এক ঈদের ভেতর আরেক ঈদ পালন করো হে সকল মুরীদ ও মুরীদাহ


মুসলমানের খুশি প্রকাশের পর্ব বা অনুষ্ঠানের অন্ত নেই। মুসলমানের সবচেয়ে খুশি প্রকাশের বড় ও মহান দিন হলো কুল-কায়িনাতের নবী ও রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ-এর দিন- ১২ই রবীউল আউয়াল, সোমবার শরীফ-এর দিন। সুবহানাল্লাহ!
মূলত নবী ও রসূল আলাইমিুস সালাম উনাদের বিলাদত শরীফ ও বিছাল শরীফসহ উনাদের বিশেষ বিশেষ ঘটনা সংঘটিত হওয়ার দিনগুলো রহমত, বরকত, সাকীনা নাযিল ও হাছিলের দিন এবং সে দিনসমূহ ঈদ বা খুশি প্রকাশের দিন। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন রহমাতুল্লিল আলামীন অর্থাৎ সমগ্র সৃষ্টি জগতের সকল সৃষ্টির জন্য রহমতস্বরূপ। উনার রহমতের খাছ হিসসা (অংশ) প্রাপ্ত হলেন উনার যারা প্রকৃত ওয়ারিছ হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা। যে কারণে উনাদের শানে কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উনার রহমত যারা মুহসিনীন বা আল্লাহওয়ালা উনাদের নিকটে।” সুবহানাল্লাহ!
অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যমীনে মুবারক আগমন ও অবস্থান যেরূপ বান্দা ও উম্মতের জন্য রহমত, বরকত, সাকীনা, হিদায়েত, নাজাত, মাগফিরাত ইত্যাদি নাযিল ও হাছিলের কারণ তদ্রƒপ উনার বিছাল শরীফ-এর পর হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম পুরুষ অথবা মহিলা উনাদের যমীনে আগমন ও অবস্থান বান্দা উম্মতের জন্য রহমত, বরকত, সাকীনা, হিদায়েত, নাজাত, মাগফিরাত ইত্যাদি নাযিল ও হাছিলের কারণ। সুবহানাল্লাহ!
তাই বান্দা ও উম্মতের জন্য যেমনিভাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে ঈদ বা খুশি প্রকাশ করা অপরিহার্য কর্তব্য একইভাবে উনার যারা খাছ নায়িব ও ওয়ারিছ পুরুষ কিংবা মহিলা উনাদেরও বিলাদত শরীফ উপলক্ষে ঈদ বা খুশি প্রকাশ করা বান্দা ও উম্মতের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য।
স্মরণীয় যে, পহেলা শাওওয়াল দিনটি মুসলমানগণের জন্য যদিও পূর্ব থেকেই ঈদ বা খুশির দিন হিসেবে নির্দিষ্ট রয়েছে তারপরও তার সাথে যুক্ত হয়েছে আর এক নতুন ঈদ বা খুশির দিন। সুবহানাল্লাহ!
সেই আরেক ঈদের উপলক্ষ যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার লক্ষ্যস্থল আওলাদে রসূল, যামানার মহান মুজাদ্দিদ ও ইমাম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার লখতে জিগার, প্রথমা কন্যা, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহাল আলী উনার বিলাদত শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য, জুমুয়া ও আরাফা একইসাথে এ দু’ঈদের দিনে আল্লাহ পাক তিনি সূরা মায়িদার ৩নং আয়াত শরীফ নাযিল করেছেন। যার মধ্যে দ্বীন ইসলামের পরিপূর্ণতার কথা, সন্তুষ্টি দানের কথা ও নিয়ামত পরিপূর্ণ করে দেয়ার কথা ঘোষিত হয়েছে।
অনুরূপভাবে ঈদুল ফিতরের সাথে ঈদে বিলাদতে হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা মিলনে বান্দা ও উম্মত চরম পরম রহমত, বরকত, মাগফিরাত, হিদায়েত এবং সর্বোপরি আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত ও সন্তুষ্টি হাছিলের ওসীলা লাভে ধন্য হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই বান্দা ও উম্মতের উচিত তাদের সাধ্য-সামর্থ্য অনুযায়ী এই ঈদ বা খুশি প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ মর্মে আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “আল্লাহ পাক উনার বিশেষ দিনসমূহ বান্দাকে স্মরণ করিয়ে দিন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে ধৈর্যশীল ও শোকরগোযার ব্যক্তিগণের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।”

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে