ইমামুল আউয়াল মিন আহলু বাইতি রসুলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার মুবারক শানের খিলাফের জবাব


মিজান আযহারী সহ যেসকল বাতিল ফির্কা এখানো আহলে বাইত শরীফের বিরোধিতা করে তিরমিযী শরীফের ঐ হাদীছ সামনে নিয়ে ভাবছো হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম মদ পান করেছিলেন। নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক। তাদের জবাব আল্লাহ রব্বুল আলামীন কুরআন শরীফেই দিয়ে দিয়েছেন।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক-যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও। (সূরা মায়িদা ৯০)

আয়াত শরীফখানা দেখেন, মদ পানকে আল্লাহ পাক رِجْسٌ বা অপবিত্র কাজ বলে ঘোষনা দিয়েছেন।

পক্ষান্তরে আহলে বাইত শরীফ বা হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিবার সম্পর্কে আল্লাহ পাক ঘোষনা দেন,

إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّـهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا

হে নবী পরিবারের সদস্যবর্গ। আল্লাহ পাক চান আপনাদের থেকে অপবিত্রতা দূরে রেখে আপনাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে। । (সূরা আহযাব ৩৩)

অর্থাৎ আহলে বাইত যারা উনাদের আল্লাহ পাক পবিত্র করেই সৃষ্টি করেছেন। আর আয়াত শরীফে لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ দিয়ে সকল অপবিত্রতা থেকে আহলে বাইত শরীফগন মুক্ত বরং উনারা পূত পবিত্র সে ঘোষনাই আল্লাহ পাক দিয়ে দিয়েছেন।
সূরা মা’য়িদার ৯০ নং আয়াত শরীফে আমরা জানতে পারলাম মদ হচ্ছে অপবিত্র জিনিস। আর সূরা আহযাব ৩৩ নং আয়াত থেকে জানতে পারলাম সম্মানিত আহলে বাইত শরীফগন পবিত্র। সকল অপবিত্রতা থেকে আল্লাহ পাক উনাদের হেফাজত রেখেছেন।

তাহলে আপনারাই বলুন আহলে বাইত শরীফের সদস্য খলীফাতু মুসলিমিন হযরত আলী আলাইহিস সালাম কি করে অপবিত্র মদ স্পর্শ করতে পারেন? এধরনের আক্বীদাতো পবিত্র কুরআন শরীফের হুকুমের বিপরীত যা স্পষ্ট ঈমানহানীর কারন। যাদের আল্লাহ পাক পবিত্র রেখেছেন তাদের অপবিত্র কাজের অপবাদ দিলে ঈমান থাকবে কি?

হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি আহলে বাইতঃ

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، – وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ – قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ شَيْبَةَ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، قَالَتْ قَالَتْ عَائِشَةُ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم غَدَاةً وَعَلَيْهِ مِرْطٌ مُرَحَّلٌ مِنْ شَعْرٍ أَسْوَدَ فَجَاءَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ فَأَدْخَلَهُ ثُمَّ جَاءَ الْحُسَيْنُ فَدَخَلَ مَعَهُ ثُمَّ جَاءَتْ فَاطِمَةُ فَأَدْخَلَهَا ثُمَّ جَاءَ عَلِيٌّ فَأَدْخَلَهُ ثُمَّ قَالَ ‏{‏ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا‏}‏

হযরত উম্মুল মু’মিনিন আয়িশাহ্ সিদ্দীকা আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকালে বের হলেন। উনার পরনে ছিল কালো নকশী দ্বারা আবৃত একটি পশমী চাদর। হযরত হাসান ইবনু ‘আলী আলাইহিস সালাম এলেন, তিনি তাঁকে চাদরের ভেতর প্রবেশ করিয়ে নিলেন। হযরত হুসায়ন ইবনু ‘আলী আলাইহিস সালাম এলেন, তিনিও চাদরের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়লেন। হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম এলেন, তাঁকেও ভেতরে ঢুকিয়ে ফেললেন। তারপর হযরত ‘আলী আলাইহিস সালাম এলেন উনাকেও ভেতরে ঢুকিয়ে নিলেন। তারপরে বললেন, হে আহলে বায়ত! আল্লাহ পাক চান আপনাদের থেকে অপবিত্রতা দূরে রেখে আপনাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে। । (সহিহ মুসলিম ৬১৫৫)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে