একটি ভূমিকম্প, অক্ষমতা এবং বর্তমান আত্ম সচেতনতা


মুসলমানকে মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম বা উনার নাযিলকৃত কিতাবসমূহের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেই মুসলমান হতে হয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কালাম কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই সমস্ত প্রাণীর মাঝে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কাফিররাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা ঈমান আনেনি।” (পবিত্র সূরা আনফাল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৫)
উল্লেখ্য, কাফির শব্দটি আম বা ব্যাপক। অর্থাৎ মুসলমান উনাদের বিপরীত জাতির নাম হচ্ছে কাফির। ইহুদী, নাছারা, হিন্দু, বৌদ্ধ, মজুসী, মুশরিক, জৈন, পারসিক, শিখ ইত্যাদি যত বাতিল ধর্মের লোক রয়েছে- তারা সকলেই কাফিরের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের অনুসরণকারীগণ ব্যতীত মুসলমান পরিচয় দাবিদার ৭২টি বাতিল ফিরক্বার অনুসারীরাও তাদের কুফরী আক্বীদার কারণে কাফিরের অন্তর্ভুক্ত।

রিখটার স্কেল ৬.৯ মাত্র একটি ভূমিকম্প যখন হয়ে যায়, তখন মানুষ ছুটে যায় একটা কলমের কাছে (সিসমোগ্রাফ)। ঐ কলমটা ঝুলানো থাকে প্রায় মুক্ত অবস্থায়। যখন ভূ-কম্পন শুরু হয়, তখন ঐ কলমটা একটা বিছানো কাগজের উপর আকাউকি শুরু করে দেয়। ঐ আকাউকি দেখে আমরা বুঝে নেই, ভূমিকম্পের মাত্রা কতটুকু বা আনুসাঙ্গিক বিষয়গুলো।
ব্যস এতটুকু। এটাই মানুষের সর্বোচ্চ ক্ষমতা, এর বাইরে সত্যিই কথা বলতে ভূমিকম্পের উপর মানুষের কোন ক্ষমতা নাই। যা মাঝে মাঝে শোনা যায়, পুরোটাই অনুমান নির্ভর, যদি ঝড়ে বক মরে যায়, তবেই সেটা সত্য নয়। ছোটবেলা থেকে শুনে আসছিলাম, জাপানের বাসা-বাড়ি নাকি অনেক ভূমিকম্প প্রতিরোধক। কিন্তু ২০১০ সালে ভূমিকম্প-সুনামীতে সকল প্রতিরোধ নষ্ট হয়ে যায়। জাপানের অনেক এলাকা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। এগুলো দেখলে, খুব সহজেই বোঝা যায় মানুষের ক্ষমতা কতটুকু, সৃষ্টিকর্তা যখন চাইবেন, তখন এক সেকেন্ডেও দেরি হবে না, মানুষ যত প্রতিরোধই তৈরী করুক, সব মুহুর্তে ধূলোয় মিশে যাবে। কোন কোন উপায়ে সে চলে যাবে ঐ পারে।
ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী নেপালের গযব পড়বে এটাই স্বাভাবিক।
আপনারা কি জানেন, ২০০৪ সালে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে মুসলিম বিরোধী দাঙ্গা করেছিলো হিন্দু ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা। সে দাঙ্গায়-
১) রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত কাঠমান্ডু জামে মসিজদে আগুন দিয়েছিলো সন্ত্রাসীরা। নাউযুবিল্লাহ।
২) মসজিদ থেকে পবিত্র কুরআন শরীফ বের করে নিয়ে ছিড়েছিলো তারা। নাউযুবিল্লাহ।
৩) হিন্দু ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা শ্লোগান দিয়েছিলো, “ইসলাম নিপাত যাক”। নাউযুবিল্লাহ।
হিন্দু ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীগুলো নিজেরাই নিজেদের গজব টেনে নিয়ে এসেছে। এখন তাদের মূর্তি, তাদের বংশ, সবসহ ধ্বংস হয়েছে তারা।
ছবি ও খবরের লিঙ্ক :
১) http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/3616712.stm
২) http://www.smh.com.au/articles/2004/09/02/1093939006482.html
৩) http://www.theage.com.au/articl…/…/09/01/1093938995690.html

বিষয়টা যে মানুষ বুঝে না তাও নয়। সে যখন দেখে নেপালের মানুষ মারা গেছে। তখন সে চিন্তা করে “নেপালের মানুষ মারা গেছে, আমি তো বেচে আছি, আমার কোন সমস্যা হবে না।” অথচ সে হয়ত জানেই না, কখন তার দড়ি ধরে টান দেওয়া হবে। হয়ত সে জানেই না, কিছুক্ষন পরই ভূকম্পনে তার বাড়িটা ধসে যেতে পারে, ঘুমন্ত বাড়িতে শর্ট সার্টিকে আগুন লেগে সে ভষ্মিভূত হতে পারে। সে হয়ত জানেই না, ফেসবুকে এটাই তার শেষ সেলফি। কারণ, হয়ত সে বিশ্বাস করে ‘পৃথিবীতে সে আরো অনেক দিন বেচে থাকবে’।

সত্যিই বলতে, মানুষ যদি এতটুকু বিশ্বাস করতো, দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়াটা এই মুহুর্তেই হতে পারে, তবে সে কোন অন্যায় করতে পারতো না।
সে কোরান শরীফ ও হাদিস শরীফ উনাকে গ্রহণ করে উনার অনুযায়ী আমল করতেন। তাই মহান আল্লাহ পাক কোরান শরীফে ইরশাদ মুবারক করেছেন ”মানুষ ও জ্বিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র উনার ইবাদত করার জন্য” পবিত্র হাদিস শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে মানুষের শরীরের ভিতরে একটি টুকরা(heart/قلب), গোস্তের টুকরা রয়েছে যা জিকির দ্বারা পরিশুদ্ধ হয়ে গেলে সম্পূর্ণ শরীর ই ঠিক/শুদ্ধ হয়ে গেল ..আর এই পরিশুদ্ধতার জন্য কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে ”কুনু মা’য়াস সদেকিন” , ”কুনু রাব্ব্বানিন”…. নেককার, সলেহীন, সিদ্দিকিন ওলিউল্লাহ উনাদের সহবত হাসিল করা….সকলে আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও। courtesy of :al-ihsan.net/ ….জাবাল ই নূর

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

One Comment

Leave a Reply

[fbls]