আশ্চর্য বিষয়! কুরআন শরীফ পড়তে জানে না নতুন প্রজন্ম


আজ থেকে বছর ১০-১১ বছর আগে রাজধানী ঢাকা বিষয়টি নিয়ে ১ম অভিজ্ঞতা হয়। আমারই এক আত্মীয়ের বন্ধুর এক ছেলে ৯ম শ্রেণীতে পড়ে, অথচ সে কুরআন শরীফ তথা আরবী পড়তে জানে না। শুনে খুবই আশ্চর্য হয়েছিলাম। কিন্তু এখন দিন যত যাচ্ছে কুরআন শরীফ ও আরবী পড়তে না জানা এই সংখ্যা যে এতবেশি সেটা দেখতে পাচ্ছি। অথচ এই বিষয়টি যে কত বেশি গুরুতর ও গুরুত্বপূর্ণ, সেটা কিন্তু মুসলিম পরিবারের পিতা-মাতা, অভিবাবকদের উপলব্ধি থেকে চলে গেছে। যে কারনেই এই অবস্থা।
গ্রামে দেখেছি, শিশুদের জন্মের পর থেকে একটু বড় হওয়ার পর তার জীবনের প্রথম পাঠশালাই ছিলো কুরআন শরীফ ও আরবী শিক্ষার মক্তবগুলো। এটা কিন্তু শুধু গ্রামেই নয়, একসময় সারা দেশের শহর বন্দরসহ সব জায়গাতেই ছিলো অসংখ্য মক্তব। তাাছাড়া পারিবারিকভাবেও কুরআন শরীফ শিক্ষার এত গুরুত্ব ছিলো যে, মক্তব না পাওয়া গেলে গৃহশিক্ষকের মাধ্যমে হলেও কুরআন শরীফ শিক্ষার ব্যবস্থা করা হতো।
সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়া মুসলিম পরিরবারগুলো থেকে কুরআন শরীফ শিক্ষা উঠে যাওয়া থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠে আমাদের সমাজ, আমাদের পরিবারগুলো ইসলাম ও মুসলমানিত্ব থেকে কিভাবে সরে যাচ্ছে।
অথচ একজন মুসলমান হিসেবে, একজন ঈমানদার হিসেবে তার জন্য সবচাাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো- পবিত্র কুরআন শরীফ শিক্ষা। কারন আমাদের যিনি খালিক্ব মালিক রব তিনি মহান আল্লাহ পাক, আমরা মহান আল্লাহপাক উনার বান্দা বলে স্বীকার করেই আমরা ঈমান গ্রহণ করেছি। তাহলে মহান আল্লাহপাক উনারই পবিত্র কালাম কুরআন শরীফই যদি আমরা না পড়তে পারি, না বুঝতে পারি তাহলে কি আমাদের মুসলমানিত্বের দাবি, ঈমানদার হওয়ার দাবি কি বৃথা নয়? অবশ্যই।
যারা এখনো কুরআন শরীফ পাঠ করতে জানেন না, তাদের উচিত শীঘ্রই কুরআন শরীফ পাঠ শিক্ষা নেয়া এবং নিজের পরিবার, সন্তানাদি সবার জন্য পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠের সু-ব্যবস্থা করা।
তাছাড়া সরকারেরও উচিত- প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কুরআন শরীফ শিক্ষা বাধ্যতামূূলক করা। এবং প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা যাতে কুরআন শরীফ পাঠ শিখতে পারে সে জন্য বিশেষ বয়স্ক শিক্ষা চালু করা। ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এই দেশের সরকারের জন্য এটা করা ফরজ-ওয়াজিব।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে