِ اِلَـىَّ ‏.‏
অর্থ: “হযরত ইবনে শিহাব রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় করেন। এরপর উনার সাথে যে সব মুসলিম (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম) উনারা ছিলেন উনাদেরকে নিয়ে তিনি বের হন এবং উনারা হুনাইনের যুদ্ধ করেন। এ যুদ্ধে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সম্মানিত দ্বীন এবং মুসলমানদেরকে সাহায্য করেন (উনারা বিজয় লাভ করেন)। আর সেদিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনাকে একশত উট দান করেন। এরপর একশ’ উট, পুনরায় আরও একশত উট প্রদান করেন। সুবহানাল্লাহ! বর্ণনাকারী হযরত ইবনে শিহাব রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত সা’ঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি আমাকে বলেছেন যে, হযরত সাফ্ওয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে দান করলেন এবং এমন পরিমাণে আমাকে দান করলেন যে, তিনি আমার কাছে (ঈমান গ্রহণের পূর্বে) সবচেয়ে অপছন্দনীয় ব্যক্তিত্ব মুবারক ছিলেন। অতঃপর তিনি আমাকে অবিরাম দান করতে থাকলেন এমনকি আমার নিকটে সবচেয়ে মুহাব্বতের ব্যক্তিত্ব মুবারক হয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, হাদীছ শরীফ নং ৫৯১৬)

তিনি বিক্ষিপ্ত বাতাসের চেয়েও অধিক দ্রুত দান করতেন:
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُمَا قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَجْوَدَ النَّاسِ بِالْـخَيْرِ وَكَانَ اَجْوَدَ مَا يَكُوْنُ فِـىْ شَهْرِ رَمَضَانَ اِنَّ جِبْرِيْلَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ كَانَ يَلْقَاهُ فِـىْ كُلِّ سَنَةٍ فِـىْ رَمَضَانَ حَتَّى يَنْسَلِخَ فَيَعْرِضُ عَلَيْهِ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْقُرْانَ فَإِذَا لَقِيَهُ جِبْرِيلُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدَ بِالْـخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাত মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল ছিলেন। তবে পবিত্র মাহে রমাদ্বান শরীফ মাসে উনার দানের মাত্রা আরো বেড়ে যেতেন। কারণ হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি প্রতি বছর রমাদ্বান শরীফ মাসে উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারকে আসতেন। আর পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত মুবারক শুনতেন। যখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ছোহবত মুবারকে আসতেন তখন তিনি বিক্ষিপ্ত বাতাসের চাইতেও অধিক দ্রুত দান মুবারক করতেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, হাদীছ শরীফ নং ৫৯০৩)
বর্তমান যামানায়ও আমরা দেখতে পাই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অদ্বিতীয় কায়িম-মাক্বাম, মুজাদ্দিদে আ’যম, মালিকে আ’যম, আখাছ্ছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলাহ আলাইহিস সালাম তিনিও অবারিত ধারায় দান মুবারক করে যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের মুবারক অনূসরণে আমাদেরকেও অনুরূপ দান করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]