আবরাহার সমজাতীয়রাই মসজিদ ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র করে


কে না জানে, মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ঘর পবিত্র কা’বা শরীফ ভাঙ্গার জন্য এসেছিল আবরাহা নামের ব্যক্তিটি যে ছিল আবিসিনিয়ার শাসকের প্রতিনিধি। আবিসিনিয়ার শাসকের অনুমতিক্রমে সে ইয়েমেনের শাসনকর্তা নিযুক্ত হয়। সে লক্ষ্য করলো, হজ্জের সময় লক্ষ লক্ষ লোক প্রচুর মাল-সম্পদ নিয়ে মক্কা শরীফ হজ্জ করতে যায়, তা দেখে সে ইর্ষান্বিত হয় এবং চিন্তা করে ইয়েমেনে সানা শহরে সুন্দর একটা গীর্জা তৈরি করে মানুষদেরকে হজ্জ করার জন্য আহবান করবে। তার ডাকে লোকজন যদি সাড়া দিয়ে হজ্জ করতে আসে তাহলে সমস্ত পশু পাল ও মাল-সম্পদ দ্বারা সে ফায়দা হাছিল করতে পারবে। এ খেয়ালে সে ইয়েমেনের সানা শহরে মূল্যবান পাথর দিয়ে একটা গীর্জা তৈরি করে। কিন্তু দেখা গেল, কেনানা গোত্রের এক ব্যক্তি সুযোগ বুঝে এক রাত্রিতে উক্ত গীর্জায় ইস্তিঞ্জা করে চলে আসে। এটা শুনে আবরাহা অত্যন্ত রাগান্বিত হয় এবং শপথ করে, কা’বা শরীফ সে ধ্বংস করে দিবে। নাউযুবিল্লাহ! সে ধারণা করে, মক্কা শরীফ উনার লোকেরাই তার গীর্জা অপবিত্র করেছে। তখন সে আবিসিনিয়ার প্রধান শাসককে বিষয়টা জানিয়ে মক্কা শরীফ উনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। অনেক সৈন্য সামন্ত এবং পৃথিবীর বড় বড় হাতি সহ মক্কা শরীফ উনার দিকে রওয়ানা হয়। রাস্তায় অনেকে বাধা দেয়া সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে সে মক্কা শরীফ উনার মধ্যে পৌছে।

অতঃপর যখন সে কা’বা শরীফ ক্ষতি করার জন্য অগ্রসর হলো দেখা গেল, হাতিগুলি একটাও সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলনা। কিছুক্ষনের মধ্যে ক্ষুদ্র আকৃতির কিছু পাখি যা আকারে কবুতরের চেয়ে ছোট সমুদ্রের দিক থেকে ঝাকে ঝাকে আসতে লাগলো। প্রত্যেকটি পাখি তিনটি করে কঙ্করময় প্রস্তর বহন করে এনেছিল, একটি ঠোটে দুটি পায়ে। আবরাহা ও তার বাহিনীর উপরে এসে সেই কঙ্করগুলি নিক্ষেপ করতে লাগলো। যার ফলে তৎক্ষনাত সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেল। কিছু আহত অবস্থায় পলায়ন করার পথে ধ্বংস হলো। কঙ্করগুলি উপর দিক থেকে পড়ে নিচ দিয়ে বের হয়ে মাটিতে অদৃশ্য হয়ে যেত। যার কারণে আবরাহার সৈন্য বাহিনী, হস্তিবাহিনী সবাই ভক্ষিত তৃণের ন্যায় হয়ে গেল। আবরাহা ইয়েমেন পর্যন্ত পৌঁছল এবং তার উপর দিয়ে পাখিগুলি উড়তে থাকলো। সেখানে পৌঁছার পরে পাখির কঙ্কর নিক্ষেপের কারণে সেও ভক্ষিত তৃণের ন্যায় হয়ে গেল। তার মন্ত্রী পালিয়ে আবিসিনিয়ার প্রধান শাসকের কাছে এ সংবাদ পৌঁছায়। তার উপর দিয়েও একটি পাখি উড়ছিল। সে সংবাদ পৌঁছানোর পর পাখিটি কঙ্কর নিক্ষেপ করায় সেও ভক্ষিত তৃণের ন্যায় হয়ে যায়।

কাজেই, আজকে যারা মসজিদ ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে তারা মূলত গযবপ্রাপ্ত কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী আবরাহারই সমজাতীয়। এদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার কঠিন আযাব অপেক্ষা করছে। মসজিদ কমিটি, কর্তৃপক্ষ, মুছল্লীবৃন্দ, মহল্লা ও এলাকাবাসী সকলের জন্য ফরয এ সমস্ত আবরাহা বাহিনীদেরকে শক্ত হস্তে প্রতিহত করা।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]