কবীরা, ছগীরা যতই থাকুক পাপ! দুরূদ শরীফ পাঠে হয় সব মাফ!


খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সমস্ত কায়িনাতের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি। (পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৭)
যেখানেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ, দুরূদ শরীফ সেখানেই মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারকের বারি বর্ষণ অবধারিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে পবিত্র মীলাদ শরীফ, দুরূদ শরীফ পাঠ করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি জিন্দেগীর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে গুনাহসমূহকে নেকীতে পরিণত করে দেন। সুবহানাল্লাহ! জাহান্নামকে হারাম করে জান্নাতকে ওয়াজিব করে দেন। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র মীলাদ শরীফ, দুরূদ শরীফ পাঠে অসীম রহমত, বরকত, ছাকীনা, মাগফিরাত অতীতে নাযিল হয়েছে। বর্তমানে নাযিল হচ্ছে এবং অনন্তকাল ধরে নাযিল হতেই থাকবে।
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের অসংখ্য মনোমুগ্ধকর ঘটনা রয়েছে। এমন একটি মনোমুগ্ধকর ঘটনা হচ্ছে, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার খলীফা বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে একজন মহিলা এসে বললো! হুযূর, আমার যুবতী একটি মেয়ে ইন্তেকাল করেছে। আমি আমার মেয়েকে স্বপ্নে দেখতে চাই। তখন হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সেই মহিলাকে একটি আমল শিখিয়ে দিলেন। মহিলা বাড়ি গিয়ে রাতে সেই আমল করে ঘুমিয়ে পড়লো। মহিলা তার মেয়েকে স্বপ্নে দেখতে লাগলো, অত্যন্ত জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় গায়ে আলকাতরা মিশ্রিত জামা। গায়ে শিকল আর পায়ে লোহার বেড়ি পড়ানো অবস্থায় কঠিন আযাব-গযবে গ্রেফতার। মহিলা ঘুম থেকে উঠে কাঁদতে কাঁদতে গিয়ে হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট স্বপ্নটি বর্ণনা করলো। স্বপ্নটি শুনে হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অত্যন্ত চিন্তিত এবং ব্যথিত হলেন। তারপর একদিন হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি স্বপ্নে দেখতে পেলেন, একটি মেয়ে জান্নাতে খুব সুন্দর আসনে মাথায় মুকুট পড়ে বসে আছে। হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি কে? তখন মেয়েটি বললো, হে হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি! আমি হলাম সেই মেয়ে আমার মা আমাকে কবরে কঠিন আযাবের মধ্যে দেখেছে এবং আপনার নিকট বর্ণনা করেছে। হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার এই পরিবর্তন হলো কিভাবে? মেয়েটি বললো হে হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি; আমি কবরে কঠিন আযাবের মধ্যে ছিলাম। একদিন একজন ব্যক্তি আমার কবরের পাশে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক দুরূদ শরীফ পাঠ করছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র দুরূদ শরীফ উনার সম্মানার্থে আমি সহ পাঁচশত ষাট জন ব্যক্তির কবরের আযাব চিরদিনের জন্য মাফ করে দিয়েছেন এবং জান্নাতে আমাকে এই মর্যাদা দান করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (আত-তাযকিরাতু  ফি  আহওয়ালিল    মাওতা    ওয়া   উমুরিল   আখিরাতে,     ১ম খন্ড, ৭৪ পৃষ্ঠা)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে পবিত্র মীলাদ শরীফ, দুরূদ শরীফ পাঠ করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি কতটুকু সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন? সেটা কায়িনাতবাসীর জন্য কল্পনাতীত বিষয়।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]