কথিত ‘স্বাস্থ্যবিধি’ ও ‘সীমিত পরিসর’ দ্বীন ইসলামসম্মত নয়


সম্প্রতি করোনা ভাইরাস গযবে চীনসহ তাবৎ কাফির রাষ্ট্রে কোটি কোটি কাফির নিহত হয়েছে। এবং সে গযব থেকে বাঁচার জন্য তারা নিজ নিজ ঘর-বাড়িতে অবস্থানের জন্য লকডাউন ব্যবস্থা চালু করেছে। কিন্তু এতেও তারা স্বস্তি ও নিস্তার পায়নি। এখন কাফিরদের সাথে নামধারি মুসলমানদের বন্ধুত্ব, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চলাফেরা। তাই কাফিরদের প্রতি আপতিত গযবে মুসলমানরাও যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেজন্য তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে মুসলমানদের দেশেও করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার অপপ্রচার চালানো হয় এবং লকডাউন দিতে বাধ্য করে।

কিন্তু অদ্যাবধি কোন মুসলমান করোনা গযবে আক্রান্ত হয়নি এবং আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। কারণ করোনা ভাইরাস হচ্ছে একটা খোদায়ী গযব। তা কোন মুসলমানের জন্য নয়। তা শুধুমাত্র কাফিরদের জন্যই নির্ধারিত। এরপরেও যদি দেখা যায়, মুসলমান নামধারী কোন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, তাহলে বুঝতে হবে উক্ত ব্যক্তি কাফিরদের গোলাম কিংবা বন্ধু ছিল। নাউযুবিল্লাহ!

মূলকথা হচ্ছে, করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে মুসলমান দেশে লকডাউন করে ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকান-পাট, মসজিদ-মাদরাসা, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, হাসপাতাল-চিকিৎসা ইত্যাদি বন্ধ ও সীমিত করে দেয়া সম্পূর্ণ দ্বীন ইসলাম বিরোধি, নাজায়িয, হারাম ও কুফরী। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّـهِ وَاذْكُرُوا اللَّـهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

অর্থ: আর যখন নামায সমাপ্ত হয় তখন তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড় এবং মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ তথা জীবিকা অন্বেষণ কর এবং (তাতেও) মহান আল্লাহ পাক উনাকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর। অবশ্যই তোমরা সফলতা লাভ করবে। (পবিত্র সূরা জুমুয়াহ শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ১০)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

طَلَبُ كَسْبِ الْحَلاَلِ فَرِيضَةٌ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ

অর্থ: অন্যান্য ফরয সমূহের পর হালাল কামাই বা উপার্জন করাও ফরয। (মিশকাত শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ)

অর্থাৎ পুরুষদের জন্য ঈমান বা কলেমা, নামায, যাকাত, রোযা, হজ্জ ইত্যাদি ফরয সমূহের পর ৬ষ্ঠ ফরয হিসেবে হালাল রুজি বা উপার্জন করা ফরয।
কাজেই, ব্যবসা বা চাকরী প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সবকিছু বন্ধ ও সীমিত করে লকডাউনের নামে বাসা-বাড়ি বা ঘর-বাড়িতে অবস্থান করতে বাধ্য করা মোটেও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম সম্মত নয়। বরং তা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সম্পূর্ণ খিলাফ ও কুফরী এবং কাফির ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে