কথিত ‘মুক্তমনা’ ও ‘মুক্তচিন্তা’ বিষয়টি বিধর্মীদের জন্যই খাছ!


কথিত ‘মুক্তমনা’ ও ‘মুক্তচিন্তা’ বিষয়টি বিধর্মীদের জন্যই খাছ

দেশজুড়ে এখন বিশেষ একটি শব্দের ব্যবহার খুব শুনা যাচ্ছে। সেটি হলো- ‘মুক্তমনা’। শব্দটিকে একটু ব্যাখ্যা করলে মোটামুটি বুঝা যায় এরকম- মনের মাঝে যা আসে তাই করা বা বলা। অর্থাৎ মনের স্বাধীনতা। একইরকম আরেকটি শব্দ হলো ‘মুক্তচিন্তা’।
কিন্তু প্রশ্ন হলো- এই মনের স্বাধীনতা বা মন যা চায় তাই করা বা বলাটা কতটুকু বাস্তবসম্মত? একজন সন্তান কি তার মনে যা চায় তাকে কি তার পিতা-মাতা তা করতে দিবে? একজন ছাত্র মন যা চায় তার করতে চাইলে কি তার শিক্ষক তা করতে দিবে? একজন কর্মচারী যা চায় তাকে কি তার কর্মকর্তা তা করতে দিবে? এর সহজ উত্তর হলো- যদি সে ‘অন্যায়’ কিছু চায় তা কেন করতে দেয়া হবে? তাহলে দেখা যাচ্ছে, ন্যায় বা অন্যায়ের একটি সীমারেখার মধ্যেই সবকিছু চাইতে হবে বা করতে হবে। এখানেই ‘মুক্তমনা’ কথাটির একটি সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়ে গেলো।
আবার কোনটি ন্যায় বা অন্যায় সেটা কিভাবে নির্ধারিত হবে? এটা অত্যন্ত জটিল একটি বিষয়। একেকজন কথিত মুক্তমনের মানুষের কাছে একেকটা বিষয় ভিন্ন ভিন্ন রকম ন্যায় বা অন্যায় হতে পারে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেখা যায়, এক দেশে যেটা চরম অপরাধ অন্য দেশে সেটা খুবই বাহ্বা পাওয়ার বিষয়। এক্ষেত্রে ‘সমকামিতা’ বড় একটি উদাহরণ। এখনো এদেশের মানুষের কাছে এই শব্দটি একটি চরম ঘৃণার বিষয়, কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকায় এটি এখন আদালত স্বীকৃত একটি ‘মুক্তমনা’র নিদর্শন। নাউযুবিল্লাহ!
মূলত ‘মুক্তমনা’ একটি ধোঁকাপূর্ণ শব্দ। মানুষকে স্বাধীনতা দিলে তারা পশুর চেয়ে নিচে নেমে যাবে। কিন্তু এই স্বাধীনতা কোনো মুসলমানদের নেই, তাঁরা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার শরীয়ত দ্বারা আবৃত থাকবেন। যে কারণে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “দুনিয়া হলো মুসলমানদের জন্য বন্দিখানা অর্থাৎ মুসলমানগণ সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী চলবে। আর কাফিরদের জন্য হলো বালাখানা।”
অর্থাৎ কাফিররা সব অবস্থায়ই মনগড়া চলে থাকে। কাজেই কথিত ওই ‘মুক্তমনা’ বিষয়টি শুধুই কাফিরদের জন্য প্রযোজ্য, মুসলমানদের জন্য নয়।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে