এদেশের মানুষ সন্তানকে ভালোবাসে, কিন্তু সন্তানের শত্রুকে ঘৃণা করে না


আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সন্তানবৎসল ও পরিবারের প্রতি আসক্ত। পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য এদেশের মানুষ দেশ ছেড়ে বিদেশে অমানবিক পরিশ্রমকেও মেনে নেয়। এদেশের মন্ত্রী-আমলা-ব্যবসায়ীরা তাদের দুর্নীতির টাকায় ফুলে উঠা ব্যাংক ব্যালেন্স রেখে যায় সন্তানদের কথা মাথায় রেখে। যদিও এই পরিবার তাকে হাশরের ময়দানে রক্ষা করতে পারবে না।
এত অন্ধ সন্তানবৎসলতা আমাদের সমাজের মানুষদের। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সন্তানের শত্রুকে তারা কেউই ঘৃণা করে না। বরং সন্তানের শত্রুকে তারা ভালোবাসে, বন্ধু মনে করে।
সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন ১৮৯৭ সালে একটি কবিতা লিখেছিল, যার নাম ছিল ‘বর্তমান মুসলমান সমাজের একখানি চিত্র’। কবিতাটি মীর মশাররফ তার ‘গাজী মিয়ার বস্তানী’ গ্রন্থের শেষাংশে সংযোজিত করে। সেই কবিতায় উল্লেখ করা হয়েছিল-
“-যাহারা দেশের মান
মানি মধ্যে মান্যমান
ছিল মান সম্ভ্রম প্রচুর।
-তাদের তনয় যারা
আরদালি হরকরা
হইয়াছে মুটিয়া মজুর।
-ডেপুটির পুত্র হয়ে
-ডেপুটির বাক্স লয়ে
পালকির আগে আগে ধায়।
-মুন্সেফের সন্তান
মারিয়া তামাকে টান
বাজারেতে টিকে বেঁচে খায়।
-কটিতে কাপড় আঁটা
হাতেতে বাঁশের ঝাঁটা
যায় কাঁটা ফেলিতে পথের
-জিজ্ঞাস তাঁহার ঠাঁই
পরিচয় পাবে ভাই
সে যে পৌত্র কোন নবাবের।”
কে নবাবের পুত্রকে ঝাড়–দারে পরিণত করলো? কে মান্যগণ্য লোকের পুত্রকে মুটিয়া-মজুরের পর্যায়ে নামতে বাধ্য করলো? মীর মশাররফ হোসেন আরো লিখেছে-
“-বঙ্গের বুনেদী দল
গেছে সব রসাতল
কেহ মরা কেহ আধমরা
-গেছে সব হিন্দু ঘরে
কেহ না তা দৃষ্টি করে
আরও মুখে বলে ভালো তারা
-একবার মাথা তুলে
দেখ ভাই চক্ষু মেলে
মুসলমান কিসে হল সারা।
-জমিদারী কোথায় গেল
সোনারূপা কি হইল
এত ঘর কিসে গেল মারা।”
মীর মশাররফ হোসেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, তোমাদের শত্রু হলো বিধর্মী, সংখ্যালঘু, মুশরিকরা। তোমাদের সন্তানদের পথে বসিয়েছে বিধর্মী, সংখ্যালঘু, মুশরিকরা। তোমাদের সোনারূপা কেড়ে নিয়েছে বিধর্মী, সংখ্যালঘু, মুশরিকরা। অথচ তোমরা মুসলমানরা তাদের ‘ভালো’ বলে সম্বোধন করো, একটুও চোখ মেলে ফিকির করার চেষ্টা করো না।
সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও এদেশের মানুষদের উচিত- বিধর্মী, সংখ্যালঘু, মুশরিকদেরকে প্রশাসন ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জায়গা না দেয়া।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]