আফসুস! নির্জীব মুসলমানদের জন্য!


কাফির-মুশরিকদের সুদূরপ্রসারী মহাপরিকল্পনার ফাঁদে আটকে মুসলমানগণ ঈমান হারিয়ে এখন আত্মাবিহীন মৃত মানুষে পরিণত হয়েছে। মৃতের লাশ ইচ্ছেমত কাটাছেঁড়া করা যায়। কারণ মৃত ব্যক্তির প্রতিবাদ করার শক্তি নাই। বর্তমান আখিরী যানামায় সারা বিশ্বের মুসলমানদের অবস্থাও মৃত ব্যক্তির মতোই। পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি মুসলমান থাকা সত্ত্বেও মুসলিম দেশগুলোত হামলা, গণহত্যা চলছে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, পৃথিবীর সমস্ত মুসলমান একটি দেহের ন্যায়। কোথাও কোনো মুসলমানের উপর আঘাত হানলে প্রত্যেকেই সে আঘাতে ব্যথিত হবে। কিন্তু মৃতপ্রায় মুসলিম জাতি সে আঘাত অনুভব করতে পারছে না। হারাম বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায় কাফির রাষ্ট্র আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ায় নামধারী অনেক মুসলমান বিলাপ করেছে, কাঁদতে কাঁদতে অসুস্থ হয়ে পড়েছে, দু’একজন আত্মহত্যাও করেছে। নাঊযুবিল্লাহ!
অথচ এইসব কাফিররাই ফিলিস্তিনে মুসলামান ভাই-বোনদের উপর বর্বরোচিত হামলা চালাচ্ছে, গণভাবে শহীদ করে যাচ্ছে, পবিত্র মসজিদগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে। এসব খবরে মুসলমানদের অন্তর কাঁদে না। পত্রিকা খুলেই সবার আগে ফিলিস্তিনে মুসলমানদের কি খবর সেটা না দেখে খেলার খবর আগে দেখছে। নাউযুবিল্লাহ! মুসলমানদের এ দুরবস্থার কয়েকটি কারণ এখানে তুলে ধরছি-
(১) সউদী আরবসহ সারা বিশ্বের মুসলমানগণ প্রকৃত দ্বীন ইসলাম ছেড়ে দিয়েছে, তাই ঈমানী শক্তি নেই, (২) সারা দিন কাফিরদের অনুসরণ-অনুকরণ করে, তাই হাক্বিকীভাবে কাফিরদের বিরোধিতা করতে পারে না, (৩) সারা দিন কাফিরদের কারণে হীনম্মন্যতায় ভোগে, ফলে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সাহস পায় না, (৪) কাফিরদের বন্ধু মনে করে, তাই তাদের প্রতি শত্রুতা, ঘৃণা, বিদ্বেষ নেই। নাঊযুবিল্লাহ!
প্রকৃত ঈমানদার হতে হলে মুসলমানদের উচিত-
খালিসভাবে তওবা করা, কাফিরদের অনুসরণ- অনুকরণ বাদ দিয়ে কাফিরদের বিরুদ্ধে বলা, কাফিরদের মুহব্বত পরিত্যাগ করা, হীনম্মন্যতা দূর করে কাফিরদের বাতিল ও দুর্বল এবং নিজেদের হক্ব ও শক্তিশালী ভাবা।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]