এক ধর্মব্যবসায়ী দলের কর্মীর সাথে কথোপকথন


দলের কর্মী: আপনি পীর ছাহেবের মুরীদ!!! আপনারা তো আবার মাযার পূজা করেন? ওরশ করেন- তাই না?
আল হিলাল: পীর ছাহেবের মুরীদ হলেই মাযার পূজা করতে হবে বা করবে, ওরশ করতে হবে বা করবে- এ কথা আপনি কোথায় পেলেন?
দলের কর্মী: না, ফেইস বুকে, বিভিন্ন লেখায় বা বিশেষ করে জাকির নায়েক ভক্তরা মাযার পূজারী শব্দটা বেশ ব্যবহার করে।
আল হিলাল: পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, “মিথ্যাবাদী হবার জন্য এটাই যথেষ্ট, যে যা শুনে তাই বলে বেড়ায়।” তাহলে আপনি আমাকে যাচাই না করেই বলে বসলেন আমি মাযার পূজারী; শুধু আমি একজন ওলীআল্লাহ উনার মুরীদ বলে! তাহলে আপনি কি মিথ্যাবাদী নন?
দলের কর্মী: কিন্তু দেখা যায়- সাধারণত যারা পীরের মুরীদ হয় তারা পীর সাহেবকে সিজদা দেয়, ওরশ করতে গিয়ে গান-বাজনা করে। তাই পীরের মুরীদ বলাতেই তাই মনে আসলো।
আল হিলাল: মনে আসলেই তো বলা যাবে না। কারণ বিনা তাহক্বীকে (রিঃযড়ঁঃ াবৎরভরপধঃরড়হ) কথা বলা কুফরী।
দলের কর্মী: ঠিক আছে, কিন্তু এই সিজদা ও ওরশ প্রথার কি জবাব আপনি দেবেন?
আল হিলাল: আসলে ওলীআল্লাহগণ উনারা হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতিনিধি, নায়েবে রসূল। উনাদেরকে ওরাসাতুল আম্বিয়া বলা হয়। উনাদেরকে মানুষ সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতেন, করছেন এবং করবেন। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতীব, মুফতী, মুফাসসির এসব হওয়া সহজ। কিন্তু হাক্বীক্বী ওলীআল্লাহ হওয়া সহজ নয়। আবার সহজ, যদি কেউ কোনো ওলীআল্লাহ উনার হাতে বাইয়াত হয়ে যিকির ফিকিরে মশগুল থাকেন। যেহেতু ওলীআল্লাহ উনার বিষয়টি সম্মানিত, তাই পরে অনেকে নফসের ধোঁকায় পড়ে নিজে ওলীআল্লাহ না হয়েই ওলীআল্লাহ উনার বেশ ধরেছে। তাদের দ্বারাই পরে বিভিন্ন রকম বিদয়াত, আর ফিতনার জন্ম হয়েছে। তাই বলে কি যারা প্রকৃত ওলীআল্লাহ উনাদের দোষারোপ করতে হবে? যিনি প্রকৃত ওলীআল্লাহ তিনি কখনো সিজদা নিবেন না। যিনি প্রকৃত ওলীআল্লাহ তিনি কখনো ওরশে গান-বাজনা করবেন না যিনি প্রকৃত ওলীআল্লাহ তিনি কখনো মাযার পূজা করবেন না। যিনি প্রকৃত ওলীআল্লাহ তিনি কখনো বেপর্দা হবেন না (গায়ের মাহরামদের সাথে দেখা করবেন না)। ইত্যাদি।
দলের কর্মী: ওরশ করার ব্যপারে কি বলবেন?
আল হিলাল: এর উত্তর দেয়ার আগে জানতে চাই, আপনার বাবা কি করেন?
দলের কর্মী: আমার বাবা ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন, তবে তিনি ইন্তিকাল করেছেন।
আল হিলাল: উনার ইন্তিকালের দিনে আপনি কি করেন?
দলের কর্মী: আত্মীয়-স্বজনদের ডেকে, ইমাম সাহেবকে খবর দেই; তিনি এসে দোয়া করেন।
আল হিলাল: আপনার বাবা ওলীআল্লাহ ছিলেন না, ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার। ওনার জন্য যারা বেঁচে আছেন উনাদেরকে সওয়াব পাঠাতে হয় আর তাই আপনি হুযূরকে দিয়ে দোয়া করান- তাই না ?
দলের কর্মী: জ্বী।
আল হিলাল: কিন্তু যারা ওলীআল্লাহ উনারা জীবিত। মহান আল্লাহ পাক তিনিই ইরশাদ মুবারক করেন, “ঊনাদের তোমরা মৃত বলো না।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫৪)
আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “যেখানে ওলীআল্লাহগণ উনাদের আলোচনা করা হয়, সেখানে মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত বর্ষিত হয়।”
এছাড়াও মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “তোমরা বিশেষ দিনসমূহ স্মরণ করো।” (পবিত্র সুরা ইবরাহীম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)।
সে কারণেই ওলীআল্লাহগণ উনারা যেদিন মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে চলে গেছেন, সেদিনটিতে উনাদেরকে স্মরণ করে পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ পাঠ করা হয়, সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আলোচনা করা হয়, দোয়া-মুনাজাত করা হয়। এটাকে কেউ কেউ ওরশ বলেন। তাহলে আপনিই বলুন আপনার বাবার ইন্তিকালের দিন যদি পালন করা যায়, তবে ওলীআল্লাহ উনার বিদায়ের দিন কেন পালন করা যাবে না?
তবে আপনার সাথে একটা বিষয়ে একমত, সেটা হচ্ছে- সেখানে কোনোরূপ অসামাজিক কাজ, অশালীন কাজ, শরীয়ত বহির্ভূত কাজ করতে দেয়া যাবে না। সেটাতে বাধা দিতে হবে।
দলের কর্মী: আমিও তো তাই বলি।
আল হিলাল: না, আপনি অর্থাৎ আপনারা তাই বলেন না। পীর ছাহেবের মুরীদ শুনলেই আপনারা মাযার পূজারী বলে অশালীন বাক্য ব্যবহার করেন। ভেবেও দেখেন না- এটা কার বিরুদ্ধে যাচ্ছে, এতে কার কি ক্ষতি হচ্ছে!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]