ই.ফা. প্রকাশিত আবু দাউদ শরীফ কিতাবের হাদীছ শরীফ উনার ভুল অর্থ করে মূর্তি জায়িয বানানোর অপচেষ্টা


ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিকরা মূর্তিকে হালাল করার জন্য ইসলামী ফাউন্ডেশন (ই.ফা.) থেকে প্রকাশিত আবু দাউদ শরীফের একটা হাদীছ শরীফ পেশ করলো। এটা দিয়ে তারা বোঝাতে চেয়েছে ছবি ভাস্কর্য জায়িয। নাউযুবিল্লাহ!
হাতুড়ে ডাক্তার যে মানুষের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ এটাই এখন প্রমাণ হবে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত আবু দাউদ শরীফের ৩৯৯০ নম্বর হাদীছ শরীফে রয়েছে,
خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ مِرْطٌ مُرَحَّلٌ مِنْ شَعْرٍ أَسْوَدَ
“একদা রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন একখানি কালো ডোরাদার পশমী চাদর গায়ে দিয়ে বের হন, যাতে জীব-জন্তু ও মানুষের ছবি ছিল।” নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক!
উক্ত হাদীছ শরীফে একটা শব্দটা হচ্ছে مُرَحَّلٌ এই শব্দের অর্থ তারাও ‘ডোরাদার’ করেছে। কিন্তু চক্রান্তস্বরূপ তারা এখানে “জীব-জন্তু ও মানুষের ছবি” অতিরিক্তভাবে যোগ করেছে।
অথচ সেই ইসলামী ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত “আরবী-বাংলা অভিধান”-এর ২য় খন্ড ৭৩০ পৃষ্ঠায় مُرَحَّلٌ এর অর্থ করা হয়েছে “উটের হাওদার ন্যায় নকশী কাপড়।”
নকশী কাপড়কে সম্পূর্ণ ভুল অর্থ করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ইসলামী ফাউন্ডেশন “জীব-জন্তু ও মানুষের ছবি” হিসাবে উল্লেখ করে অনুবাদ করেছে আবু দাউদ শরীফে। মূল আবু দাউদ শরীফ ও এর বেশ কয়েকটা শরাহ , সেই সাথে বেশকিছু আরবী অভিধানও গবেষণা করে দেখা গিয়েছে কোথাও مُرَحَّلٌ এর অর্থে “জীব-জন্তু ও মানুষের ছবি” করা হয়নি। সুতরাং এখানে হাদীছ শরীফ উনার নামে শব্দের অর্থ বিকৃতি করে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসিম মুবারকে প্রানীর ছবিযুক্ত চাদর ছিলো প্রমাণ করতে চাওয়া কতবড় ধৃষ্টতা ও কুফরী সেটা চিন্তার বিষয়।
এবার আরো কিছু মজার বিষয়, স্বয়ং ইসলামী ফাউন্ডেশনের ওই হাদীছ শরীফই মুসলিম শরীফের কিতাবে উক্ত ইবারতের অর্থ কিন্তু মানুষের ছবি করা হয়নি। যেমন,
خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ غَدَاةٍ وَعَلَيْهِ مِرْطٌ مُرَحَّلٌ مِنْ شَعَرٍ أَسْوَدَ
অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (পবিত্র হুজরা শরীফ থেকে) একটি চাদর গায়ে দিয়ে বের হয়েছিলেন, যাতে কালো পশম দ্বারা উটের হাওদার চিত্র চিত্রিত ছিল। (সহীহ মুসলিম. হাদীছ শরীফ. নম্বর ৫২৭১ (ই.ফা.)
ইসলামী ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত “পবিত্র মুসলিম শরীফে” আরো একটি হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে,

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، – وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ – قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ شَيْبَةَ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، قَالَتْ قَالَتْ عَائِشَةُ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم غَدَاةً وَعَلَيْهِ مِرْطٌ مُرَحَّلٌ مِنْ شَعْرٍ أَسْوَدَ فَجَاءَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ فَأَدْخَلَهُ ثُمَّ جَاءَ الْحُسَيْنُ فَدَخَلَ مَعَهُ ثُمَّ جَاءَتْ فَاطِمَةُ فَأَدْخَلَهَا ثُمَّ جَاءَ عَلِيٌّ فَأَدْخَلَهُ ثُمَّ قَالَ ‏{‏ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا‏}‏
অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকালে বের হলেন। উনার জিসিম মুবারকে ছিলো কালো পশম দ্বারা খচিত একটি পশমী চাদর। এসময় হযরত ইমামুল ছানী মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে চাদর মুবারকের ভেতর ঢুকিয়ে নিলেন। হযরত ইমামুল ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও (চাদর মুবারকে) ঢুকে পড়লেন। উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি আসলেন, উনাকেও ভেতরে ঢুকিয়ে নিলেন। অতঃপর ইমামুল আউওয়াল মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি আসলেন, উনাকেও ভেতরে ঢুকিয়ে নিলেন। অতঃপর বললেন, হে সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান- আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে।
অর্থাৎ তিনি আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ হাদিস নম্বর ৬০৪৩)
এছাড়া ব্যিখাত ইমাম হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উক্ত হাদীছ শরীফখানা বিখ্যাত কিতাব রিয়াদুয সালেহীন কিতাবেও উল্লেখ করেছেন,
خَرَجَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم ذَاتَ غَدَاةٍ، وَعَلَيْهِ مِرْطٌ مُرَحَّلٌ مِنْ شَعرٍ أسْوَدَ. رواه مسلم
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদিন সকালে বের হলেন, তখন উনার জিসিম মুবারকে পালানের ছবি ছাপা কাল লোমের চাদর ছিল।’ (মুসলিম শরীফ)
‘মুরাহহাল’ বলা হয় সেই কাপড়কে, যাতে ‘রাহল’ (উটের পিঠস্থিত জিন্ বা পালান)-এর ছবি ছাপা থাকে। আরবীতে পালানকে ‘আকওয়ার’ও বলে। (রিয়াযুস সালেহীন হাদীছ শরীফ ৭৯১, পোশাক-পরিচছদ অধ্যায়)
সুতরাং দেখে গেলো ‘মুরাহহাল’ শব্দের অর্থ কোথাও প্রাণীর ছবি করা হয়নি, বরং সবখানে ডোরাকাটা, নকশী, উটের হাওদার ন্যায় নকশা ইত্যাদি বলা হয়েছে। অতএব, কেউ যদি মুরাহহাল শব্দ দ্বারা প্রাণীর ছবি অর্থ করে সেটা জঘন্য মিথ্যাচার ও স্পষ্ট কুফরী হবে। কারণ অসংখ্য হাদীছ শরীফে স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রাণীর ছবি, মূর্তি হারাম বলেছেন এবং ছবি মূর্তি তৈরিকারীদের বিভিন্ন আযাবের সংবাদ দিয়েছেন।
সুতরাং ‘মুরাহহাল’ শব্দের ভুল অর্থ করার জন্য ইসলামী ফাউন্ডেশনকে ক্ষমা চেয়ে সংশোধনী দিতে হবে। আর সেই সাথে নাস্তিকদেরও উক্ত ভুল অর্থ পুঁজি করে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার সমস্ত সুযোগ বন্ধ হলো।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]